বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আয়না বলয়-০৪

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X স্বপ্নে দেখতে পেলো সেই ভয়ংকর মেয়েটা একটা ঘরের বিছানায় বসে আছে। শুধু মেয়েটাই নয় আরও একজন আছে। "একে তো আগে দেখা যায়নি",স্বপ্নের মধ্যেই চিন্তা করলো ইতি। মেয়েটার কোলে একটা রক্তাক্ত বাচ্চা,এটাই হলো সেই নতুন মানুষ। বাচ্চাটাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে মেয়েটা। সে কাঁদতে কাঁদতে ঘুরে তাকালো ইতির দিকে। চোখ গুলো জ্বলে উঠলো তার, কান্নার বেগ বাড়লো। ইতির কাছে এই ঘরটা পরিচিত লাগছে, খুব পরিচিত। অনেকবার এসেছে বলে মনে হচ্ছে। ঘরের বিছানার পাশে একটা বড় জানালা। "এরকম জানালা তো আমার ঘরেও আছে। তবে কি এটা আমার ঘর?",ভাবছে ইতি। জানালা ঠিকই আছে, ঘরটা সাজানো একটু অন্যভাবে, আসবাবপত্র গুলো অনেক পুরাতন ডিজাইনের। এটা ইতির ঘর একেবারে নিশ্চিত সে। তার কাছে মনে হচ্ছে সে যেন স্বপ্নে নয় অতীতে চলে গেছে। ইতি মেয়েটার দিকে তাকালো,কেন কাঁদছে মেয়েটে? বাচ্চাটার এরকম অবস্থা হলো কিভাবে? এরকম হাজারো প্রশ্ন উঁকি দিয়ে যাচ্ছে ইতির অবচেতন মনে। হঠাৎ করেই ভয়ংকর মেয়েটার মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করলো ইতি। মেয়েটার মাথা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে গেছে, পেটে বেঁধানো ছুড়িটা নেই, চোখটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে-ভীষণ মায়া সে চোখে, কাটা ঠোঁটের জায়গায় শোভা পাচ্ছে সুন্দর স্বাভাবিক মানুষের ঠোঁট, গায়ের ক্ষত গুলোও মুছে গেলো, শরীরে বেঁধানো সূচ গুলো উধাও হয়ে গেলো। শরীরে আঘাতের চিহ্ন মাত্র নেই। মেয়েটার কোলে থাকা শিশুটাও স্বাভাবিক হয়ে গেছে,কোথায় রক্ত? এখন সব ঠিকঠাক। বাচ্চাটা খুব সুন্দর দেখতে। টিকালো নাক, আয়তলোচন চোখ, গোলাপি ঠোঁট। এতো সুন্দর বাচ্চা আগে কখনো দেখেনি ইতি, শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছে ওর দিকে। ইতির খুব ইচ্ছে ছিলো একটা ছোট ভাই অথবা বোনের। আচ্ছা এই মেয়েটাই কি বাচ্চাটার মা? তাই যদি হয় তাহলে সে তার মায়ের মতোই সুন্দর দেখতে। নাকি রাক্ষসী মেয়েটা এই বাচ্চাটাকে মেরে ফেলেছে? আর চিন্তা করতে পারছে না ইতি। মেয়েটা বাচ্চাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বিছানা থেকে নেমে ইতির দিকে আসতে লাগলো। কিন্তু এখন খুব বেশি ভয় লাগছে না ইতির। মেয়েটা এসে ইতির থেকে এক হাত দূরে দাঁড়ালো। ইতি মনে সাহস সঞ্চয় করে তাকে প্রশ্ন করলো, -তোমার নাম কী? কি চাও আমার কাছে? আমাকেই কেন দেখা দিচ্ছো বার বার? -আমি ইশিতা ইসলাম। অনেক অপেক্ষার পর আমি...মেয়েটা কি চায় তা বলার আগেই মায়ের ডাকাডাকিতে ঘুম ভেঙে গেলো ইতির। তাই স্বপ্ন দেখাও শেষ হলো না। মনে মনে আফসোস করলো ইতি। এই সময়টায় না ডাকলেই কি হতো না। মেয়েটার ব্যাপারে তো কিছুই জানা গেলো না নামটা ছাড়া। যে করেই হোক আমাকে জানতে হবে, এসব ভাবতে ভাবতেই ঘরের দরজা খুলে দিলো ইতি। -মা তুমি এতো সকালে?(ইতি) -আজ আমাদের চিটাগাং যেতে হবে তুই ভুলে গেলি নাকি?(মিসেস সাবেরা) -ও তাইতো। কত বাজে এখন?(ইতি) -৫:৩০ টা বাজে।(সাবেরা) -এখনো তো অনেক দেড়ি। তোমরা কি এখনি বেরুবে? (ইতি) -না, রেডি হয়ে ব্রেকফাস্ট করবো তারপর বের হবো। কিছুটা আগেই বের হবি বুঝলি না হলে বাস স্ট্যান্ডে পৌছাতে দেড়ি হতে পারে। তাছাড়া তোর ভাইয়াকেও তুলতে হবে, তার তো আবার রেডি হতে অনেক সময় লাগে। আর তোর তো সাড়ে সাতটায় প্রাইভেট আছে। খেয়ে রেডি হতে হবে না?(সাবেরা) -ভুলেই গিয়েছিলাম। আমি ফ্রেস হয়ে আসি। তোমরা রেডি হও।(ইতি) ইতি ফ্রেস হয়ে আসলে চারজন একসাথে ব্রেকফাস্ট করলো। ইতির বাবা-মা ৬:২০ মিনিটে বেড়িয়ে গেলো। তারপর ইতি একা। ইতি অনেক ভেবেচিন্তে একটা প্ল্যান করলো। আজ রাতেই সেটা বাস্তবায়ন করার ইচ্ছে আছে ওর। এর জন্য অবশ্যই বান্ধবীদের সাহায্য লাগবে। প্রাইভেটে গিয়ে বান্ধবীদের সাথে দেখা হলেও তখনই তাদের কাছে প্ল্যানের কথা বললো না ইতি, ওরা যখন বাসায় আসবে তখনই বলবে। এখন বললে রাজি নাও হতে পারে। স্কুল শেষে বান্ধবীদের সাথে হই হই করতে করতে বাসায় ফিরলো ইতি। আজ অনেক উত্তেজনা আর আনন্দের মধ্যে আছে সে। একরকম রোমাঞ্চ ভর করেছে ইতিকে। ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে গরম করে খেয়ে নিলো বান্ধবীদের সাথে, একটু ঘুমিয়ে নিলো সবাই। তারপর ছাদের চিলেকোঠার ঘরে চলে গেলো গল্প করতে। বিভিন্ন বিষয়ে গল্প, হাসি- ঠাট্টা করতে করতে ইতি তার স্বপ্নের কথাটা জানালো।সবাই তো অবাক! একি মানুষকে পরপর তিনদিন স্বপ্নে দেখা। তাকে না চিনলে সে কিভাবে বার বার স্বপ্নে আসে? সবাই কৌতুহলী হয়ে উঠলো বিষয়টা নিয়ে, বিশেষ করে জিনিয়া। ভূত-প্রেত,কালো জাদু এসেবে ওর প্রচুর আগ্রহ। এই সুযোগে প্ল্যানের কথাটা বলে ফেললো ইতি। -শোন, আজ রাতে আমরা মেয়েটার আত্মা ডাকবো! এটাই আমার প্ল্যান। মেয়েটা কি চায় তা আমার জানতে হবেই।(ইতি) -কি অবাস্তব কথা বলিস না তুই।(আদ্রি) -মানুষের আত্মা আবার ডাকা যায় নাকি!(মিলু) -এই তোরা থামতো। কিভাবে কি করবি? প্ল্যানচেট নাকি?(জিনিয়া) -সেটাই বলছি। আয়না যখন আছেই তখন শুধু শুধু প্ল্যানচেট করতে যাবো কেন? Ouija বোর্ডও নেই আমার কাছে,জোগাড় করাও ঝামেলা। মেয়েটা যখন আয়নাতেই আসে তখন আয়নাতেই সমাধান মিলবে।(ইতি) গ্রেট আইডিয়া। সত্যি তোর বুদ্ধির প্রশংসা করতে হয়।(জিনিয়া) -আমি এসবের মধ্যে নেই বাবা! আমার ভয় করে। (রোজ) -এসব করা যাবে না। তোর প্রাণের মায়া নেই? আংকেল আন্টি বাসায় নেই এইসময় যদি কোন অঘটন ঘটে যায় তখন আমরা সামলাবো কিভাবে?(পলি) -আরে কিছুই হবে না। এটাকে মজা হিসাবেই নে। আমি এক পায়ে খাড়া।(জিনিয়া) -আমার ভয় করছে। ভেবে দেখ তোরা একবার। (আদ্রি) -যারা করবি না তাদের জোর করবো না কিন্তু আমি কারো নিষেধ শুনছি না।(ইতি) -এই ইতি আমি তোর সাথে আছি। একটা নতুন অ্যাডভেঞ্চার হবে কি বলিস? (জিনিয়া) -হুম। আর মেয়েটার ব্যাপারেও জানা যাবে। (ইতি) অন্যরা বিমর্ষ মুখে ইতি আর জিনিয়ার কথা শুনে যাচ্ছে। ওরা এসব করতে ইচ্ছুক না। বলা তো যায় না কি থেকে কি হয়ে যায়। -আচ্ছা ইতি এবার পুরো প্রক্রিয়াটা বল তো? -রাত ১২ টার পরে আয়নার সামনে গিয়ে একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে বত্রিশ বার(৩২) মেয়েটার নাম ধরে ওর আত্মাকে আমাদের পৃথিবীতে আসার জন্য আহ্বান জানাতে হবে। মানে আয়নার সামনে গিয়ে নাম ধরে ডাকতে হবে সিম্পল। তারপর অপেক্ষা করতে হবে ওর আগমনের জন্য। ও আসলে মোমবাতি নিভে যাবে। এটাই ওর আসার চিহ্ন। আয়নার ভেতরে আসবে ও। তারপর ওর সাথে কথা বলতে হবে। যা জানতে চাই জিজ্ঞেস করবো। এখানে একটাই শর্ত আছে তা হলো মোমবাতির আলো ছাড়া অন্যকিছুর আলো জ্বালানো যাবে না। আর তোদের ভয় পাওয়ার দরকার নেই। এই আত্মা ডাকার প্রক্রিয়ায় একা একাই আত্মা ডাকতে হয়। আমি নিজেই আত্মা ডাকবো, তোরা শুধু আমার ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবি এটাই তোদের কাজ। প্লিজ না করিস না। (ইতি) -তোর যদি কোন ক্ষতি হয়? আমরা এটা হতে দিতে পারি না। (মিলু) -তোরা তো দরজার বাহিরে থাকবিই। আমি যদি ভয় পাই তাহলে চিৎকার করবো তোরা ভেতরে চলে আসবি।প্লিজ,এবার তো রাজি হ।(ইতি) সবাই আলাপ আলোচনা করে ইতির প্রস্তাবে রাজি হলো। তাদের ধারণা কোন আত্মা-টাত্মা আসবে না। সবই ইতি মজা করার জন্য করতে চাইছে কারণ সবকিছুতে নতুনত্ব খোঁজাই ওর কাজ। -একটা প্রশ্ন থেকেই গেলো। আত্মা যদি আসে তাহলে ওটাকে ওদের জগতে ফেরত পাঠাবি কিভাবে?(জিনিয়া) -ঘরের আলো জ্বালালেই আত্মা চলে যাবে,আত্মাদের জগতের সাথে আমাদের জগতের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে।(ইতি) -তুই ঠিক জানিস তো?(রোজ) -হ্যা রে। আমার মনে হয়না এটা কোন শক্তিশালী আত্মা। যেসব আত্মা প্রতিশোধ নিতে চায় তারা অবশ্য এভাবে যায় না, মন্ত্র পড়তে হয় তাদের তাড়াতে।(ইতি) -এসব তুই কোথা থেকে জানলি?(পলি) -আজ প্রাইভেট শেষে তোরা যখন বাসায় চলে গেলি কলেজের জন্য রেডি হতে তখন আমি লাইব্রেরীতে যাই আর আজ তাই কলেজে জন্য রেডি হয়েই এসেছিলাম। অনেক খোঁজাখুঁজি করে কালো জাদুর উপর লেখা একটা বই পাই। ওখানেই লেখা ছিলো কিভাবে আত্মাকে ডেকে আনতে হয়। আত্মা ডাকার অনেক পদ্ধতি আছে তবে এটাই আমার কাছে সহজলভ্য মনে হয়েছে। -হুম বুঝলাম। খুব এক্সাইটেড লাগছে রে। (জিনিয়া) -আমারও দোস্ত।(ইতি) এরপর ওদের গল্প চলতেই থাকলো। রাতেঃ রাত ১২ টায় ছয়জন একসাথে হলো। ইতি মোমবাতি জ্বালিয়ে একটা টুলের উপর রেখে টুলটা আয়নার সামনে নিয়ে আসলো। তখন বান্ধবীদের সামনে যতই লম্ফঝম্প করুক না কেন এখন খুব ভয় করছে ইতির। ইচ্ছে হচ্ছে এসব করা বাদ দিলে। "না, বাদ দেওয়া যাবে না, ওরা আমাকে এমনিতেই ভীতুর ডিম ভাবতো এখন যদি আমি পিছু হটি তাহলে আর মানসম্মান থাকবে না",ভাবলো ইতি। -এই আমি রেডি। তোরা ঘরের বাইরে যা। আমি না ডাকা পর্যন্ত ঘরে ঢুকবি না কেউ।(ইতি) -আচ্ছা। সাবধানে করিস, আমরা বাইরেই আছি। (জিনিয়া) ঘরের লাইট বন্ধ করে দিলো ইতি। জোরে শ্বাস নিয়ে মেয়েটাকে ডাকা শুরু করলো। ইশিতা ইসলাম...ইশিতা ইসলাম...ইশিতা ইসলাম............. গুণে গুণে ঠিক ৩২ বার ডাকলো, এর কমও নয় বেশিও নয়। এদিকে দরজার বাহিরে উৎকণ্ঠা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওর বান্ধবীরা। ওদেরও খুব চিন্তা হচ্ছে। ইতি অপেক্ষা করছে কিছু একটা ঘটার। হয়ত এখনই মোমবাতি নিভে যাবে। পাঁচ মিনিট গেলো মোমবাতি নিভলো না। হঠাৎ কোথা থেকে যেন বাতাস এসে মোমবাতিটা নিভিয়ে দিলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আয়না বলয়-০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now