বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"বালাই"
ইমরান খান
------------
পর্ব ৪
------------
" মানে?", ডাঃ রহমান অবাক হলেন।
" জিন্নাত আলি কোথায়?", আবার জিজ্ঞেস করল
তরী, " তারে আমার বড় দরকার।"
" জিন্নাত আলিকে তুমি চেনো?"
" না"।
" তাঁকে তুমি কখনো দেখেছ?"
" না"।
" তাহলে তাঁর কথা তুমি জানলে কি করে?"
" সেইটা বলতে পারি না। শুধু জানি, তারে আমার বড়
দরকার।"
ডাঃ রহমান বুঝতে পারলেন, তরী ক্রমশ
উত্তেজিত হয়ে উঠছে। বেশী উত্তেজিত
হয়ে উঠলে আবারও পাগলামি করতে পারে।
ঘুমেরও ব্যাঘাত হতে পারে। মানসিক
রোগীদের সুস্থতার জন্য নিশ্ছিদ্র ঘুমের
কোনও বিকল্প নেই। ঘুমের আগে তরীকে
পাঁচশ মিলিগ্রামের লিব্রিয়াম দেওয়া হয়েছিল। ঘুমের
ওষুধ হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর একটি ওষুধ। তা
স্বত্তেও কিভাবে তরীর ঘুম ভেঙে গেল, ঠিক
বুঝে উঠতে পারলেন না ডাঃ রহমান। তিনি বললেন,
" তরী, তোমার নামটা খুব সুন্দর, কে
রেখেছেন এত সুন্দর নাম?"
এই কথায় তরী হঠাৎ করেই খুব নরম হয়ে গেল।
মানসিক ভাবে যারা অসুস্থ থাকে, তারা নিজেদের
প্রশংসা শুনলে খুব খুশী হয়। হাসি হাসি মুখে তরী
বলল, " মা"।
" তিনি এখন কোথায়?"
তরীর মসৃণ কপালে চিন্তার রেখা দেখা দিল,
বলল, " মনে নাই। তবে একটা অন্ধকার ঘরে
থাকে আমার মা। অন্ধকার হলেও অনেক শান্তি
সেখানে। "
" তোমাদের বাড়ি কোথায়? থাকো কোথায়
তোমরা?"
আরও কয়েকটা নতুন সিঁড়ি যুক্ত হল তরীর
কপালে। বলল, " যখন বাড়ি থেইক্যা রওনা
হয়েছিলাম, তখন জানতাম। এখন আর মনে নাই। শুধু
মনে আছে আমাদের ঘরে সবসময় অন্ধকার
থাকে। আর মা সবসময় ঘুমায়। মাঝেমধ্যে কিছু
ধবধবে সাদা কাপড় পরা কিছু মানুষ আসে। তখন
ঘরে আলো জ্বলে আর মা'ও জাগে।
মানুষগুলো চলে গেলে মা'ও আবার ঘুমায়ে
পড়ে।"
" মানুষগুলোর চেহারা কেমন? "
" ধবধবে সাদা জামাকাপড় পরা, তাগো গায়ের রঙও
সাদা। তাগো শরীর থেকে আলো বাহির হয়।"
" অন্ধকারে তোমরা থাকতে কিভাবে? খাওয়া
দাওয়াও কি অন্ধকারেই করতে?"
" আমরা কিছু খাইতাম বা। আমাদের ক্ষুধাও লাগত
না।.এইখানে এসে দেখি ক্ষুধা লাগে। মহা যন্ত্রণা।
"
" তোমার মাথা খারাপ, তোমায় কে বলল?"
" মা। একদিন আমারে জাগিয়া দিয়া বলল, তোর মাথা
খারাপ। তোর চিকিৎসা দরকার, যা হাসপাতালে গিয়া ভর্তি
হ গে যা। আমি বললাম, তুমিও চলো আমার সাথে। মা
তখন বলল, আমার আর দুনিয়া দেখনের সাধ নাই
রে। খোদা আমার কপালে যা লিখ্যাছিলেন,
দেহে নিয়েছি। তোর দুনিয়া দেখনের কথা ছিল;
দেখতে পারিস নাই। তুই যা। তখন আমি বললাম,
হাসপাতালের রাস্তা তো চিনি না। যাইব ক্যামনে। এ
কথায় মা গেল চেইটা। বলল, সব কথা কি আমায়
বলে দিতে হবে? নিজের রাস্তা নিজে খুঁজিয়া
নে, বলেই আমায় দিল এক ঠেলা। মনে হল, আমি
যেন নীচে, অনেক নীচে পড়ে যাচ্ছি।
চারিদিকে কত্ত আলো। তারপরেই দেখলাম, আপনি
আমার সামনে দাঁড়ায়ে আছেন। "
ডাঃ রহমানের মুখটা চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে গেল,
বললেন, " তোমাদের বাবা তোমাদের সঙ্গে
থাকেন না?"
" বাবা! সেটা কি জিনিস? "
" কিছু না, তুমি ঘুমাও।"
" জিন্নাত আলি কোথায়? "
সর্বনাশ! এ মেয়ে তো ঠিক তালে আছে!
ছেলে ভোলানোর মতো মেয়ে এ নয়। ডাঃ
রহমান আর কথা ঘোরানোর চেষ্টা করলেন না।
জিজ্ঞেস করলেন, " জিন্নাত আলিকে তুমি
কিভাবে চেনো?"
" জানি না। খালি জানি, তারে আমার খুব দরকার। "
" কিসের দরকার? কি হবে তাকে দিয়ে?"
" মাইরা ফেলব। আমি তারে মাইরা ফেলব", তরীর
মুখের চামড়া তিরতির করে কেঁপে উঠল।
" কেন? সে তোমার কি ক্ষতি করেছে?"
" জানি না। শুধু এটুকু জানি তারে আমায় মাইরা ফেলতে
হবে। জিন্নাত আলি আর তরী, দুইজন একসাথে
দুইন্যাতে থাকতে পারে না। হয় সে, নয় আমি
থাকব। জিন্নাত আলি বেঁচে থাকলে আমি শেষ
হয়ে যাব।"
" তাকে তো তুমি চেনো না, কিভাবে বের
করবে?"
" আইগ্যা চিনতাম না। আজ সন্ধ্যায় চিনছি। ওই বুড়া
হাবড়াই তো জিন্নাত আলি।"
" কি করে চিনলে?"
" জিন্নাত আলি যেহানেই থাকুক, তাহার বাঁচন নাই।"
" জিন্নাত আলি কোথায় থাকে তুমি জানো?"
" আমায় তারে খুঁজতে হবে না, সে আপনিই
আসবে এখানে। মৃত্যু কাওকে খোঁজে না, মানুষই
মৃত্যুর কাছে ছুটে আসে। আমায় বাঁধন রাইখাছেন
কেন?"
" ঘুমের ঘোরে যাতে খাট থেকে পড়ে না
যাও, সেজন্যে।"
সাপের মতোই হিসহিসে স্বর বেরলো তরীর
মুখ থেকে, " ডাক্তার হইয়া মিথ্যা বলেন, লজ্জা
করে না আপনার? আপনারা সবাই জিন্নাত আলিরে
বাঁচাইতে চান, তাই না? বাঁন্দন খুইল্যা দেন,
নইলে....."
" নইলে কি?"
" খুইল্যা দিলে খালি জিন্নাত আলিরে মারব, না খুইল্যা
দিলে সবাইরে মারব।"
" না খুলে দিলে মারবে কি করে?"
একচিলতে ক্রুর হাসি খেলে গেল তরীর মুখে,
সেই ক্রুরতা সংক্রামিত হল তরীর চোখেও।
সাপের মত হিসহিসে গলায় বলল, " আমি যেখান
থেকে আসত্যাছি, সেখান থেকে আজ পর্যন্ত
কেউ ফিইরা আসতে পারে নাই। এই সামান্য সুতো
দিয়ে আমায় কিভাবে আটকাবে? আমি আইজ রাতেই
বাহির হইয়া যাব, আইজ রাতেই......"।
(চলবে)
-------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now