বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#আয়না
#পর্ব_৩য়
আমার সাথে অভি থাকে। অভি কে আমার ভয় লাগে।ও কুৎসিত ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে হাসে।আমার গা ঘিনঘিন করে।"
-- অভি কে?
.
মিলি দুইসেকেন্ড সময় নিল।বোধহয় সিদ্ধান্ত নিল আমাকে বলবে কিনা।
.......
অভি আমার ক্লাসমেট।
--বন্ধু?
--হ্যা, বন্ধুই একরকম।
.
আমি হালকা হাসলাম।
-- তা এতক্ষন বললেনা কেন অভির কথা? আমি যদি না জিজ্ঞেস করতাম,তুমি তো বলতেই না আমাকে।
.
মিলি অনুতাপের সুরে বলল, "আসলে আপু, মানে। আপু আমি দুঃখিত। আমার ভুল হয়ে গেছে।
.
-- হুহ!! দেখ,তুমি আমার কাছে সাহায্য চাচ্ছো মিলি।আর আমিও তোমাকে মনে-প্রাণে সাহায্য করতে চাচ্ছি। সুতরাং তোমার উচিত হবে এখন থেকে আমাকে সত্যি কথা বলা।ওকে?
মিলি হ্যা সূচক মাথা নাড়ল।
.
--আচ্ছা মিলি এবার বলোতো,অভির কথা আমাকে প্রথমে কেন বললেনা?
--এমনি আপু।তেমন কোনো কারণ নাই।জাস্ট এমনি!!
মিলি অন্য দিকে তাকিয়ে রইল।
.
আমি চোখ সরু করে মিলির দিকে তাকালাম।মিলিকে বললাম, "আমার দিকে তাকাও"
.
মিলির চোখে চোখ রেখে বললাম, "অভির সাথে তোমার সম্পর্ক আছে।তোমরা রিলেশনে আছ তাইনা?
মিলি চমকালো। চোখ নামিয়ে বলল, "রিলেশন ছিল আপু,এখন আর নেই।"
.
-- আচ্ছা বুঝলাম। ভাঙার কারণ জানতে পারি?
-- মতের মিল হচ্ছিল না তাই ব্রেক আপ হয়ে গিয়েছে।
-- আবার সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করোনি?
.
মিলি এক মুহূর্তে চোখ মুখ কঠিন করে ফেলল। আবার সাথে সাথে দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করল।পুরো ব্যাপারটাই আমি খেয়াল করলাম। মনে মনে হাসলাম,কিছু বললাম না।
.
-- না,ঠিক করার চেষ্টা করিনি।এর আগেও অনেক ঝগড়া হয়েছে। ঠিকঠাকও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন আর হবেনা।আমি জানি। আপু এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছা করছেনা।
আমি মিলির চুলগুলো আমার হাত দিয়ে এলোমেলো করে বললাম, "আচ্ছা বেশ, বলতে হবেনা।
.
ঐরুম থেকে আকাশ উঁকি দিলেন। আমি চোখের ইশারায় তাকে ভেতরে যেতে বললাম।
.
আচ্ছা মিলি শোনো, এখন আমি প্রশ্ন করব আর তুমি ঝটপট উত্তর দেবে ওকে?
মিলি মাথা নাড়ল।
.
-- আমার প্রথম প্রশ্ন হল, মিলি তুমি কেমন আছ?
--জানিনা আপু।বুঝতে পারছিনা কেমন আছি!
--বুঝতে না পারারই কথা! তা তোমার বাসায় কে কে আছে মিলি?
--আমি,ভাইয়া, আমাদের বাবা, দারোয়ান চাচা, ড্রাইভার আংকেল আর কাজের মেয়ে রহিমা।আর কেউ নেই।
.
--তোমার বাবা কি করেন?
--বাবা খুব নামকরা
ব্যস্ত ব্যবসায়ী।তবে এখন বাবা অসুস্থ।ভাইয়াই আপাতত বিজনেস দেখাশুনা করছে।
--তোমাদের বাসায় তোমাদের কোন কোন আত্মীয় বেশি আসা-যাওয়া করে?
--বেশি আসা যাওয়া!!তেমন কেউ আসেইনা আমাদের বাসায় আপু। আমাদের আত্মীয়রা প্রায় সবাই মিডল ক্লাস। বাবা ব্যবসায় সফল হয়ে হঠাত আঙুল ফুলে কলাগাছ টাইপ হয়েছেন।আমাদের আত্মীয়রা আমাদের বাসায় কখনওই আসেনা।বাবার ম্যানেজার মাঝে মাঝে আসে।তাও খুব জরুরী দরকার ছাড়া আসেনা।
.
--বড়লোক আত্মীয়ের বাসায় মধ্যবিত্তরা কখনও কমফোর্ট ফিল করেনা,তাই আসেনা।
আমার এই এক্সপেরিয়েন্স আছে।যাই হোক, ম্যানেজার কতদিন ধরে আছেন তোমাদের অফিসে জানো নাকি?
.
-- আমার জন্মের আগে থেকেই উনি আছেন আপু। বড় ভালো মানুষ আজমল চাচা।খুব সৎ।
.
আমি মিলির দিকে কিছুটা বিরক্তির চোখে তাকালাম।
.
-- সৎ হলে তো ভালোই।তবে বড় ব্যবসায়ীদের ডানহাত ব্যাক্তিরা কখনও সৎ হয়না।এরা সৎ হলে ব্যবসা লাটে উঠবে! যাই হোক, মিলি তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার সম্পর্ক কেমন সেটা বল।
.
-- ভালো।বেশ ভালো।ভাইয়া খুব ভালো।মা মারা যাবার পর থেকে ভাইয়া আমার খুশির জন্য সব করেছে।এমন ভাই সবাই পায়না।আমার মায়ের পরে আমি ভাইয়াকেই বেশি ভালোবাসি।বাবার চেয়েও বেশি। আর ভাইয়াও তাই।একসেকেন্ড সময় নিয়ে লাজুক গলায় মিলি বলল, "ভাইয়া শিমু আপুর চেয়েও আমাকে বেশি ভালোবাসে।"
.
-- শিমু কে?
-- ইয়ে মানে, ভাইয়ার প্রেমিকা। ওদের শীঘ্রই বিয়ে হবে।
--ওহ,আই সি! শিমু তো প্রায়ই তোমাদের বাসায় আসে,তাই না?
মিলি অবাক চোখে তাকিয়ে বলল, "তুমি কিভাবে জানলে?"
আমি রহস্যময় হাসি হেসে বললাম, " মানুষের বডি ল্যাংগুয়েজ, ভয়েস আপডাউন আর চোখের ভাষা যদি কিছুটা না বুঝি,তাহলে তোমার সাথে আমার পার্থক্য কোথায় বল! মিলি, তুমি শিমুর সাথে খুব ফ্রি তাইনা?হবু ভাবীকে খুব পছন্দ বুঝি?"
.
মিলি মুচকি হেসে বলল,
"হ্যা শিমুপু অনেক ভালো।আমার আর ভাইয়ার খুব কেয়ার নেয়।"
.
--আচ্ছা বুঝলাম। ঠিকাছে মিলি, আজকের মত প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ।চল কফি খাওয়া যাক।কি বল?
-- হুম,খেতে পারি।
-- ঠিকাছে তুমি বসো।তোমার ভাইকে ডাকো।আমি কফি বানিয়ে আনছি।
.....
কফি বানিয়ে আনলাম। ছোলা ভেজানো ছিল সেটাও রান্না করে আনলাম। রুমে এসে দেখি মিলি ঘুমাচ্ছে আর আকাশ মিলির মাথার কাছে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
.
আমাকে দেখেই আকাশ দাঁড়িয়ে পড়ল। ছেলেটার ভদ্রতায় আমি মুগ্ধ হলাম।
.
--আরে দাঁড়াতে হবেনা!বসুন। নাস্তা আর কফি এনেছিলাম। নিন,খেয়ে নিন।
--মিলি তো ঘুমিয়ে গেল। এই মিলি উঠ.....
.
বুঝলাম আমাকে সবকিছু বলে মিলি একটু হালকা হয়েছে।তাই ঘুমুচ্ছে।
.
আমি দ্রুত বললাম,
"আকাশ,মিলিকে জাগানোর প্রয়োজন নেই, ওকে ঘুমুতে দিন। আজ অনেকদিন পর একটু ঘুমাচ্ছে।আসুন,আমরা বরং নাস্তা করি। আর আপনার সাথেও আমার একটু কথা বলা দরকার।আশা করি কো-অপারেট করবেন আমার সাথে।"
.
--জি অবশ্যই,বলুন না। তার আগে একটু এটা বলুন,মিলি কি ওর সমস্যার কথা আপনাকে বলেছে? আমাকে কি বলা যাবে?
.
-- অবশ্যই যাবে।তবে আগে আমরা খেয়ে নেই কারণ..
.
আকাশ আমার মুখ থেকে কথা টেনে নিয়ে হাসি হাসি মুখে বলল,
"কারণ খাওয়ার সময় কথা বলা আপনার অপছন্দের ।হা হা হা"
.......
আকাশ,আপনার বোন যে বেশ কয়েকদিন ধরে ঘুমায়না সেই তথ্য আপনি জানেন?
.
-- আসলে, মিলি যে বেশ কিছুদিন ধরে ডিস্টার্বড সে তো আমি বুঝতেই পারি।ঘুমায়না সেটাও ওর চোখমুখ বলে দেয়। আসল ব্যাপারটা কি আমাকে একটু বলা যাবে ইলিয়ানা?
.
--"মিলি আপনাকে কিছুই বলেনি?"
--উহু আমাকে কিছুই বলেনি।
--আপনার বাগদত্তা শিমুকে কি কিছু বলেছে?
.
আকাশ একটু লজ্জা পেলেন। বললেন," শিমু আমাকে এ ব্যাপারে কিছু বলেনি,মনে হয়না মিলি ওকে কিছু বলেছে।"
--আচ্ছা বেশ বেশ। আকাশ, আপনার বোন একটু সমস্যার ভিতরে আছে।আপনি কষ্ট করে আমার কথার জবাব দিবেন ঠিকঠাক।
-- হ্যা অবশ্যই বলুন।
-- শিমুকে কবে বিয়ে করছেন?
--আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে।ডেট ফিক্সড হয়নি
--শিমুর ফ্যামিলিতে শিমুর গার্ডিয়ান কে?
--ওর বাবা-মা নেই,ওর চাচাই ওর অভিভাবক।
--শিমু আপনাদের বাসায় ডেইলি আসে?
আকাশ একটু ইতস্তত করে বলল, "হ্যা ঐ আরকি!"
-- তা ডেইলি কতক্ষন থাকে?
-- এই প্রায় ৫-৬ ঘন্টা থাকে।
-- আচ্ছা বেশ।আপনার বাবা কি বেশি অসুস্থ?
--হাঁটাচলা করতে পারছেননা আপাতত।
--মিলিকে কি ডাক্তার দেখানো হয়েছে?
--নাহ,ও যেতে চায়নি
--আচ্ছা আমি ওকে কিছুদিনের মধ্যে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব।কিছু টেস্ট করাব যদি আপনার আপত্তি না থাকে।
--আপত্তি থাকবে কেন!কি যে বলেন!
--আপনার বাবাকে ডাক্তার দেখানো হয়েছে?
-- হয়েছিল।কিন্তু ডাক্তার রোগ ধরতে পারছেননা। দিন দিন বাবার অবস্থা খারাপ হচ্ছে।
-- আপনাদের ম্যানেজার আজমল সাহেব কেমন মানুষ?
-- চাচাকে ছোটোবেলা থেকে দেখছি।বাবার বেশ অনুগত।
-- আচ্ছা আপনাদের ড্রাইভার একজনই?
-- জি একজনই। কিন্তু এই প্রশ্নগুলো কেন করছেন? এর সাথে মিলির কি সম্পর্ক?
.
আমি হাসলাম।
"মিলির কোনো সম্পর্ক নেই।এমনি আপনাদের পরিবার নিয়ে কৌতূহল হল তাই আর কি।কিছু মনে করবেননা। শিমু আপনার সমবয়সী তাইনা?"
আকাশ কিছুটা অবাক হয়ে হ্যা সূচক জবাব দিল। আমি কিভাবে জানলাম তা জিজ্ঞেস করতে গিয়েও করলোনা।
.
"আচ্ছা আকাশ আমার আর কোনো প্রশ্ন নেই। মিলিকে ঘুম থেকে তুলুন। আজকের মত আপনারা আসুন।আমার কাজ আছে।"
.
আকাশ ভড়কে গেলেন বুঝতে পারলাম।এই বয়সী সুন্দরী মেয়ের কাছ থেকে এমন ব্যবহার পেয়ে বোধহয় কিছুটা মর্মাহত হয়েছেন! কিন্তু আমি একটু এমনই।কি আর করার!
.......
আয়নার ভেতরে প্রবেশ করা সম্পর্কিত কোনো আর্টিকেল আছে কিনা একবার নেটে দেখা দরকার।ল্যাপটপ নামিয়ে "মিরর ওয়ার্ল্ড" লিখে সারচ দিলাম। অনেক কিছু চলে আসল। লেখাগুলো খুলে পড়লাম।সবই গাঁজাখুরি টাইপ লেখা।মেজাজ খারাপ হল। বিজ্ঞানের অগ্রগতির এই পর্যায় এ এসেও এসব ভিত্তিহীন কথাবার্তা কেমনে লিখা থাকে আমার মাথায় ঢুকলোনা!! ব্লাডিমেরী নামক একটা টপিক দেখলাম। মিলির ঘটনার সাথে কিঞ্চিত সাদৃশ্য আছে বৈকি! ব্যাপারটা হাস্যকর। আয়নার সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে ৪১ বার ব্লাডি মেরি ডাকলে এক মহিলাকে আয়নার ভেতর দেখা যায়! নিতান্তই ফাইজলামি মার্কা কথাবার্তা। আমি মিলি টাইপ মেয়ে হলে ভালোই হত।একবার পরীক্ষা করে নেয়া যেত! কি ভাবছি আমি ধুর! নিজের বোকামি ভাবনায় নিজেই হাসলাম।
........
আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। মনে হল ইস,আমিও যদি আয়নার ভেতর যেতে পারতাম!ভেবে আনমনেই আবারও হাসলাম।এ আবার হয় নাকি! হঠাত মনে হল আয়নার ভেতর মিলিকে দেখতে পেলাম।মিলি হাসছে আমার পেছনে দাঁড়িয়ে।আমি ঝট করে পিছনে তাকালাম।কেউ নেই।সামনে আয়নাতেও কাউকে দেখলামনা।নিশ্চই হ্যালুসিনেশন!! আয়না থেকে ঘুরে আমার বিছানার দিকে পা বাড়ালাম।তখনও আমার মনে হল আয়নার ভেতর মিলি হাসছে।আমার ইস্পাতের মত শক্ত নার্ভও কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভড়কে গেল।চোখ বন্ধ করে ব্রেইন কে বুঝালাম, হ্যালুসিনেশন।
#চলবে………
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now