বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রীতা আজ খুব করে সাজুগুজো করছে। যতটা পারা যায় আরকি। নীল শাড়ী, চোখে কাজল, কপালে টিপ, পায়ে নূপুর, প্রায় দের-ঘন্টা ধরেই! রাগে, অভিমানে, আর রাগ, অভিমান আর কারো উপরে নয় নিজের একমাত্র একঘেঁয়ি জামাই'র উপর। বিয়ে হয়ে গেলো পাঁচ মাস চলছে এতোদিনে বউটার দিখে একটু ভাল করে তাকালোই না!!
.
রীতা মনে মনে বলে '' অমন বর যেন কারো কপালে না জোটে। না মারধোর করে! না আদোর করে!! আরে ঘরে যে জলজ্যান্ত মেয়ে মানুষ আছে তাঁর মনে হয় মনেই নেই! বিয়ে করেছেন তাও মনে হয় ভুলে গিয়েছে! মানুষ'টা এরকম কেন? রসকসহীন!!
.
এমনি তো ঠিক সময়েই বাসায় ফিরে আজ দেরি করছে সোহান! অপেক্ষায় থাকতে থাকতে রীতার মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষন পর মহারাজের আগমন। সোহান বাসার বেল টিপলো। রীতা দৌড়ে গিয়ে আস্তে করে দরোজা খুললো।
.
সোহানের রীতার দিকে একটু চোখ পড়লো। এর কারন হলো নীল শাড়ী। নীল কালারটা সবচেয়ে ফেভারিট সোহানের। টেবিলে খাবার তৈরি'ই ছিলো। সোহান ফ্রেশ হয়ে এসে একা একা খেয়ে গিয়ে শুয়ে পড়লো। রীতার প্রচণ্ড রাগ হয়। আরে এভাবে একটা মেয়ে সাজলো আর..!!
.
মানুষ তো মানবতার খাতিরেও জিজ্ঞেস করে খাইছে কি না! আর ভাত বেরে দেয়ার জন্যও বলেনা! এক রাশ মন খারাপ করে সোফায় বসে আছে রীতা। কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছে নিজেই টের পায়নি।
.
সোহানের অনেক্ষন পর মনে হলো আরে রীতা এখনো ঘুমুতে আসেনি!! রুম থেকে বের হয়ে দেখে সোফায় ঘুমিয়ে আছে। পায়ে নূপুর, কপালের টিপ'টা একটু সরে গিয়েছে। একচোখের উপর কিছু চুল পড়ে আছে। অবুঝ বাচ্চাদের মতো দেখাচ্ছে।
.
কিভাবে ডাকবে ঠিক বুঝতে পারছেনা সোহান। অনেক ভেবে ডাক দিলো "এইযে মেডাম এখানে শুয়ে আছেন কেন? কয়েকবার ডাক দেয়ার পরেও ঘুম থেকে উঠলোনা। শরীরে টাচ করার সাহসটুকুও পাচ্ছেনা!
.
ভাবছে মেয়েটা কি এখানেই ঘুমাবে? মশা কামড়াতে পাড়ে তো! ভেবে অনেক জোরে ডাক দিলো। রীতা খুব ভয় পেয়ে উঠেই সেই চিৎকার! ইয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া! মুহুর্তক্ষানেক পর যখন বুঝতে পারলো রীতা যে সোহান এভাবে ডাক দিয়েছে তখন জিজ্ঞেস করে,
.
এভাবে চেঁচামেচি করছেন কেন? কে মরলো? সোহান একটু রাগী গলায় উত্তর দেয় " এখানে এভাবে ঘুমিয়ে আছেন দেখে ডাক দিলাম মশা কামড়াতে পারে! এবার ইচ্ছে হলে আপনি ঘুমান আমি গেলাম। রীতা একটু অভিমানী গলায় বললো,
.
বা রে আমি এখানে যেহেতু ঘুমিয়েই পড়েছি আবার ডাকার কি হলো? আমাকে কোলে নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুয়াতে পারলেন না? কি আরামে ঘুমুচ্ছিলাম আমি হুউহুউ। বলে এবার একটু ভেংচি করে কাঁদছে। সোহান চুপ করে আছে আর ভাবছে,
.
যদি কোলে নিয়ে বিছানায় নিতাম তখন বলতো "আপনার কত্ত বড় সাহস আপনি আমাকে কোলে নেন! টাচ করছেন কোন সাহসে! মেয়ে মানুষ বোঝা বড় দ্বায়। " রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ুন এখানে মশা কামড়াবে " বলে সোহান রুমের দিকে পা বাড়ালো।
.
ঠিক তখন'ই আবার আরো জোরে কান্না করতে লাগলো রীতা। দেখে সোহান আবারো বলে "আরে কি হলো আবার ? " উত্তরে রীতা অভিনয় করে বললো, " আমার না কোমড়'টা কিরকম অবস হয়ে গিয়েছে। এখন আমি কিভাবে রুমে যাবো হুউহুউ। কেউ তো আমার একটু খোঁজ খবরও রাখেনা।
.
রীতা কেঁদেই চললো। সোহানের বোঝতে বাঁকি নেই যে রীতা কি বললো। চুপ করে গিয়ে রীতার মুখে হাত দিয়ে মুখ বন্ধ করে বলে, " চুপ চেঁচামেচি আমার একদম পছন্দ না " রীতা চোখ বড় করে সোহানের দিকে তাঁকিয়ে মাথা নাড়িয়ে বললো ঠিকাছে।
.
সোহান রীতাকে কোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়। রীতা চোখ বড় বড় করে তাঁকিয়ে আছে। চোখ গুলো আজ অন্য কথা বলছে। সোহান রীতার উপরে কাঁথা টানিয়ে দিয়ে বলে "রাত হয়েছে এবার ঘুমান " রীতা কিছুমাত্র খুশি হলেও বেশিমাত্রই রাগ হচ্ছে আবার সোহানের উপর।
.
" কেউ নিজের বউকে আপনি করে বলে? একটু আদোর করে কপালে চুমু দিয়ে বলতে পারেনা বুকে নিয়ে "রাত হয়েছে বউ আমার এবার ঘুমাও ? " এ মানুষ'টা আসলেই একটা মেশিন। মানুষ হলে একটু মায়া হলেও হতো আমার প্রতি!
.
রীতা উঠতে,বসতে, খাইতে, কথায় কথায় শুধু বাহানা করে। কোন হাজার টাকার আবদার করেনা। চায় একটু খুনসুটি ঝগড়ার পর সোহানের বুকে পড়ে কাঁদবে। সোহান সব সময় শুধু রীতার বাহানা এড়িয়ে যায়।
.
একটা সময় রীতা বাহানা আর করেনা। করে কি লাভ! মেশিন মানুষ'টা বোঝেনা রীতার বাহানার অর্থ। এর মধ্যে সোহান বোঝতে পারে আস্তে আস্তে রীতার বাহানা মানে। সকাল হলে, অফিসে যাওয়ার আগে, আসার পরে, খাওয়ার সময়, ঘুমানোর আগে।
.
সোহানের মতো হয়ে যাচ্ছে দিনদিন রীতা তাঁর সাথে থাকতে থাকতে। সোহান টের বুঝতে পারে সময়ের সাথে রীতা তাঁকে কতোটা ভালবাসে আর সে কতোটা অবহেলা করেছে। জীবনটা কিরকম একঘেয়ে হয়ে গিয়েছে সোহানের। নাই কারো শাষন, নাই কারো ভালবাসার ছোঁয়া।
.
আজ সোহান অফিসে বসে আছে। মনটা অনেক খারাপ। অফিসের কলিগদের দেখে
রাত করে বাসায় ফিরলে টেনশন নিয়ে বাসায় যেতে হয়। কারন অর্ধাঙ্গিনী রাগ করে আছে। রাগ ভাঙ্গাবে! আর সোহান রাত একটা বাজে বাসায় গেলেও রীতা কিছু বলবে না।
.
বলবে না এর কারন'টা হয়তো সোহান'ই। একদিন একটা ছোট্ট চিরকুটে সোহান একটা কিছু লিখে রাখে। অফিস থেকে ফোন করে বলে, " রীতা দেখবে একটু আমার ঘড়িটা কই? অফিস আসার সময় খোঁজে পেলাম না।
.
রীতা ঘড়িটা খোঁজতে গিয়ে টেবিলের উপরে পায়। ঘড়িটার নিজেই রাখা চিরকুট'টা। ছোট্ট একটা লাল গোলাপের পাপড়ি বেড়িয়ে আছে একটু চিরকুট থেকে। রীতা অনেক চমকে যায়। খুব আগ্রহ নিয়ে চিরকুট'টা খোলে পড়তে থাকে লেখা ছিলো,
.
.. আমার না খুব কষ্ট হয় জানো? কেউ এখন আর আমার সাথে বাহানা করেনা। অফিস থেকে ফিরে বউটার রাগমাখা মুখটা দেখতে খুব ইচ্ছে করে। অবশ্য আমি হাতে করে অনেকগুলি গোলাপ নিয়ে যাবো। তারপর বউটা অনেক খুশি হয়ে একটা মুচকি হাসি দিবে। আচ্ছা আমি কি সেই হাসিটা কোনদিন দেখতে পারবোনা? আমি নিজের চোখে কোনদিন মা,বাবাকে দেখিনি। দাদুর কাছে মানুষ। দাদুও বেশি দিন রয়নি। আমি ইন্টার পাস করার পরেই পরপাড়ে চলে যায়। তখন থেকে একাকী জীবন। এরকমই হয়ে গিয়েছি জীবনের সার্থে। কিন্তু সত্যিই আমি আমার বউটাকে পেয়ে বোঝতে পারি আসলে ভালবাসা কি!! অনেক মিস করি বউটার বাহানা গুলোকে। দিনশেষে বউটার সাথেই তো সব দুঃখ-সুখ শেয়ার করবো নাকি? আমি একবার আমার বউটার প্রেমিক হতে চা। বউটা কি আমার প্রেমিকা হবে? আমার বাহানারাণীকে আগের মতো পেলেই মনে হয় আমি সব থেকে সুখী মানুষ হবো পৃথিবীতে। সত্যিই ভালবাসি। অনেক ভালবাসি আমার বাহানারাণীটাকে।
.
রীতার চোখের দো-ফোটা পানি চিরকুট'টায় পড়ে। আর কিছুই বলার নেই। সেও যে অনেক ভালবাসে। সোহানের বাসায় আসার অপেক্ষায় মুহুর্ত গুনছে রীতা। সোহান এসে দরোজায় বেল টিপতেই রীতা দরোজা খোলেই সোহানকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিয়েছে। সোহান থামাতে চাইলে রীতা বলে "আজ আমি তোমার বুকে মাথা রেখে কাঁদবো। খুব কাঁদবো। তুমি কিছু বলতে পারবেনা।
.
কিছু বলার নেই এটুকুই বলতে পারি "বেঁচে থাকুক এরকম হাজারো বাহানারাণী'রা " কথায় আছে যে চোখের ভাষা বোঝেনা সে মনের ভাষা কি করে বোঝবে। একটু সময়,যত্ন আর ভালবাসাই একটা সুন্দর সম্পর্কের মূল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now