বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
....
আমার কাছে বাবা কুয়াশাচ্ছন্ন একটা সূ্র্যের মত, যার
স্মৃতি মনের ভেতর উজ্জল ।
বাবার সাথে কাটানো প্রতিটা মূহুর্ত ছিলো আনন্দময়
।
ছোটবেলা থেকেই আমি জেদী স্বভাবের ।
আমার রাগ জিদ্ বাবাই ভাঙ্গাতো । দুষ্টামি করার জন্য মা
যখন আমাকে মারতে আসতো তখন আমি বাবার
পিছনে গিয়ে লুকাতাম, বাবা মাকে বুঝিয়ে শান্ত
করে মাইরের থেকে বাচাঁতো ।
আমার বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক । তিনি গনিত এবং
বিজ্ঞান পড়াতেন । মা এবং তার কাছেই আমার
হাতেখড়ি । রাতের বেলা যখন কারেন্ট চলে
যেত তখন অন্ধকারে আমি বাবার পাশে শুয়ে
থাকতাম । বাবা আমাকে গল্প শোনাতো, নামতা
মুখস্ত করাতো । বাবার কাছে মানুষ চাঁদে যাওয়ার
ঘটনা শুনেছিলাম, গ্রহ, নক্ষএ সর্ম্পকে
জেনেছিলাম । এগুলো শুনে আমার ইচ্ছা
হয়েছিলো এসট্রনাট হওয়ার ।
যখন পড়তে বসতাম বাবা আমাকে সংখ্যা গননা,
যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ এগুলো শিখাতেন ।
আমি বাবাকে বোতল, মানুষ, তারা আরো অনেক
কিছু আকঁতে বলতাম । বাবা সেগুলো একেঁ দিত।
বাবার কাছে অনেক ছেলেমেয়ে প্রাইভেট
পড়তে আসতো । আমার ও ইচ্ছা হতো আমি বাবার
মত পড়াবো ।
ছোটবেলায় মা আমাকে স্কুলে দিয়ে আসতো
এবং স্কুল থেকে নিয়ে আসতো । একদিন বাবা
আমাকে স্কুল থেকে আনতে গেল । আমি
জানতাম না যে বাবা আসবে আমাকে নিতে । ছুটির
সময় স্কুল থেকে বের হয়ে মাকে খোঁজতে
লাগলাম । পেলাম না কোথাও । স্কুলের কাছেই
আমাদের বাসা ছিলো । মাকে না পেয়ে আমি বাসায়
একাই চলে গেলাম । বাসায় গিয়ে আমার কান্না শুরু ;
আমাকে মা কেন আনতে যায়নি । অপরদিকে বাবা
আমাকে স্কুলে খোঁজতে থাকে । স্কুলের
টিচারদেরকে ও জানায় যে আমাকে পাওয়া যাচ্ছেনা
। এদিকে মা পাশের বাসার এক ভাইয়াকে বলে, আমি
যে বাসায় একা চলে আসছি, সেই খবরটা স্কুলে
গিয়ে বাবাকে জানাতে । ভাইয়াটা খবর দিতে যাওয়ার
আগে বাবা বাসায় চলে আসে। এসে যখন দেখে
আমি বাসায় তখন স্কুলে গিয়ে খবরটা দিয়ে আসে
। এই ঘটনার অনেক পরে আরেকদিন বাবা আমাকে
স্কুল থেকে আনতে গিয়েছিলো সেদিন অবশ্য
এই ভুল হয়নি । স্কুল ছুটির পর বাবার সাথেই বাসায়
ফিরলাম । ফেরার পথে যা যা কেনার জন্য বায়না
ধরেছিলাম, সব কিনে দিয়েছিল ।
আমার বাবা রোজ সকাল বিকাল চা পান করত । মা
বাবাকে চা বানিয়ে দিতো । একদিন বিকালে বাবা
আমাকে বলল, মাকে চা বানিয়ে দেওয়ার কথা
বলতে । আমি মাকে না বলে নিজেই চা বানাতে
গেলাম । আমি তখন চুলা ধরাতে পারতাম না । তাই
ফুটানো খাওয়ার পানিতে চা পাতা, দুধ, চিনি মিশিয়ে চা
বানিয়ে নিয়ে গেলাম । চা ঠান্ডা হওয়ার কারনে বাবার
কাছে ধরা পড়ে গেলাম যে চা আমি বানিয়েছি । বাবা
সেই চা একটু হলেও পান করেছিলো ।
সেখানেই আমার সার্থকতা ।
কোন এক বৃষ্টিভেজা সকালে বাবা আমাকে
বলেছিলো, "বৃষ্টি আল্লাহর রহমত, আমার মামনিটা
আমার আল্লাহর রহমত" । এখনও প্রায়ই বৃষ্টিভেজা
সকালে বাবার এই কথাটা আমার মনে পড়ে ।
দিনগুলো ভালই কাটছিলো ।
স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে আমাদের
কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিলো । বাবা
আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো কক্সবাজার
কিভাবে যাবে? বাসে নাকি প্লেনে ?? আমি
বলেছিলাম প্লেনে যাবো । তখন আমি
ভেবেছিলাম কক্সবাজার একটা আলাদা দেশ । আমি
কত বোকা ছিলাম ।
কথায় আছে কপালে সুখ বেশী দিন সহ্য হয় না ।
আমার ক্ষেএে ও তাই হল ।
কোনো এক বর্ষনমুখর দিনে বাবা আমাদেরকে
ছেড়ে চলে গেল পরপারে ।
বাবা এবং মেয়ের মধ্যকার সর্ম্পক কেমন হয় তা
ভালো মত জানিনা । কিন্তু
জীবনের প্রতিটা ক্ষনে বাবাকে মনে করি ।
আমি আজ যে অবস্থায় আছি বাবা থাকলে হয়তবা এর
চেয়ে ভালো থাকতাম । মাঝেমধ্যে বন্ধুদের
কাছে বাবার গল্প শুনলে কিছুই বলার থাকে না,
নির্বাক শ্রোতার মত শ্রবন করতে হয় । বাবাকে
কখনও বলতে পারিনি যে তাকে কতটা ভালোবাসি ।
জানি সে আমাকে দূর আকাশের তারা হয়ে
দেখে, আমার সব কথা শুনে । তাই আজ বাবাকে
বলছি...
প্রিয় বাবা,
"অনন্ত জীবন যদি পাই আমি তাহলে অসীমকাল
একা ... ...
পৃথিবীর পথে যদি ফিরি আমি
কত কি দেখিব নাহি লেখা ... ...
তবুও তোমার সাথে অনন্তকালেও আর হবে
নাকো দেখা... ...
যেথায় আছো না কেনো অনেক ভালো
থেকো ... ...
আমার ভালোবাসা তোমার মনেতে রেখো"
।
---------
লেখা : রুকাইয়া শামা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now