বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"আয়শার অভিশাপ

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "আয়শার অভিশাপ (Aisha's curse)" ------------------------------- আয়শা একটি লাজুক মেয়ে যে মালশিয়ার একটি গ্রামে বাস করত। কিন্ত ১৯৮৪ সালে সে মালশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর এ চলে আসে। আয়শা একটি বিরল রোগে ভুগছিল যার কারনে সে আলোকাতংকিত হত। এর মানে এই যে, তার চোখ গুলো উজ্জ্বল আলোর প্রতি অধিক সংবেদনশীল এবং এটি তার প্রচুর মাথাব্যথার কারণ ছিল। এ কারনে সে সবসময় কালো চশমা ব্যাবহার করত এবং কেউকে ক্যামেরা দিয়ে তার ছাবি তুলতে দিত না। ক্যামেরার ফ্লাশ তার চোখে পরলে ভয়ানক মাথাব্যথা শুরু হত। একরাতে, আয়শা তার গ্রামে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। এটা ছিল অন্ধকার রাত্রি, সে বাসা থেকে বের হল এবং বাসস্টপের উদ্দেশ্যে হাঁটছিল। পথিমধ্যে একটি গাড়ি তার সামনে এসে থামল এবং চারজন লোক গাড়ি থেকে নেমে এসে তার পথরোধ করে দাঁড়াল। যখন সে পালাতে যাচ্ছিল, তারা তাকে ধরে ফেলল এবং জোরপূর্বক গাড়িতে তুলল। লোকগুলো তাকে অপহরণ করে শহর থেকে দূরে একটি খালি বাড়িতে নিয়ে আসল। তারা তার হাত, পা চেয়ারের সাথে বেঁধে ফেলল। তখন একটি লোক ধারাল ছুরি দিয়ে তার সমস্ত কাপড় কেটে দিল। আয়শা চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে তাদের কাছে দয়া ভিক্ষা চাইল। কিন্তু লোকগুলো তাকে দেখে শুধু হাসল। তারা তাকে ভয়ানক ভাবে প্রহার এবং নির্যাতন করা শুরু করল। সেখান থেকে একজন ছবি তোলার জন্য একটি ক্যামেরা বের করল। আয়শা তাদের ছবি না তুলতে অনুরোধ করল এবং তার বিরল রোগের কথা ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করল যে, এটি তাকে প্রচুর পরিমাণে আলোক সংবেদনী করে তুলে। লোকগুলো তার কথায় কান না দিয়ে ছবি তুলতে শুরু করল। যখন রুমে ফ্লাশ জ্বলে উঠছিল, আয়শা তীব্র মাথাব্যথায় আক্রান্ত হল। তার ব্যাথায় নিষ্পেষিত হয়ে চিৎকার করছিল। লোকগুলো একের পর এক ছবি তুলে তাকে প্রহার করতেই থাকল। প্রত্যেক বার ফ্লাশের সময় সে ভাবত তার মাথা এখনি বিষ্ফোরিত হবে। তার চোখ, মুখ, নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। এভাবে চার ঘন্টা কাটার পর আয়শার ব্যাথা এত ভয়ানক তীব্র হল যে, সে শুধু নড়তে পারছিল। সে তখনো চেয়ারে বাঁধা ছিল। লোকগুলো তাকে লাথিয়ে গাড়িতে তুলল এবং একটি ব্রিজের উপরে এসে গাড়ি থামাল। তারপর তাকে গাড়ি থেকে নামাল এবং বলল যে, তারা তাকে ব্রিজ থেকে নিচে নদীতে ফেলে দিতে চলেছে। নিচের ঠান্ডা পানিতে ফেলে দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে আয়শা চিৎকার করে বলল," যেকেউ, যে বিনা অনুমতিতে আমার ছবি দেখবে, আমি তাদের স্বপ্নে শাস্তি দিব একই ব্যাথা দিয়ে যা আমি নিজে আনুভব করেছি। আমি শপথ করে বলছি, আমি দিবই। যদিও আমি মারা যাব, আফসোস তাদের জন্য যারা এই ছবি দেখবে।" পরেরদিন সকালে লোক চারজন ছবিগুলো ছাপাতে একটি ছবির দোকানে গেল। তারা কাউন্টারের লোকটিকে বেশি টাকা দিল যাতে সে ছবিগুলোর ব্যাপারে নীরব থাকে। যখন ছবিগুলো ছাপানো শেষ হল, তারা অসহায়, নগ্ন, বিমূঢ় আয়শার ছবি দেখে অনেক হাসাহাসি করল। তারা যে গাড়িতে করে যাচ্ছিল হঠাৎ সেটি একটি গাছের সাথে ধাক্কা খেল। গাছের একটি ডাল উইন্ড শেল ভেংগে সোজা ড্রাইভারের মাথায় ঢুকে গেল এবং তৎক্ষণাৎ সে মারা গেল। দ্বিতীয় লোকটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল, কিন্ত সে সন্ধ্যায়ই অন্তঃরক্তক্ষরণের কারণে মারা গেল। তৃতীয় লোক, যার অল্প চোট লেগেছিল, ডাক্তার তাকে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে বাড়ি যেতে বলল। বাড়ি যাওয়ার পথে সে একটি খোলা ম্যানহোলে পরে গেল। তার পা ভেংগে গেল যার কারনে সে উপরে উঠতে পারল না। ঐদিন রাতে ভারী বর্ষনে ম্যানহোলে পানির তল বেড়ে যাওয়ায় লোকটি ডুবে মারা গেল। চতুর্থ লোকটির তেমন কোন ক্ষতি না হওয়ায় সোজা বাড়ি ফিরে গেল। ঐ রাতে সে স্বপ্নে দেখল যে, আয়শা তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করছে। যখন সে জেগে উঠল তখন খুব বাজে ভাবে তার মাথাব্যথা করতে লাগল। ব্যাথা ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছিল এবং সে আর নিতে পারছিল না। সে তার মনোযোগ হারাল এবং কাঁটাচামচ দিয়ে কপালে ঘা দিতে শুরু করল। হঠাৎ তার আয়শার অভিশাপের কথা মনে পরল। সে কাছের একটি থানায় গেল এবং পুলিশকে আয়শা সম্পর্কে সব সত্যি খুলে বলল। সে সব ছবি পুলিশকে দিয়ে দিল। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করল এবং আয়শার মৃতদেহ খোঁজার কাজ শুরু করল। পরদিন জেল খানায় লোকটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। তার ব্যাথা এত তীব্র হয়েছিল যে, সে মথা দেয়ালের সাথে মাথা আঘাত করতে করতে মৃত্যুবরণ করে। দুইদিন পর আয়শার মৃতদেহ নদীতে ভাসতে দেখা যায়। তাকে আংগুলের ছাপের মাধ্যমে শনাক্ত করতে মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। যে ডাক্তাতারের উপর ময়নাতদন্তের ভার পরেছিল, সে প্রমাণ স্বরুপ আয়শার মৃতদেহের কিছু ছবি তুলে। যখন ক্যামেরার ফ্লাশ জ্বলে উঠে, আয়শার চোখের পাতা আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায় এবং এটা দেখে সে প্রচুর ভয় পায়। কিছুদিন পরেই ডাক্তারকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার মৃত্যু হয় অতিরিক্ত ব্যাথা নাশক সেবনের ফলে। এরপর থেকে যেই তার ময়নাতদন্তের ছবি গুলো দেখেছে সেই রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেছে, মাথাব্যথায় ভুগেছে এবং কিছুদিনের মাধ্যে অদ্ভুত ভাবে মারা গেছে। পুলিশ আয়শার প্রায় সব ছবি ধংস করে ফেলে এবং কেসটাকে গুম করার চেষ্টা করে। কিন্তু এম মধ্যেই কিছু ময়নাতদন্তের ছবি ইন্টারনেটে ছরিয়ে যায়।ওয়্যার লেজেন্ড বলে যারাই এই ছবি দেখে, তারাই আয়শার অভিশাপের শীকার হয়। তারা স্বপ্নে আয়শাকে দেখতে পায় এবং জেগে উঠার পর তীব্র মাথা ব্যাথা শুরু হয়। তারা রাতে চোখের সামনে আয়শার মুখ দেখতে পায়। আয়শার আত্না সর্বত্র তাকে তারা করে বেড়ায় যতক্ষণ না মাথাব্যাথার যন্ত্রনায় তার মৃত্যু হয়। নোট: এখানে আয়শার গ্রাফিক্সে তৈরি ছবি দেওয়া হয়েছে। তার মূল ছবি দেখতে চাইলে "Aisha's Curse" লিখে গুগলে সার্চ দিন। (আমি গুগলে সার্চ দিয়ে পাইনি। কেউ পেলে জানাবেন প্লিজ) ................সংগৃহীত...................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "আয়শার অভিশাপ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now