বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পৃথিবীতে যত রহস্যময় স্থান রয়েছে তার মধ্যে বারমুডা ট্রাইএঙ্গেল অন্যতম। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল শয়তানের ত্রিভুজ নামেও ব্যাপক পরিচিত। এর কুখ্যাতির জন্য একে শয়তানের ত্রিভুজ বলা হয়। Charles Berlitz তার "The Bermuda Triangle" গ্রন্থে লিখেছেন আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্ব আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি অঞ্চল। যেটি উত্তরের বারমুডা থেকে দক্ষিণে ফ্লোরিডা পর্যন্ত এবং পূর্ব বাহামার পুয়ের্তো রিকো থেকে পশ্চিমে প্রায় ৪০° দাঘ্রিমা পিছনে বিস্তৃত ত্রিভুজ আকৃতির এলাকা। আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি ৩০০টি দ্বীপ নিয়ে বিস্তৃত। এর উত্তরে অনেকগুলো দ্বীপ দক্ষিণ-পূর্বে "পোরটোরিকো" এবং এর দক্ষিণ-পশ্চিমে "ফ্লোরিডা" অবস্থিত। এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলটা যে একদম ঠিকঠাক আটলান্টিক মহাসাগরের কোথায় অবস্থিত তা নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। ত্রিভুজের বিস্তৃতির বর্ণনায় বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন মত দিয়েছেন। কেউমনে করেন এর আকার ট্রাপিজয়েডের মতো যা ছড়িয়ে আছে স্ট্রেইটস অব ফ্লোরিডা বাহামা এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জএবং ইশোর (অুড়ৎবং) পূর্ব দিকের আটলান্টিক অঞ্চলজুড়ে। আবার কেউ কেউ এগুলোর সঙ্গে মেক্সিকো উপসাগরকেও যুক্ত করেন।তবে লিখিত বর্ণনায় যে সাধারণ অঞ্চলের ছবি ফুটে ওঠে তাতে রয়েছে ফ্লোরিডার আটলান্টিক উপকূল সান জুয়ান পুয়ের্তো রিকো মধ্য আটলান্টিকে বারমুডার দ্বীপপুঞ্জ এবং বাহামা ও ফ্লোরিডা স্টেইটসের দক্ষিণ সীমানা। আর এখানেইঘটেছে অধিকাংশ দুর্ঘটনা। এই অঞ্চলে তিন শতাধিক দ্বীপ রয়েছে। এর বেশির ভাগই জনবসতিহীন। আর এর মধ্যে একটি দ্বীপ হচ্ছে ’ বারমুডা ‘ । দ্বীপটি আবিষ্কৃত হয় ১৫৬৫ সালে। একদুঃসাহসী নাবিক জুয়ান ডি বারমুডেজ দ্বীপের আবিষ্কারক। তার নামানুসারেই এই দ্বীপের নামকরণ করা হয়।
বেশিরভাগ লেখক-গবেষকই এই নির্দিষ্ট অঞ্চলকে চিহ্নিত করেছেন সীমানা বরাবর মিয়ামি সানজুয়ান পুয়ের্তো রিকো মধ্যআটলান্টিক আর বারমুডা নিয়ে তৈরি একটি ত্রিভুজ বা একটি ট্রাপিজিয়াম আকৃতির চতুর্ভুজ। তবে বেশিরভাগহারিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো ঘটেছে দক্ষিণ সীমানায় বাহামা দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে এবং ফ্লোরিডা উপকূলের আশপাশে। কতজাহাজ ও বিমান হারিয়ে গেছে এ এলাকায় যেগুলোর বেশিরভাগেরই কোনো রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি আজও।বিভিন্ন লেখকের বর্ণনায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের বিস্তৃতিতে ভিন্নতা রয়েছে। এই ত্রিভুজের ওপর দিয়ে মেক্সিকো উপসাগরথেকে উষ্ণ সমুদ্র স্রোত বয়ে গেছে। এখানকার আবহাওয়া এমন যে হঠাৎ ঝড় ওঠে আবার থেমে যায় গ্রীষ্মে ঘূর্ণিঝড় আঘাতহানে।
এই অঞ্চলের আবিষ্কারক কলম্বাস তবে, “বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল ” শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন লেখক ভিনসিয়েন্ট গ্যাডিস, তার লেখা একটি কাহিনীতে, ১৯৬৪ সালে। “দা মায়ামি হোরাল্ড” পত্রিকায় ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরে, আটলান্টিক মহাসাগরের নামহীন এক অদ্ভুত এলাকা নিয়ে, একটি রিপোর্ট ছাপা হয়। আর এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই গ্যাডিস লিখেছিল, “The Deadly Bermuda Triangle” নামক কাহিনীটি।
পঞ্চদশ শতকে ক্রিস্টোফার কলম্বাস যখন ইউরোপ থেকে আমেরিকায় যান, তখনই তিনি সাগরের এই অদ্ভুত এলাকাটিকে লক্ষ করেছিলেন। ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায়, ১৪৯২ সালের ১১ ই অক্টোবর এই জায়গাটি নিয়ে তিনি অদ্ভুত কিছু অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, তার জাহাজের নাবিকেরা দূর থেকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের অঞ্চলের দিকে আলোর নাচানাচি আর আকাশে ধোঁয়া দেখেছিল, আর তার কম্পাসও তখন এলোমেলো ছোটাছুটি করছিল। অদ্ভুত এই জায়গাটি লেখক ভেদে প্রায় ১,৩০০,০০০ থেকে ৩,৯০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত জুড়ে রয়েছে।
বারমুডা ট্রাইএঙ্গেলের রহসস্যের কারণ হলো এখানে যখনই কোন বিমান বা জাহাজ গিয়েছে , তখনই সে গুলো কিভাবে যেন হারিয়ে যায় কিংবা সেখান থেকে যদি ফিরেও আসে, তবুও মুখোমুখি হয় অদ্ভুত সব ঘটনার। ব্ল্যাক হোলের মত সবকিছু নিজের কাছে টেনে নিতে চায় বলে সবার কাছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এক রহস্যের নাম। কিছু ঘটনার কারনে এই রহস্য যেন আরো গভীর হয়ে উঠেছে।
এই ত্রিভুজ অঞ্চলে এমন অদ্ভুতভাবে হারিয়ে গেছে মানুষ জাহাজ কিংবা উড়োজাহাজ। এরকম অসংখ্যঅন্তর্ধানের গল্প বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে পৃথিবীর সেরা রহস্যাবৃত অঞ্চলে পরিণত করেছে। অনেকে মনে করেন এসব অন্তর্ধানেরকারণ নিছক দুর্ঘটনা যার কারণ হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা চালকের অসাবধানতা। আবার চলতি উপকথা অনুসারে এসবের পেছনে দায়ী অতি-প্রাকৃতিক কোনো শক্তি বা ভিনগ্রহের প্রাণীর উপস্থিতি। জায়গাটির রহস্যময়তা নিয়ে বিস্তরলেখালেখি হয়েছে বানানো হয়েছে অসংখ্য ডকুমেন্টারি। পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা শোনা যায়। আবার যেসব দুর্ঘটনার ওপরভিত্তি করে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে চিহ্নিত করা হয়েছে তার বেশ কিছু ভুল আবার অনেক কিছুই লেখক দ্বারা অতিরঞ্জিতবলে মনে করা হয়।
নিচে বারমুডা ট্রাইএঙ্গেল এ ঘটা কয়েকটি উল্লেখযগ্য ঘটনা উল্লেখ করা হলোঃ
মারি সেলেস্ত নামের একটি মালবাহী জাহাজ, ১৮৭২ সালের ৫ ডিসেম্বর, নিউইয়র্ক বন্দর থেকে রওনা হয়। অনেকদিন হয়ে যাওয়ার পরও জাহাজটি যখন গন্তব্যে পৌঁছায়নি, তখন শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অনেক চেষ্টার পর জাহাজটিকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এলাকায় খুঁজে পাওয়া গেল ভাসমান অবস্থায়। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো জাহাজে সব মালপত্র, খাবার দাবার সবকিছু একদম অক্ষত ছিল, শুধুমাত্র ১১ জন কর্মী উধাও!
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, মার্কিন সরকার ব্রিটিশদের সাহায্য করার জন্য ইউএসএস সাইক্লোপস নামক একটি জাহাজ পাঠায়। ১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে জাহাজটি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কাছে এসে কোন চিহ্ন না রেখেই উধাও হয়ে যায় এর সাথে থাকা ৩০৬ জন ক্রু নিয়ে।
ঠিক একই ভাবে একই জায়গা থেকে ১৯৪১ সালে গায়েব হয়ে যায় ইউএসএস প্রটিয়াস ও ইউএসএস নিরিয়াস নামের দুটি জাহাজ।
তবে জাহাজের ঘটনা গুলোর মাঝে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো, মেরিন সালফার কুইন নামক জাহাজটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি। ১৫ হাজার টন গলিত সালফার আর ৩৯ জন ক্রু নিয়ে ১৯৩৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারিতে রওনা হয় জাহাজটি। ফেব্রুয়ারি ৪ তারিখে জাহাজটি যখন বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে অবস্থান করছিল তখন হঠাৎ রেডিও ট্রানস্মিশন অফ হয়ে যায়, অথচ অফ হয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেও কমান্ডার বলছিলেন “কত সুন্দর আবহাওয়া ! কী চমৎকারভাবে নেভিগেশন চলছে !” এভাবেই হঠাৎ ৬০০ ফুটের দানবাকার এই জাহাজটি এতগুলো মানুষকে নিয়ে যেন একদম -নেই হয়ে গেল!
মধ্য আটলান্টিকে পাড়ি দেওয়ার সময় এলেন অস্টিন জাহাজেরনাবিকরা একটু দূরে একটি খালি জাহাজ ভাসতে দেখে ভীষণ অবাক হন। ঠিক করলেন নিজের জাহাজের মাঝি-মাল্লাদেরপাঠিয়ে একটু দেখে আসা যাক। পাঠালেনও সেই মতো। মাঝিরা জাহাজের কাছাকাছি পৌঁছতেই ঘনকুয়াশা চারদিকঢেকে গেল। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। কি হলো কিছুক্ষণ পর আস্তে আস্তে কুয়াশা কেটে গেল। খালি জাহাজটি দেখা গেল।কিন্তু মাঝি-মাল্লারা গেল কোথায় তারা তো ফিরছে না! ঘটনার রহস্য সমাধান করতে আরও একটি দলকে পাঠানো হলো। ওইদলটিও জাহাজে পোছামাত্র শুরু হলো প্রচণ্ড ঝড়। এবারও কিছুই দেখা গেল না। ঝড় থামার পর দেখা গেল সব ভ্যানিশ। মাঝি-মাল্লাদের আর দেখা গেল না। এমনকি জাহাজটিও কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে! চারদিকে তোলপাড় পড়ে গেল। চলল অনেকখোঁজাখুঁজি। কিন্তু কোথাও এর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া গেল না।
১৮১৩ সালে আমেরিকার তৃতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এরন বার (Aron Bur) এর কন্যা থিউডোসিয়া (Theodosia) বারমুডার ওই এলাকায় গায়েব হন। সে তার পিতার সাথে সাক্ষাতের জন্য সর্বাধুনিক জাহাজ "পেট্রিআট"-এ করে নিউইয়র্কে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তারা কখনোই নিউইয়র্কে পৌছাতে পারেনি। এরন বার তার কন্যাকে খুঁজে বের করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষমেশ ব্যার্থ হয়েছেন।
১৮১৪ সালে বানিজ্যিক জাহাজ WASP বারমুডা ট্রাইএঙ্গেলে হারিয়ে যায়। এই জাহাজের কাপ্টেন ছিলেন জনষ্টন ব্লেকলে। যিনি একজন অসাধারণ ক্যাপ্টেন ছিলেন।
১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর এ সবচেয়ে রহস্যময় ঘটনা ঘটেছিন। এই দিন অনুমানিক ২টা ১০মিনিটে Fort Lauderdale বিমানবন্দর থেকে ৫টি এভেঞ্জার প্লেন উড্ডয়ন করে। এরপর অনুমানিক চারটায় বিমান থেকে অদ্ভুত বার্তা আসে। পাইলট বলছিল যে তারা এক আশ্চর্যজনক অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। তখন তাদের লোকেশন জানতে চাওয়া হলে বার্তা আসে যে তারা আকাশে হারিয়ে গেছে। তারা দিক নির্ণয় করতে পারছিল না। কারণ তাদের কম্পাসগুলো ঘুরছিল। আকাশ হালকা এবং হলুদ দেখাচ্ছিল৷ আর সমুদ্র অস্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। এরপর তাদের সন্ধান করতে মার্টিন মেরিনার (Martin Mariner) বিমানসহ আরো পাঁচটি প্লেন উড্ডয়ন করে। কিন্তু ওই স্থানে গিয়ে তাদের সাথে।এয়ারপোর্টের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যকে তালাশ করতে গিয়ে তারা নিজেরাই গায়েব হয়ে যায়। তখনই তাদের খুঁজে বের করতে চিরুনি তল্লাশি চালানো হলেও তাদের কনো হদিস মিলেনি। মাঝরাতে এয়ারপোর্টে অস্বাভাবিক বার্তা পৌঁছে FT";;;;;;;;FT"।
১৯৪৯ সালের ১৭ জানুয়ারী স্টার এরিয়েল নামের একটি বিমান লন্ডন থেকে জ্যামাইকা যাচ্ছিল। সকাল ৭টা ৪৫মিনিটে এটি বারমুডার আকাশে উড়ল। তখন আবহাওয়া ছিল স্বাভাবিক ও সুন্দর। আর সমুদ্র ছিল শান্ত। ওড়ার ৫৫ মিনিট পরবিমানটি অদৃশ্য হয়ে গেল। এ নিয়ে অনেক অনুসন্ধান হলো। কিন্তু সমুদ্রের কোথাও বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেল না।
১৮ তারিখ রাতে এক অনুসন্ধানী দল জানাল সেখানকার সমুদ্রের বিশেষ বিশেষএকটি জায়গা থেকে অদ্ভূত একটি আলোর আভাস দেখা যাচ্ছে। এ ঘটনার এক বছর আগে সেখান থেকে রহস্যজনকভাবে অদৃশ্যহয়ে গিয়েছিল একটি ডিসি-৩ বিমান। সেটি যাচ্ছিল সানজুয়ান থেকে সিয়ামি। ক্যাপ্টেনের নাম রবার্ট লিংকুইসড। ভোর৪টা ১৩ মিনিটে বিমানটি থেকে শেষ বেতার বার্তা ভেসে এলো আমরা অবতরণ ক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে চলেছি।দক্ষিণে আর মাত্র পঞ্চাশ মাইল দূরে সিয়ামি বিমানবন্দর। আমরা সিয়ামি শহরের আলোকমালা দেখতে পাচ্ছি। সব ঠিক আছে।কোনো গোলমাল নেই। অবতরণের নির্দেশের অপেক্ষায় রইলাম। এই শেষ বার্তা পাঠিয়ে বিমানটি অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপর এর আর কোনো হদিস মেলেনি।
১৯১৮ সালে সেখানে ইউএস নেভির কয়েকটি জাহাজ নিখোঁজ হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে সাইক্লোপস জাহাজের অদৃশ্য হওয়া। তাতে ছিল ৩০৯ জন যাত্রী। ১৯ হাজার টন ভারী জাহাজটি বারবাডোস থেকে বাল্টিমোরের দিকে যাত্রা করেছিল। এ জাহাজটি সেখানে অদৃশ্য হয়ে যায়।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের আরেকটি বিখ্যাত ঘটনা হলো ১৯৬২ সালের এপ্রিল মাসে অন্তর্ধান হওয়া ফ্লাইট নাইনটিন। আরএটি নিয়ে আমেরিকান লিজান ম্যাগাজিনে লেখা হয় , ‘ বলা হয়ে থাকে এই ফ্লাইটের দলনেতাকে নাকি বলতে শোনা গিয়েছে _ আমরা কোথায় আছি জানি না সবুজ রঙের পানি কোথাও সাদা কিছু নেই। এতেই প্রথম ফ্লাইট নাইনটিনকে কোনো অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
বারমুডা ট্রাইএঙ্গেলে হারানো বিমান ও জাহাজের তালিকাঃ
1872: মেরি সেলেস্টে (The Mary Celeste)
1945: 5 Navy avengers - Flight 19 নিখোঁজ হয়।
1947: "আর্মি সি -45 সুপারফোর্ট" বারমুডা থেকে ১০০ মাইল দূরে হারিয়ে যায়
1948: চার ইঞ্জিনযুক্ত টিউডোর-IV এর 31 জন প্রাণ হারায়
1948: ডিসি -3 থেকে ৩২জন যাত্রী এবং ক্রু হারিয়েছে
1949: দ্বিতীয় টিউডর IV হারিয়ে হয়ে যায়
1950: জায়ান্ট মার্কিন বিমানবাহিনী গ্লোবমাস্টার নিখোঁজ হয়
1950: আমেরিকান ফ্রেইটার, এসএস সান্দ্রা (৩৫০ ফুট) কোনো চিহ্ন ছাড়াই ডুবে গেছে
1952: ব্রিটিশ ইয়র্ক পরিবহণ বিমানটি ৩৩ যাত্রী সহ হারিয়েছে
1954: মার্কিন নৌবাহিনী লকহিড নক্ষত্রমণ্ডলটি ৪২ জন যাত্রী নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেছে
১৯৫6: ইউএস নেভির সমুদ্র সৈকত, মার্টিন পি ৫ এম, দশজন ক্রুসহ হারিয়েছে
1962: মার্কিন বিমান বাহিনী কেবি -50 ট্যাঙ্কার বিমান হারিয়েছে
1963: মেরিন সল্ফার কুইন কোনও চিহ্ন ছাড়াই নিখোঁজ
1967: কার্গো বিমানে রূপান্তরিত মিলিটারি ওয়াইসি -122 হারিয়ে যায়
1970: ফরাসি মালবাহী মিল্টন ল্যাট্রাইডগুলি অদৃশ্য হয়ে যায়
1972: জার্মান বাহক আনিতা (20,000 টন), ৩২ ক্রু নিয়ে হেরে গেল
1997: যাত্রী জার্মান ইয়ট থেকে নিখোঁজ
২০০৫, ২০০৭ এবং ২০১৭ সালে ঘটে আরও বিমান দুর্ঘটনা।
এছাড়াও আরো বহু জাহাজ ও বিমান নিখোঁজ হয়েছে।
যদিও আজ অব্দি অনেক গবেষণা হয়েছে এই ট্রায়াঙ্গল সম্পর্কে, তারপরও সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানীদের থেকে উঠে এসেছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর আসল রহস্য। তারা বর্ণনা করেছেন যে সমুদ্রের এ জায়গায় ষড়ভূজ মেঘ (Hexagonal Cloud) এর কারণে এক বায়ু গোলার সৃষ্টি হয় যার কারনে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়, যার কারনে আশেপাশের সবকিছু এই বিশাল ঢেউ সহ্য করতে না পেরে মিলিয়ে যায় আটলান্টিক সমুদ্রের বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এর অতল গহ্বরে। এই গবেষণাটিকেই আজ পর্যন্ত সমস্ত গবেষণার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায় সামনে নতুন কিছু কংক্রিট গবেষণার মাধ্যমে বের হয়ে আসবে নতুন আরো অজানা রহস্য, যার ফলশ্রুতিতে বাঁচানো যাবে অসংখ্য নিরীহ প্রাণ।
বারমুডা ট্রাইএঙ্গেল এর রহস্য ভেদ করতে ২০১৬ সালে কলরাভো স্টেট ইউনিভার্সিটির, স্যাটেলাইট মিটিওরোলজিস্ট ড. স্টিভ মিলার, নাসার স্যাটেলাইট এর ছবি বিশ্লেষণ করে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে একটা গ্রহণযোগ্য থিওরি দিয়েছিলেন। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলেরর অনেক অংশ জুড়ে থাকে ষড়ভুজ আকার মেঘ এবং কোন কোন মেঘের বিস্তৃতি ২০ থেকে ৫৫ মাইল। আর এখানকার বায়ুবেগ প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১৭০ মাইল! আর এসবই হলো জাহাজ ও বিমান দুর্ঘটনার কারণ।
বর্তমানে ‘চ্যানেল ৫’ তাদের ‘দ্যা বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এনিগমা’ তথ্যচিত্রে দাবি করেছে সম্ভবত এই রহস্যজনকভাবে বিমান বা জাহাজ উধাও হয়ে যাওয়ার পিছনে রয়েছে ১০০ ফুট উচ্চতার ‘রাফ ওয়েভ’ বা ‘ভয়ঙ্কর ঢেউ। ’ কিন্তু কি এই ‘রাফ ওয়েভ’?
বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা যায় ‘অত্যন্ত ঝোড়ো ঢেউ।
এই ঢেউগুলি ১০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উপরে উঠতে পারে। ১৯৯৭ সালে প্রথম একটি স্যাটেলাইটের সাহায্যে দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্র উপকুলে এই ভয়ঙ্কর ঢেউ লক্ষ্য করা যায়। এই ঢেউগুলি সম্পর্কে আগে থেকে কোনও আভাস পাওয়া যায় না।
কন্টিনেন্টাল সেলভে(continental shelve) জমে থাকা বিপুল পরিমাণ মিথেন হাইড্রেট অনেক জাহাজ ডোবার কারণ বলে দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় পরীক্ষাগারের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বাতাসের বুদবুদ পানির ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। তাই সাগরে যখন পর্যায়ক্রমিক মিথেন উদগীরন হয়, তখন পানির প্লবতা(কোন কিছুকে ভাসিয়ে রাখার ক্ষমতা) কমে । যদি এমন ঘটনা ঐ এলাকায় ঘটে থাকে তবে সতর্ক হবার আগেই কোন জাহাজ দ্রুত ডুবে যেতে পারে।
১৯৮১ সালে “ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে” একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে, যাতে বর্ণিত আছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ উপকূলের বিপরীতে
ব্ল্যাক রিজ (Blake Ridge) এলাকায় মিথেন হাইড্রেট রয়েছে। আবার ইউএসজিএস(ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে) এর ওয়েব পৃষ্ঠা থেকে জানা যায়, গত ১৫০০ বছরের মধ্যে ঐ এলাকায় তেমন হাইড্রেট গ্যাসের উদগীরন ঘটেনি।
কম্পাসের পাঠ নিয়ে বিভ্রান্তি অনেকাংশে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কাহিনীর সাথে জড়িত। এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে কম্পাস থেকে চুম্বক মেরুর দূরত্বের উপর ভিত্তি করে এর দিক নির্দেশনায় বিচ্যূতি আসে। উদাহরন হিসেবে বলা যায়- যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র উইসকনসিন(Wisconsin) থেকে মেক্সিকোর উপসাগর(Gulf of Mexico) পর্যন্ত সরলরেখা বরাবর চৌম্বক উত্তর মেরু সঠিক ভাবে ভৌগোলিক উত্তর মেরু নির্দেশ করে। এই সাধারণ তথ্য যে কোন দক্ষ পথপ্রদর্শকের জানা থাকার কথা। কিন্তু সমস্যা হল সাধারণ মানুষকে নিয়ে, যারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না। ঐ ত্রিভুজ এলাকা জুড়ে কম্পাসের এমন বিচ্যূতি তাদের কাছে রহস্যময় মনে হয়। কিন্তু এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা
তবে এর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে বিজ্ঞানিরা এখনো কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করা যায় অচিরেই এর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।।
তথ্যসূত্রঃ
1. "The Bermuda Triangle"- Charles Berlitz
2. https://bn.m.wikipedia.org/wiki/বারমুডা_ট্রায়াঙ্গেল
3. http://strangegr.tripod.com/strangeandparanormalactivities/id25.html
4. https://10minuteschool.com/blog/bermuda-triangle/
5. https://m.facebook.com/notes/mohammad-nahidul-islam/বারমুডা-ট্রাইএঙ্গেল-রহস্য/562396403845747html
6. https://bengali.oneindia.com/news/international/bermuda-triangle-mystery-solved-scientists-claim-hexagonal-cloud-011318.html
7. https://www.kalerkantho.com/online/miscellaneous/2018/08/08/667325
8. https://blog.bdnews24.com/faijan420/213236
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now