বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
বাজি ধরা
"অদ্ভুতুড়ে" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)
X
লেখক: ভৌতিক হৃদয় [MH2]
গ্রামের ছেলে তানিম,গ্রামেই বড় হয়েছে,এখানে ওর কতো বন্ধু, ওদের সাথে কতো খেলা খেলত আর আড্ডা দিত ও,কিন্তু এখন পড়াশোনার জন্য শহরে থেকে পড়তে হয়।যথেষ্ট সাহসী ও।বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে তাই ভূতে কোনো বিশ্বাস নাই তার।রাতের বেলা মেহেদীর সাথে কতো মাছ ধরেছে বিলে,কই কখনও তো ভয় পায় নি,কখনও কেউ নাকি সুরে এসে বলে নি আমি মাছ খাবো।তাই তার অবিশ্বাস দিন থেকে দিন আর দৃঢ় হয়েছে।কখনও আড্ডায় ভূতের বিষয় আসলে হেসে উড়িয়ে দেয়, বলে ওইসব গল্প গিয়ে বাচ্চাদের গিয়ে শুনা।কখনও কখনও তো তার বন্ধুরাও রাগ করে বলেই ফেলে আমরা এসব নিছক গল্প বলছি না,সত্য ঘটনা বলছি।তখন হাসতে হাসতে তানিমও বলে তাহলে বল কোথায় গেলে ভূতের দেখা পাব??? বন্ধুরাও তখন একেক জায়গার নাম বলে।তানিমও বাজি ধরে নেয়,ও কখনও কোনো ভূত দেখে নি,কারণ ভূত নেই।এইভাবে কতোবার বাজি ধরে শ্মশান, গোরস্তান, বিলের ধারে রাত কাটিয়েছে সে।কিছুই হয় নি,এখন তো বন্ধুরা বাজি ধরতেও ভয় পায়।আর তানিমের কাছে তো বাজি ধরা এখন ছেলে খেলা।
ঈদের ছুটি হয়েছে।তাই শহর হতে গ্রামে আসল তানিম।রাত ২ টা বেজে গেছে,লঞ্চ হতে নামল ও।লঞ্চ ঘাট হতে ওর বাড়ির দূরত্ব কম করে হলেও ২ মাইল।এতো রাতে আসার কারণ কলেজ ছুটি হওয়ার পর পরই হোস্টেলে গিয়ে সব জিনিস পত্র গুছিয়ে রওনা দিয়েছিল ও।রওনা দিয়েছে সন্ধ্যার সময়,তো রাত তো হবেই।ওর সাথে ওর গ্রামে যাওয়ার মতো কেউ নেই।তাতে ওর কোনো সমস্যা নেই,ও ভূতে ভয় পায় না।আল্লাহর নাম নিয়ে চলা শুরু করে দিল ও। ওর বাড়ি যাওয়ার পথের মাঝখানে একটা বড় মাঠ আছে।মাঠের পাশে জঙ্গলের মতো আছে।মাঠে একটা মাচাঙ্গ মানিয়েছিল ওরা পাঁচ বছর আগে।ওরা সব বন্ধুরা কতো আড্ডা দিত ওইখানে।আজ পথের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তানিমের চোখ গেল ওই মাচাঙ্গের দিকে।কেউ একজন বসে আছে।তানিমের কৌতুহল হলো কে ওইখানে সে দেখবে।তাই চলে গেল মাচাঙ্গের কাছে।দেখল সুমন বসে আছে ওইখানে।সুমন তানিমের ছোট বেলার বন্ধু,ও তো বিদেশ চলে গিয়েছিল তিন বছর আগে।এখন এই রাতে ও এখানে কী করে ভেবে ডাক দিল তানিম,
তানিম: সুমন নাকি,কবে দেশে এলি???
সুমন: আরে তানিম,এসে গেছিস।আমি তো আসলাম এক মাস হলো।কেমন আছিস???
তানিম: আলহামদুলিল্লাহ ভালো।তোর খবর কী???
সুমন: আমার খবর ভালো।
তানিম: একলা বসে বসে কী ভাবছিলি??? মেহেদী,মেহরাজ, শুভ ওরা কই???
সুমন: ওরা চলে গেছে।ভাবছিলাম ভূতের কথা।
তানিম: আজও তুই ভূতের কথাই ভাবিস,হাসালি, জানিস না ভূত বলে কিছু নেই।
সুমন: আমি বলছি ভূত আছে।তোকে প্রমান করে দেখাতে পারি।
তানিম: ভূতের প্রমান দেখাবি???এই চাঁদনি রাতে খোলা মাঠে??? তোর মাথা ঠিক আছে তো???
সুমন: মাথা ঠিক আছে।এখানে প্রমাণ নয়,বরং জঙ্গলে ওই জমিদার বাড়িতে প্রমাণ দেখাব।থাকতে পারবি???
তানিম: মনে করে দেখ চার বছর আগে ওইখানে রাত কাটিয়েছি।কিছু দেখি নি।এবারও কি টাকা হারানোর ইচ্ছা হয়েছে তোর???
সুমন: বাজি ধরবি???
তানিম: বাজির রাজা হলো তানিম, সে কখনও না করতে পারে???
সুমন: এক হাজার টাকার বাজি।
তানিম: আমিও রাজি।
তানিমের নেশার কাজ মানে বাজির খেলা সে পেয়ে গেছে,আর কী লাগে ওর,ও চলতে লাগল সুমনের সাথে।চারবছর আগে বাজি ধরে এই জমিদার বাড়িতে এসেছিল ও।কিন্তু কিছুই দেখে নি ও।যার জন্য বাজিতে পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছিল ও। আজও বাড়িটার সামনে আসল।শতবছরের পুরনো বাড়ি,যুদ্ধের সময় থেকে পরিত্যক্ত।
সুমন: যা তানিম বারিটার ভিতর এক ঘন্টা থেকে দেখা,যদি জীবীত ফিরতে পারিস তবে বাজিতে তুই জিতে গেছিস।
তানিম: জিতব তো আমিই দোস্ত, হাজার টাকাটা ভালো করে দেখে নে, একটু পরেই ওটা আমার হয়ে যাবে।
সুমন: যা, সে দেখা যাবে।
তানিম এগিয়ে গেল দরজার দিকে।দরজা খুলল,হালকা ক্যাচ ক্যাচ শব্দ হলো,কয়েকটা বাঁদুড় ওর মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেল।এসব কোনো প্রভাব ফেলে না ওর উপর,কারন ও জানে এসবের ব্যাখ্যা আছে,মনে মনে ব্যাখ্যাও দাড় করায় ও।ভিতরে আসল,কয়েকটা ফোঁকর দিয়ে আর খোলা জানালা দিয়ে চাঁদের আলো আসছে। সে একটা পুরনো খাটে বসে পড়ল।তবে আশ্চর্য বিছানায় ধুলা বালি নাই,বরং সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে আছে। এই ব্যাপারটা নিয়ে ও ভাবতে লাগল।ব্যাখ্যা মিলছে না,কারও পায়ের শব্দ সে শুনতে পারল।তাহলে কি জীবণে প্রথমবার ভূত দেখবে সে??? ভয় পাওয়ার বদলে ও বরং খুশি হয়। শব্দটা ধীরে ধীরে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছে,আর তানিমও অধীর আগ্রহে বসে আছে। মানুষ যখন ভয় পায় তখনই একমাত্র ভয় তাকে কাবু করে,যদি ভয় না পায় তা হলে ভয় কখনও তাকে কাবু করতে পারে না।তাই তানিমও ভয় পাচ্ছে না। লোকটা ধীরে ধীরে সিড়ি বেয়ে নেমে আসল।তানিমের আগ্রহী চোখ দেখল একটা সাড়ে পাঁচফুট উঁচু সাদা পাঞ্জাবী পড়া এক হুজুর তার সামনে একটু দূরে দাড়িয়ে আছে।লোকটাকে সে চিনতে পারল না।তবে কথা বলে উঠল তানিম,
তানিম: আসসালামু আলাইকুম।এ নির্জন বাড়িতে আপনি কে???
লোক: ওয়ালাইকুম সালাম। আমি এ বাড়িতে নির্জনে ইবাদত করার জন্য আছি।আপনাকে একজন পথিক মনে হচ্ছে।
তানিম: হ্যা,পথিক।কিন্তু আপনি এতো রাতেও কী করেন???
লোক: নামাজ পড়ছিলাম।শব্দ শুনে নিচে আসলাম।কিছু লাগবে???
তানিম: খাওয়ার পানি দিলে ভালো হয়।
লোকটা চলে গেল।তানিম বুঝল স্বাভাবিক মানুষই লোকটা।কিন্তু ও যদি লোকটার পায়ের দিকে তাকাতো তাহলে ও দেখতে পেত যে লোকটার পায়ের পাতা উল্টো দিকে।কিন্তু তানিম তা দেখে নি।লোকটা কিছুক্ষণ পর ফিরে আসল পানি নিয়ে,কিন্তু কাছে আসছে না।দূরে দাড়িয়ে আছে।
তানিম: কী হলো??? কাছে আসুন, আর পানি দিন।
লোক: না,কাছে আসতে পারব না, পানি এই টেবিলে রাখছি নিয়ে খাও, আমার কাজ আছে।
বলেই লোকটা চলে গেল।তানিম মনে মনে ভাবল কি অদ্ভূত লোকরে বাবা কাছে এসে পানি দিবে তাও দেয় না।সে নিজে উঠে পানি খেল।খেয়ে খাটটায় হেলান দিয়ে বসল।রেডিয়াম দিয়ে বানানো তার ঘড়ির কাঁটায় দেখল ২০ মিনিট হয়েছে।আরও ৪০ মিনিট থাকতে হবে।কিছুটা আরাম করে হেলান দিল ও।কখন ঘুমিয়ে গেছে নিজেও জানে না,তবে কিছুক্ষণ পরই সজাগ হয়ে গেল সে।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল ১:৩০ ঘন্টা ধরে এই ঘরে আছে সে।অথচ কিছুই দেখে নি ও,মানে বাজি জিতে গেছে ও।হাসি মুখে বাইরে আসল।দেখল সুমন দাড়িয়ে আছে।
তানিম: কীরে সুমন,কিছুই তো দেখলাম না, বাজি জিতে গেছি।হাজার টাকা বের কর।
সুমন: আগে বল তুই বুড়ো লোকটাকে দেখিস নি???
তানিম:দেখেছি তো,স্বাভাবিক মানুষ, কেন কী হয়েছে??? তুই ওই লোকটাকে ভূত বলবি??? হি হি হি,,,
সুমন: ওই লোকটাই ভূত,তোকে মেরে ফেলত।কাছে আসে নি কারণ তোর ব্যাগে কুরআন শরীফ আছে।
তানিম: ব্যাগে কুরআন শরীফ আছে তুই কী করে জানলি???
সুমন:আমি সব জানি।আর ওই লোকটাই ভূত,ওই লোকটাই তোকে মেরে ফেলত।
তানিম:মেরে ফেলত,হা হা হা, কেউ আজ পর্যন্ত মরেছে??? আমায় মারতে পারে নি,মানে ওইটা ভূত না।তুই বানানো গল্প বলছিস।
সুমন:আমি মিথ্যা বলছি না,তুই যদি জানতি আমাকে গত সপ্তাহে ওইলোক এই ঘরে মেরে ফেলেছে তা হলে কি তুই ওই ঘরে যেতি???
সমাপ্ত
[কী লিখেছি নিজেও জানি না,হয় তো এই গল্পটা ভালো হয় নি।তবুও সত্যি করে কেমন লাগল তা বলবেন]
বি.দ্র.: যথেস্ট সময় এবং মেধা ব্যায় করে গল্প লিখি।আর গল্পও ভালো না,তবুও যদি কপি করেন আমার নাম ছাড়া কপি করবেন না।
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now