বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাঘিনী

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X . বাইরে প্রচুর রোদ উঠেছে, গাছপালা দিনদিন কমে যাওয়ায় সূর্যের তাপ দিনদিন বেড়েই চলেছে। আচ্ছা সূর্যের তাপ কি কখনও বাড়ে? নাকি পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ শক্তি কমে যাচ্ছে? যাই হোক পৃথিবী আর সূর্যের ব্যপারটা বাদ ই দিলাম। সাকিন এর বৌ এর মাথার তাপমাত্রা দিন দিন কি সূর্যের কারনেই বাড়ছে? নাকি এর পিছনে সাকিন সূর্যের ভুমিকা পালন করছে? . সকালবেলা ঘামভেজা শরীর নিয়ে সাকিন যখন বাড়িতে ঢুকলো। পরিবেশ শান্তই ছিলো। এরমানে এখন বিশাল ধরনের ঝড় উঠবে, বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে সাকিনের বৌ বললো, -- এইগুলা কি এনেছো? -- প..পটল -- তা তো দেখতেই পাচ্ছি। এইগুলা এনেছো একটু ভালো দেখে আনতে পারোনি? পঁচা বাসি সব দেখতেছি একখানে? -- জ্বী -- জ্বী কি সস্তায় পাইছো তাই না? -- আরে না না, খুব দাম। -- এত দাম দিয়ে এইসব কি কিনেছো? আজ রান্না হবেনা বাড়িতে। আমি এইসব রাধতে পারবোনা। . সেদিন আসলেই রান্না হয়নি। সারাদিন না খেয়ে ছিলো দুইজনে। বিয়ে হয়েছে মাত্র ছয়মাস হয়েছে, তাতেই অদ্বিতী পাকা সংসারী হয়ে উঠেছে। একটু মেজাজ গরম, তবে তা সাকিনের সহজ সরলতার জন্য। খুব চেষ্টা করে সাকিনকে বোকা থেকে চালাক বানানোর। কিন্তু কোনও উপায় পায় না। . সাকিনের কাছে অদ্বিতী বাঘিনীর মতো। প্রকাশ না করলেও মনে মনে অদ্বিতী কে বাঘিনী বলে ডাকে সাকিন। দুই টোনাটুনির সংসার ভালোই যাচ্ছে, অদ্বিতীর গর্ভে বাচ্চা। এটা নিয়ে সাকিনের কোনও মাথাব্যথা নেই হয়তো। সাকিনের চিন্তা তার বৌ... . -- এখন তো ভালোই দিন যাচ্ছে, কয়েকদিন বাদে বাবু এই পৃথিবীতে আসবে। তখন তো খরচ আরও বেড়ে যাবে? -- হুম। -- হুম বলেই নিশ্চিন্ত হয়ে গেলে? একটা চাকুরীর ব্যবস্থা করো এখন। -- চেষ্টা তো কম করিনা। পাইনা তো। -- দেখো, আমার আব্বুকে বলবো? ওনার কোম্পানি তে লোক লাগবে হয়তো। নতুন একটা সেকশন খুলবেন শুনেছি। -- বাদ দাও প্লিজ!! -- কেন বাদ দেবো? আমি সারাক্ষণ তোমাকে খুব বকাঝকা করি তাই না? -- না না .. -- আমি জানি, আমি তোমাকে খুব শাসনে রাখি। তুমি এমন কেন বলতো? এতগুলো টাকা দিয়ে কেউ পঁচা পটল কিনে আনে? -- বাদ দাও। আমি ঘুমোবো। -- আচ্ছা। সাকিন পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে। অদ্বিতী টেনশনে অন্যরকম হয়ে যায়। . কয়েকমাস আগে যখন সাকিনের হাত ধরে পালিয়ে এসেছিলো। তখন এসব টেনশন মাথায় ভর করেনি, খুব আনন্দ হয়েছিলো মনের মানুষকে কাছে পেয়ে। কিন্তু সাকিনের এরকম দ্বায়িত্বহীনতা খুব ভাবায় অদ্বিতীকে। অদ্বিতীর টাকাতেই সংসার চলছে, পাশের একটা বুটিকে কাজ করে অদ্বিতী। . (কয়েকমাস বাদে) দেখতে দেখতে প্রায় অদ্বিতীর বাচ্চা হওয়ার সময় চলে আসলো। অদ্বিতীর শারিরীক অবস্থা তেমন ভালো নয়, সাকিনের মনটা কেমন যেন করে উঠলো। সাকিন অদ্বিতী কে একটা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করালো। এই প্রথম দ্বায়িত্ববোধ কাজ করলো সাকিনের মনে। এটা অদ্বিতীর ভীষন ভালো লাগলো। . কয়েকঘন্টা অদ্বিতীর চিৎকার আর চেচামেচি খুব উদ্বিগ্ন করলো সাকিনকে। এরপর অদ্বিতী শান্ত হয়ে গেলো, একজন নবজাতকের গলার আওয়াজ পাওয়া গেলো। অদ্বিতীর ডেলিভারী কক্ষ থেকে সাদা কাপড়ে মোড়ানো একজনকে বের করা হলো। সাকিনের বুকটা ধকাস করে উঠলো। লাশটা দ্রুত সাকিনের সামনে চলে আসলো। সাকিন খুবই ব্যথিত অনুভব করছিলো। সাকিন লাশটার মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে দেখলো এ অদ্বিতী নয় অন্য কেউ। সাকিন দৌড়ে ডেলিভারী কক্ষে ঢুকলো। অদ্বিতী খুবই নরম চোখে তাকালো সাকিনের দিকে। সাকিন আর অদ্বিতীর পরিবারে একটা ফুটফুটে পরীর জন্ম হয়েছে। . বিগত দিনের দ্বায়িত্বহীনতা পিছনে ফেলে সাকিন এখন একটা ছোটখাটো চাকুরী করে। যা দিয়ে তিনজনের ভালোভাবেই দিন কেটে যায়। তবে সাকিন এখন তার বাঘিনীকে খুব মিস করে। মা হবার পর অদ্বিতীর ভিতরে আর সেই বাঘিনী নেই। গলে গেছে ... তাছাড়া সাকিন এখন দ্বায়িত্ববান পুরুষ, অদ্বিতীর বাঘিনী হওয়ার দরকার ই পড়েনা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বাঘিনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now