বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আয়না বলয়-০৫

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X উত্তেনায় ইতির বুক ঢিপ ঢিপ করছে। আরো অনেকক্ষণ কেটে গেলো, কিন্তু কিছুই হলো না। -তুমি কি এসেছো?(ইতি) কোন উত্তর নেই। বন্ধঘরের দেওয়ালে এই কথাটি প্রতিধ্বনি তুলে মিলিয়ে গেলো। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা। নাহ ধৈর্যের বাধ ভাঙল ইতির। বইয়ের কথা সব মিথ্যা মনে হলো ওর। -এই তোরা পাশের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়,কিছুই তো হল না সব ভুয়া। এখন আর আমার ঘরের ভেতরে আসতে হবে না, খুব ঘুম পাচ্ছে আমি ঘুমাবো রে। (ইতি) -তুই ঠিক আছিস?(মিলু) বাইরে থেকেই জিজ্ঞেস করলো মিলু। -হ্যা,যা ঘুমা তোরা।(ইতি) ওর বান্ধবীদের চলে যাওয়ার শব্দ শোনা গেলো। ঘরের আলো জ্বালানোর প্রয়োজনবোধ করলো না ও। জানালার একটা পাল্লা খুলে দিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো ইতি, প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে ওর, সাধারণ রাত জাগে না ইতি। শোয়া মাত্রই রাজ্যের ঘুম ঘিরে ধরলো ওকে। জানালার ফাঁক দিয়ে অল্প অল্প চাঁদের আলো ঢুকছে। ইতি যদি চোখ মেলে চাইতো তাহলে দেখতে পেতো দুটো চোখ নির্নিমেষ ভাবে তাকিয়ে আছে ওর ঘুমন্ত মুখের দিকে! সকালবেলাঃ আজ ছুটির দিন তাই ইতির বান্ধবীরা বেশ বেলা করে ঘুম থেকে উঠলো। কিন্তু ইতি এখনো ওঠেনি। ইতির দেখা না পেয়ে ওরা ইতির রুমে গেলো। বিছানাতেই ঘুমাচ্ছে সে। -ইতি ওঠ। কত ঘুমাবি?(রোজ) কোন সাড়া নেই। আরও কয়েকবার ডেকেও সারা মিললো না। ওরা এক গ্লাস পানি নিয়ে এসে ইতির মুখে ঢেলে দিলো। এইবার নড়ে চড়ে উঠলো ইতি। আস্তে আস্তে উঠে বসলো। চোখ ফুলে গেছে আর লাল হয়ে আছে ওর। -কি করলি এটা?(ইতি) বিরক্ত হয়ে প্রশ্ন করলো ইতি। -তোর ঘুম ভাঙছিল না তাই ভাবলাম একটু মজা করি।(পলি) -সবসময় মজা ভালো লাগে না।(ইতি) -কিরে রেগে যাচ্ছিস কেন? রাতে ঘুম হয়নি তোর?(মিলু) -হয়েছে। তোরা যা আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।(ইতি) ইতি আসার পর সবাই মিলে খাওয়ার টেবিলে বসলো। আজ সবাই অনেক হই-হুল্লোর করলেও ইতি ওদের সাথে যোগ দিচ্ছে না। বিষয়টা খেয়াল করলো আদ্রি। -তোর কি হয়েছে? সেই কখন থেকে দেখছি মন মরা হয়ে বসে আছিস?(আদ্রি) -তেমন কিছুনা। সামান্য মাথাব্যথা। (ইতি) -ওষুধ খেয়েছিস?(জিনিয়া) -হুম, খেলাম তো কিন্তু কমছে না।(ইতি) -কালকে রাতের ব্যাপারে তো কিছুই বললি না?(পলি) -কোন কাজ হয়নি দেখলিই তো তোরা। এখন এসব বলতে ভালো লাগছে না। তোরা গল্প কর,আমি গোসল করে একটু ঘুমাবো।(ইতি) ইতির মেজাজ একদম ঠিক নেই। কথায় কথায় রেগে যাচ্ছে। তাই ওকে আর কেউ কিছু বললো না। দুপুরবেলা খাওয়ার সময় দেখা গেলো ইতির মন ভালো হয়ে গেছে। চিন্তা মুক্ত হলো ওর বান্ধবীরা। ইতির বাবা-মাও ফোন করে মেয়ের খোঁজখবর নিয়েছেন। ওরা ঠিক করলো আজ রাতে একটা হরর মুভি দেখবে। গল্পগুজব, খেলা, এটা ওটা রান্না করে খাওয়া এইসব মিলিয়ে বেশ দারুণ একটা দিন পার করলো ওরা। মুভি দেখে শুতে শুয়ে রাত ১ টা পার হয়ে গেলো। বেশ ভয় করছে ইতির। আজ কাউকে নিয়ে শুলেই বোধহয় ভালো হতো। কাউকে ডেকে নিয়ে আসতে পাশের রুমে দিকে রওনা দিলো ইতি। ওর মনে হতে লাগলে পেছন থেকে ওকে কেউ ফলো করছে। পেছনে তাকিয়ে দেখলো। নাহ, কেউ তো নেই। কিন্তু ইতি স্পষ্ট পায়ের আওয়াজ পেয়েছে। "হয়ত কাজের খালা উঠে বাথরুমে গিয়েছে", ভাবলো ইতি। একবার কি বাথরুমে গিতে দেখে করে আসবো? না থাক, কি দরকার। কাজের খালাই হবে। বাইরের বাথরুমে তো বান্ধবীরা যাবে না কারণ ঘরেই এটাচড বাথ আছে। এই চিন্তা নাকচ করে দিয়ে হাটতে শুরু করলো ইতি। ওদের রুমে গিয়ে দেখে সবগুলো ঘুমে কাদা হয়ে গেছে। এখন আর ওদের ডেকে তুলে বিরক্ত করতে ইচ্ছে হলো না ইতির। নিজের ঘরে চলে এলো। আসার সময় আবারো পদশব্দ। কিন্তু পাত্তা দিলো না সে। ঘরে ঢুকেই দরজাটা ভিড়িয়ে দিলে শুয়ে পড়লো, ভেতর থেকে লক করলো না। এখন সমস্ত বাড়িতে পিনপতন নিস্তব্ধতা। লাইট অফ করে শুয়ে পড়লো ইতি। কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলো মনে নেই তবে একটা ক্ষীণ গলার আওয়াজে ঘুম ভাঙল ইতির। -ইতি.........(অচেনা গলার আওয়াজ) মনে হচ্ছে বহুদূর থেকে সুর করে কেউ ডাকছে। আশেপাশে তো কেউ নেই আর এই জমাট বাঁধা অন্ধকারে কাউকে দেখাও যাবে না। -কে? তোরা নাকি? রাতের বেলা আমাকে ভয় দেখাতে এসেছিস?(ইতি) ও ভেবেছি বান্ধবীরা যুক্তি করে ভয় দেখাতে এসেছে ওকে। -ইতি.......আমি ফিরে এসেছি। -কে? কে তুমি?(ভয়ার্ত কন্ঠে) -ইশিতা।(জোরে জোরে আত্মা কাঁপানো হাসি হাসলো মেয়েটা) ইতির হৃৎপিন্ড লাফিয়ে উঠলো নামটা শুনে। তারমানে কালকে এসেছিলো ইশিতা? -ইশিতা! তুমি ফিরে এসেছ মানে? কি তোমার পরিচয়? -আমাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ধন্যবাদ তোমাকে। কিন্তু কষ্ট সহ্য করার জন্য প্রস্তুত হও। -আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। কেন এসেছ তুমি? -এই আয়নার ভেতরে আমার আত্মা আটকা পরে ছিলো ত্রিশ বছর ধরে, তুমিই আমাকে এই জগতে ফিরিয়ে এনেছ ইতি। আমি জানতাম একমাত্র তুমিই পারবে আমাকে মুক্ত করতে। -আমি বিশ্বাস করি না। তুমি ইশিতা নও। -কেন দেখতে চাও আমাকে? তাহলে বিশ্বাস হবে তো? -দেখবো। (ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছে ইতির। ওর অসতর্কতার জন্যই এমন হলো।) -আয়নার দিকে তাকাও ইতি। ইতি আয়নার দিকে তাকালো। আলোকিত হয়ে উঠেছে জায়গাটা। এবার আর আয়নার ভেতরে নয় আয়নার বাইরে সেই ভয়ংকর বীভৎস মেয়েটা দাঁড়িয়ে হাসছে। চিৎকার করে উঠলো ইতি। বান্ধবীদের ডাকলো। আর ওদিকে আয়নার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ইশিতার হাসির শব্দ বেড়েই চলেছে। -চিৎকার করো। আরো জ্বরে, আরো....তোমার চিৎকার কেউ শুনবে না,কেউ না। আমার চিৎকারও কেউ শোনেনি সেই দিন। কেঁদে ফেললো ইতি। আমি তো তোমাকে মুক্তি দিয়েছি তাহলে আমার সাথে কেন এমন করছো? ছেড়ে দাও। -এতো সহজে ছাড়া পাবে না। কই আমার প্রতি তো সামান্যতম দয়া দেখানো হয়নি? -তুমি কিসের কথা বলছ? আমি তোমার সাথে কিছুই করেনি। তুমি চলে যাও। আর কখনো তোমাকে ডাকবো না। অসহায় ভাবে কাঁদছে আর মিনতি করে চলেছে ইতি। বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা। -তুমি আমার সাথে কিছুই করোনি বরং আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমার কাজ শেষ না করে আমি ফিরবো না। তোমাকে এখন আজ থেকে ত্রিশ বছর পূর্বে ঘটা একটা কাহিনী শোনাই। তুমিই বলবে সেটা ঠিক ছিলো কিনা। -তুমি যা ইচ্ছে বলো তবুও আমাকে মেরো না। -হা হা হা.........প্রাণ ভিক্ষা! তুমি হয়ত ভুলেই গিয়েছ এই আয়নাটা যখন তুমি কিনতে গিয়ে ছুঁয়েছিলে তখন একটা মুখ তুমি সামান্য সময়ের জন্য দেখতে পাও? -এখন মনে পড়েছে। আমি ভুললাম কিভাবে? -আমি ভুলিয়ে দিয়েছিলাম তাই। তুমি আয়নাটা ধরার সাথে সাথেই আমি বুঝতে পারি তুমি কে। আমি এই ত্রিশটা বছর তোমার জন্যই অপেক্ষা করেছি। ইতি অবাক হয়ে যাচ্ছে মেয়েটার প্রতিটা কথা শুনে। কান্না থামিয়ে ইতি জিজ্ঞেস করলো, তুমি আমাকে আগে থেকেই চেনো? -তোমার রক্তকে চিনি! তোমাকেও চিনি! এতো ভয়ের মধ্যে থাকা শর্তেও ইতির কৌতুহল হচ্ছে। কি বলছে এসব ইশিতা। -আমি তোমার কথার কিছুই বুঝতে পারছি না। -শুনতে থাকো, বোঝার সময় হলেই বুঝবে। -এই আয়নাটা তো আমাদের বাড়ির কিন্তু তুমি এর ভেতরে ঢুকলে কিভাবে? -ঢুকতে বাধ্য হয়েছি। (ক্ষোভের সাথে) তোমরা যার দোকানে আয়না কিনতে গিয়েছিলে সে আসলে একজন প্রেতসাধক। কালো জাদু তার জীবিকা। তারকাছে লোকজন আসে তাদের শত্রুকে শেষ করার জন্য সাহায্য চাইতে। অ্যান্টিকের দোকানের নাম করে ভয়ংকর জীবন-মরণের ব্যবসা করে যাচ্ছে লোকটা। তবে আমি তার প্রতিও কৃতজ্ঞ। তার একজন সহযোগী আছে যে তার দোকানের ঠিকানা মানুষকে দেয়, ঠিক যেরকম মিলুর ভাইকে দিয়েছিলো। আমি জানতাম নতুন দোকানের ঠিকানা পেলে তুমি অবশ্যই আসবে। আবাক হয়ে শুনছে ইতি। -আয়নাটা প্রেত সাধকের কাছে আসলো কিভাবে? -তোমার বাবা আয়নাটা বিক্রি করে দেয় পুরনো আসবাবপত্রের দোকানে। সেখান থেকে আয়নাটা অ্যান্টিকের দোকানের লোক কিনে নেয়, সে যেহেতু প্রেত সাধক সেহেতু সে বুঝতে পারে আয়নার মধ্যে কোন অতৃপ্ত আত্মার বাস। কালো জাদুর মাধ্যমে আমাকে ডেকে নিয়ে আসে লোকটা। আমি তাকে সবকিছু খুলে বলি। লোকটা আমাকে প্রস্তাব দেয় আমি যদি তার হয়ে কাজ করে দেই তাহলে সে আমাকে আমার অতৃপ্ত বাসনা পূরণ করতে সাহায্য করবে। আমি রাজি হয়ে যাই কারণ আমার সাথে যা হয়েছে তা ভালো ছিলো না। প্রতিশোধ স্পৃহা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আমাকে আস্তে আস্তে এই ত্রিশটা বছর ধরে ভীষণ শক্তিশালী করে তোলে উনি।আমি অনেক লোকের ক্ষতি করেছি শুধু আজকের এই দিনটার জন্য, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। কালরাতে তুমি যখন আমাকে ডেকেছ তখন মোমবাতি নেভার সাথে সাথেই আমি এসেছি,কিন্তু তখন তোমাকে দেখা দেওয়ার সঠিক সময় ছিলো না। তুমি আর ঘরের আলো জ্বালালে না, অবশ্য আলো জ্বালালেও আমি যেতাম না কারণ আমি শক্তিশালী আত্মা। -এখন তুমি কি চাও? আমাকে মেরে ফেলো না। -তোমাকে মারার কোন ইচ্ছে আমার নেই। তোমাকে এবার আসল ঘটনা বলবো। আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে আমি ছিলাম রক্ত মাংসের মানুষ। খুব গরীব ঘরের মেয়ে ছিলাম আমি, অভাব অনটনের মধ্যে বড় হয়েছি। লেখাপড়া বেশিদূর করতে পারিনি। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পরে বাবা আমার বিয়ে দিয়ে দেন। তবে আমার স্বামীর পরিবার ছিলো খুব ধনী। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি নিজে আমাকে পছন্দ করেন। আমি গরীব, অল্প লেখাপড়া জানা হওয়া সত্ত্বেও তাদের ডাক্তার ছেলের সাথে আমাকে বিয়ে দেন আমার শান্ত স্বভাব আর আচার-ব্যবহারের জন্য। একরাশ স্বপ্ন নিয়ে আমি শ্বশুবাড়িতে আসি। প্রথম তিন বছর খুব সুখে কাটলো, স্বামীও আমাকে অনেক ভালোবাসতো। কিন্তু সুখ বেশিদিন সইলো না আমার কপালে। স্বামী খারাপ ব্যবহার করা শুরু করলো। পাঁচ বছরের মাথায় শ্বশুর-শাশুড়ি গত হলেন। স্বামীর দুর্ব্যবহার বাড়লো। আগে শ্বশুর-শাশুড়ি ছিলেন বলে বেশি কিছু বলতে পারতো না কারণ আমি তাদের মেয়ের মতো ছিলাম। তার উপর আমি ছয় মাসের গর্ভবতী। আমার মেয়ে হওয়ার কথা ছিলো। একসময় জানলাম আমার স্বামীর অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে, সে মেয়ে ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে। আমার চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষিত। তারা নাকি বিয়েও করবে শুনলাম। ইতি তুমি কি জানতে চাও আমার স্বামী কে? -কে? -তোমার বাবা! বিখ্যাত ডাক্তার তানজীম আহসান।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আয়না বলয়-০৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now