বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Babur Sopno

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Eftekhar Ahmed Efti(guest) (০ পয়েন্ট)

X বাবু ফুটপাতে থাকে। সে তার বাবাকে দেখেনি। তার মা পুরনো কাপড় পরে সারাদিন এখানে অখানে ভিক্ষা করে। বাবুর দিন কাটে কাগজ কুড়িয়ে, মারামারি করে, দোকানের এটোপাতা চেটে। ফুটপাতের কঠিন শান দিনের বেলায় যেমন গরম থাকে, রাতের বেলায়ও তেমন ঠান্ডা থাকে। সেখানে শুয়ে বাবুর ঠান্ডা লাগে। রাতে মায়ের পাশে শুয়ে বাবু খিদের কষ্ট ভুলে যায়। বাবু বড় হয়ে দাক্তার হতে চায়। যাতে সে তার মত চেলেমেয়েদের বিনামুল্যে চিকিৎসা দিতে পারে। কিন্তু বাবুর স্কুলে পড়ার মত সামর্থ্য নেই। তার মাকে সে বলেনি। যদি মা তার ছেলেকা পড়াতে না পেরে কষ্ট পান। সেদিন রাত্রে বাবু স্বপ্নে দেখল সে নরম বিছানায় শুয়ে আছে। আর তার ঘরে সব দামী দামী আসবাবপত্র। কিছুদিন পর তার মা ভীষণ অসুস্থ হলেন। দাক্তার বলেছে চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা লাগবে। বাবু ভাবল সে যদি কোনো দকানে কাজ পায় তাহলে সেখান থেকে টাকা জমিয়ে মার চিকিৎসা করাবে এবং পাশাপাশি সে স্কুলেও ভর্তি হবে। তার পরের দিন সে একটা হোটেলে কাজ পেলো। এই সুসংবাদটা মাকে দেওয়ার জন্য সে হাসপাতালে গেল। গিয়ে দেখল মার অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। তিনি বাবুকে কানে কানে বললেন, মার কাছে কোনো কিছুই গোপন থাকে না। আমি জানি তুই পড়তে চাস। আমার হাতে আর বেশি সময় নেই । তুই ভাল করে লেখাপড়া করবি যাতে আমাদের মত মানুষদের আর কেউ ঘৃণা করতে না পারে। কথা শেষ না হতেই মা তারদিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। তারপর সে বুঝতে পারল তার মা আর প্রিথিবিতে নেই। তার অজান্তেই চোখথেকে পানি ঝরতে লাগলো তার মায়েরর হাতের ওপর। কিছুদিন পর থেকেই সে হোটেলে কাজ করতে থাকল। সে তার সব সামর্থ্য দিয়ে কাজ করছে দেখে দোকানের মালিক তার ওপর সন্তুষ্ট। তাকে একদিন জিজ্ঞেস করল, তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? সে বলল ডাক্তার ।মালিক আবার জিজ্ঞেস করলেন তুমি কোথায় থাক? সে বলল, নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না কিন্তু বাজারের ফুটপাতই আমার আশ্রয়স্থান। তার কথা শুনে মালিকের দয়া হলো। সে বাবুকে তার বাসায় নিয়ে গেল। বাড়ির সবাই তাকে তাদের ছেলের মত মনে করত। কিন্তু মালিকের বউ মালিকের অনুপস্থিতিতে তাকে নানারকম নির্যাতন করত। সে বাসায় বাবু টিক্তে পারছিল না। তাই গভীর রাতে মালিকের দরজার সামনে একটা চিঠি রেখে সে চলে যায়। মালিক ঘুম থেকে উঠে বাইরে যাওয়ার সময় চিঠিটা দেখতে পায়। শ্রদ্ধেয় মালিক, আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনার বাড়ি আমার নসিবে লেখা হয়নি। তাই আমি চলে যাচ্ছি। বাসার সবাইকে আমার সালাম দেবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। এই অধমের অশ্রুশিক্ত নয়নে আপনার মহানুভবতার ছায়া চিরকাল থাকবে। বাবু ০২ তারপর বাবু এক কাপড়ের দোকানে কাজ পেলো। কারণ দোকানের মালিক খুব মহানুভব ছিল। সেখানে সে ভালই বেতন পেত। সেই বেতন থেকে জমা করে বাবু একটি ঘর ভাড়া নিল। দোকানদারের মহানুভবতার ফলে সে প্রায়ই তার বাড়িতে যেত। তার ছেলের পুরতন বই নিয়ে এসে পড়ত। তার মালিকের ছেলের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। বাবু একটি স্কুলে ভর্তি হলো। সে অর্ধেক দিন স্কুল করত এবং অর্ধেক দিন দোকানে কাজ করত। বাবু পরিক্ষায় ভালই ফলাফল করত। সে তার শিক্ষকদের দুই নয়নের মণিহয়ে উঠেছিল। এভাবে করতে করতে বাবু কলেজে ভর্তি হলো। এবার তার পড়াশনার খরচ জোগাত টিউশনি থেকে। সে দুট টিউশনি করতো। এভাবে সে তার কলেজ জীবন শেষ করলো। বাবু এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু তার হাতে কোনো টাকা ছিল না। হঠাৎ তার মনে পড়ল মালিকের কথা। সেই বাড়িতে যেতেই মালিক তাকে জড়িয়ে ধরে কাদতে লাগলেন। বললেন, “বাবু,তুই এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আমার বউ অনুতপ্ত হয়েছিল। সে অনুশচনায় ভুগে মারা গেল। তারপর থেকে আমরা তকে পাগলের মত করে খুঁজছি।” -মালিক আপনি শান্ত হন। -তা বাবা তুই এতদিন পরে কি মনে করে?তার আগে বল তুই কেমন আছিস। -মালিক আমি আল্লাহর রহমতে ভাল আছি। আমি আপনার এখানে এসেছি একটা সাহায্যের জন্য। -তা কি ব্যাপারে? -মালিক আমি দুদিন হল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযগ পেয়েছি। কিন্তু ভর্তির জন্য কিছু টাকা দরকার। -টাকা তো আমার তেমন কিছুই নেই। তুই আমার কাছে ছোটবেলা ৩ হাজার টাকা রেখেছিলি। আমি সেই টাকায় আর ২ হাজার টাকা যোগ করেছি। এই ৫ হাজার টাকা দিয়ে কি তর হবে? -আল্লাহ যদি চান তো অবশ্যই হবে। তারপর ধিরে ধিরে সে দাক্তার হলো। তাকে একটি সরকারি বাড়ি দেওয়া হলো। বেডরুমে ধুকে বাবু হতবাক হয়ে গেল। আরে! তার স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে। সে আবার স্বপ্ন দেখল সে তখন ছোট। আর তার মা তার পাশে শুয়ে আছে। বাবু এখন বাংলাদেশের একজন অন্যতম ডাক্তার। *************************************** সমাপ্ত comment now please


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Babur Sopno

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now