বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাড়িয়ালার মেয়েটি part-01

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Nahian Alif (০ পয়েন্ট)

X ইফতারী কিনে বাসায় আসছিলাম । সবে মাত্র তিন তালায় উঠেছি দেখি বাড়িয়ালার মেয়ে দরজা ঠেলে বের হচ্ছে । আমি প্রথমে ভাবলাম মেয়েটার দিকে তাকাবো না । আসলেই আমি এই মেয়েটার দিকে সাধারনত তাকাই না । যখনই আসতে যেতে দেখা হয় আমি মাথা নিচ করে চলে যাই । কখনও চোখাচোখি হয় না । কিন্তু আজ আমি সিড়ির হাফ ভাগে এসে দাড়িয়ে পড়লাম । কি মনে হল আমি মেয়েটার দিকে চোখ তুলে চাইলাম । ইস ! কি টলটলে চোখ মেয়েটার ! আমার বুকের নিঃশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে গেল । এই মেয়েটার চোখ এতো সুন্দর কেন ? আমি আমার চোখটা সরিয়ে নিতে চাইলাম কিন্তু পারলাম না কেন জানি । আর অবাক হবার বিষয় মেয়েটাও আমার দিকে তাকিয়ে আছে । একই ভাবে ! আচ্ছা আমি যা ভাবছি মেয়েটাও কি এমনটা ভাবছে ? নাহ ! আমার চোখ মেয়েটার মত এতো সুন্দর না ! তাহলে মেয়েটা আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে কেন? আমি জানি না তবে এভাবে তাকিয়ে থাকাটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না । না জানি মেয়েটা কি ভাবছে আমার সম্পর্কে ? আর দাড়ানো ঠিক হবে না ! আমি আমার মাথা নিচ করে উঠে চলে এলাম । কিন্তু কেন জানি মেয়েটার চোখের চাওনী আমি কিছুতেই ভুলতে পারছি না । কেন ? এতোদিন এই বাড়িতে আছি মেয়েটার সাথে কতবার দেখা হয়েছে প্রত্যেকবারই আমি মাথা নিচ করে চলে আসতাম । কোন দিন চোখাচোখি হয়নি । আজ প্রথম হল । কেন হল ? না হলেই ভাল হত । ঝামেলা হত না । -আপনি প্রতিদিন ছাদে আসেন ? ইফতারির শেষ প্রতিদিনই আমি ছাদে আসি । এই সময়টা কেন জানি খুব শান্তি শান্তি লাগে । আর ছাদের ফুরফুরে বাতাসটাও ভাল লাগে । কিন্তু আজ বিকেলের মেয়েটার সাথে চোখাচোখির হবার পর কেন জানি মনের ভিতর শান্তি লাগছে না । ঠিক এই সময় মেয়েটার কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম । মেয়েটা কে দেখে একটু চমকালাম । অন্য দিন তো মেয়েটা আসে না ছাদে । আজকে কেন আসলো ? মেয়েটা আবার বলল -আপনি প্রতিদিন আসেন ছাদে ? -এই তো ! আমার কথা হারিয়ে গেল । কি বলব ঠিক বুঝতে পারলাম না । মেয়েটি বলল -আমি আপনার অস্বস্থির কারন হচ্ছি না তো ? -না না এমন কোন ব্যাপার না । মেয়েটি হাসলো । যদিও সন্ধ্যা তবুও দিনের আলো একেবারে মিলিয়ে যায় নি । আবছা আলোয় মেয়েটির হাসি যেন ... কিসের সাথে যে তুলনা করি .. ঠিক বুঝতে পারলাম না । মেয়েটি বলল -আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি ? অনেকদিন ভেবেছি ! করবো? - করুন ! -আপনি কি কোন কারনে অপছন্দ করেন ? কি বলে এই মেয়ে!! এই মেয়ে কে কিভাবে অপছন্দ করবো? -নাহ ! অপছন্দ কেন করবো বলুন ? -না আমার মনে হয়েছে কেন জানি ! আপনার সাথে যতবারই দেখা হয়েছে ততবারই আপনি কেমন জানি আমাকে এভোয়েড করে চলে গেছেন । কেমন যেন এড়িয়ে গেছেন ইচ্ছা করেই । কথা টা খানিকটা সত্যিই । আমি আসলেই এমনটা করেছি ! কেন করেছি আমি জানি না ! -তাহলে আপনি আমাকে দেখলে ওভাবে চলে কেন যেতেন ?? আমি বলছি না যে আমার সাথে আপনি কথা বলেন নি, এটা হতেই পারে ! কিন্তু আপনার আচরন টা যেন কেমন ছিল !! -আসলে......... মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।আমি তাকাতে পারছি না ! -আসলে আমি ঠিক জানি না কেন করতাম ! আমি ভাবতাম হয়তো আপনি পছন্দ করবেন না । মেয়েটি আবার হেসে উঠল । বলল -আমি পছন্দ করবো না ? এমনটা কেন মনে হল আপনার ? -আমি জানি না ! মেয়েটি হাসতেই থাকলো ! কি প্রানচঞ্চল হাসি !!বিরিয়ানি খেয়ে বাসায় আসছিলাম ! বাড়ির সামনের বিশাল ডিপার্টমেন্টাল দোকানটার দিকে চোখ চলে গেল ! দেখি বাড়িয়ালা মেয়ে ! কি যেন কিনছে যদিও কিছু কেনার ইচ্ছা ছিল না তবুও ভিতরে ঢুকে পরলাম । মেয়েটার সাথে কিছুক্ষন কথা বলা যাক ! আমাকে দেখেই মেয়েটি বলল -আরে আপনি ? -এইতো ! -এতো রাত হল বাসায় ফিরতে ? কোথায় গিয়েছিলেন -না । কোথাও যাই নি । পেট পুজা করতে গেছিলাম জিন্দাবাজার। -কেন ? বাসায় রান্না হয়নি? -কি করবো বলেন বুয়া আসে নি । তাই বাধ্য হয়ে বাইরে খেতে হল !! একদম মিথ্যা কথা ! বুয়া এসেছে । কিন্তু আমার মাঝে মাঝেই বিরিয়ানি  খাই কারন খেতে মন চায়  । তাই রাতে চলে যাই বিরিয়ানি খেতে। মেয়েটি মুখে কেমন একটা সিমপ্যাথির ভাব ফুটে উঠল । -বুয়া না আসলে খুব ঝামেলা হয় আপনার তাই না? একটুা ঝামেলা হয় আরকি ? ব্যাপার না ! মেয়েটি আবার বলল -তবে একটা মজাও আছে অবশ্য ! -কি মজা ? -এই যে ইচ্ছা করলেই আপনারা বাইরে খেতে পারেন । জানেন, আমার আব্বু না বাইরের খাবার একদম পছন্দ করে না । আমাকে একটুও বাইরের খাবার খেতে দেয় না !! -বড়ই দুঃখের বিষয় ! আমি এমন ভাবে বললাম মেয়েটা হেসে ফেলল । মেয়েটার হাসি সুন্দর !! মেয়েটি বলল -তা আমি কি কিনতে এসেছেন ? -ও আসলে রাতএর খাবারের পর একটা আইসক্রিম না খেলে আমার ঠিক ভাল লাগে না । মেয়েটি আবার হাসলো ! আমি দোকানদার কে দুইটা চকবার দিতে বললাম । একটা মেয়েটার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম -নিন ! -আরে না না ! এতো রাতে আইসক্রিম খাওয়া ঠিক হবে না । -আরে কোন সমস্যা নাই ! নিন ! মেয়েটা আইসক্রিম টা নিল । -ধন্যবাদ মেয়েটার সাথে আরো কিছুক্ষন কথা বলে বাসায় ফিরে এলাম ! মেয়েটার সাথে কথা বলে ভালই লাগে !! জানি সামনে আবারও কথা হবে মেয়েটার সাথে ! ভোর বেলা সেহরী খেতে উঠেছি ! ভাত রান্না করে হবে । ইস এখন যদি তেহরীর দোকান টা খোলা থাকতো ভাল হত ! এই রান্না করে আর ভাল লাগে না । ঠিক তখনই কলিংবেল বেজে উঠল ! এই সময় কে এল !! দরজা খুলে সত্যিই অবাক হতে হল !! বাড়িয়ালার মেয়েটি ! এখন ! এই সময়ে ? -আপনি ? মেয়েটি একটু হাসলো !! বলল -আজ না বুয়া আসে নি? তাই আপনার জন্য সেহরী নিয়ে এলাম ! আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম । মেয়েটি হাতের ঢাকা প্লেট টি আমার দিকে বাড়িয়ে দিল । -গরম করা আছে ! খেয়ে নিন । আমি বললাম -আপনাকে ধন্যবাদ ! অনেক বেশি ধন্যবাদ !! মেয়েটি আবার হাসলো ! ইস!! কি গভীর চোখ মেয়েটার । নাহ !! এই মেয়েটার চোখের দিকে বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকলে আমি সত্যি মেয়েটার প্রেমে পড়ে যাবে ! যাওয়ার আগে মেয়েটি বলল - কথা হবে ! এখন যাই কেমন? কেমন একটা অনুমুতি চাচ্ছে যেন ! আমি যদি না বলি যেন যাবে না !! আমার মনটা আসলেই ভাল হয়ে গেল ! মন ভাল নিয়ে সেহরী খেতে বসলাম !!সকালবেলা বাইরে বেরিয়েছি । জিন্দাবাজার যাবো । এখন ঈদের মৌসুম । জিন্দাবাজার এর  দিকে তো যাবার উপায় নাই ভীড়ের ঠ্যালায় । সেই তুলনায় আম্বরখানায়  ভীড় খানিকটা কম । রিক্সা ঠিক করতট যাবো এমন সময় পেছন থেকে কে যেন আমার কাধে হাত দিল । পিছনে ফিরে দেখি বাড়িয়ালার মেয়েটি । হাসি মুখে তাকিয়ে আমার দিকে । -কোথায় যাচ্ছেন ? আমি মেয়েটার দিকে তাকালাম । মেয়েটা বেশ সাজগোজ করে বেরিয়েছে । তার মানে মেয়েটিও কোথাও যাচ্ছে । আর খুব সম্ভাবনা আছে মেয়েটা শপিংয়ে যাচ্ছে । এখন ! লেট মি থিঙ্ক । মেয়েদের পছন্দের শপিংয়ের জায়গা কোথায় ? জিন্দাবার নাকি আম্বরখানা? -আমি ? একটু জিন্দাবাজার এর দিকে যাবো ভাবছি । মেয়েটি একটু হেসে উঠল । -ওমা ! তাই নাকি আমিও তো ঐ দিকে যাচ্ছি । চলুন এক সাথে যাওয়া যাক । আমার মনটা খুশি হল । একসাথে এতোটা পথ যাওয়া যাবে । একসাথে, এক রিক্সায় ! ওয়াও ! -কি হল আপনি এমন জড়সড় নিয়ে বসে আছেন কেন ? একটু সহজ হয়ে বসুন । নাকি আমার পাশে বসতে ... মেয়েটি কথা শেষ করলো না । -না না কি বলছেন ? এমন কোন কথা না । আসলে ... -আসলে ? -আসলে আমি এর আগে কখনও কোন মেয়ের সাথে আমি রিক্সায় উঠি নাই তো , তাই ! মেয়েটি অবাক হল । সত্যিই মনে হল মেয়েটি আমার কথা শুনে অবাক হল । -আপনি সত্যি কোন মেয়ের সাথে রিক্সায় উঠেন নি ? -জি না ! এবার মেয়েটি কেমন একটা রহস্যময় হাসি দিল । -কি হল ? হাসছেন যে ? -না হাসছি না । আসলে আমার নিজেকে খুব লাকি মনে হচ্ছে । আমি প্রথম মেয়ে যে কি না আপনার সাথে রিক্সায় উঠেছি ! ইজেন্ট ইট অসাম ? এই মেয়েটা কি সুইট ভাবেই কথা বলে ! আর অনুভূতি গুলো কি চমত্‍কার ভাবেই অনুভব করায় ! সময়টা আসলেই অনেক চমত্‍কার কাটলো । যদিও মেয়েটি কোন কিছুই কিনলো না কেবল ঘুড়লো । আমার কাছে অবশ্য খারাপ লাগছিল না । অন্য সময় হলে আমার বিরক্তির সীমা থাকতো না কিন্তু এই মেয়েটির সাথে সব কেমন যেন আনন্দের দিকে যায় ! যাওয়ার পথেও একসাথে রিক্সায় করে আসছিলাম । সব কিছু কি চমত্‍কারই না হচ্ছে ! কিন্তু একটা বিরক্তিকর ব্যাপার । সারাটা সময়ে মেয়েটির ফোন বারবার বেজে উঠছিল । আর মেয়েটি বারবার ফোন কেটে দিচ্ছিল । ফেরার পথেও দেখলাম মেয়েটির ফোন বার বার বেজে উঠছিল । -কোন সমস্যা ? মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলো । -না কোন সমস্যা নাই । আমার এক বান্ধবী ফোন দিচ্ছে । -তা ধরুন । -না মানে ... আসলে ... -আসলে ? মেয়েটি বলল -আসলে ও আমার জন্য ব্লু ওয়াটার এ ওয়েট করছে । -কেন ? ওয়েট করছে কেন ? এবার মেয়েটা আবার একটু হাসি দিল -ওর সাথে আমার দেখা করার কথা ছিল ওখানে ! -তাহলে আপনি জিন্দাবাজার এ  কেন ...... আমি আর কোন কথা বলতে পারলাম না । আমি কেবল অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম মেয়েটার দিকে ! মেয়েটা কেমন একটা লজ্জা চেহারা নিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে আছে ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বাড়িয়ালার মেয়েটি part-01

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now