বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আয়না বলয়-০৩

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ভয়ে দূরে সরে এলো ইতি। সবাই ভীত চোখে তাকিয়ে আছে একে অপরের দিকে। সবাই একটু ধাতস্থ হওয়ার পর ইতি আবারো আয়নাটাকে স্পর্শ করলো। আয়নার দিকে মুখ তুলে তাকালো। এক মুহুর্তের জন্য ইতির মনে হলো আয়নাতে তার মুখের জায়গায় অন্য মুখ দেখা গেছে। কিন্তু আবার ভালো করে তাকাতেই দেখলো সব ঠিকই আছে,তাকেই তো দেখা যাচ্ছে আয়নায়। ইতি ভাবলো এটা ওর মনের ভুল। পুরনো আয়না, তাছাড়া কাচটাও ঘোলাটে। বান্ধবীদের এ বিষয়ে কিছু বললো না। শুনলে ওরা ওকে নিয়ে হাসা হাসি করবে। মিলু,পলি,আদ্রি,জিনিয়া আর রোজও কয়েকটা জিনিস পছন্দ করে ফেলেছে কেনার জন্য, বুড়ো গাড়ি নিয়ে ফিরলে তারা সেগুলো কিনবে। -গাড়ি এসে গেছে।(বৃদ্ধ) নিজেদের পছন্দ করা জিনিস গুলো কিনে ফেললো বাকিরা। তবে আয়নার মতো এসব জিনিসের দাম কম রাখা হয়নি! সবশেষে বৃদ্ধ আর গাড়িওয়ালা মিলে আয়নাটাকে গাড়িতে তুলে দিলো। ইতি তাদের বাড়ির ঠিকানা আর নাম গাড়িওয়াকে বলে দিয়ে নিজে একটা রিকশা নিলো। দোকান থেকে বের হওয়ার সময় ওরা কেউ খেয়াল করলো না বৃদ্ধ লোকটা পৈশাচিক হাসি হাসছে! ইতি আয়না নিয়ে ভালোভাবেই বাড়িতে ফিরলো। আয়না নিয়ে গাড়িওয়ালা তখনো বাইরে দাঁড়িয়ে। ভেতরে ঢুকেই ইতি মিসেস সাবেরা বেগমকে ডাকা শুরু করলো। -মা এদিকে এসো। মিসেস সাবেরা ইতির গলা শুনে ছুটে আসলেন। -বৃষ্টিতে আটকা পড়েছিলাম তাই এতো দেরি হলো।(ইতি) -বৃষ্টি! কই আজ তো ঢাকার কোথাও বৃষ্টি হয়েছে বলে খবরে দেখলাম না। -সবই কি তোমার খবরে দেখাবে নাকি? তারচেয়ে তুমি দেখো আমি কি সুন্দর একটা জিনিস এনেছি। টানতে টানতে মাকে নিয়ে গেলো আয়নার কাছে। ইতির মা আয়নাটাকে আগেও দেখেছেন। তার মনে পড়ে গেলো। এই সেই আয়না যা ইতির বাবা বিক্রি করে দিয়েছিলো বহু বছর আগে, তখনো ইতির জন্ম হয়নি। মিসেস সাবেরা ইতিকে বললেন আয়না ফেরত পাঠাতে,কারণ এই আয়না আবার বাড়িতে আনা হয়েছে দেখলে রেগে যেতে পারেন ইতির বাবা তানজীম আহমেদ। কিন্তু ইতি নারাজ। তার এই আয়না চাই ই চাই। ইতির জেদের কাছে পরাজিত হলেন মিসেস সাবেরা। আয়নাটাকে ইতির রুমে ঠিক আগের জায়গায় সেট করা হলো। ইতির ভাইও আয়নাটা পছন্দ করেছে, যে দেখবে সেই পছন্দ করবে। ইতির বাবা বাড়ি এসে ইতির মায়ের কাছে সব শুনে মেয়ের রুমে গেলেন। মেয়েকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেন যেন এ আয়না ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু ইতিও বলে দিলো এ আয়না ফেরত দেওয়া হলে সে খাওয়া,কলেজ সব বাদ দেবে। আর ও একবার যা বলে তাই করে। কাজেই আয়না ফেরত দেওয়ার চিন্তা বাদ দিতে হলো তানজীম আহমেদকে। মেয়েকে বড্ড ভালোবাসেন তিনি। কিন্তু কেন এতো ভয় তার? তবে কি অন্য কোন কারণ আছে যার কারণে ইতির বাবা আয়নাটাকে রাখতে চান না? ইতির কথা মেনে নিলেও অনেক চিন্তিত ইতির বাবা। ইতির মা কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছে আয়না রাখলে কি সমস্যা? তাছাড়া এটা তো অনেক আগে থেকে এই বাড়িতে ছিলো একসময়, এমন কি হলো যে এটা বাড়িতে রাখা যাবে না? সব প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন তানজীম আহমেদ। রাতে খাওয়ার টেবিলেও কারো সাথে কথা বললেন না তিনি। দুশ্চিন্তার মেঘ ভর করেছে তার মনে। খাওয়ার পরে সবাই সবার রুমে শুতে চলে গেলো। . নিজের রুমে এসে বিছানায় বসে আয়নায় বার বার নিজেকে দেখছে ইতি। কি এক নেশা। ইতি অনেক ক্লান্ত থাকায় ঘুম পাচ্ছিলো ওর। তাই কিছুক্ষণ পর শুয়ে পড়লো ও। শোয়ার সাথে সাথেই ঘুম। . রাত ২ টা। ইতির বাবা গভীর ঘুমে মগ্ন। কিন্তু জেগেই আছেন মিসেস সাবেরা। ইদানীং রাতে তার ঘুম হচ্ছে না। হঠাৎ ইতির ঘর থেকে ভেসে আসলো গোঙানির আওয়াজ। ইতির বাবাকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে ইতির রুমে গেলো ইতির মা। রুমে গিয়ে যা দেখলো তা দেখার জন্য একদম প্রস্তুত ছিলেন না তারা! আয়নার সামনে মেঝেতে পড়ে আছে ইতি আর গোঙাচ্ছে। ওর পায়ের কাছে পড়ে আছে একটা চিরুনি। মিসেস সাবেরা বেগম ছুটে গেলেন ইতির দিকে। ইতির চোখ বন্ধ। গায়ে হাত ছোয়াতেই দেখলেন ভীষণ গরম। গায়ের তাপমাত্রা থেকে মনে হচ্ছে ১০৩-১০৪ডিগ্রী জ্বর। ইতির বাবা আর মা মিলে ইতিকে মেঝে থেকে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিলেন। ইতি ঘোরের মধ্যে আছে। অস্পষ্ট ভাবে কিছু বলে চলেছে। মিসেস সাবেরা শোনার চেষ্টা করলেন কি বলে ইতি। সামান্য বোঝা গেলো। ইতি বলছে,"আমাকে ছেড়ে দাও,তুমি আসবে না।" মিসেস সাবেরা ভাবলেন জ্বরের ঘোরে ভুলভাল বলছে মেয়ে। -ইতি, এই ইতি, তাকা মা।(মিসেস সাবেরা) এভাবে তিন চার বার ডাকার পরে ইতি চোখ মেললো। -কি হয়েছিলো তোর?(ইতির বাবা) -জানি না। ঘুমের মধ্যে একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম। তারপর সারা শরীরে যন্ত্রণা।(ইতি) -এসব কথা কালকেও শোনা যাবে। তুমি যাও তো ওষুধ নিয়ে এসো। (ইতির মা) ইতির বাবা ওষুধ নিয়ে এলেন। ওষুধ খেলো ইতি। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। ইতির বাবা-মা আর নিজের ঘরে না গিয়ে মেয়ের সাথেই থাকলেন সে রাতটা। . পরদিন সকালেঃ ইতির জ্বর কমেছে। এখন নেই বললেই চলে। আজ সে স্কুলে গেলো না। বাবা অফিসে গেলো।ইতি ওর মায়ের সাথে বসে গল্প করছে। -তুই কাল রাতে কী দেখেছিলি স্বপ্নে?(মা) প্রশ্ন শুনে ভয় মুখ শুকিয়ে গেলো ইতির। -অনেক ভয় পেয়েছিলাম মা। স্বপ্নে দেখলাম যে আমি আমার ঘরের আয়নার সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছি। আয়নায় আমাকেই দেখা যাচ্ছিলো। কিন্তু একসময় আয়নার অন্য একটা মেয়ের মুখ দেখতে পেলাম। কি ভয়ংকর মেয়েটা! চোখগুলো বেরিয়ে আসতে চাইছে, ঠোঁট কাটা, দাঁত গুলো দেখা যাচ্ছিলো-রক্তমাখা লাল দাঁত, সমস্ত শরীরে ক্ষত চিহ্ন। গায়ে সূচ বিধানো এখানে ওখানে। মাথা ফেটে রক্ত পড়ছিলো, পেটে ছুরি ঢোকানো। উফ! মনে পড়লেই গা গুলিয়ে ওঠে। মেয়েটা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো আমার দিকে। হঠাৎ করে কথা বলে উঠলো। বললো-"আমি আসবো, আমার আসার সময় হয়েছে। সব বুঝিয়ে দেবো। আমি আসছি....ইতি প্রস্তুত হও..." এটা বলেই মেয়েটা ওর দুটো হাত বাড়িয়ে দিলো আমার দিকে। আমি চাইছিলাম ছুটে পালাতে কিন্তু এক অদৃশ্য মায়াবলে আমি কিছুতেই আয়নার সামনে থেকে উঠতে পারলাম না। মেয়েটার ডান হাত ভর্তি সূচ। বা হাতে সে আমার গলা টিপে ধরলো। শব্দ করতে পারছিলাম না। শুধু গো গো আওয়াজ বের হচ্ছিলো গলা দিয়ে। তারপর ডান হাতে থাকা সূচ গুলো আমার শরীরে বিঁধিয়ে দিতে লাগলো। আমার কাছে পুরোটাই বাস্তব মনে হচ্ছিলো। খুব যন্ত্রণা দিয়ে ও আমাকে মারতে চায় মা। তারপর কি হয়েছে আমার আর মনে নেই। কেঁদে ফেললো ইতি। এতো ভয় জীবনে কখনো পায়নি আগে। ইতিকে জড়িয়ে ধরলো মিসেস সাবেরা। বহু কষ্টে মেয়ের কান্না থামিয়ে ভয় দূর করলেন তিনি। -আসলে ব্যাপারটা হলো তুই সবসময় ভূতের গল্প পড়িস আর তোর বাবা আয়নাটা রাখতে দিতে চেয়েছিলো না তাই তুই এমন স্বপ্ন দেখেছিস। এখন দেখ গিয়ে আয়নাটা ঠিকই আছে।(মা) -আচ্ছা মা।(ইতি) -তুই কালকে রাতে শোয়ার আগে চুল আঁচড়িয়েছিলি বা চিরুন বের করেছিলি? -না তো। কেন মা? -এমনি রে। ঘরে যা। আমি দুপুরের রান্নাটা সেরে নেই। ইতি ঘরে চলে গেলো। মিসেস সাবেরা একটা জিনিস কিছুতেই মেলাতে পারছেন না। স্বপ্নে ইতি চুল আড়াচ্ছিলো ঠিক আছে, কিন্তু তিনি যখন ইতির ঘরে গেলেন তখন ইতির পায়ের কাছে চিরুনি কিভাবে আসলো? চিরুনি তো থাকে ইতির ড্রয়ারের মধ্যে! ইতি নিজেই বলেছে রাতে চিরুনিটা বের করা হয়নি। কিছু একটা হচ্ছে। মায়ের মন বলে কথা। কিন্তু কি হচ্ছে তিনি বুঝতে পারছেন না। এদিকে ইতির বাবার আয়নাটার প্রতি বিদ্বেষ। কাল রাতে ইতি যখন তাদের পাশে শুয়ে ঘুমাচ্ছিলো তখন ইতির বাবা বলেছিলো-'তোমাকে আর ইতিকে কত করে বারণ করলাম আয়নাটা রেখো না। বললাম ইতিকে বোঝাও। তোমরা মা-মেয়ে আমার কথা তো কানে তুলবে না। আজ যদি ইতির ভালোমন্দ কিছু একটা হয়ে যেতো তাহলে কি করতে?' তখন মিসেস সাবেরা জানতে চেয়েছিলেন আয়নাটার কি দোষ? কথাটা এড়িয়ে যান ইতির বাবা। -বাদ দাও। তুমি ইতির কাছে স্বপ্নের ব্যাপারে জানতে চেও। এখন ঘুমাও। স্বামীর এরকম কথা আর ইতির স্বপ্ন ভাবাচ্ছে ইতির মাকে। তিনি বাহিরে স্বাভাবিক থাকলেও ভেতরে ভেতরে দুশ্চিন্তা করছেন। . ইতি নিজের ঘরে এসে আয়নাটা দেখলো। কোথায় অস্বাভাবিক কিছুই নেই। আয়নায় নিজেকে দেখতে দেখতে ইতি অনেকটা সহজ হয়ে এলো। গতরাতের স্বপ্ন এখন নিছকই দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে ইতির কাছে। সারাদিন ভালোই কাটলো ইতির। . অন্যদিকে ইতির বাবা,তানজীম আহসান বাড়ি ফিরলে মিসেস সাবেরা তার কাছে ইতির স্বপ্নের ব্যাপারটা বললেন। শুনেই উত্তেজিত হয়ে উঠলেন তিনি। তার চোখেমুখে আতংক। -এই আয়না আজই আমি ফেরত পাঠাবো। (তানজীম আহসান) -আয়না থাকলে কি সমস্যা? তুমি খুলে বলবে?(মিসেস সাবেরা) -তুমি দেখছো না আয়নাটা আসার পরে কি ঘটলো আমাদের মেয়ের সাথে?(তানজীম) -এটা কাকতালীয় ব্যাপার। ইতি কিছুতেই রাজি হবে না। (সাবেরা) -রাজি না হলেও করার কিছু নেই। আমি জোর করেই আয়নাটা ফেরত দেবো।(তানজীম) চেঁচামিচির আভাস পেয়ে ইতি আর ওর ভাই বাবা-মায়ের রুমে চলে আসলো। -এই আধুনিক যুগেও একটা আয়না নিয়ে এতো ভয় পাচ্ছো বাবা?(ইতির ভাই) -ভাইয়া ঠিকই বলেছে। বাবা তুমি একজন ডাক্তার হয়ে এরকম করছো কেন?(ইতি) ছেলে-মেয়ের কথার কাছে আবারো হার মানলেন তানজীম আহমেদ। তবে তিনি বলে দিলেন ইতি যদি আবার এরকম স্বপ্ন দেখে তাহলে আয়নাটা কিছুতেই রাখা হবে না বাড়িতে। ইতিও শর্তটা মেনে নিলো। . পড়াশোনা সেরে রাত ১২ টায় শুতে গেলো ইতি। আজ রাতেও স্বপ্ন দেখলো ইতি। তবে সেই স্বপ্নটা গতদিনের চেয়ে একটু ভিন্ন। আজ রাতের স্বপ্নে সেই ভয়ংকর মেয়েটা শুধুই তাকিয়ে ছিলো ইতির দিকে আর হাত দিয়ে ডাকছিলো। ইতি আজকেও ভয় পেয়েছে,কিন্তু জ্বর আসেনি। ও ঠিক করলো বাবা- মাকে কিছুতেই বলা যাবে না স্বপ্নের কথা। বাবা যদি জানতে পারে তাহলে আর আয়নাটা রাখা হবে না। তাই কেউ স্বপ্নের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে মিথ্যা বলবে সে। যত যাই হোক কেন আয়নাটা হারাতে চায় না ইতি। . সকালবেলাঃ -ঘুম থেকে উঠতে দেরি হলো কেন? শরীর ঠিক আছে তো?(তানজীম আহসান) -হ্যা বাবা। -ইতি তোর ভাইয়াকে নিয়ে ওর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবো আমরা। তাই ভাবছি তোকে তোর খালার বাসায় রেখে যাবো। তুই সেই চট্টগ্রাম যেতে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়বি। একদম জার্নি করতে পারিস না তো তুই।(মিসেস সাবেরা) -আমি বাসাতেই থাকবো।(ইতি) -কি বলিস? তোকে বাসায় একা রেখে যাওয়া যাবে না। (তানজিম আহসান) -উফ!তুমি কি আয়না নিয়ে ভয় পাচ্ছো? আজ তো আমি স্বপ্ন দেখিনি। (ইতি) স্বপ্ন দেখেনি শুনে হাফ ছেড়ে বাঁচলেন ইতির বাবা। -তোর বাবা ঠিকই বলেছে। একা থাকা চলবে না।(মিসেস সাবেরা) -ইতি তো এর আগেও একা থেকেছে মা। সব অভিজ্ঞা অর্জন করতে হয়। (ইতির ভাই) -ঠিক বলেছিস ভাইয়া। আমি আমার বান্ধবীদের ডেকে নেবো। গতবার তোমরা যখন গেলে তখনও তো ওদের ডেকেছিলাম। কাজের খালাকে বলে দেবো রাতে আমাদের সাথে থাকতে,তাহলে তো আর চিন্তা থাকলো না। (ইতি) অনেক কথা বার্তার পর ইতিকে বান্ধবীদের সাথে থাকতে দিতে রাজি হলেন ইতির বাবা-মা। বাবা মায়ের ব্যাগ গুছিয়ে দিলো ইতি। তারা মোট দুই দিন চট্টগ্রামে থাকবে ইতির চাচার বাসায়। বান্ধবীদের ফোন করে রাজি করালো। তাদের বাবা-মা অবশ্য আপত্তি করেনি কারণ তারা জানেন ইতির বাড়িতে কোন সমস্যা হবে না তাদের মেয়ের। বেশ ব্যস্ত সময় পার করলো। ইতি শুয়ে আছে। সকাল সাতটায় বাবা-মায়ের গাড়ি। বান্ধবীরা স্কুল থেকে সারাসরি ওর সাথেই বাসায় আসবে। "আজ কি কোন স্বপ্ন দেখতে পাবো?",ভাবছে ইতি। এটা যেন খুব স্বাভাবিক। স্বপ্ন না দেখলেই বরং খারাপ লাগবে ইতির। মেয়েটাকে জানার এক টান অনুভব করে ইতি। কে সে? এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলো। আজও স্বপ্ন জগতে প্রবেশ করলো ইতি। কিন্তু আজকের স্বপ্নটা একদম অন্যরকম প্রথম দুই দিনের থেকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আয়না বলয়-০৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now