বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাবুনের মহাকাশ ভ্রমণ

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সারোওয়ারে জুলফিকার (০ পয়েন্ট)

X বাবুন অনেক ক্ষন ধরে পুকুরের পাশের বেড়ার ঘরটায় এসে বসে আছে। তার চোখে রাজ্যের অভিমান। তার বাবা তাকে ভীষণ বকুনি দিয়েছে। অপরাধ বেশ গুরতর। গণিতে একসাথে তিন তিনটে শুণ্য পেয়েছে সে। যারা কিছু লেখে নি তারা দুটো করে শুণ্য পেয়েছে। কিন্তু বাবুন অনেক যত্ন নিয়ে তার বাড়ির ভীনুর ছবি একেছে। ভীনু তার আদরের গরু। ছবি আকার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে তার টিচার তাকে খুশি হয়ে একটা শুণ্য বেশি দিয়েছে। যদিও বন্ধু মিশুকের পরামর্শে ও পরীক্ষার রেজাল্ট শীট লুকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু শেষে তার বাবার কাছে ধরা পড়ে যায়। তার মা নেই। বাবার কাছে এত্তো এত্তো বকুনির খাওয়ার পর তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মানুষ নাই। তাই গভীর রাতে বাড়ি থেকে অভিমান করে পেছনের পদ্ম পুকুরের পাশের ঘরটায় এসে বসে আছে। পদ্মপুকুর নিয়ে দারুণ একটা গল্প আছে। দেশভাগের আগে এই গ্রামের জমিদার রাধা গোবিন্দ চৌধুরীর প্রতাপ পত্তিতে তটস্থ ছিল প্রজারা। খাজনা আদায় করতে না পেরে জমিদারের পেয়াদারা পদ্ম নামের এক কিশোরকে মেরে পুকুরের পাশে পুতে রাখে। পদ্ম ছিল ভীষণ জেদি আর একরোখা। সবাই বলাবলি করতো পদ্মের ভুত আবার গ্রামে ফিরবে আর বদলা নেবে। সবার কথা সত্যি করে কিছুদিন পর পুকুরে জমিদারের লাশ ভেসে ছিল। সবাই মনে করে এটা পদ্মর কাজ! অত্যাচারী জমিদারের হাত থেকে মুক্তি মেলে। গ্রামের কয়েক জন খুশি হয়ে পদ্মর স্মৃতি রক্ষার্থে পুকুরে পদ্ম ফুলের কন্দ লাগায়। তখন থেকে এই পুকুরের নাম পদ্ম পুকুর! ওদের বাড়ি কেয়ারটেকার মাধব সর্দার এই পুকুরের ঘরটায় শুয়ে প্রতি মৌসুমে মাছ পাহাড়া দেয়। মাধব কাকা কিছুদিনের জন্য তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে। তাই এই নিশুতি রাতে তার সাথে গল্প করার কেউ নেই। মা বেঁচে থাকতে তাকে আরব বণিকদের গল্প শোনাতো। সেও নেই। তাই অন্ধকারে বসে নীরবে চোখের জল ফেলছিলো বাবুন। একটু বাদে ওর নাকে সিগেরেটের গন্ধ আসে। মাধব কাকাকে সিগেরেট খেতে দেখেছে। বাবা বলে সিগারেট খাওয়া খুব খারাপ। মুখ তুলে সামনে তাকিয়ে চমকে ওঠে বাবুন। একটা পাগল লোক তার পাশে বসে আরামে সিগারেট ফুকছে। ইশ কি গন্ধ বলে নাক টিপে ধরে বাবুন। লোকটা ফোকলা দাতে ফিক করে হেসে উঠে বলে, - কি পিচ্চি বাবু বিড়ির গন্ধ সইতে পারোনা বুঝি?? খিক খিক চোখ বড় বড় করে বাবুন বলে, - বাবা বলেছে এসব খাওয়া সাস্থের জন্য খুব খারাপ - কি সব যে কও। বলে লজ্জা পেয়ে সিগেরেটটা ছুড়ে ফেলে বলে, - আচ্ছা বাবু ম্যাজিক দেখবা বাবুন মাথা ঝুকিয়ে বলে - হ্যাঁ লোকটা তার ঝোলার ভেতর থেকে একটা বড় সড় যন্ত্র বের করে বলে - এটা চেন? - হ্যাঁ দূরবীক্ষণ যন্ত্র - বেশ ভালো। তুমি তো অনেক কিছু জানো - না মিথ্যে কথা। বাবা বলেছে আমি কিছু পারি না.. - না তুমি অনেক কিছু পারো - না আমি পারিনা। তুমি আমাকে খুশি করার জন্য এসব বলছো! - তুমি যদি কোন কিছু নাই পারো নাই জানো তাহলে এটা কি করে চিনলে বাবু? বাবুন লোকটা কথা উত্তর দিতে পারে না। মনে মনে ভাবে সেও তাহলে অনেক কিছু পারে। খুশি হয়ে বলে - তাহলে বলছো আমিও অনেক কিছু পারি? - হ্যাঁ সোনা তুমিও অনেক কিছু পারো বলে বাবুনের মাথার চুল এলোমেলো করে আদর করে দেয়। বাবুন খুশি হয়ে আবদারের শুরে বলে, - তাহলে যন্ত্রটা আমায় ব্যবহার করা শেখাবে? - শেখাবো বলেই তো বের করেছি লোকটা ট্রাইপডের ভাঁজ খুলে তার উপর টেলস্কোপটা বসায়। বাবুনকে কাছে ডেকে লেন্সে চোখ রাখতে বলে। ও চোখ লাগিয়ে দেখে একটা ধুসর রঙের বল তাতে ছাপছাপ দাগ। লোকটা বলে, - জানো তো এই গ্রহের নাম কি? - না - ও হচ্ছে একটা উপগ্রহ, নাম চাঁদ - ও, চাঁদ মামা? - হুম চাঁদ মামা। জানোতো চাঁদের থেকে আমাদের গ্রহের দুরত্ব ৩৮৪,৪০০ কিলোমিটার - অতো দূরে? - হ্যাঁ অনেক দূরে। ওই যে লাল গ্রহটা দেখছ ওর নাম মঙ্গল। ও আরও অনেক দূরে ওটার নাম কেপলার.. - আমাকে ওই চাঁদে নিয়ে যাবে? - গ্রহের ভেতরে আমাদের যাবার অনুমতি নেই যে সোনা। বাবুন পা ছুড়ে জেদ দেখিয়ে বলে, - না না, আমি যাবো - আচ্ছে। তবে আমরা কিছু গ্রহের আশেপাশে ঘুরতে পারি। কিন্তু তুমি ভয় পাবে না তো? - না। তুমি আগে আমাকে চাঁদের কাছে নিয়ে চল - চলো তাহলে.. বলে লোকটা চুটকি বাজাল। সঙ্গে সঙ্গে বাবুন আর লোকটা ছোট হতে হতে এঁকেবেঁকে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের ভেতরে ঢুকে গেল। বাবুন ভয়ে চোখ বন্ধ করল। লোকটা কিছুক্ষণ পর বাবুনকে চোখ খুলতে বলল। বাবুন চোখ খুলতেই দেখে তার সামনে বিশালকারের চাঁদ। লোকটা হেসে বলে, - বাবুন সাহেব ভয় পাচ্ছ? - না। তোমাকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করি?? - হ্যাঁ কর। তোমার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে তো আমি এসেছি?? - চাঁদে কি চাদের বুড়ি থাকে? আমি ওর সাথে দেখা করবো.. - কেন সোনা? - মা বলেছিল মানুষ মরে গেলে চাঁদে চলে যায়। আমি ওই বুড়িকে মায়ের ঠিকানা জিজ্ঞেস করব.. - তুমি তোমার মাকে বুঝি খুব ভালোবাসো? - হ্যাঁ অনেককক - কিন্তু বুড়ির সাথে এভাবে যে দেখা করা যায় না। ওর সঙ্গে দেখা করতে হলে বড় হয়ে ইয়া বড় ইশকুলে পড়তে হবে, বড় জ্ঞানী হতে হবে। সেজন্য তোমাকে এখন থেকে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। - ও.. আমি তবে কাল থেকে মন দিয়ে পড়াশোনা করব। - এখন যে আমাদের ফিরে যেতে হবে তারপর লোকটা বাবুনের চোখের উপর হাত দিলে বাবুন ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়লো। খুব ভোরবেলা চিতকার চেচামেচিতে বাবুনের ঘুম ভেঙে গেল। পিটপিট করে চোখ মেলে দেখল বাড়ির সবাই তার মুখের উপর হেলে কি যেন দেখছে। ওর গায়ে ভীষণ জ্বর। সেদিন কেউ আর তাকে বিরক্ত করলো না। পরদিন মাধবদাদা বাবুনের বাবুনের কাছে সব ঘটনা শুনে বলল তোকে তো মাঝির ভুত দেখা দিয়েছিল। বাবুক মাথা চুলকে বলল, - সে আবার কে মাধবদা? - ও যাকে একবার দেখা দেয় তার অনেক বড় ক্ষতি করে। তোর কিছু করল না কেন বুঝলাম না। এরপর একে একে বাবুন মাধবদার কাছে ভুতটর অনেক গুলো ভয়ের গল্প শুনলো। কিন্তু এতো এতো লোমহর্ষক গল্প শুনেও ও মাঝি ভুত কে আর ভয় পেল না। বড় হয়ে ও মাঝি ভুতের মতো অনেক জ্ঞানী হতে চায়। তাই সে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে শুরু করলো। বাবুন অনেক বড় হয়েছে। নাসার Glenn রিসার্চ সেন্টারে বসে গ্রহের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষন করছে। ও চাইলেই মাঝেমধ্যে নাসার সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ James Webb Space Telescope এর মাধ্যমে কম্পিউটারের বড় বড় স্ক্রিন থেকে আকাশের গ্রহ, উপগ্রহ দেখতে পারে। এখন ও আর মাঝি ভুতের অপেক্ষায় থাকে না। কারণ মাঝি ভুত ওর মায়ের মতোই ফাকি দিয়ে চলে গিয়েছে। - সারোয়ারে জুলফিকারের লেখা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বাবুনের মহাকাশ ভ্রমণ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now