বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্যাচেলর বাসায়

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ব্যাচেলর বাসায় যারা থাকে তারা প্রত্যেকেই নিঃসন্দেহে একেকজন মহাপুরুষ। তাদের জীবনযাত্রা অন্যরকম,দুনিয়াদারির নিয়মে তারা চলে না,চলতে পারেনা। মহাপুরুষদের বাসার ভিতরটা খুব অদ্ভুত,ঘরের যে জিনিসটা যেখানে থাকার কথা সেখানে তা থাকেনা,থাকে অন্য জায়গায়। আমি এমন একটা ব্যাচেলর বাসার কথা জানি, যেখানে মশারি টাঙ্গানোর দড়ি হিসেবে সম্পূর্ণ মাউসটাই (কম্পিউটারের মাউস) ব্যবহার করা হচ্ছে।চিন্তা করা যায়? ব্যাপারটা অনেকটা এমন, 'মশারি টাঙাবি? দড়ি পাচ্ছিসনা?আমার মাউসটা নষ্ট,দে টাঙিয়ে।' সেই যে একবার দড়ির বদলি হিসেবে মাউস টাঙানো হল,এরপর কখনো দড়ি পাওয়া গেলেও সেই মাউসটা খুলে আর দড়ি লাগানো হলো না। কে করে এত কষ্ট! কি দরকার?ভালোইতো চলছে! . এরকম এক মহাপুরুষদের বাসায়; সবাই একসাথে বসে ভাত খাবে, সাথে অতিথি আছে একজন। প্লেট কম পড়েছে একটা,এখন? একজন পরে খাবে? সবাই খাবে আর একজন বসে থাকবে? আরে ধুর,তা হয় নাকি! এটাও ওদের কাছে কোন ব্যাপার না। একজন বলে উঠলো, 'দোস্ত আয়, তুই আর আমি এক প্লেটে খাই। তুই প্লেটের ঐপাশ থেকে খা ,আমি এপাশ থেকে খাই। ঝামেলা কিসের,আমরা আমরাইতো!' বলেছিলাম না ওরা মহাপুরুষ? বিশ্বাস হচ্ছে? ওদিকে আরেক ব্যাচেলর বাসায়; সবাই আড্ডা দিচ্ছে, চা আনানো হয়েছে, আড্ডার ফাঁকে চা ছাড়া তাদের চলেই না। ওদিকে চা ঢালতে গিয়ে দেখা গেলো একটা কাপ কম। কি করা যায়? একজন বললো, 'ওইহ, এইটা কোন সমস্যা হইলো? বডি স্প্রের ঢাকনাটা খুলে ধুয়ে নে,তারপর সেইটাতে ঢেলে খা। তুই ঢাকনায় খেতে না চাইলে আমারে দে,আমি খাই। আরে খেলেই হল, চিয়ার্স!' চা খাওয়ার সময়ও ওরা চিয়ার্স বলে, কাপে কাপে বাড়ি খাওয়ায়। এগুলোতো ওদের কাছে মামুলী ব্যাপার,কেউ অবাক হয়না,খুশিমনে কাপ বাড়িয়ে দিয়ে ওরা চিয়ার্স বলে। তাছাড়া মহপুরুষদের সবকিছুই একটু অন্যরকম, ওদেরতো কিছু নিজস্ব স্টাইল থাকবেই!ব্যাপার না! দুধ চিনি বাড়িয়ে বানানো চায়ে চুমুকের সাথে সাথে আড্ডা জমে। ব্যক্তিগত শত দুঃখের মাঝেও ওরা একসাথে থাকার সময় ওদের যেন কোন দুঃখ নাই, মিলেমিশে থাকার আনন্দ ওরা পুরোটাই উপভোগ করে। তাইতো বলছি, ওরা মহাপুরুষ! . আমি জানি,নিজের বাসায় যে ছেলেটা এক গ্লাস পানিও ঢেলে খায়না, নবাবি হালে জীবন কাটায়, সেই নবাবও ব্যাচেলর বাসায় থাকতে এসে তুখোড় এক কাজের ছেলে হয়ে যায়। যে ছেলে নিজের বাসায় থাকাকালীন পাঁচ টাকার কাঁচামরিচ কিনার জন্য বাজারে যেতে চাইতো না, সেও বাজার করে এখন। ওরা বুয়া না আসলে রেঁধে খায়, ভাত খাওয়ার পর নিজের প্লেট নিজে ধোয়, অন্য কেউ ধুয়ে দিবে এই আশায় থাকে না। খাওয়ার পানি ওরা নিজেরাই ফুটিয়ে নেয়, বোতলে পানি ভরে,আরো কত কি করে! সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এখানে সবাই নিজের কাপড় নিজেই ধোয়, অনেক সময় বন্ধুর কাপড়ও ধোয়। 'ওই আমি কালকে তোর প্যান্ট ধুইছি,আজকে তুই আমার লুঙ্গি ধুইয়া দে।' ওরা নিজের বিছানা নিজে গোছায়, চাদর বিছায়,মশারি টাঙায়! মাঝে মাঝে ঘড় ঝাড়ু দেয়, ওদের ঘরের দরজার ফাঁকে একটা ঝাড়ুও থাকে,ওইটা দিয়ে ওরা তেলাপোকাও তাড়ায়! কত কাজ করে তারা, বাহ! . আমি জানি,এই বিষয়গুলো ব্যাচেলর বাসায় থাকা ছেলেগুলোর মায়েরা একবার যদি নিজ চোখে এসে দেখতেন, তারা স্পটেই চোখের পানি ফেলতেন। চোখে পানি আর ঠোঁটে হাসি মেখে তারা ভাবতেন, 'এটা কি সত্যি আমার ছেলে? কিভাবে সম্ভব!' অবশ্যই সম্ভব,মহাপুরুষরা নিজের কাজ নিজেই করে,ওরা কারো জন্য বসে থাকেনা। এখানে অবাক হওয়ার কিছু নেই। . ব্যাচেলর জীবন কষ্টের, অস্বীকার করছি না। কিন্তু অন্যরকম একটা মজা আছে এই জীবনে। বিভিন্ন পরিবারের কয়েকজন ছেলে একসাথে হয়ে কি অদ্ভুত ভাবে একটা পরিবার গঠন করে ফেলে! ভাবা যায়? এই পরিবারেও মায়া আছে,ভালবাসা আছে,রাগ ক্রোধ ঝগড়া অভিমান সবই আছে। ভুল বোঝাবুঝিও আছে। আবার কিছুক্ষণ পরেই মিলেমিশে থাকাও আছে। কেউ অসুস্থ হলে তার জন্যে সেবাও আছে। থাকবে না কেন? ওরা যে প্রত্যেকেই আলাদা আলাদাভাবে একেকজন খাঁটি মহাপুরুষ। একদম বাড়িয়ে বলছিনা, সত্যিকারের মহাপুরুষরা কিন্তু এমন'ই হয়! . [ বিঃদ্রঃ এতকিছুর পরেও, বাসা ভাড়া চাইতে গেলেই বাড়িওয়ালা আঙ্কেলরা এই মহাপুরুষদেরকে বাসা ভাড়া দিতে আপত্তি জানায়। কিন্তু ওদিকে নিজের মেয়ের বিয়ের সময় ঠিকই তারা ব্যাচেলর ছেলে খোঁজে! নিজের মেয়ের হবু জামাইয়ের কথা চিন্তা করে হলেও বাড়িওয়ালাদের উচিত ব্যাচেলরদেরকে বাসা ভাড়া দেওয়া। সব ব্যাচেলররা যদি বিয়ে করে নন-ব্যাচেলর হয়ে যায়, তাহলে নিজের মেয়েকে কার সাথে বিয়ে দেবেন বাড়িওয়ালা আঙ্কেল? ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেওয়াটা নিশ্চিত করার সাথে সাথে নিজের মেয়ের ভবিষ্যতটাও নাহয় নিশ্চিত করে রাখুন!!!!! ] _____ উৎসর্গঃ ব্যাচেলর বাসায় জীবন কাটানো প্রত্যেকটা মহাপুরুষ এবং মহাপুরুষদেরকে যারা বাসা ভাড়া দেয় সেইসকল বাড়িওয়ালা আঙ্কেলের মেয়েকে; স্যরি, বাড়িওয়ালা আঙ্কেলকে! . -অনিক আহমেদ সুমন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ব্যাচেলর বাসায়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now