বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাসর---(০১,২,৩)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X খুব লজ্জা লাগছে আজ। আমার বাসর হবে। আমার ওনার কিছু বোন আমাকে রুমে এনে বসিয়ে রাখলো সেই এক ঘন্টা ধরে। কিন্তু আমার ওনার কোন খবর নেই।বসে আছি লেহেঙ্গাটা গোল করে বিছানায় সাজানো রয়েছে অনেকক্ষণ। আর ভালো লাগছে না বসে থাকতে উঠে দাড়ালাম। হেটে বারান্দার দিকে গেলাম। বারান্দার চেয়ারটাতে একটু বসলাম। চোখটা একটু লেগে গেছিলো হঠাৎ দরজাটা নড়ে উঠলো আর আমার বুকটাও মোচড় দিয়ে উঠে মনে হয় জিহান আসছে।আমি তাড়াতাড়ি চেয়ার থেকে উঠে রুমের দিকে গেলাম ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত তখন ৩:৫০মিনিট। বাইরে আলো উঠে গেছে হালকা। প্রিতির অভিমান হচ্ছে তার বাসরের দিন তো শেষ তাহলে তাও কিছু বললোনা। জিহান ধাপ করে বিছানায় পড়ে গেলো। প্রিতির বুঝতে বাকি নেয় যে সে নেশা করেছে। প্রিতি: আপনি নেশা করেন?? জিহান: কেন ম*গি তোরে বলেনাই কেউ?? প্রিতি: না। আজকে আমাদের বাসর ছিলো। জিহান: এইসব আদিক্ষেতা আমি জানিনা। বাসর করবি,তাই না?? চল তাহলে আমরা বাসর করি। ( জিহান একটা বাজে গান দিলো ) জিহান: এইবার নাচ তুই আমি দেখি। নাচ নাচ এই বলে একটা সিগারেট ধরালো প্রিতি: এই আপনি কি বলছেন?? আমি নাচবো আর এই গানে?? জিহান: চুপ!! আরেকটা কথা না।। তোরে কে বলছে আমাকে বিয়ে করতে?? আমাকে দেখছিলি তুই?? তোরেও আমি দেখিনাই।। যাহ এখান থেকে।। ঘৃনা করি আমিমি মেয়েদের।। প্রিতি: তো আপনি করছেন কেন আমাকে বিয়ে?? আপনি ওতো বিয়েটা আটকাতে পারতেন।। জিহান: তোরে কষ্ট দিতে।। তুই একটা মেয়ে তাই তোরে কষ্ট দিবো।। ( জিহান প্রিতির বালিশটা মাটিতে ফেলে দিলো।। ওইখানে ঘুমা আর একটা কথা আমার সাথে বলবি না। এই বলে জিহান মুখ ফিরিয়ে শুয়ে পড়লো।। আর প্রিতি মাটিতে বসে গেলো।। কত সপ্ন ছিলো তার বিয়ে নিয়ে বাসর নিয়ে।। সব এক নিমিসে শেষ হয়ে গেলো। প্রিতি তো বেশি কিছু চাই নি জীবনে। সে তো একটা ভাল পরিবার চেয়েছে এইটা কি তার ভুল। সব মেয়ের একটা সপ্ন থাকে বিয়ে নিয়ে তাহলে কি আমার সপ্নটা শেষ হয়ে গেলো। তার চোখ দিয়ে পানি পড়তেই আছে। সে আর ঘুমালো না তার বাসরে।। ) প্রিতি একজন গরিব ঘরের মেয়ে। তার বাবা কেবল একটা গ্রামের স্কুলের একজন সহকারি শিক্ষক। যেমনে পারে তারা কষ্ট করে তাদের সংসার চালাই। অনেক আসা নিয়ে প্রিতিকে বিয়ে দিয়েছিলো এক বড় কোম্পানির মালিকের ছেলের সাথে। প্রিতি খুবই সুন্দরী ছিলো তার আচার আচরণ ছিলো তার চেয়ে আরো সুন্দর।। সে অনেক গুনের অধিকারী।। জিহানের মা তার এক মামাতো ভাইয়ের বাসাই প্রিতিকে দেখে আর তার ছেলের জন্য তাকেই পছন্দ করে।। এমন ঘরে কন্যা বিয়ে দেওয়ার খুশিতে প্রিতির বাবা যেন আত্তহারা হয়ে গেছে। কোন কিছু নআ দেখে প্রিতির জন্য হ্যা করে দিলো। বাবার এমন হাসি মাখা মুখ দেখে প্রিতিও অমত করেনি। সেও রাজি হয়ে গেছে। ১০ জানুয়ারি তাদের বিয়েটা সম্পন্ন হলো। এইদিনটা ছিলো প্রিতির জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন কিন্তু মনে হচ্ছে এইদিনটাই তার জীবনের এক অভিশাপ্ত দিন। তার বাসর যে বাসরঘর কিনা লাল ফুল দিয়ে সাজানো সে ঘরে প্রিতি লাল রক্ত দেখতে পাচ্ছে। তার রক্ত তার সপ্নের। যে সপ্নকে খুন করেছে আজ জিহান।। সে রাত জেগে কান্না করলো। ) জিহান সকালে প্রিতির মুখে একগ্লাস পানি ছোড়ে মারলো। প্রিতি চমকে উঠলো হটাৎ। প্রিতি: কি সমস্যা আপনার?? ঘুমালেও প্রব্লেম আপনার?? ঘুমানো কি যাবে না?? জিহান: রাগ কাকে দেখাচ্ছিস?? বাড়ির বাইরে বের করে দিবো আরেকটা কথা বললে। বাথরুমের দরজাই ঘুমাইলে কি আমিমি তোর মাথার উপর দিয়ে যাবো?? সরে বস হারামজাদি।। প্রিতি: সরি।। বলে উঠে গেলো প্রিতি। চোখের পানিতে তার কাজলগুলা ছড়াই গেছে একদম।। জিহান বাথরুম থেকে আসা পর্যন্ত প্রিতি টিস্যু দিয়ে চোখের কাজল ঠিক করছিলো। আধঘণ্টা হয়ে গেছে এখনও আসছে না আপদটা।। মরে টরে গেলো নাকি আবার।। প্রিতি দরজাই ধাক্কা দিতে গেলো সাথে সাথে জিহান দরজা খুললো আর প্রিতি গিয়ে জিহানের গায়ে পড়লো।। প্রিতি জিহানের হাতে।। চোখ ২টা একসাথে তাদের।। জিহান তাকিয়ে আছে প্রিতির দিকে আর ভাবছে এতো সুন্দর তার চোখগুলা।। প্রিতি যেন জিহানের চোখে ডুবে গেলো আর বলে কই তার চোখে কত মায়া এই মানুষটা কেন এমন করছে আমারর সাথে। তাকে কাছ থেকে দেখলে তো লাগেনা যে সে এমন খারাপ মানুষ। মনে হচ্ছে সে যেন এক ফেরেশতা।। সাফা ( জিহানের ছোট বোন ): ভাবি ঘুম ভেগেছে।। আহহ!! আমি কিছু দেখিনি।। বলে চোখে হাত দিয়ে দিছে।। (তার কথায় আমরা নড়ে দারালাম জিহান একপ্রকার ঠেলা মারলো আমাকে।) প্রিতি: হে ভেগেছে।। এসো ভিতরে এসো। সাফা: সরি। আসলে আমার এইভাবে আসাটা ঠিক হইনি।। প্রিতি:না না। তেমন কিছুনা। সাফা:নাও এই শাড়িটা পরে নিচে আসো আম্মা দিয়েছে।। প্রিতি : আচ্ছা।। ( লাল রঙের উপর সাদা সুতার কাজ করা) প্রিতি শাড়িটা পড়ে বের হললো বাথরুম থেকে তাকে খুব সুন্দর লাগছে। প্রিতির গায়ের রঙ এমনেতেই সাদা তার উপর এই রঙের শাড়ি দারুণ মানিয়েছে তাকে। জিহান বিছানাই বসে সিগারেট খাচ্ছিলো প্রিতিকে দেখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো।। জিহান: এই এদিকে শুন। আমার পা টিপে দে।।। প্রিতির এমন রাগ লাগছিলো যে পাশের টেবিলে থাকা পানির গ্লাসটা নিয়ে দিলো জিহানের মুখে পানিগুলা আর রুম থেকে বের হয়ে গেলো ।। জিহান তো আগুন হয়ে আছে।। বাসর পার্ট:-০২ তানভীর মার্জানা প্রিতি রেগেমেগে নিচে গেলো। সাফা প্রিতিকে দেখে বলে ওইযে ভাবি আসছে।। মা আর সাফা সোফায় বসে ছিলো।মা আমাকে দেখে বলে মা :ঘুম হয়েছে মা?? প্রিতি:হে হয়েছে।। ( মা তোমাকে যদি বলতে পারতাম ????????) মা আমাকে খাবার টেবিলে নিয়ে গেলো। বসো মা খেয়ে নাও।। আমি বসলাম।। মা:জিহান উঠেনি এখনও?? প্রিতি: হে উঠেছে। বসে আছে।। মা: ওকে ডাকনি যে?? প্রিতি:ডেকেছিলাম।। বলছে পরে আসবে মা: আচ্ছা তুমি খেয়ে নাও।। প্রিতি খেতে পারছে না। বার বার সিঁড়িটার দিকে তাকাছে।। জিহানের অপেক্ষায়।।প্রিতি উঠে দাঁড়ালো।। প্রিতি: আমি সবাইকে ভাত তুলে দি আমি একটু পরে খাবো।। সাফা : বুঝেছি ভাইয়ার জন্য অপেক্ষা।। ???????? প্রিতি আর কিছু বললো না।। সবাই খেয়ে যে যার রুমে চলে গেছে আধঘণ্টা হয়ে গেছে জিহানের কোন খবর নাই।। সিঁড়িটা দিয়ে কে যেন নামছে জিহান হবে প্রিতি তাড়াতাড়ি এক প্লেট ভাত নিয়ে খেতে বসে যায় যাতে না লাগে সে জিহানের জন্য অপেক্ষা করছে।। জিহান: আর কত খাবি?? কাল থেকে এক প্লেটের বেশি খাবিনা।। তোরে খাওয়ার জন্য রাখিনাই।। কষ্ট দেওয়ার জন্য রাখছি। এই বলে প্রিতির খাবার প্লেটে পানি দিয়ে দিলো।। প্রিতি তো মাত্র খেতে বসেছে।। সে রেগেমেগে আগুন।। জিহানের দিকে এমনে তাকাই আছে যে এখন তাকে খেয়ে ফেলবে।। উঠে দাঁড়ালো প্রিতি। জিহানের পায়ে তার পা দিয়ে শক্ত করে চাপা দিলো আর উপরে উঠে যাচ্ছিলো।। জিহান: আহহ!! এই মেয়ে তোর সাহস তো কম না।। প্রিতি: এখনও সাহসের কি দেখলে?????????? প্রিতি রুমের বারান্দায় থাকা চেয়ারটাতে বসে বসে ভাবছে তার বাপেরবাড়িতে কিছু বলা যাবে না।। তার বাবা অনেক সখ করে তাকে বিয়ে দিয়েছে আর তারা।অনেক কষ্ট করে চলে তাদের বলে আর কষ্ট দেওয়া যাবেনা।। প্রিতি তো বেশি কিছু চাই নি একটা সুখি পড়িবার চেয়েছিলো তা কি তার অপরাধ?? তার সাথে এমন কেন হলো।। হটাৎ প্রিতির হাত ধরে টান দিয়ে জিহান দেয়ালের সাথে শক্ত করে ধাক্কা দিলো।। প্রিতির খুব বেশি লেগেছে। তার চোখে পানি চলে আসছে।। জিহান:কি মনে হয় তোর আমি এখানে তোকে আদর করার জন্য আনছ? সপ্নে থাকিস না।। তুরে আমি কষ্ট দিতে বিয়ে করছি।। বেশি চালাকি করলে বাড়িতে থাকার জায়গা পাবিনা।। ???????? প্রিতি কিছু বলছে না। তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।। জিহান তার চোখে পানি দেখে ছেড়ে দিয়ে রুম থেকে বাইর হয়ে গেলো। প্রিতি ব্যাথার জন্য নড়তে পারতেছ। তাই আস্তে আস্তে ওই জায়গাই বসে পড়লো।। কান্না করছে শুধু।। সারারাত কান্না আর সকালে কিছু না খাওয়ার কারনে তার ক্লান্ত লাগছে প্রিতির ঘুমিয়ে গেলো।। এক গ্লাস পানি দিলো তার মুখে জিহান।। চমকে উঠলো প্রিতি।। তার নাকে পানি ডুকে গেছে।। রেগেমেগে ফুলছে প্রিতি।। জিহান :- তোরে এখানে ঘুমানোর জন্য রাখছি আমি?? উঠ আজকে থেকে আমার কথা ছাড়া ঘুমাবিনা । যা আমার জন্য চা করে নিয়ে আয়।। প্রিতির এতো রাগ লাগছিলো যে।সে পারছেনা জিহানের চুল গুলা টেনে দিতে।। মনে মনে বলছে আমার জনাব চা খাবে তাইনা?? অনেক সখ চা খাওয়ার।। ???????????? ওয়াইট খাওয়াচ্ছি।। ১০মিনিট পর প্রিতি হাতে একটা চায়ের কাপ এনে জিহানের হাতে দিলো।। জিহান তার হাত থেকে চায়ের কাপটা নিয়ে খাওয়া শুরু করলো।। প্রিতি আয়নার সামনে বসে চুল ঠিক করছে আর গুন গুন করে গান করছে।। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।। ???????? জিহানের চা একটু গরম ছিলো তাই সে চায়ের কাপে ফু দিচ্ছে প্রিতির গান শুনে বলে এই চুপ কর।। তোরে গান করতে কে বলছে?? প্রিতি: আচ্ছা সরি।। বলে গান অফ করে দিলো।। ???????? জিহানের চা ঠান্ডা হতেই এক সিপে সব চা খেয়ে ফেললো।। তারপর............................???????????????? জিহান লাফাতে লাফাতে: এই হারামজাদি কি দিয়েছিস চায়ে?? ঝাল কেন?? প্রিতি: কেন?? ঝাল যখন হয়েছে মরিচই হবে।। ???????? জিহান: চায়ে মরিচ দেয়!! ???? এই ম*গি তোরে চা বানানো কে শিখাইছে?? প্রিতি: ভাষা ঠিক করেন।। ???????? জিহান বিছানার পাশে থাকা টেবিল থেকে পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে দেখে এতে পানি নাই।। উফফফ! একটু আগে তো এই পানি এই হারামজাদিটার মুখে মারছিলাম।। জিহান: যা আমার জন্য পানি নিয়ে আয়।। তাড়াতাড়ি যা।। এক প্রকার লাফাচ্ছে জিহান।। প্রিতি হাসছে জিহানের অবস্থা দেখে তারপর বিছানার নিচ থেকে পানির গ্লাসটা জিহানের হাতে দিলো জিহান পানি তাড়াহুড়া করে পানি টা খেলো।। যুদ্ধ করে শেষ করলো সে পানি জিহানের মুখ দিয়ে কথা আসছে না।। এতো ঝাল সে।আর কোনদিন খাই নি।। বিছানাই বসে পড়লো।। প্রিতি: এখনও শুরু জনাব।। এখনও শুরু।। ???????? এই বলে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।। জিহান তাকিয়ে আছে প্রিতির চলে যাওয়ার দিকে।। এই মেয়েকে সে কষ্ট দেওয়ার জন্য আনছে?? ???????????? গ্রামের মেয়ে সহজ সরল হবে কিন্তু এই মেয়ে এমন কেনো?? ???????????? কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো জিহান।। তারপর ভাবে না এই মেয়েরে আমি ছাড়বো না।। এই মেয়ের শেষ দেখে ছাড়বো।। জিহান ভাবতে রইলো প্রিতিরে জব্দ করার কথা এই খেয়ালে সে আজকে সারাদিন নেশা করেনি।। তার খিয়ালই নেই যে সে একজন মাদকাসক্ত ছেলে।। প্রিতির ব্যাথা এখনও আছে।।তাও সে কাউকে বলেনি।। ???????? সন্ধায় সবার জন্য চা বানালো।। সবাই বাইরের বাগানের চেয়ারে বসেছে।। গিয়ে দেখি জিহানও ওখানে বসেছে।। দেখে একটু বাকা হাসি দিলাম সে রেগেমেগে দেখেতে রাক্ষাসের মত লাগছে।। এমনে সাদা তার উপর রেগে একদম লাল হয়ে গেছে।। দেখতে বেশভালোই লাগছে প্রিতির।। সবাইকে চা দিলো।। সবাই চা খাচ্ছে।। জিহানকেও দিতে চাইলাম সে খাচ্ছে না।???????????? প্রিতি: আরে নিন নিন কিছু হবেনা।। জিহান : নো থ্যাংকস।। আমি খাবো না।। মা: আরে খেয়ে নে।। অনেক ভালো হয়েছে।। বউ মা তো খুব ভালো চা বানায়।। মাশাল্লাহ।।???????? সাফা: আরে ভাই খা খা অনেক ভালো হয়েছে।। না খেলে মিস করবি।। প্রিতি: ভয় নেয় খান খান।। ???????????? জিহান একপ্রকার টেনে নিলো চায়ের কাপটা।। ???????? খাচ্ছেনা তাকায় আছে চায়ের দিকে।। ???????? প্রিতির এই সিনটা দেখতে কত হাসি পাচ্ছে।। ???????? প্রিতি জিহানের কাছে গিয়ে আস্তে আস্তে বললো: জিহান সাহেব খেয়ে নিন ভয় নেই।। চা বানিয়েছি।।???????? জিহান: একটু আগেও চা বানিয়েছিলি।। ???????? অনেক ভয় নিয়ে খেলো জিহান।। তারপর যখন দেখলো যে এইটা চা তখন যেন শান্তি পেল। চলবে। বাসর পার্ট:- ০৩ তানভীর মার্জানা জিহান:- এইটা কি করলি তুই?? ???????????? প্রিতি:- ওমা এতো বড় কিছু তো করিনাই।। আপনি যখন উঠছেন না তাই ভাবলাম আমাকে যে ভাবে ডাকা হয় আমিও সেভাবে ডাকি।। জিহান:- আমাকে একবার ডাকছিলি তুই?? প্রিতি:- ওমা। কতবার ডাকছি।। আপনি তো উঠেন নি।। আর আমার ওতো নিচে যেতে হবে রান্না করতে হবে।। জিহান:- নিচে গেলে যা না আমি কি তোরে জড়ায় ধরছি?? ???????????? প্রিতি:- ছি ছি!! কি যে বলেন।। ???????? আপনি সুয়ে থাকলে আমি বিছানা কেমনে গোছাবো??? জিহান:- আমার বিছানা গোছাতে কে বলছে তোরে?? আমার বিছানা এমন থাকবে।। তাতে তোর কি??? প্রিতি:- আপনি তো কালকে বললেন আমাকে ঘুমানোর জন্য না কাজ করার জন্য রাখছেন তাই আমি সকালে উঠে আপনার সব কাপড় ধুয়ে দিছি একটাও বাকি রাখিনাই।। ???????? ভাল করছিনা?? জিহান:- কি!!! সব?? তো আমি কি পড়বো??? ???????????? প্রিতি:- একটা হাফ হাতা গেঞ্জি আর একটা থ্রি কোয়াটার পেন্ট রাখছিলাম।। ওটা ধুতে পারিনাই।। আপনি চাইলে পড়তে পারবেন ???????????? জিহান:- আমি এই কাপড় পড়ে থাকবো??? ???????????? প্রিতি একটু এইদিকে আয় তো।। মায়ের ডাক।। প্রিতি:- আমাকে মা ডাকছে আপনি রেডি হয়ে নিচে আসুন । টেবিলে খাবারটা আমি দিয়ে দিচ্ছি।। ???????????????????? জিহান দাঁত খিলাই তাকাই আছে প্রিতির দিকে।।। প্রিতি তাড়াতাড়ি রুম থেকে বের হয়ে গেলো।।। ???????????? জিহান কিছুক্ষন বিছানাই ভাবছে এই কি করলো সে ???????? চাইছিলো মেয়েটারে কষ্ট দিতে এখন সে তো তার জীবন কষ্টের করে দিলো।। ???????????????? ( এখনও জিহান নেশাই হাত দেনা সে সারাক্ষণ প্রিতিকে জব্দ করার কথা ভাবে )) সেই কাপড় পড়ে নিচে আসছে জিহান।। লজ্জা লাগছে অনেক তার সে কোনদিন এমন কাপড় পড়ে নাই।। অনেক আগে পড়তো ???????? রাগ সব প্রিতির উপর।। তারে আজকে ছাড়বো না আমি।। সাফা:- ভাইয়া এইকি অবস্থা তোর?? জিহান:- কেন?? এইটা কি কাপড় না??????????? প্রিতি মুখ টিপে হাসছে।। ???????????? বাবা ( জিহানের বাবা) :- শোন, কাল থেকে আবার অফিস জয়েন্ট করবি।।। অনেক দিন তো হলো।। আর ছুটি কাটালে চলবেনা।। জিহান:-আচ্ছা বাবা।। ???????? নাস্তা করে যে যার রুমে চলে গেলো।। জিহান একটা কল রিসিভ করে রুমে এসে দেখে প্রিতি তার বিছানায় বসে টেবে গেম খেলছে।। প্রিতি:- আরে আপনি এসেছেন?? আসুন আপনিও খেলোন । গেমটা ভালোই।। জিহান:- তোরে আমার বেডে বসার সাহস কে দিয়েছে এখন উঠ বলে প্রিতির হাত ধরে তাকে বিছানা থেকে মাটিতে ফেলে দিলো।। প্রিতির রাগ লাগছে অনেক ???????? জিহান:- যা চা করে নিয়ে আয়।। ???????? হঠাৎ কালকের কথা মনে পড়ে যায় জিহানে:- না না লাগবেনা।। প্রিতি হাসছে।। প্রিতি:- কি ভয় পেলেন নাকি?? ???????? জিহান:- তোরে আর ভয়।। হা হা হা।। প্রিতি বারান্দার চেয়ারটাতে গিয়ে বসলো।। হেলান দিতেই তার ঘুম ধরে গেলো।। জিহানের চিৎকারে তার ঘুম ভাংগে।। প্রিতি চোখ খুলতেই তার সামনে এতো গুলো সাপ আর তেলাপোকা দেখতে পাই।। সে জিহানের বিছানায় আর তার আসে পাশে সব সাপ আর তেলাপোকা।। ???????????? সে চিল্লাছে আর চিল্লাছে আর জিহান সামনে বসে লেপ্টপে কাজ করছে মাঝে মাঝে প্রিতির দিকে ও তাকাচ্ছে।। ( ???? জিহান প্রিতির বাপের বাসায় ফোন করছিলো কিছুক্ষণ আগে। তার সালির কাছে জানতে পারে যে প্রিতি সবচেয়ে বেশি ভয় পাই সাপ আর তেলাপোকা ???????? প্রিতিকে ঘুম দেখে নাচা শুরু করলো জিহান।।। তাড়াতাড়ি দোকানে গিয়ে অনেকগুলো সাপ আর তেলাপোকা কিনে নিয়ে এলো।। দোকানে গিয়ে জানতে পারে যে কিছু তেলাপোকা আছে যা আসল তেলাপোকার মত নড়াচড়া করে।। জিহান তার থেকে কিছু কিনে নিয়ে আসলো।। প্রিতিকে চেয়ার থেকে আস্তে করে তুলে নিলো তার কোলে।। আর মনে মনে বলে এই হারামির ঘুম তো দেখি ভাঙ্গেনা।। এই ভালো উঠে গেলে আমার প্লেনটা নষ্ট হয়ে যাবে।। তারপর কোলে নিয়ে তারে বিছানায় রাখলো।। প্রিতির চুড়ির সাথে জিহানের গেঞ্জি আটকা পড়ে গেছে।। জিহান তা ছাড়াতে গেছে তখন কেমন জানি প্রিতির প্রতি একটা মায়া কাজ করছিলো তার। কি ভেবে জানেনা প্রিতির কপালে একটা চুমু খেলো জিহান ।। তারপর ভাবলো না।।। মেয়ে মানে মেয়ে।। সব মেয়ে এক।। তারপর সেখান থেকে উঠে এলো।।। ????) তারপর সব সাপ আর তেলাপোকা প্রিতির আসে পাশে ছড়িয়ে দিলো।। এক জায়গায় গিয়ে বসলো।। ???????????? সে আর অপেক্ষা করতে পারতেছে না প্রিতির অবস্থা দেখার জন্য তাই একটা চিৎকার দিয়ে প্রিতিকে জাগিয়ে দিলো।। প্রিতির চিল্লানি পেয়ে বাড়ির অনেকে এলো কিন্তু জিহান তাদের বের করে দরজা লাগিয়ে দিলো।। প্রিতি:- আপনি এমন করবেননা প্লিজ।। ???????????? আমি আর কোনদিন আপনার সাথে এমন করবো না।। দেখেন আমি আপনার কাপড় ধুয়ে দি নি।। এমনে মজা করে বলছিলাম।। ???????? আলমারিতে দেখেন সব পেয়ে যাবেন।। আমাকে প্লিজ এখান থেকে বের করুন।। জিহান কোন কথা না বলে আলমারি খুলে তার কাপড় নিয়ে বাথরুমে ডুকে গেলো প্রিতি:- আরে কোথায় যাচ্ছেন?? ???????? প্লিজ আমাকে বের করুন এখান থেকে।। ???????????? জিহান জিহান!!!!!!! জিহান বাথরুমে ডুকে কি হাসি।।???????? কিছুক্ষণ নাচলো।। জিহান মনে মনে:- আমার সাথে ফাজলামি তাই না?? ???????????? এবার বুঝ ???????????? ঘন্টা খানেক পরে বের হলো জিহান।। দেখে প্রিতি শুয়ে আছে।। কাছে গিয়ে ডাকলো তাকে।। কিন্তু কিছু তেই সে সাড়া দিচ্ছে না।। জিহান হাসছে তা দেখে।। তাহলে হারামি বেহুঁশ হয়ে গেছে।। ???????????? জিহান সব সাপ আর তেলাপোকা সরায় দিলো।। তারপর প্রিতির মুখে ১গ্লাস পানি ছুড়ে মারলো।। ???????? প্রিতি চমকে উঠে জিহানকে জড়ায় ধরে।। কান্না করে দিলো???????? প্রিতি:- আপনি খুব খারাপ।। খুব খারাপ আপনি।। জিহান কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।। মেয়েটা এতো ভয়ে আছে তাকে কি এখন বকা দেয়া ঠিক হবে।। জিহান ও প্রিতিকে জড়ায় ধরতে গিয়ে আর ধরে না।। আগের কথাগুলো বার বার মনে পড়ে তার।। ???????? প্রিতি একটু স্বাভাবিক হয়ে সরে আসে জিহানের কাছ থেকে।। প্রিতি:- সরি।। ???????? আমার আসলেই ভয় লেগেছিলো ???????? জিহান:- তাই বলছি সাবধান।। এর পর থেকে আর কোনো চালাকি আমার সাথে করতে আসবি না। করলে তো বুঝিতেছিস?? ???????????? প্রিতি:- আচ্ছা।। ???????????? জনাব এখনও তো শুরু এতো তাড়াতাড়ি তো আমি শেষ করবো না।। ???????????? সন্ধায় প্রিতি ছাদ পরিস্কার করাচ্ছিলো কাজের লোক দিয়ে তখন দেখে জিহান নিচে খবরের কাগজ পরছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বাসর---(০১,২,৩)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now