বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্যাগের মধ্যে বিড়াল

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X আমি নিহান।আমি এইচ.এস.সি পরিক্ষা দিবো ২০২০ সালে।পরিক্ষা যে দিবো সেটা বলতেও কেমন কেমন লাগে এখন।কারণ করোনা ভাইরাসের কারণে পরিক্ষা স্থগিত হয়ে আছে।এই বছর হবে কি না তাও জানি না।যাই হোক আমার পরিক্ষা নিয়ে গবেষণা করার উদ্দেশ্য নয় এখন।যেটা বলবো আরকি সেটার দিকে এবার অগ্রসর হই। আমি কলেজে উঠার পর একটা স্যার এর কাছে ইংরেজি প্রাইভেট পরতাম।সেই স্যার আমার কলেজের স্যার না অন্য কলেজের স্যার ছিল।স্যার এর নাম ছিল মিন্টু।আর আমি কলেজের স্যার এর কাছে পরি নাই কারণ কলেজ বাসা থেকে একটু দূরে ছিল তাই কাছের একটা মহিলা কলজের ইংরেজির শিক্ষক এর কাছে ইংরেজি পরতাম।স্যার পড়াতেনও খুব চমৎকার।কিন্তু স্যার এর কাছে আবার ছেলেদের থেকে মেয়েরা বেশি পড়তো।কারণ মহিলা কলেজের শিক্ষক।তাই স্যার এর কলেজের বেশিরভাগ মেয়েরাই স্যার এর কাছে পড়তো।আর আমরা ছেলেরা সবাই অন্য কলেজের ছিলাম।ছেলেরা আমরা সাত আটজন পড়তাম তার মধ্যে একজন বাদে সবাই আমরা স্কুল জীবনের বন্ধু ছিলাম।আমরা ছেলে মেয়ে সবাই একসাথে পড়তাম।আবার প্রাইভেটে কয়েকজন মেয়ে ছিলো যারা আমার সাথে স্কুলে পড়েছে।যাই হোক সেকেন্ড ইয়ার এ উঠার পর এবং টেস্ট পরিক্ষার পরে স্যার এর প্রাইভেটে একটা সমস্যা হয়।তার আগে বলি সেকেন্ট ইয়ারে টেস্ট পরিক্ষার আগে যেই মেয়েরা ছিল আমাদের সাথে টেস্ট পরিক্ষার পর অন্য একটা মেয়েরে ব্যাচ এর সাথে দিয়ে দেয় স্যার আমাদের।তারাও আমাদের মতই এইস.এস.সি পরিক্ষার্থী আর তারাও মিন্টু স্যার এর কলেজের।তোহ বললাম না একটু আগে একটা ঝামেলার কথা।আসলে ঝামেলা টা হলো স্যার যেখানে পড়াতো তার একটু পাশে আরেকজন স্যার পড়াতো।সেই স্যার এর নাম রমেশ।রমেশ স্যার এর কাছে এক ছাত্রী পড়তো আর সেই ছাত্রীর সাথে নাকি রমেশ স্যারের চক্কর আছে।এই কথা নাকি আমি যার কাছে পড়ি মানে মিন্টু স্যার বলেছে।এই নিয়ে দুই স্যার এর মধ্যে রেশারেশি, মারামারি থুক্ক হাতে নয় মুখের কথা দিয়ে মারামারি চলছে।মিন্টু স্যার প্রাইভেটে আমাদের এই কথাগুলো জানান।তার আগে জানতাম না আমি।আর যেই মাইয়ার লগে নাকি রমেশ স্যার এর চক্কর আছে সেই মাইয়া টাও আমাদের মিন্টু স্যার এর কলেজের।এমনকি সেই মাইয়াও আমার সাথে স্কুলে পড়েছে।মানে হলো গিয়ে সব কয়টা গিয়ে ঘুরে ফিরে আমারে মিন্টু স্যার আর এবার আমার মধ্যেও জড় হইছে।মিন্টু স্যার আরো বললেন আমাদের যে তিনি শুধু এটুকু বলেছেন রমেশ স্যার এর কাছে পড়া মেয়েটি ভাল হইছে অনেক।রমেশ স্যার এর কাছে পড়ার পর থেকে ভালই পড়াশুনা করে কিন্তু রমেশ স্যার এর সাথে তার কোনো প্রেমের চক্কর আছে আছে কি না এমন কিছু বলে নাই মিন্টু স্যার।আমি নিজেও বিশ্বাস করি না যে মিন্টু স্যার এমন কথা বলতে পারেন।স্যার অনেক ভালো মানুষ ছিলেন।যাই হোক স্যার আরো বললেন যে তিনি নিজেও জানেন না যে ওদের মধহে আসলে কি ধরনের সম্পর্ক আছে।তারপর আরো কথায় কথায় আমরা জানলাম যে আমারে প্রাইভেটের কয়েকটা মেয়েই নাকি মিন্টু স্যার এই কথা বাইরে আলোচনা করছে।আর এমন আলুছানা করছে যে থুক্কু আলোচনা করছে যে সব একেবারে হযবরল করে দিছে।আর আমাদের বিষয়টা জানার আগেই যে এতকিছু হয়ে গেছে টেরই পাই নি।স্যার কবে এসব বলছে আমি জানতাম না।স্যার যেদিন এসব কথা বলেছে ওইদিন আমি কোনো কারণে প্রাইভেটে আসি নি।যাই হোক আমারে প্রাইভেটের মেয়েরাই নাই স্যার এর কথাটাকে তিল থেকে তাল বানিয়ে দিয়েছে।তাল শুনে জিভে পানি এসে লাভ নাই পাঠক।এটা একটা প্রবাদ বাক্য শুধু।আবার এটাও মিন্টু স্যার বললেন আমাদের যে এবার রমেশ স্যার নাকি তার প্রাইভেটের ছেলেপেলেদের নিয়ে মিন্টু স্যার এর কলেজের প্রিন্সিপালের কাছে যাবে এই ঘটনার বিচার চাইতে।বলে রাখি রমেশ স্যার মিন্টু স্যার এর কলেজের ছিল না।তিনি আরেক কলেজের শিক্ষক ছিলেন।মিন্টু স্যার যেদিন আমাদের এত কিছু বললেন মিন্টুর স্যার এর প্রিন্সিপাল এর কাছে সেদিনই বিচার নিয়ে যায় রমেশ স্যার ।তার পরেরদিন আবার মিন্টু স্যারের প্রাইভেটে হাজির হলাম আমরা।আজ আবার শুনতে হবে বিচারে কি হলো।আমরা তো ছেলে মহিলা কলেজে গিয়ে তো আর বিচার দেখতে পারি না।যাই হোক মিন্টু স্যার কে বললাম স্যার কি হলো বিচারের?স্যার বললো আরেহ কি হবে।ওরা কিছুই প্রমাণ করতে পারে নি।আমি কি তেমন কিছু বলছি কি রমেশ স্যার আর ওই মেয়ের সম্পর্কে।আমার তো কোনো দোষ নাই।আর আমার ছাত্রি রা ছিলো তাড়াও বলছে আমার দোষ নাই।তাই প্রিন্সিপাল ও আমার দোষ পায় নি তাই ব্যাপারটা মিটমাট ও হয়ে গেছে।আর সবেচেয়ে বেশি আমার উপকার করছে টিনা।ওই তো ব্যাগ থেকে বিড়াল বের করে দিলো।ধন্যবাদ টিনা।তুমি তো ব্যাগ থেকে বিড়াল বেড় করে দিলে একেবারে।আর সব সমস্যা মিটে গেলো।বলে রাখি টিনা আমার সাথে স্কুলে পড়ছে এখন প্রাইভেটও পড়ে গিয়েছি একসাথে।যাই হোক স্যার এর মুখে ব্যাগ থেকে বিড়াল বের করে দেওয়া কথাটা শুনেতো পুরো অবাক হয়ে গেলাম আমি।আমি ভাবছি ব্যাপারটা কি হলো।বিচারে তো সবাই মুখে সাক্ষ্য দিবে।কিন্তু ব্যাগ থেকে বিড়াল বার করার কারণ কি?এখানে বিড়াল এর কি কাজ?বিড়াল আবার কি সাক্ষ্য দিছে নাকি?ব্যাগে করে আবার বিড়াল নিয়ে গেছিলো নাকি সাক্ষ্য দিয়াতে।ধুর বিড়াল তো কথাই বলতে পারে না তাইলে বিড়াল সাক্ষ্য দিবে কি করে।ওহ না এবার দেখি মাথার তার ছিড়বে আমার।নাহ তার টা ছিড়ার আগে ব্যাপারটা বুঝে নেই।আমি এবার টিনাকে বললাম টিনা তোমার ব্যাগে বিড়াল ছিল নাকি।আমার এই কথা বলার পরেই প্রাইভেটে হাসির রোল পড়ে গেলো।সেই হাসির নাঝে টিনার রাগি চেহারাও দেখতে পেলাম আমি।টিনা বললো নিহান তোমার খবর আছে। এটা শুনে আমি আবার ভাবছি আমার আবার কি খবর আছে।ব্যাপারটা জানার জন্যই তো জিজ্ঞেশ করলাম ।ব্যাগের মধ্যে থেকে বিড়াল বার করে দেওয়া। এই কথাটা শুনে আমার মাথা তে তো তাল গোল পেকে যাচ্ছে।তারপর একটু মাথায় চাপ দিয়ে একটু কল্পনার সাগড়ে ডুব দিয়ে ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করলাম এবং অবশেষে ব্যাপারটা বুঝলাম।আসলে মিন্টু স্যার বললো না তুমি তো একেবারে ব্যাগের মধ্যে থেকে বিড়াল বের করে দিছো আসলে এটাও এক ধরনের প্রবাদ বাক্য।ভালভাবে বললে দাড়ায় যে তুমি তো একেবারে সব রহস্য,সব উচিত কথা বলে দিয়েছো। পরিশেষে আজ আমি এই অবুঝ শিশু আমার অর্ধেক তার ছিড়া মন নিয়ে বলছি হায়রে ব্যাগের মধ্যে বিড়াল বানিয়ে দিলি আমায় পুরাই টাল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ব্যাগের মধ্যে বিড়াল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now