বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
" বাল্যপ্রেম "
লিখেছেনঃ রাসেল পারভেজ
কয়েক বছর আগের কথা বলি।
এখনও বেশ ভালই মনে আছে।
তখনও অ আ লেখাটা ভালভাবে শিখিনি, ছোট ওয়ান থেকে বড় ওয়ানে উত্তীর্ণ হয়েছি।
মোটামুটি ১-১০ পর্যন্ত গুনতে শিখেছি। তবে ঝুমকো জবা কবিতাটা দু লাইন মুখস্থ হয়েছে বটে।
তখন অনেকটা বোকা সোকা ছিলাম। শিক্ষক নামক বস্তুটা ছিল চক্ষু সূল, পড়া ধরলে হা করে মুখপানে চেয়ে থাকতাম, তখন পিঠের উপর দু চার ঘা বসিয়ে দিতো।
.
আমি একটু রোগা ধরনের ছিলাম তাই পাড়ার ছেলেদের সাথে মারামারিতে পেরে উঠতাম না।
.
একদিন.স্কুলে পৌছুতে পৌছুতে একটু দেরি হয়ে যায় দুর থেকে দেখি বলাই স্যার সুর করে অ আ শিখাচ্ছে, ভাবলাম আজ বুঝি কপালে সুমতি আছে তাই ক্লাসে না গিয়ে আম গাছটার পাশে দাড়িয়ে ইসকুল ছুটি না হওয়া পর্যন্ত ভয়ে ভয়ে কেদেছিলাম।
.
আমি #কুষ্টিয়া জেলার #খোকসার কোন একটা প্রাইমারী স্কুলে পড়তাম। যেদিন শিক্ষা জীবনে আমার অভিষেক ঘটে সেদিন ক্লাসে স্থান সংকুলান না হওয়ায় একটা মেয়ের কাছে বসতে হয়েছিল। হয়তো তার জন্য আজকের গল্পটা লিখতে পারছি।
.
---এই তোর নাম কি ? (ছদ্মনাম বৃষ্টি)
--আমার নাম পারভেজ, তোর নাম কি?
--আমার নাম বৃষ্টি। তুই মেয়ে মানুষের কাছে বসলি কেন.?
--কেন উঠে যাব নাকি।
--না থাক, জানিস আজকে স্যার জুমকো জবা কবিতা না পারলে কান ধরে দাড় করিয়ে রাখবে।
--আমি তো দুই লাইন বলতে পারি, তুই শিখিয়ে দিবি ?
--আচ্ছা।
হয়তো সেদিন বৃষ্টির জন্য শাস্তি লাঘব হয়েছিল।
--তুই আমার সাথে বন্ধু পাতবি?(বৃষ্টি)
---হ্যাঁ পাতবো।
--তুই আমার জন্য দৈনিক চকলেট আনবি না হলে কিন্তু বন্ধু ভেঙে দেব।
.
আমি দৈনিক ওর জন্য মিল্ক ক্যান্ডি চকলেট নিয়ে যেতাম, আর ও আমার. জন্য দৈনিক ভোরে উঠে শিউলি ফুল কুড়িয়ে রাখতো।
.
--পারভেজ এটা তোর জন্য।
--এত দামি কলম তুই কোথায় পেলি?
--আমার আব্বু ঢাকা থেকে এনেছে।
--আমার কাছে তো এত টাকা নাই।
---টাকা দেয়া লাগবে না তোকে এমনি দিলাম।
--তোর আব্বু তোকে মারবে না?
--সমস্যা নেই আব্বুকে দুইটা আনতে বলেছিলাম।
.
বৃষ্টি বলেছিল যে কারও গিফটের জিনিস কখনো ব্যাবহার করতে নেই, তুলে রাখতে হয়। সেই কলমটা আজও আমার আলমারিতে তোলা আছে। কালি ফুরাবার ভয়ে আজও একটা দাগ দেয়নি।
.
বৃষ্টির জন্য একদিন শাপলা ফুল এনে দিয়েছিলাম না সেজন্য তিনদিন আমার সাথে কথা বলেছিল না। বৃষ্টি খুব অভিমানী মেয়ে ছিল। ক্লাসের অনান্য বান্ধবীর সাথে হেসে কথা বলতে দেখলে আমার সাথে কথা বলতো না।
একদিন বৃষ্টির সাথে না খেলে নিপার সাথে খেলেছিলাম বলে আমার শার্ট কলমের কালি দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছিল।
.
--এই পারভেজ শোন।
--কি বলবি বল।
--তোদের বাড়িতে একটা মেয়ে এসেছে ওর নাম কি ?
--ওর নাম বন্যা ক্লাস থ্রিতে পড়ে।
--ওওহ, তুই ওর হাত ধরে ঘুরি বেড়াচ্ছিলি কেন.?
--বেড়ায়েছি তাই তোর কি ?
--কি বললি আবার বল।
--বেড়ায়েছি তাই তোর কি ?
--আমার কি মানে? তুই আর ওর হাত ধরতে পারবি না।
--ধরলে কি হবে ?
--ধরলে তোর সাথে বন্ধু ভেঙে দেব।
--আচ্ছা আর ধরব না।
--পারভেজ।
--বল।
--আমি বড় হলে তোর সাথে প্রেম করব।
--সত্যি ?
--হুম।
--আমিও বড় হলে তোর সাথে প্রেম করব।
.
তার কয়েক মাস পরে ব্যাবসায়ের সুবাদে বৃষ্টির পরিবারের সবাই ঢাকা চলে যায়। যাওয়ার সময়ে বৃষ্টি একটা তার নিজের আকা একটা ফুলের ছবি দিয়ে গিয়েছিল আর বলেছিল আমাকে ভুলে যাবি নাতো ?
.
আজও তোকে ভুলতে পারিনি। তোর দেয়া সেই ফুলের ছবি আর কলম আজও যত্নে তুলে রেখেছি।
বৃষ্টি রে..আমি আজও তোর সেই কথার আশায় আছি " বড় হলে আমরা প্রেম করব "।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now