বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাইফের পাশে একটা বাচ্চা।সাইফ একটু বাচ্চাটার দিকে তাকাচ্ছে আবার একটু সামনের দিকে।আর বাচ্চাটা অনবরত কেঁদেই চলছে
.
আজ সকালে যখন সাইফ ঘুম থেকে উঠল তখন তার পাশে এই বাচ্চাটাকে দেখল।কে জানে বাচ্চাটা কার আর কোথাথেকে এসেছে
.
সাইফ ভাবছে বাচ্চাটাকে কি ওর সাথে নিবে নাকি এইখানেই ফেলে চলে যাবে
.
একবার ভাবল নিয়েই যাই কিন্তু পরক্ষণে ওর মনে হল ও ওতো একদিন এইভাবে স্টেশনে পড়ে রয়েছিল তখন তো তাকে কেও উঠায় নি।আজ তাহলে সে কেন ছেলেটাকে উঠাবে
.
আজ ১২বছর ধরে এই স্টেশনে আছে সে।এমন কেস কত দেখেছে।কত শত বাচ্চা দেখেছে ওই লাল ঘরটার পেছনে।কোনোটা চটের ব্যাগে ভরা,কোনোটা এমনিই রাখা,আবার কোনোটা তো রক্ত সহ।কোনোটা মৃত আবার কোনোটা জীবিত তবে প্রাণটা আর একটু তে লেগে আছে।যেকোন সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে
.
স্টেশনে থাকা ছেলেগুলো অল্প বয়সে অনেক কিছুই বুঝতে পারে।তারা অতি সহজেই বুঝতে পারে সব।কিন্তু সাইফ আজ পর্যন্ত এসব কোনো গ্যাং এর সাথে থাকে নি তাই এসবের কিছুই বুঝে না সে
.
তাই সাইফ চিন্তা করে পায় না এত বাচ্চা আসে কোত্থেকে
.
তবে অন্য সবগুলো বাচ্চা থেকে এই বাচ্চাটা আলাদা।বাচ্চাটা খুব সুন্দর।আর বাচ্চাটা যেই তোয়ালেতে শুয়ে আছে সেইটাও অনেক সুন্দর।দুইবার তাকাতেই কেমন যেন মায়া পড়ে গেছে ছেলেটার প্রতি।ওকে এইখানে একা রেখে যেতে ইচ্ছে করছে না আবার সাথে নিয়ে যাওয়ার ও সাহস হচ্ছে না
.
যেইখানে সাইফ নিজেই দুইবেলা খেতে পারে না সেইখানে এই বাচ্চাটাকে সাথে করে নিয়ে কি খাওয়াবে ও।
.
সাইফের নিজের কথা মনে হয়ে যায় তখন।তার মা-বাবা তাকে এত পিচ্চি থাকতেই স্টেশনে ফেলে যান নি।দয়ামায়া ছিল ওনাদের।তাই তো সাইফের বয়স যখন তিন বছর তখন ওনারা ওকে স্টেশনে এনে ফেলে দিয়ে চলে গিয়েছিলেন
.
একটা তিন বছরের ছেলে অনেক কিছুই মনে রাখতে পারে।সাইফ তার নামটা আর ওর মায়ের চেহারাটা আবছা মনে রেখেছে।বয়স বাড়ার সাথে সাথে হয়তবা একদিন সে ভুলেই যাবে তার মায়ের চেহারা।তখন যদি তার মা তার পাশ দিয়েও যায় তখনো সে চিনবে না।মা ও তো সাইফকে চিনবে না সেই এতটুকু থাকতে ফেলে গিয়েছিল
.
যেইদিন মা-বাবা ওকে ফেলে গিয়েছিল সেইদিন ও খুব কেঁদেছিল।কারন পাশে যারা ছিল তারা সবাই অপরিচিত।কয়েক মুহূর্তের জন্য লোকগুলো দাঁড়িয়ে থেকেছিল আর তারপর যখন ছেলেটার কান্নার কারন উদঘাটন করতে পারল তখন ধীরে ধীরে সটকে গেল।না জানি আবার নিজের ঘাড়ে পড়ে সেই ভয়ে
.
সাইফ তিনদিন একফুটা পানিও খায় নি।খাবেই বা কি করে ওতটুকু একটা বাচ্চার তো আর এতটা জ্ঞান নেই যে নিজ বুদ্ধিতে পেট ভরবে
.
তবে এই তিনদিনে সে চারপাশটা খুব প্রত্যক্ষ করল।তার মত আরো অনেকেই আছে এইখানে যারা খেতে পারছে।
.
চারদিনের মাথায় সাইফ উঠে দাঁড়ালো।এক মহিলার কাপড়ে টান দিয়ে হাত পাতল বিনিময়ে কিছু পেল সে।তারপর থেকে প্রতিদিন একই পন্থায় চলতে শুরু করল।
.
অনেকদিন মার ও খেত।কিন্তু কিছুই করার ছিল না।এটাই সাইফের ভাগ্য।
.
১২টা বছর ধরে সাইফ এই স্টেশনে।কেও কখনো এসে একটু আদর করে কথা বলেনি।লাত্থি,উষ্ঠা ছাড়া এ পর্যন্ত কপালে আর কিছুই জুটে নি
.
একদিন সাইফ এক মহিলার কাপড় ধরে টান দেওয়ার পর পাশ থেকে এক পুরুষ এসে ওকে বেধরক মারল।ওর ছোট গোলাপি ঠোঁটটা কেটে ফুলে গিয়ে একটা ছোটমতন বালুর ডিবি তৈরি হয়ে গেল।খানিকটা উঁচা তারপর আবার নিচু আবার একটু উঁচা।ঠোঁটের ব্যাথায় সাইফ দুইদিন দাঁড়াতে পারে নি।কারন লোকটা তো আর শুধু ঠোঁটেই মারে নি শরীরের অন্যান্য জায়গায় ও মেরেছে
.
তবে ঠোঁটে বেশি লাগায় সাইফ ভাবল শুধু ঠোঁটের ব্যাথার কারনেই বোধহয় সে দাঁড়াতে পারছে না,সুস্থ হতে পারছে না।ওইটুকুন একটা বাচ্চার এমন ভাবনা টা খুবই স্বাভাবিক
.
সাইফ আজো জানতে পারল না তার মা-বাবা কেন তাকে এইখানে ফেলে রেখে গেলেন।স্টেশনের অন্য ছেলেগুলোর কোনো না কোনো একটা দুর্বলতা আছে কিন্তু ওর তো তাও নেই।ও সুস্থ,সবল একটা শিশু।তাহলে ও কেন মা-বাবার আদর থেকে বিচ্ছিন্ন
.
সাইফ যখন এইসব সাত-পাঁচ ভাবছিল তখন আচমকাই বাচ্চাটা কান্না শুরু করল।তার ধ্যান ভাঙল
.
বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে আছে সাইফ
.
থাক পড়ে তাতে আমার কি!!! বলেই সাইফ উঠে গেল
.
চার কদম যাওয়ার পর আবার ফিরে আসল।দাঁড়িয়ে থেকে বাচ্চাটার দিকে তাকালো সাইফ
.
কেমন করে যেন তাকাচ্ছে বাচ্চাটা।আর খুব কাঁদছে ঠিক যেমন ১২ বছর আগে সাইফ কেঁদেছিল।তখন যেমন ওকে দেখে লোক পালিয়েছিল আজ সাইফ ও ঠিক ওইভাবেই পালাতে চাইছে।
.
কিন্তু নিষ্ঠুর মানুষগুলোর মত পালাতে পারছে না সাইফ।এক অজানা মোহ বারবার পেছনে টেনে নিচ্ছে ওকে
.
নাহ!!!! সাইফ একে রেখে যেতে পারবে না
.
সাইফ তোয়ালেটা খুব শক্ত করে ধরে এনে বাচ্চাটাকে বুকের সাথে লাগিয়ে বলে,
"আজ থেকে তুই আমার ভাই,আমার সাঈদ ভাইয়া"
.
সাইফ একটা অনিশ্চয়ার্থ পথে চলতেছে এখন সাঈদ ও তার সঙ্গী।হোক না অনিশ্চিত তবুও দুইভাই একসাথে তো থাকবে.......
লিখা:-অভিমানী তন্দ্রাবতী
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now