বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাড়ী

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "বাড়ী" মূল কাহিনী- সন্ধ্যার পরে সাবধান হেমেন্দ্রকুমার রায় ------------------ পাঁচ বছর আগে আমার ভারি অমুখ হয়েছিল। সেই সময়ে রোজই রাত্রে আমি ঠিক একই স্বপ্ন দেখতুম। স্বপ্নে দেখতুম, আমি যেন শহরের বাইরে এক পাঁড়াগায়ে গিয়েছি। আঁকাবাকা পথ দিয়ে রোজই এগিয়ে যাই। পথের দুধারে কোথাও কলাগাছের ঝাড়,-বাতাসে সবুজ নিশান উড়িয়ে দিয়েছে; কোথাও মেদিগাছের বেড়া দেওয়া নানান ফুলের বাগান,—মৌমাছি আর প্রজাপতিরা সেখানে মধু চয়নের খেলা খেলছে; কোথাও তালকুঞ্জের ছায়া-দোলানো এবং কাচা রোদের সোনা ছড়ানো ঝরঝরে সরোবর,-ঘাটে ঘাটে নববধূর ঘোমটায় মুখ ঢেকে কলসীতে জল ভরে নিচ্ছে। পথ যেখানে ফুরিয়ে গেছে, সেইখানে একখানি মস্ত বাড়ী—দূর থেকে ছবির মতন দেখতে। সামনেই ফটক, কিন্তু সেখানে কোন দারোয়ান নেই। বাড়ীর চারিদিকে জমিতে কত-রকমের গাছ-গন্ধরাজ, বকুল, রঙন, শিউলি, —আরো কত কি! মাঝে মাঝে কেনার ঝোপে রং-বেরঙের মেলা। রোজই বেড়াতে বেড়াতে বাড়ীখানির সামনে গিয়ে দাঁড়াই, — অপলক চোখে তার পানে তাকিয়ে থাকি, ভিতরে যাবার জন্যে প্রাণে সাধ জাগে। কিন্তু জনপ্রাণীকে দেখতে পাই না। ফটকের কাছ থেকে চেঁচিয়ে ডাকাডাকি করলেও কেউ সাড়া দেয় না। পরের বাড়ী, না জানিয়ে ভিতরে ঢুকতেও ভরসা হয় না। ফিরে আসি। রাতের পর রাত যায়,—আমি খালি ঐ একই স্বপ্ন দেখি। বার বার অনেকবার ঐ একই স্বপ্ন দেখে দেখে আমার মনে দৃঢ় ধারণা হল যে, অজ্ঞাত শৈশবে নিশ্চয়ই কারুর সঙ্গে আমি ঐ বাড়ীতে গিয়েছিলুম। আমার অসুখ সেরে গেল। কিন্তু তবু সেই স্বপ্নে-দেখা বাড়ীকে ভুলতে পারলুম না। মাঝে মাঝে এদেশ-ওদেশ বেড়াতে যেতুম। পথে বেরুলেই চারিদিক লক্ষ্য করে দেখতুম, স্বপ্নের বাড়ী খুঁজে পাওয়া যায় কি না। একবার এক বন্ধুর নিমন্ত্রণে কুসুমপুর গ্রামে যাই। বৈকালে বেড়াতে বেরিয়ে একটা গেঁয়োপথ পেলুম। দেখেই চিনলুম, এ আমার সেই স্বপ্নে-দেখা পথ। পথের দুধারে সেই কলাগাছের ঝাড়, মেদিগাছের বেড়া দেওয়া বাগান, আলো-ছায়াভরা পুকুরঘাট। অনেকদিন অদর্শনের পর পুরানো বন্ধুকে দেখলে মনে যে আনন্দের ভাব জাগে, আমারও মনে তেমনি ভাবের ছোয়া লাগলো। আঁকাবাক পথের শেষে ছবির মতন সেই বাড়ীখানি। তাড়াতাড়ি এগিয়ে ফটকের কাছে গিয়ে দাঁড়ালুম। ডাকাডাকি করতে লাগলুম। ভেবেছিলুম, কারুর সাড়া পাব না। কিন্তু আমার ডাক শুনেই একজন বুড়ো দারোয়ান ভিতর থেকে বেরিয়ে এল। —কাকে চান? —কারুকে নয়। এই বাড়ীখানা আমার বড় ভালো লেগেছে। ভিতরে ঢুকে একবার দেখতে পারি কি? —আসুন না! এ বাড়ী ভাড়া দেওয়া হবে। —বাড়ীওয়ালা কোথায় থাকেন? —এইখানেই থাকতেন। কিন্তু কিছুদিন হল, এ বাড়ী ছেড়ে দিয়েছেন। —বল কি! এমন চমৎকার বাড়ী কেউ ছেড়ে দেয়? —ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন? —কেন? —ভূতের উপদ্রবে। —ভূত ! একালেও লোকে ভূত বিশ্বাস করে নাকি? দারোয়ান গম্ভীর মুখে বললে, আমিও বিশ্বাস করতুম না। কিন্তু এখন বিশ্বাস না করে উপায় নেই। যে ভূতটার ভয়ে আমার মনিব এ বাড়ী ছেড়েছেন, রাত্রে আমিও তাকে স্বচক্ষে অনেকবার দেখেছি। তার মুখ আমি ভুলিনি। অবহেলার হাসি হেসে আমি বললুম, ডাহা গাঁজাখুরি গল্প। দারোয়ান বিরক্তভাবে আমার মুখের দিকে তাকালে। বললে, গাঁজাখুরি গল্প? অন্ততঃ আপনার মুখে এ কথা শোভা পায় না। অনেকবার যে ভুতকে আমি দেখেছি, যার মুখ আমি এ জীবনে ভুলব না,-—সে হচ্ছেন আপনি নিজে। আমি আপনাকেই দেখেছি। (ফরাসী লেখক Andre Maurois এর একটি বিখ্যাত গল্প অবলম্বনে।) ------------ ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভৌতিক রাজবাড়ী
→ ঝালং-02(বাড়ী)
→ কাঠের-বাড়ী 02
→ কাঠের-বাড়ী 01
→ পোড়াবাড়ীর ইবলিশ
→ ওলাইতলার বাগানবাড়ী
→ বাড়ী
→ ভূতের বাড়ী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now