বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
[এক]
বাবাকোয়ার হাতে চার রঙা একটা ম্যাগাজিন । নাম-
সায়েন্স ফেয়ার । গত মাস থেকে জাহিদ এ
বিজ্ঞান সাময়িকিটি নেয়া শুরু করেছে । বাবাই বড়
হচ্ছে। এসব সাময়িকি পড়ার এখনই সময় । তাহলেই
সে পৃথিবীর রহস্য বুঝতে শিখবে । সব
কুসংস্কারকে তুচ্ছজ্ঞান করতে শিখবে ।
আলোকিত মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠবে- এমন
ভাবনা থেকেই মাসিক এ বিজ্ঞান সাময়িকিটি নেয়া শুরু
করেছে জাহিদ ।
বাবাই এখন মনোযোগ দিয়ে যে ফিকশনটি
পড়ছে তার নাম "স্বপ্ন-যন্ত্র" । লিখেছেন
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল নামের কেউ একজন । পাশে
লেখকের একটা ছবি দেয়া আছে । সাদা সাদা চুল,
খোঁচা খোঁচা সাদা মুছ ! কি বিশ্রী দেখতে ।
একটা মানুষের এরকম খোঁচা খোঁচা মুছ কিভাবে
থাকতে পারে বাবাই সেটা ভেবে পায় না। তার
আব্বুর মুছ কত সুন্দর ! এক্কেবারে নায়কের
মত । অবশ্য কোন নায়ক বাবাই সেটা এখনো
জানে না !
নাহ ! মানুষটার চেহারা খারাপ হলেও লেখার হাত
অনেক ভাল । একটা পৃথিবীর কথা লিখেছে-
যেটার মানুষ দুই শ্রেণীতে বিভক্ত । উন্নত
শ্রেণী আর অনুন্নত শ্রেণী । উন্নত
শ্রেণী দীর্ঘদিন যাবত্ নিপীড়ন চালিয়েছে
অনুন্নত শ্রেণীর উপর । কিন্তু একটা সময় দেখা
গেল তাদের আর দমন করা যাচ্ছে না । তারা
মৃত্যুকে বরণ করে নিচ্ছে কিন্তু পরাজয় নয় ।
উন্নত শ্রেণীর প্রতিরক্ষা প্রধান কারণ অনুসন্ধান
করতে গিয়ে দেখলেন- শোষিত
জনগোষ্ঠীর এক বিজ্ঞানী একটা যন্ত্র
আবিস্কার করেছে । সবাই সেটির নাম দিয়েছে
'স্বপ্ন-যন্ত্র' । এ স্বপ্ন-যন্ত্র কিভাবে কাজ
করে যার কারণে সব মানুষ এমন উন্মাদ হয়ে
গেল, এটা জানার জন্য তিনি ঐ বিজ্ঞানীকে ধরে
আনার নির্দেশ দিলেন ।
বাবাই, খেতে আয়- জাহিদ ডেকে উঠল ।
আব্বুটাও যে কি না ! ডাকার আর সময় পেল না ।
এত সুন্দর একটা গল্প পড়ছিলাম, এর মাঝে ডিস্টার্ব
করলে কি আর ভালো লাগে- মনে মনে বলে
উঠল বাবাই ।
কিন্তু বাবাকোয়া একজন ভাল মিলিটারি । আর্মির সব
নিয়ম কানুন কঠোর ভাবে মেনে চলে । সে
জানে, Soldires must carry out the orders of
his commander. তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠে পড়ল
। পাশে চুপচাপ বসে থাকা মেজর মুরগীকে
বলল- সোল্ডার, চল যাই । চিপ অফ কমান্ড থেকে
নির্দেশ এসেছে । এখনই খেতে যেতে
হবে ।
খেতে বসেই মুখ কালো হয়ে গেল কর্ণেল
বাবাকোয়ার । আধ সেদ্ধ ভাত আর পোড়া ডিম।
আব্বুটা যে কি ? এখনো রান্নাও শেখে নি ।
আম্মু থাকলে কত মজার মজার রান্না হত ।
:- কিরে, খাবি না ?
:- খেতে ইচ্ছে করছে না ।
:- ইচ্ছে না করলেও তো খেতে হবে ।
নইলে যে শরীর খারাপ করবে ।
:- আব্বু, আম্মু কোথায় গেছে ? কবে
ফিরবে ?
নোভেরার কথা উঠতেই জাহিদের মনটা খারাপ
হয়ে গেল । কি দরকার ছিল অমন ভাবে ঝগড়া
করার ? বসের রাগ বউয়ের উপর ঝাড়ার কোন
মানে হয় ? ডাক্তার মানুষ, কত দরকারেই তো
ফোন আসতে পারে । মানুষের রোগ বালাইয়ের
কি আর টাইম টেবিল আছে নাকি ! কি দরকার ছিল
অত রাগারাগী করার ? রাগ করে নোভেরা বাড়ি
ছেড়ে চলে গেছে । আজ এক সপ্তাহ সে
বাসায় নেই । এই এক সপ্তাহেই যেন মনে
হচ্ছে কত যুগ পেরিয়ে গেছে !
জাহিদ ধ্যানে পড়েছে দেখে বাবাই ই আবার কথা
বলে উঠল- তোমার রান্নার হাত একটুও ভাল না ।
এরচেয়ে আম্মুর হাতের আলুভাজি অনেক ভাল ।
:- বাইরে যাবি ?
:- কেন ?
:- চল, আজ বাপ-ব্যাটা মিলে বাইরে খাবো ।
:- হুররে ! দাঁড়াও, আমি রেডি হয়ে আসি ।
বেরুনোর আগে মেজরকে পর্যাপ্ত কমান্ড
দিয়ে গেল কর্ণেল বাবাকোয়া- মেজর, আমি
আর আব্বু বাইরে খেতে যাচ্ছি । তুমি বাসায় থাক
আর বাসা পাহারা দাও । তোমাকে সাহায্য করার জন্য
কমান্ডো চিপ ব্যাঙকে রেখে যাচ্ছি ।
মেজর মুরগী বলে উঠল- কক কক, যার অর্থ
বাবাকোয়া ধরে নিল- ইয়েস স্যার ।
গুড- বাবাকোয়া বলল, খবরদার ! তোমরা নিজেরা
নিজেরা ঝগড়া করবে না । মিলিটারিরা কখনো
আপোষে ঝগড়া করে না ।
মেজর মুরগী আবার মাথা নেড়ে বলল- কক কক
কক !
সন্তুষ্ট মনে বাবাই জাহিদের হাত ধরে বাসা থেকে
বেরিয়ে এল ।
[দুই]
ওরা বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত দশটা বেজে গেল
। অন্যদিন হলে বাবাই এতক্ষণে ঘুমিয়ে কাদা হয়ে
যেত । কিন্তু আজ সে ঘুমাবে না । মিলিটারিরা
কখনো কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখে ঘুমায় না । তাই
বাসায় এসে সুষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য
মেজর মুরগীকে একটা ধন্যবাদ দিয়ে আবার সে
ম্যাগাজিন নিয়ে বসল ।
বিজ্ঞানীকে ধরে এনে যা জানা গেল তা হল-
তার তৈরি স্বপ্ন যন্ত্রটি আসলে স্বপ্ন তৈরি করার
কোন যন্ত্র না । এটা একটা বিশেষ ধরনের
নিউরো ডিভাইস যা ব্রেনের সিনাপ্সকে
স্টিমুলেশন দিয়ে এর এক্সাইটেশন কয়েক হাজার
গুণ বাড়িয়ে দেয় । অনুন্নত অন্ঞ্চলের মানুষজন
আজ এত বেপোরোয়া, কারণ তাদের সবাই ই
মনে দীর্ঘদিন থেকে স্বাধীনতার সুপ্ত বীজ
বহন করে আসছে । স্বপ্নযন্ত্র তাদের
স্বাধীনতার সে সুপ্ত বাসনাকে হাজার গুণ বাড়িয়ে
দিয়েছে । তাই তারা এখন আর লড়তে এবং মরতে
ভয় পায় না ।
পড়তে পড়তে বাবাই কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে
টেরই পায়নি । ঘুমের মাঝে সে স্বপ্নে
দেখল- সে ই নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর বৈজ্ঞানিক
। তার জনগণকে বাঁচানোর দায়িত্ব তার কাঁধে এসে
পড়েছে ।
বাবাইয়ের ঘরে লাইট জ্বলছে দেখে কাহিনী কি
তা জানার জন্য রুমে উঁকি দিতেই জাহিদ দেখল- বাবাই
দেয়ালে পা ঠেস দিয়ে বুকে সায়েন্স
ফেয়ারের একটা ম্যাগাজিন ধরে হাঁ করে
ঘুমাচ্ছে ! ছেলেটাকে দেখে এত মায়া হল তার
। বাবাইকে ঠিক করে শুইয়ে দিয়ে যাবার সময় সে
শুনতে পেল ঘুমের ঘোরে বাবাই বিড়বিড়
করছে- স্বপ্ন-যন্ত্র ! স্বপ্ন-যন্ত্র ! জাহিদ
কিছুই বুঝল না । লাইট নিভিয়ে দিয়ে চলে আসল ।
[তিন]
পরদিন ঘুম ভেঙ্গে বাবাকোয়া খুব লজ্জা পেল ।
সে তো পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গিয়েছিল !
নিশ্চয় আব্বু এসে ঠিক করে দিয়ে গেছে । ছিঃ
ছিঃ ! এ খবর বাইরে লীক হতে দেয়া যাবে না ।
কোনভাবে যদি এটা বাইরে প্রকাশ পায় তবে
মিলিটারিতে তার বদনাম হয়ে যাবে !
ব্রেকফাস্ট করতে বসে জাহিদ জিজ্ঞাসা করল-
কিরে ? কাল ঘুমের মাঝে স্বপ্ন-যন্ত্র স্বপ্ন-
যন্ত্র করছিলি ! এটা আবার কি ?
বাবাই গম্ভীর মুখে উত্তর দিল- এটা মিলিটারীর
একটা গোপন প্রজেক্ট । কাজ শেষ হওয়ার আগ
পর্যন্ত তথ্য সরবরাই নিষেধ !!
স্বপ্নযন্ত্রের গঠন সম্পর্কে বাবাকোয়া যা
জেনেছে, তা হল- এটি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল বিশিষ্ট
একটি হেলম্যাট বিশেষ, যার সাথে তার দিয়ে একটি
প্রোগ্রামিং ডিভাইস যুক্ত । খুব বেশী কঠিন না,
বানিয়ে ফেলা যাবে ।
স্বাস্থকর্মী বিন্তির সাহায্য নিয়ে বাবাই কয়েকটা
চিপসের খালি প্যাকেট জোগাড় করল । সে
জানে, চিপস কে মচমচে রাখার জন্য চিপসের
প্যাকেটে অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দেয়া হয় ।
এসব তাকে তার আব্বু বলেছে ।
বাসায় এসে ট্র্যাঙ্ক থেকে জাহিদের পুরানো
হেলম্যাট টা বের করল সে । ভার্সিটি লাইফে জাহিদ
যখন বাইক চালাত এটা তখনকার হেলম্যাট । এতদিন
অব্যবহৃত হয়ে পড়েছিল । আজ বাবাই খুঁজে খুঁজে
বের করেছে । তারপর চিপসের প্যাকেট
গুলোকে সমান করে কেটে উজ্জ্বল অংশটা
বাইরের দিকে রেখে হেলম্যাটের ভিতরের
দিকে ট্যাপ দিয়ে লাগিয়ে দিল । খুঁজে খুঁজে
সেকেন্ডারী ওয়্যারিং এর জন্য আনা কিছু তার
খুঁজে বের করল । তারগুলোকে হেলম্যাটের
বিভিন্ন ফুটো দিয়ে ঢুকিয়ে কানেক্টিং ক্যাবল তৈরি
করল । আর প্রোগ্রামিং ডিভাইস হিসেবে তার ভিডিও
গেইমটা তারের সাথে জুড়ে দিল ।
ব্যস হয়ে গেল তার স্বপ্ন-যন্ত্র !
যন্ত্র তৈরি তো শেষ । এখন সেটা এ্যাপ্লাই
করতে হবে । মেজর সাহেবের উপর এ্যাপ্লাই
করা যায় ! কিন্তু তার মাথা এতই ছোট যে হেলম্যাট
পরালে তাকে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না । তাই
জাহিদ ফেরার জন্য অপেক্ষা করতে থাকল
সে....
[চার]
রাতে খাওয়ার পর বাবাই জাহিদের রুমে এসে
দেখে জাহিদ উদাস ভঙ্গীতে আকাশের দিকে
তাকিয়ে আছে ।
:- আব্বু, এখানে কি কর ?
:- কিছু না রে বাপ ।
:- রুমে এসো । তোমাকে দিয়ে একটা
যন্ত্রের পরীক্ষা করবো ।
:- ওরেব্বাস ! তাই নাকি ? কি যন্ত্র ?
:- স্বপ্ন যন্ত্র । আমি বানিয়েছি । এসো তো...
জাহিদকে টেনে ভিতরে নিয়ে এল সে । তার
স্বপ্ন যন্ত্র দেখে জাহিদের হাসি আসতে চাইল ।
কিন্তু বাবাইয়ের গম্ভীর মুখ দেখে হাসি চেপে
গেল ।
:- এটা কিভাবে কাজ করে ?
:- দেখাচ্ছি, আগে হেলম্যাটটা পরে খাটে
শোও !
:- কি ?
:- হেলম্যাট পরে খাটে শোও । আমি এটার
মাধ্যমে তোমার মাথায় স্টিমুলেশান দিয়ে তোমার
সিনাপ্সের এক্সাইটেশন বাড়িয়ে দেবো !
জাহিদ মৃদুস্বরে প্রতিবাদ করতে চাইল- এভাবে
স্টিমুলেশান দেয়া যায় না ! কিন্তু করল না । সে
জানে, প্রতিবাদ করেও কোন লাভ হবে না ।
ছেলেটা তার মায়ের মতই জেদী হয়েছে ।
একবার যা মাথায় ঢুকবে তা করেই ছাড়বে । অগ্যতা,
হেলম্যাট মাথায় পরে শুয়ে পড়ল সে ।
বাইরের কেউ যদি হঠাত্ এসে দেখত- জাহিদ
বিদঘুটে একটা হেলম্যাট মাথায় দিয়ে শুয়ে আছে
তাহলে বিষম খেত । কিন্তু তারা বাবাকোয়ার এসব
অদ্ভুত কান্ড কারখানা দেখত দেখতে অভ্যস্ত
হয়ে গেছে । তাই এখন আর অবাক হয় না ।
:- আমি এখন স্টিমুলেশান দিচ্ছি । তুমি তোমার একটা
সুখের স্মৃতি মনে করতে থাকো । দেখবে,
সেটা অনেক বেড়ে যাবে ।
হাস্যকর একটা বিষয় । তারপরও জাহিদ নোভেরার কথা
মনে করতে থাকে । বিয়ের পর তাদের মধুর
স্মৃতিগুলোর কথা মনে করতে থাকে ।
:- বাড়তেছে ?
:- কই না তো !
:- মনে হয় ভিডিও গেইমের চার্জ শেষ হয়ে
গেছে । এজন্য আস্তে আস্তে কাজ করছে।
তাই টের পাচ্ছ না । চুপচাপ শুয়ে থাকো ।
দেখবে আস্তে আস্তে বেড়ে যাবে ।
সিনাপ্সের এক্সেটাইশন বাড়ার অপেক্ষা করতে
করতে জাহিদ যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে নিজেই
টের পেল না ।
[পাঁচ]
সুন্দর সাজানো গোছানো একটা রুম । একটা
লোহার বেড । ছোট্ট একটা টেবিল । কিছু হালকা
যন্ত্রপাতি । বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না এটা একটা
হাসপাতালের রুম।
বেডে শুয়ে আছে নোভেরা । তার মাথায়
ব্যান্ডেজ । পাশে একটা টুলে জাহিদ বসা। তার মুখটা
হাসি হাসি ।
:- কেমন আছ বেগাম ?
:- এই তো ভাল । তুমি কেমন আছ ?
:- হু, ভাল । জানো, তোমার জন্য কি এনেছি ?
:- কি ?
:- কাল সারারাত জেগে তোমাকে নিয়ে যে
কবিতাটা লিখেছি সেটাই এনেছি । দাঁড়াও, পড়ছি ।
:- না না ! দরকার নেই । প্লিজ এখন তোমার কবিতা
শুরু করো না...
:- এমন কর কেন বেগাম ? একটু শুনেই
দেখো না...
নোভেরার আপত্তি আগ্রাহ্য করে জাহিদ পড়তে
শুরু করল-
মনে পড়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলে ভীরু
চোখে,
প্রহর শুরুর ক্ষুদ্র ক্ষণে স্বপ্নে দেখা স্বপ্ন
লোকে ।
পথটা তখন শুরুর ছিল রঙিন নেশায় ভোর,
তোমার কোমল ভালবাসায় পাইনি সে আদর ।
বেলায় কেবল অল্প করে লাগত রঙের টান,
দূর বহুক্ষণ প্রত্যাশাতেই প্রেমের আহবান ।
আধখানা এই দীর্ঘশ্বাসে তুমি আমি মিলে,
থমকে আছে সবটা আজ যেথায় রেখেছিলে ।
প্রহর শেষে তোমার কাছে এসেছি আজ তাই ।
পথের শুরু পাইনি তো কি পথের শেষ চাই ।
নোভেরা মুগ্ধ নয়নে জাহিদের কবিতা শুনছিল ।
কবিতা শেষ হতেই হঠাত্ রুমটা দুলে উঠল । তারপর
বিচিত্র সব কান্ড ঘটতে শুরু করল । ঘরের সব
আসবাবপত্র এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছে ।
নোভেরা ভয় পেয়ে চিত্কার করতে থাকে ।
রুমে পানি উঠতে শুরু করেছে । বেডটা হঠাত্
স্প্রীং এর মত লাফ দিয়ে সিলিং এ উঠে গেল ।
নোভেরা ডিগবাজি খেয়ে পড়তে পড়তে
বেডের কার্নিশ ধরে ফেলল । জাহিদ কোন
রকমে দরজা ধরে ঝুলে আছে । সে
প্রাণপণে নোভেরার দিকে যাবার চেষ্টা করছে
। কিন্তু পারছে না ।
হঠাত্ নোভেরার হাত ছুটে গেল । অতল জলে
তলিয়ে যাচ্ছে সে । জাহিদ আর সহ্য করতে পারল
না । সেও ঝাপ দিয়ে চিত্কার করে উঠল-
নাআআআআআ.......
ঘুম ভেঙ্গে ধত্পড় করে উঠে বসল জাহিদ ।
স্বপ্ন দেখছিল সে, কঠিন স্বপ্ন । ঘামে পুরো
ভিজে গেছে । কি দেখেছে সেটা হজম
করতে কষ্ট হচ্ছে ।
পাশে বসা বাবাইও ঘুমিয়ে পড়েছিল । জাহিদের
চিত্কার শুনে তারও ঘুম ভেঙ্গে গেল ।
ঘুম ভাঙ্গা চোখে সে জিজ্ঞাসা করল-
এক্সাইটেশন বেড়েছে ?
জাহিদ বোকার মত বলল- হু ।
তাহলে এবার হেলম্যাট খুলে ঘুমিয়ে পড়- বলেই
আবার ঘুমে তলিয়ে গেল বাবাই ।
জাহিদ ঘুমিয়ে পড়ার কোন লক্ষণ দেখাল না ।
চুপচাপ বসে আছে সে । তার মাথায় বাবাইয়ের তৈরি
কিম্ভূতকিমাকৃতির স্বপ্ন যন্ত্র !
[ছয়]
পরদিন সকালে জাহিদকে দেখা গেল
নোভেরাদের বাসায় । নোভেরা-জাহিদ মুখোমুখি
সোফায় বসা । নোভেরার চোখ-মুখ ফোলা,
কেঁদেছে মনে হয় । জাহিদেরও অনিদ্রার
কারণে চোখ লাল হয়ে আছে ।
:- কেন এসেছ তুমি এখানে ?
:- বেগাম, তুমি জানো আমি ঠিক মত সাজিয়ে
গুছিয়ে কথা বলতে পারি না । আবেগকে ঠিকমত
ফুটাতে পারি না । আর হঠাত্ হঠাত্ মেজাজ
নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারি না। কিন্তু এটাও তো জান
যে তোমাকে কতটা ভালবাসি আমি । তোমাকে
ছাড়া কতটা অসহায় আমি । প্লিজ ফিরে চল বেগাম....
ফুঁফিয়ে উঠল জাহিদ । কান্না আটকে রাখার চেষ্টা
করেও আটকাতে পারল না নোভেরা ।
ফোঁফাতে ফোঁফাতেই কথা বলতে থাকল
দুজন !
:- তাহলে আমার সাথে ঝগড়া কর কেন তুমি ?
:- ভুল হয়ে গেছে বেগাম । এবারের মত মাপ
করে দাও ।
:- এক শর্তে মাপ করতে পারি । আর কখনো
আমার সাথে চিল্লা চিল্লি করতে পারবে না।
:- কক্ষনো করবো না । তোমার কসম.....
[শেষ]
বাবাকোয়া তখন সায়েন্স ফেয়ারের নতুন সংখ্যাটা
নিয়ে ব্যস্ত । সে এবার সে মেশিনটার কথা
পড়ছে এটার নাম- সিনাপ্সুঘুটুয়া এটা নাকি সিগ্যনাল
পাঠিয়ে মস্তিষ্কের ভেতরের সবকিছু উল্টা পাল্টা
করে দেয়। তখন মানুষ নাকি ঠিক-বেঠিক আলাদা
করতে পারে না । এ যন্ত্রটার গঠন মনে হয় একটু
জটিল হবে ।
এমন সময় বাবলি কে কোলে নিয়ে নোভেরা
আর জাহিদ বাসায় ঢুকল । বাবলির হাতে আধ খাওয়া
সেদ্ধ আলু ।
তাদের দেখে মেজর মুরগী ডেকে উঠল-
কক্করক কক ! কক কক কক ! যার অর্থ
বোধহয়- হুররে ! সবাই এসে গেছ !!!
(সমাপ্ত)
অপটপিকঃ
বাবাকোয়া শিহাব ভাইয়ের সৃষ্টি অন্যবদ্য এক চরিত্র
। পিচ্চি বাবাই, যে কিনা মিলিটারির চরম ভক্ত, প্রতিদিন
নিত্য নতুন কাজের মাধ্যমে বাবা-মা কে অস্থির
করে রাখে । কোন এক বিকেলে শিহাব ভাইকে
বলেছিলাম- আমার খুব প্রিয় এই ক্যারেক্টারটিকে
নিয়ে কিছু লিখতে চাই । শিহাব ভাই সাথে সাথেই
অনুমতি দিয়ে দিলেন ।
থ্যাংক ইউ শিহাব ভাই, আমাকে এই ধৃষ্টতা দেখানোর
অনুমতি দেয়ার জন্য ।
উত্সর্গঃ বাস্তবের বাবাকোয়া...... সুষমা আপুর পিচ্চি
। আমার ভাইস্তা !
-ফরহাদ আহমেদ নিলয়-
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now