বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
খুব দ্রুতই হৃদি আর ইরাকে আপন করে নেয় পরিবারটি। ইরাকে ভাইয়ের স্ত্রীর মতোই বরণ করে নেয় শিউলী। মহিলাকে খুবই ভাল লাগে হৃদির। কি মিষ্টি ব্যবহার। কত যতœ করে তাদের প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছেন।
ইরা আর হৃদির জন্য একটা রুমে বিছানা তৈরী করা। খাওয়া-দাওয়া শেষে বিছানায় গা এলিয়ে দেয় হৃদি। ক্লান্তিতে যেন শরীর ভেঙে আসতে চাইছে তার। কিন্তু ইরা চলে যায় সেতুর কাছে। হৃদিকে বলে, গল্প করতে যাচ্ছে, কিছুক্ষণ পরই ফিরবে।
অপরিচিত ঘরে একা কিছুটা অস্বস্তিবোধ করে হৃদি। ইরা কি স্বচ্ছন্দে এ ঘর-ও ঘর ঘুরে বেড়াচ্ছে! যেন নিজেরই বাড়ি। আসলেই তো, সেতুর বাবার বাড়ি মানে তো ইরার শ্বশুরবাড়ি। বিয়ে হয়ে গেলে ইরাও তো এ বাড়িরই একজন। নিজেকেই কেমন আশ্রিতা আশ্রিতা মনে হয় হৃদির। একবার মনে হয়, ওদের সঙ্গে গিয়ে গল্পে যোগ দেয়। আবার ভাবে, থাক। ইরা হয়তো সেতুর সাথে ভালবাসার কথা বলবে, নিজেদের মধ্যে কত গোপন কথা থাকে ভালবাসার মানুষদের। কি দরকার কাবাবে হাড্ডি হওয়ার?
সে শুয়ে শুয়ে ইরার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। দরজা খোলা, এ ব্যাপারটাও অস্বস্তিকর লাগে। বাসায় যদিও সব সময় তার রুমের দরজা খোলাই থাকে। দরজা বন্ধ করলে মা খুব রাগ করেন।
আহ! আবার বাসার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। বাবা-মাকে কি জানানো দরকার না ও ভাল আছে? আসার সময় একটা চিরকুট লিখে আসতে পারতো। সে চিন্তা এসেছিলও মাথায়। তবে ইরা মানা করে দিয়েছিল। ওরা পালানোর আগেই যদি চিঠি কারো চোখে পড়ে, তাহলে পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবে, তার চেয়ে জায়গামতো পৌঁছে ফোন দিলেই হবে।
ওর বাসার ল্যান্ড ফোনের নম্বর ইরার কাছে আছে, ওকে কি একটু ফোন দিতে বলবে?
না থাক! আজ রাতটা দুশ্চিন্তায় কাটুক তাদের। পড়ালেখা নিয়ে কম জ্বালায়নি তাকে বাবা-মা। একটু দুশ্চিন্তা করুক। কাল ফোন দিলেই হবে।
ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমের অতলে তলিয়ে যায় হৃদি টেরই পায় না।
ক্লান্তিতে গাঢ় ঘুম হয় হৃদির। চোখ মেলে প্রথমে বুঝতে পারে না কোথায় আছে সে। পাশে তাকিয়ে দেখে, নিশ্চিন্ত গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে ইরা। সবকিছু মনে পড়ে যায় তার। বাড়ি থেকে পালিয়েছে ওরা। বাবা-মার কথা মনে পড়ে। সারা রাত নিশ্চয়ই ঘুুমাননি তারা উৎকন্ঠায়। তাদের কথা মনে হতে আবার নিজের উপরই বিরক্ত লাগে হৃদির। দূ-র!
আরও কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকে সে। সব চিন্তা ঝেঁটিয়ে বিদেয় করে মুক্তির এই সময়টা উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ডেকে তোলে ইরাকে।
এ সময় দরজায় টোকা পড়ে। হৃদিই উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। শিউলী দাঁড়িয়ে। মিষ্টি হেসে বলে- ‘কি? সুন্দরীদের ঘুম ভাঙলো?’
হৃদিও হাসিতেই প্রত্যুত্তর দেয়।
‘হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে এসো। টেবিলে খাবার দিচ্ছি।’ - বলে শিউলী চলে যায়।
দরজা ভেজিয়ে খাটে এসে বসে হৃদি। ততক্ষণে উঠে বসেছে ইরা। হৃদি জিজ্ঞেস করে - ‘বাসায় জানিয়েছিস?’
‘নাহ। এখনো জানাইনি। ধীরে-সুস্থে জানাই। অতো তাড়াহুড়ার কি আছে?’
‘বাবা-মা চিন্তা করবে খুব।’
‘তো? তাদের সাথে থাকবো না বলেই তো চলে এসেছি। এখন তারা কি করলো না করলো সেটা নিয়ে আমাদের চিন্তা করার তো দরকার নেই। তারা কতটা ভাল ব্যবহার করেছে আমাদের সাথে? ...তুই কি ফোন করতে চাচ্ছিস বাসায়?’
‘তুই কি বলিস?’
‘আমি বলি, ফোন করার কোন দরকার নেই। তোর বাবার মোবাইলে একটা মেসেজ পাঠিয়ে দিলেই হবে। নম্বরটা দে। সেতুকে বলবো। ও ওর মোবাইল থেকে মেসেজ পাঠিয়ে দেবে।’
ব্যাগ থেকে কাগজ-কলম বের করে নম্বরটা লিখতে লিখতে হৃদি জিজ্ঞেস করে - ‘তুই?’
‘আমার কোন ইচ্ছে নেই এখন। আরো পরে জানাব। দু-একদিন যাক।’
খাবার টেবিলে সেতু বোমাটা ফাটায় - ‘আজ বিকেলে বিয়ে।’
চমকে ওঠে হৃদি। ইরার দিকে তাকায়। ইরা মিটি মিটি হাসছে। শিউলীর মুখেও হাসি। এত জলদি? - ভাবে হৃদি।
ইরা বলে -‘শোন, কালকেই ডিসিশান নিলাম। বিয়ে যেহেতু করবোই, তাহলে আর দেরী কেন? ঝটপট কাজ সেরে ফেলি।’
প্লেটের খাবার মুখে ওঠে না হৃদির। হাত নিশ্চল পড়ে থাকে প্লেটের উপরই। এ কি কথা বলছে ইরা? পালিয়ে ওরা বিয়ে করবে - এ কথা আগেই বলেছিল ইরা, কিন্তু তাই বলে এত দ্রুত? ইরার বিয়ে হয়ে গেলে হৃদির কি হবে? ইরা বলেছিল, হৃদি তার সাথেই থাকবে, যতদিন ইচ্ছা। তখন মনে হয়েছিল - এটা কোন ব্যাপারই না। কিন্তু মাত্র একটা রাত অপরিচিত বাসায় থেকেই হৃদি বুঝে গেছে, আশ্রিতা হিসেবে থাকার অনুভূতিটা মোটেও সুখকর কিছু নয়। শুধু দুই বান্ধবী একসাথে থাকলে হয়তো মনের ভেতর অতটা খুঁত খুঁত করবে না। কিন্তু বিয়ের পর ইরা-সেতু যখন একসাথে থাকবে, সে বাসায় হৃদি থাকবে কোন মুখে! ও তো ভেবেছিল, এই কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে অথবা অন্য কোন ভাড়া বাসায় ওরা দুই বান্ধবী থাকবে, উপার্জনের মতো কোন কাজ পাওয়ার আগ পর্যন্ত সেতুর কাছ থেকে টাকা ধার করবে সে। তারপর নিজে যখন চাকরী বা অন্য কিছু করবে, নিজের কামাই থেকে ধীরে ধীরে সেতুর টাকা শোধ করে দেবে। কিন্তু বাস্তবতা তো ভিন্ন! এখন একাই থাকতে হবে তাকে? অথবা, ভাবতে হবে কি হৃদয়ের কথা?
ইরা যেন ওর মনের কথা পড়তে পারে। বলে - ‘তোর কোন সমস্যা নেই। আমার বিয়ে হলেও তুই আমাদের সাথেই থাকবি। তোর একটা ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত। সেটা যতদিনই হোক। আফটর অল, তুই আমার ক্লোজেস্ট ফ্রেন্ড।’
শিউলীও সায় দেয়- ‘ঠিকই তো। তুমি এত চিন্তা করছো কেন মেয়ে? তুমি আমার ছোট বোনের মতো। তোমার সব দায়িত্ব এখন আমাদের।’
খাওয়ার পর ইরা, সেতু, শিউলী আর ওর খালাতো বোন চলে যায় মার্কেটে, কেনা কাটা করতে। বিকেলে কাজী আসবে। এখানেই বিয়ে পড়ানো হবে। হৃদি রয়ে যায় বাসাতেই, শিউলীর সেই খালার সাথে। হঠাৎ করেই সবকিছু কেমন যেন পানসে লাগে হৃদির।
বিকেলে কাজী সাথে নিয়ে আসে সেতু। হৃদি জীবনে কাজী দেখেছে একবারই, ছোট খালার বিয়েতে। পাঞ্জাবী-টুপি পড়া দাড়িওয়ালা একটা লোক, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যেমন হয়। ছোট খালাকে ঘিরে বসেছিল আত্মীয়স্বজনরা, কাজী একটা লম্বা খাতা বের করে বর-কনের নাম-ঠিকানা লেখে। সবার সামনে সেই নাম-ঠিকানা জোরে জোরে পড়ে, তারপর আরও কি কি যেন কঠিন কঠিন শব্দ বলে। শেষে বলে- ‘বলুন, কবুল।’ ছোট খালা খুব নিচু স্বরে, শোনা যায় কি যায় না এমন স্বরে বলে-‘কবুল।’
বিয়েতে উকিল বাপ-উকিল মা বলে একটা ব্যাপার থাকে- এটা জানে হৃদি। কিন্তু এখানে তো ঐ এক খালা ছাড়া কোন মুরব্বী মহিলা নেই। বর ছাড়া তো কোন ছেলেও নেই বাসায়। ইরাকে আড়ালে নিয়ে প্রশ্নটা করে হৃদি।
ইরা তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে উড়িয়ে দেয় প্রশ্নটা- ‘আরে এটা কোন সমস্যাই না। ওইসব রেওয়াজ খালি খালি, লোক-দেখানো। আইনে অত কিছু লাগে না।’
‘স্বাক্ষী?’
‘যোগাড় করা আছে। সেতুর বন্ধুরা পরে গিয়ে সাইন করে দেবে। ওদেরকে আপাতত বাসায় আনা হচ্ছে না।’
এ রাতে ইরার সাথে আর থাকা হয় না হৃদির। লাজ রাঙা মুখে সেতুর সাথে এক রুমে ঢুকে যায় ইরা। হৃদি শোয় সেতুর খালাতো বোন রীতার সাথে, অন্য রুমে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now