বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্যাচেলর

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান RASHIDUL HASAN (০ পয়েন্ট)

X রাতের সাড়ে এগারোটার দিকে বাড়িওয়ালার মেয়ের ফোন থেকে কল আসাটা স্বাভাবিক কিছু না। অনেক সম্ভাবনার উঁকি দেয়। যেহেতু আমাদের ফ্ল্যাট বরাবর নিচেই তারা থাকে,সেহেতু আরো বেশী সম্ভাবনা। কলটা ধরবো ধরবো করছি আর ভাবছি,এখন কল ধরলে নিশ্চিত একটা ঝাড়ি শুনবো। . রিসিভ করার সাথে সাথেই বলবে,' ভাইয়া তোমাদের বাসার কোন রুমে জোরে সাউন্ড দিয়ে গান প্লে করছে?' কিংবা 'কোন রুমে নাচানাচি করছে পোলাপাইন? ঘুমাতে দিবানা? আগামী মাসেই বাসা ছাড়ো,এজন্যে ব্যাচেলর দিতে চাইনাই আমরা।' . ভয়ে ভয়ে ফোনটা ধরার আগে আমার দুষ্ট মনে আবার মিষ্টি স্বপ্নেরও উঁকি দেয়। হয়তোবা রিসিভ করতেই,'ফ্রী আছো? চলো ছাদে যাই'- বলবে! আহা! ভাবতেই বুক ধুকপুক করা শুরু করলো। শেষের এই ভাবনাটাই আমাকে মোটিভেট করছিলো। উদাস কন্ঠে কল রিসিভ করেই বললাম, . -'হ্যালো' . -ভাইয়া এত রাতে ফোন করে ডিস্টার্ব করার জন্যে স্যরি। . -ধুর না, এসব ব্যাপার না। আপনি আমাকে টুয়েন্টি ফোর/সেভেন কল দিতে পারেন। . -ওয়াও! তাই নাকি? দরজা খোলা? . -হ্যাঁ,ঘরের দরজা,ফোনের দরজা এমনকি মনের দরজা সবই খোলা। . -ইয়ে মানে ভাইয়া তোমাকে একটা কথা বলতাম। . - হ্যাজিটেশনে না ভুগে বলে ফেলেন। . আমার শেষের ভাবনাটা আমাকে আবারো ভাবিয়ে তুললো। মনে মনে ভাবছি,'এটা ক্যামনে সম্ভব ম্যান!' . ভাবনার অন্তরায় হয়ে মেয়েটা আস্তে আস্তে লজ্জানত কন্ঠে বললো, . - ভাইয়া তোমাদের ফ্রীজে কি তরকারি আছে?' . প্রশ্নটা আবছা বুঝতে পেরে আমি জিগেস করলাম, . - 'কেন?' . অলস ভঙ্গিতে উত্তর দিলো, . - আর বইলোনা ভাইয়া,আম্মু তরকারি গরম দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে,তরকারি পুড়ে গেছে' দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের ফ্রীজ খালি। কাঁচা বা রান্না করা কোনো তরকারিই নেই। . আমি তাকে আশ্বস্ত করে বললাম . - আপনি চিন্তা করবেন না, আমি ব্যবস্থা করছি।' . মেয়েটাকে এই বলে ফোন রেখেই আগে একবার পুরা রুমে নেচে নিলাম। এইতো সুযোগ,আজ তরকারি, কাল মিষ্টি পরশু.... যেহেতু রান্না করা কিছু নেই, মাথায় আসলো ওদের পুরো ফ্যামিলিতে পাঁচ জন আছে। আমার মানিব্যাগে এক হাজার টাকার একটা নোট উঁকি দিচ্ছিলো তখন। দৌড়ে নিচে চলে আসলাম। বিশ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম। সেখানে কিছু পেলাম না। আরো বিশ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে আরেকটু দূরে একটা রেস্টুরেন্টে চিকেন বিরিয়ানি পেলাম। তড়িঘড়ি করে পাঁচটা চিকেন বিরিয়ানি পার্সেল করেই ডিরেক্ট ওদের ফ্ল্যাটে। . আজকে যে কি হবে! ভাবতেই অবাক লাগছে। আমি ভাবছি আর লজ্জা পাচ্ছি,লজ্জা পাচ্ছি আর মুচকি হাসছি। প্রেমগুলোর শুরু বুঝি এভাবেই হয়! . কলিং বেলে নক দেয়া মাত্রই দরজা খুললো। লজ্জায় নিচের দিকে তাকিয়ে আছি। মেয়েটার ধমকে আমি মাথা তুললাম। . -তোমাকে এইগুলা আনতে কে বলসে? . -আসলে আমার বাসায় তেমন কিছু ছিলোনা তো তাই। . -তাই বলে টাকা নষ্ট করে এগুলা?! . -আরে কিসের টাকা নষ্ট? আন্টি আংকেলকে কোনো দিনই কিছু খাওয়াইনি। আর আপনিও তো আমার কাছ থেকে ট্রিট পান। . -তাই বলে তুমি বিড়ালের জন্যে এগুলা আনবা? . -মানে? . -আরে বাপ! আমরা তো সেই কখনই ডিনার সারসি। বিড়ালের তরকারিটা পুড়ে ফেলসে আম্মু। তুমি ফোনে কথা ঠিকঠাক ভাবে না শুনে কেটে দিলে কেন? . অন স্পট ডেড কেইস শুনেছি,পড়েছি,মুভিতে দেখেছি। নিজের জীবনে এমন কিছু হবে কোনোদিন ভাবিনি। স্বপ্নেও না,দুঃস্বপ্নেও না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ~ব্যাচেলর জীবন~
→ একটি ব্যাচেলরীয় রান্না
→ "ব্যাচেলর জীবন"
→ তুই আজীবন সালমান খানের মতো ব্যাচেলর থাকবি..!!!
→ ব্যাচেলর লাইফ
→ ব্যাচেলর বাসায়
→ ব্যাচেলরদের মাসের প্রথম দিকে
→ ব্যাচেলর
→ ব্যাচেলরের প্রেম মোহাব্বত
→ ব্যাচেলর
→ ব্যাচেলরদের আর্তনাদ
→ ব্যাচেলর ছেলেগুলো একসময় বদলে যাবে!
→ অব্যাচেলর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now