বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বামনের কঙ্কাল (পর্ব ২)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "বামনের কঙ্কাল" ---------------- ( ২ য় পর্ব) ( মানবেন্দ্র পাল) ---------------- **** জলেশ্বরের আবির্ভাব**** বেলা তখন দুপুর। খেয়ে দেয়ে বিশ্রাম করছি হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। আমার এখানে বড়ো একটা কেউ আসে না। তাই কে এল ভাবতে ভাবতে নিচে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই দেখি একজন বিপুলকায় সন্ন্যাসী দাঁড়িয়ে। তার মাথায় জটা, গোঁফদাড়ি। দু'চোখের দৃষ্টি প্রখর। আমায় দেখে গোঁফের ফাঁকে একটু হাসল। গমগমে গলায় বলল, " আমায় চিনতে পারছ?" চিনতে একটু সময় লেগেছিল। তারপরেই চিনতে পারলাম। বললাম, " তুমি জলেশ্বর না?" " যাক, চিনতে পেরেছ তাহলে?" আমি ওকে সাদরে ওপরে নিয়ে গিয়ে বসালাম। আমি যখন সেই প্রথম জীবনে সাধু সন্ন্যাসীদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম, তখন সেই দলে জলেশ্বরও ছিল। বাঙালি সাধু, তাই আমাদের ভাব হয়ে গিয়েছিল। জলেশ্বর বেশ চালাক চতুর আর করিৎকর্মা ছিল। তবে বড্ড বদমেজাজি। একদিন অন্য এক সাধুর সাথে তর্কাতর্কির সময় জলেশ্বর তাকে এমন চড় মেরেছিল যে সাধুটি মরেই গেল। ওর এই হিংস্র প্রকৃতি দেখে আমি ভয় পেয়েছিলাম। অন্য সন্ন্যাসীরা তাকে দল থেকে তাড়িয়ে দিল। তার জন্য ওর এতটুকু দু:খকষ্ট হয় নি। আমার সন্মন্ধে ওর খুব কৌতূহল ছিল। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আমার বাড়ির খবর নিত। আমার বেশকিছু টাকাপয়সা আছে জেনে ও জিজ্ঞেস করত, তবে আমি কেন সংসারধর্ম না করে সন্ন্যাসী হয়েছি। তারপর ও যখন শুনল সন্ন্যাসীদের সঙ্গে সঙ্গে ঘোরার আমার একমাত্র উদ্দেশ্য হল, শবসাধনা করে সিদ্ধিলাভ করা তখন ও-ও একই ইচ্ছের কথা জানাল। তবে আমায় এ-ও বলেছিল, শবসাধনা এসব সন্ন্যাসীদের কম্মো নয়। যদি শিখতে চাও তো চলো অন্য কোথাও যাই। তারপর ও তো দল থেকে সরে গেল। তারপরের কথা আর জানি না। জানলাম এতকাল পর। শবসাধনার চেষ্টা এখনো ও চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তেমন সুযোগ হচ্ছে না। তারপর ও জিজ্ঞেস করল, " আমি কি করছি?" বললাম, " কিছু না।" ও বলল, " কিছুই যদি না কর তাহলে এমন নির্বান্ধব জায়গায় একা পড়ে আছ কেন?" " এমনিই" বলে একটু হাসলাম। জলেশ্বর আমার কথা বিশ্বাস করল না। বলল, " নিশ্চয় কিছু করছ। তুমি আমার কাছে লুকোচ্ছ।" একটু থেমে এরপর বলল, " আমার কাছে লুকোচ্ছ কেন? আমরা দুজনেই তো একই পথের পথিক।" তখন আমি বলব কি বলব না ভাবতে ভাবতে সেই শ্মশানের বুড়িমার কাছে আমার শবসাধনার কথা বলে ফেললাম। শুনে ও গুম হয়ে গেল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, " তবু তো তুমি কিছু করেছ। আমি তো এগোতেই পারছি না। অথচ হাত গুটিয়ে বসে থাকা আমাদের চলে না। একটা কিছু করতেই হবে।" আমি বললাম, " কি করব আমি ভেবেই পাচ্ছি না। ও শবসাধনা আমার দ্বারা হবে না।" জলেশ্বর বলল, " শোনো, আমি একটা মতলব দিচ্ছি। চেষ্টা করে দ্যাখো। " জিজ্ঞেস করলাম, " কি?" ও বলল, " মৃতদেহে প্রাণ সঞ্চার।" অবাক হয়ে বললাম, " তুমি পাগল হলে নাকি? মড়া বাঁচাতে পারলে তো ভগবান হয়ে যাব।" ও বলল, " তুমি কি তা কিছুই করতে পারোনি? তাহলে শব নড়ে উঠেছিল কি করে?" চমকে উঠে বললাম, " তাই তো! তাহলে তুমিও একবার চেষ্টা করে দ্যাখো না।" জলেশ্বর গম্ভীর ভাবে বলল, " চেষ্টা করতাম। শুধু দুটো জিনিসের অভাব। এক, মৃতদেহ পাওয়া, দুই, উপযুক্ত জায়গা। আমার থাকার আপাতত কোনও নির্দিষ্ট জায়গা নেই। সেদিক থেকে তোমার জায়গাটি বেশ ভালো। তুমি ফের চেষ্টা কর। আমিও জায়গা দেখছি। চললাম। একদিন এসে খোঁজ নিয়ে যাব।" *****মৃতদেহের সন্ধানে***** জলেশ্বর তো চলে গেল। কিন্তু আমার মাথায় একটা অদ্ভুত ভাবনা ঢুকিয়ে দিয়ে গেল। যদি সত্যিই আমি মৃতদেহে প্রাণ সঞ্চার করতে পারি, তাহলে আমায় দেখে কে? আমি তো প্রায় সর্বশক্তিমান ভগবান হয়ে উঠব! আর কেনই বা পারব না? সেই বুড়িমার দৌলতে শবসাধনার হাতেখড়ি তো হয়েই আছে। মৃতদেহকে নড়াতে তো পেরেছিলাম। তখনিই মনস্থির করে ফেললাম, এই এক্সপেরিমেন্টটা আমায় করতেই হবে। আর এই বাড়িরই একতলার ঘর এই কাজে যথেষ্ট উপযুক্ত হবে। কিন্তু প্রধান সমস্যা, মৃতদেহ পাব কোথায়? ও জিনিসটা তো দোকানে কিনতে পাওয়া যায় না। ভাবতে ভাবতে ছোটবেলায় পড়া রূপকথার একটা গল্প মনে পড়ে গেল। এক রাক্ষসী মরা বাঘের হাড়গোড় যোগাড় করে তাকে বাঘের আকৃতি দিয়ে মন্ত্র পড়ে জ্যান্ত বাঘ করে তুলেছিল। হঠাৎ আজ মনে হলো হাড় জোড়া দিয়ে জ্যান্ত বাঘ করার মন্ত্রগুলো কি নিতান্তই লেখকের কল্পনা? এমনও হতে পারে, তখনকার দিনের মায়াবীরা সত্যিই এমন মন্ত্র জানত যাতে হাড়ের ওপর দিব্যি রক্ত মাংস লাগিয়ে তাতে প্রাণ দেওয়া যেত! একথা মনে হতেই ভাবলাম, হাড়গোড় যোগাড় করা সম্ভব যদি নাই হয়, একটা কঙ্কাল যোগাড় করে তাহলে দেখা যাক। কিন্তু কঙ্কাল পাবো কোথায়? অনেকেরই জানা আছ্র হাসপাতালে যেসব বেওয়ারিশ লাশ পড়ে থাকে সেগুলোকে পুঁতে দেওয়া হয়। কিন্তু ইদানীং এইসব মৃতদেহ নিয়ে ব্যবসা শুরু হয়েছে। কিছু লোক হাসপাতালের জমাদার প্রভৃতিদের গোপনে টাকা দিয়ে এইসব মৃতদেহ নিয়ে যায়। তারপর আরও গোপনে এসিড দিয়ে মৃতদেহটাকে গলিয়ে পচিয়ে ভেতরের কঙ্কালটা বের করে নেয়। তারপর হাসপাতালের যেখানে এনাটমি শেখান হয় সেখানে চড়া দামে কঙ্কালটা বিক্রি করে দেয়। ডাক্তারি পড়তে গেলে যে পূর্নবয়স্ক লোকের কঙ্কালের দরকার হয়। এইবার আমি সেরকমই কিছু কঙ্কাল ব্যবসায়ীর সন্ধানে বেরিয়ে পড়লাম। এজন্য আমায় হাসপাতালে হাসপাতালে গিয়ে জমাদারদের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে। শেষে ওদেরই কাছ থেকে ঐরকমই একজন কঙ্কাল ব্যবসায়ীর গোপন ঠিকানা যোগাড় করে সেখানে গেলাম। ব্যবসায়ীটি এই তল্লাটে একজন রাজমিস্ত্রি বলে পরিচিত। সে তো প্রথমে আমাকে ভালো করে বাজিয়ে দেখে নিল যে আমি পুলিশের লোক কিনা। যখন জানল প্রাইভেটে ডাক্তারি পরীক্ষা দেবার জন্যই আমি একটা গোটা কঙ্কাল খুঁজছি তখন সে দরজা-জানলা বন্ধ করে দু-তিনটে কঙ্কাল বের করে দেখাল। কিন্তু সবকটাতেই খুঁত আছে। হয়তো খুলিটা একটু ফাটা কিংবা একটা আঙুল ভাঙা। এতে আমার কাজ হবে না বলে যখন হতাশ হয়ে চলে আসছি তখন ছুঁচালো মুখ, লুঙ্গিপরা লোকটা দূর্গন্ধপূর্ণ অন্ধকার গুদাম ঘর থেকে একটা বেঁটে কঙ্কাল এনে দেখাল। কঙ্কালটা যেন নয়-দশ বছর বয়সের বালকের। খড়ির সাথে কি সব ওষুধ মাখানো। লোকটা নিচু গলায় বলল, " এটা কাউকে দেখাই না স্যার। এত পুরনো কঙ্কাল বড়ো একটা পাওয়া যায় না। জম্মু কাশ্মীরের কাছে পুরনো একটা কবর খুঁড়ে এটা পাওয়া গেছে। ওখানকার লোকেরা বলে, এটা এককালের সাঙ্ঘাতিক বেঁটে বামন দৌলত খাঁ র কঙ্কাল। আমি অবাক হয়ে বললাম, " এটা বামনের কঙ্কাল?" " হ্যাঁ স্যার, দেখছেন না কিরকম মোটা মোটা আঙুল, দেহের তুলনায় কত বড়ো মাথা, বুকের খাঁচাটা কত চওড়া! এ জিনিস পাবেন কোথায়?" এ কঙ্কাল কোন দৌলত খাঁরই হোক আর নসরৎ খাঁরই হোক, ও নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আমি ওটাই যথেষ্ট বেশী দাম দিয়ে কিনে ফেললাম। কিন্তু এটা অতদূরে আমার বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাব কি করে? কোলে করে তো নিয়ে যাওয়া যাবে না। সে ব্যবস্থা ব্যবসায়ীই করে দিল। ওর চেনাশোনা একটা ছইঢাকা গোরুর গাড়ি ডেকে আনল। কঙ্কালটা আপাদমস্তক কম্বল দিয়ে মুড়ে নিরাপদে বাড়ি নিয়ে এলাম। ( চলবে) -------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বামনের কঙ্কাল (পর্ব ২)
→ বামনের কঙ্কাল ----( ১ ম পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now