বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আয়না বলয়-০২

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X -কিরে ইতি তোর আসতে এতো দেরি হলো যে? (পলি) -নিশ্চয় আন্টির সাথে কথা বলতে বলতে দেরি করে ফেলেছিস? (মিলু) -হুম। মা তো রোজ বের হওয়ার সময় একবার করে বলে যে অ্যান্টিকের দোকানে যেন না যাই। আজও তাই। (ইতি) -তাহলে আজ যাচ্ছিস না আমাদের সাথে? (আদ্রি) আসলে ইতি না থাকলে ওদের মজাটাই নষ্ট হয়ে যায়। ইতি আছে বলেই এতো প্রাণচঞ্চল থাকতে পারে ওরা। -যাবো তো। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকা যাবে না রে, মা এই শর্তেই যেতে অনুমতি দিয়েছে।(ইতি) -হুম, আন্টি তোর কথা শুনবে না এটা আবার হয় নাকি! আজ পর্যন্ত কোন কিছুতেই তো তোকে বারণ করেননি।(রোজ) -একদম ঠিক বলেছিস রোজ।(জিনিয়া) -চিন্তা করিস না ইতি। দোকানটা আমাদের কলেজ থেকে বেশি দূরে নয়। আর দোকান থেকে তোদের বাসায় যেতেও খুব বেশি সময় লাগবে না।(মিলু) -সে যাই হোক। আমি মাকে ম্যানেজ করে নেবো একটু দেরি হলে। (ইতি) -তোরা সবাই বাসায় বলে এসেছিস তো ফিরতে দেরি হবে? (ইতি) -হ্যা,সবাই জানিয়েই এসেছি।(রোজ) -আমার তো তর সইছে না। আজ আমি অনেক কিছু কিনবো।(জিনিয়া) -তুই কবেই বা কম কিনিস শুনি? খাওয়াদাওয়াও বেশি করিস জিনিসপত্র বেশি কিনিস। (পলি) সবাই সমস্বরে হেসে উঠলো। -ইতি তুই কি কিনবি?(আদ্রি) -আয়না কিনবো।(ইতি) -আবারো আয়না? তুই তো প্রত্যেকবার একটা করে আয়না কিনিস। আয়না দিয়ে কি পুরো ঘরটাই ভরিয়ে ফেলবি নাকি?(আদ্রি) -আরে একটা দেওয়াল আয়না কিনবো,বহু দিনের শখ। (ইতি) -হ্যা, এটাই বাকি ছিলো আরকি। পড়ালেখা বাদ দিয়ে সারাদিন নিজেকেই দেখতে থাকবি এবার।(জিনিয়া) -আমি মোটেও পড়াশোনা বাদ দিয়ে আয়না দেখি না।(ইতি) -দেখিস তোর এই আয়না প্রীতি যেন কাল হয়ে না দাঁড়ায়। কবে যে আয়না থেকে ভূতুড়ে আয়না হয়ে যাবে কে বলতে পারে। (জিনিয়া) বলেই হাসতে শুরু করলো জিনিয়া। ওর দেখাদেখি মিলু আর পলিও হাসা শুরু করলো। কিন্তু ইতির কাছে এই রসিকতাটা মোটেও ভাল লাগলো না। ও গোমড়া মুখে বসে থাকলো। -এই তোরা যে কি! শুধু অবাস্তব কথা বার্তা।(রোজ) -কয়টা বাজে সে খেয়াল আছে তোদের?(আদ্রি) -আচ্ছা অনেক হয়েছে হাসা হাসি। ক্লাসের সময় হয়ে গেছে ক্লাসে চল সব। না হলে ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। (ইতি) -হ্যা চল। (মিলু) সবাই ক্লাসে ঢুকে যে যার জায়গায় বসে পড়লো। এক মিনিট পরেই বাংলার অধ্যাপক ক্লাসে ঢুকলেন। আর একমিনিট দেরি হলেই ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো ওদের। বিকাল তিনটায় ক্লাস শেষ হলো। সকালের দিকে ঝলমলে রোদ থাকলেও এখন রোদের চিহ্ন টুকু নেই। আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা। -এই বৃষ্টি নামতে পারে যাবি তোরা দোকানে?(ইতি) -হ্যা, বেশিক্ষণ লাগবে না।(আদ্রি) -আচ্ছা, চল অটোতে করে যাই। মিলু জায়গা চিনিয়ে দিতে পারবে সমস্যা হলে।(রোজ) -আমি আগে যাইনি দোস্ত। ভাইয়া খোঁজ দিয়েছে।(মিলু) -সমস্যা নাই, অটোওয়ালাকে ঠিকানা বললেই চিনবে।(জিনিয়া) -হুম। (ইতি) সবাই অটো নিয়ে অ্যান্টিকের দোকানের দিকে রওনা দিলো। আধাঘণ্টা পরে অটো এসে থামলো একটা সরু গলির সামনে। ভাড়া মিটিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়লো সব। গলির শেষ মাথায় একটা একতলা বাড়ি দেখা যাচ্ছে। গলি ধরে এগিয়ে যাচ্ছে ওরা। জায়গা নির্জল। রাস্তায়ও মানুষজন বেশি দেখেনি। এদিকে আগে কখনো আসাও হয়নি কারো। ঢাকা শহরেও যে এতো নির্জল জায়গা থাকতে পারে তা কল্পনাও করেনি ওরা। -এই মিলু, তুই ঠিক জানিস তো এটাই সেই দোকান?(আদ্রি) -হ্যা রে, এটাই। ভাইয়া তো এই ঠিকানাই বলেছে। (মিলু) -দেখে তো মনে হচ্ছে এখানে কেউ থাকে না।(পলি) -আর বাড়িটাও ভাঙাচোড়া দেখেছিস?(রোজ) -তাই তো দেখছি। মনে হয় দোকানের অ্যান্টিক জিনিস গুলোর মতো বাড়িটাও অ্যান্টিক। এটাও বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা। হি হি হি.... (জিনিয়া) -উফ!জিনিয়া তুই আবার ফাজলামি শুরু করলি?(ইতি) -ভয় পেয়ে গেলি নাকি?(জিনিয়া) -আমার কিন্তু কেমন গা ছমছম করছে। আমরা তো এর আগেও বহু অ্যান্টিকের দোকানে গেছি এরকম তো দেখিনি। চল ফিরে যাই।(আদ্রি) -মিলু তোর ভাইয়া এই দোকানের খবর কিভাবে জেনেছে রে? (রোজ) -আমি কি এতসব জানি নাকি? ভাইয়াকে বলেছিলাম খোঁজ দিতে, খোঁজ দিয়েছে, আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি।(মিলু) -ঢুকেই দেখি না। তোরা এতো ভয় পাস কেন?(পলি) -হুম, চল ভেতরে যাই। ভেতরে কেউ না কেউ তো আছে অবশ্যই।(ইতি) -ঠিকই তো। এতদূর এসে ফিরে যাবোই বা কেন? আমরা ছয়জন একসাথে থাকতে কিসের ভয়।(পলি) দোকানের দরজা খোলাই আছে। একে একে ভেতরে ঢুকে পড়লো ছয়জন। ভিতরে আলো আধারের খেলা। একটা অল্প আলোর ঝাড়বাতি ঝুলছে ছাদ থেকে। ওটা যেন অন্ধকার বাড়িয়ে দিচ্ছে আরো। ভেতরে ঢুকে কাউকেই দেখতে পেলো না কেউ। হঠাৎ করেই প্রবল বেগে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো বাইরে। এখনই বৃষ্টি শুরু হওয়ার ছিলো?(আদ্রি) ইতি মুখে একরাশ বিরক্তির রেখা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। -যে বৃষ্টি এখন তো বেরও হতে পারবো না। কেন যে এলাম।(রোজ) -কেউ কি আছেন?(ইতি) বেশ জোরে চিৎকার করে ডাকলো সে। নাহ কোন সাড়াশব্দ নেই। -ওই দেখ(একটা ছোট্ট দরজার দিকে নির্দেশ করলো জিনিয়া) -আরে একটা দরজা! আমার মনে হয় দোকানের মালিক ওই রুমেই আছে। (মিলু) -এভাবে দোকান খোলা রেখেই ভেতরে চলে গেছে! জিনিসপত্র তো চুরিও হতে পারে।(রোজ) -আমার মনে হয় ভেতরে ঢুকে ঘুমাচ্ছে।(জিনিয়া) -ভেতরে ঢুকে দেখবি?(ইতি) -ধুর, এটা ঠিক হবে না।(আদ্রি) ওরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে থাকলো কি করা যায়। এদিকে বৃষ্টিও থামার নামগন্ধ নেই। থেকে থেকেই বিজলি চমকাচ্ছে। ওদের আলোচনা চলাকালীন অবস্থায় খুলে গেলো সেই ছোট্ট দরজা। দরজা খোলার শব্দে একসাথে সবার চোখ গেলো সেদিকেই। বেরিয়ে এসেছে এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক । বয়স ভালোই হয়েছে তার। সাদা চুল। মুখের বড় বড় দাঁড়িতে চেহারা ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে না। কোটরাগত চোখ ভাটার মতো ধিকিধিকি জ্বলছে। বেশ ভয় পেয়ে গেছে মেয়ে গুলো। -তোমরা কারা? কি চাই? (বৃদ্ধ) -আ...আমরা আসলে আপনার দোকানের অ্যান্টিক সামগ্রী গুলো দেখতে এসেছি। (ইতি) বেশ অপ্রস্তুত হয়ে উত্তর দিলো ইতি। লোকটা এভাবে চলে আসায় কি বলবে বুঝে উঠতে পারছিলো না কেউ। ইতি উত্তর দেওয়ার সাথে সাথেই পলি কথা বলে উঠলো.. -আসলে এখানে এসে কাউকে না পেয়ে বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিৎ। (পলি) -ও তাই। এই দোকানের ঠিকানা কোথায় পেলে তোমরা?(বৃদ্ধ) -আমার ভাই জানিয়েছে। (মিলু) -তোমার ভাইকে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিও। (বৃদ্ধ) অদ্ভুত কন্ঠস্বরে কথা গুলো বলো বুড়ো লোকটা। -এখানে আলো এতো কম কেন? (পলি) প্রশ্নটা করেই ফেললো ও। -তোমাকে এতকিছু নিয়ে ভাবতে হবে না। (বৃদ্ধ) কঠোর সুরে জবার দিলো বুড়ো। তার কথা আমলে না নিয়ে রোজ প্রশ্ন করলো, আমরা কি জিনিস গুলো দেখতে পারি? -অবশ্যই। আয়না আছে ওই দিকে!(বৃদ্ধ) -আয়না! আপনি কিভাবে জানলেন আমরা আয়না দেখতে ইচ্ছুক? (ইতি) (অবাক হয়ে) অবাক হয়েছে সবাই। এই বুড়োর আচার আচরণ কেমন সন্দেহজনক। কিন্তু বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত যেতেও পারবে না। -মেয়েরা আয়না একটু বেশিই পছন্দ করে, তাই নয় কি?(বৃদ্ধ) -সবাই যে আয়না পছন্দ করবে তা তো না।(আদ্রি) উত্তরে কুৎসিত ভাবে হাসলো বুড়ো। -তাহলে চলো তোমাদের আয়না দেখিয়ে আনি।(বৃদ্ধ) কথা না বাড়িয়ে বৃদ্ধের পিছুপিছু হাটতে থাকলো মেয়েরা। রুমটা অনেক বড়। পুরনো জিনিসে ঠাসা। কোথায় রাখা পুরনো আলমারি, পুরনো দিনের কলমদানি, কলম, চেয়ার টেবিল,বাক্স,ছুরি,ঘড়ি,তৈজসপত্র, ফুলদানি আরো অনেক বাহারি জিনিস। একটা জায়গায় এসে থামলো বৃদ্ধ। থরে থরে সাজিয়ে রাখা দেওয়াল আয়না,ড্রেসিং টেবিল, ছোট আয়না। চমৎকার সেগুলোর ডিজাইন। কাঠের, স্টিলের আরো নানা ধাতুর ফ্রেমে আয়না বসানো, সোনা এবং রূপার আয়নাও আছে। ইতি সব ভুলে উৎফুল্ল হয়ে উঠলো এক নিমিষে। এতো আয়না আগে একসাথে দেখেনি ওরা। -এত্ত আয়না! কি সুন্দর সব গুলো! (ইতি) -আমি তো এতো আয়না একসাথে কখনো দেখিনি। (মিলু) বুড়ো নিঃশব্দে হাসছে। কিন্তু তা কেউ খেয়াল করলো না। আয়না দেখায় মত্ত সবাই। ইতির চোখ পড়লো বেশ দূরে রাখা একটা আয়নার দিকে। অনেক বড় একটা দেওয়াল আয়না যার সামনে দাঁড়ালে নিজেকে পুরোপুরি দেখা যাবে। এরকম একটা আয়নাই চায় ইতি। আয়নাটা দেখতেও অসাধারণ। রূপার ফ্রেমের মধ্যে আয়না বসানো। রূপার মধ্যে ফুলের ডিজাইন। ফুলগুলো তৈরি করা হয়েছে সোনা দিয়ে। অন্ধকারের মধ্যেও ঝিকমিক করছে সেগুলো। উপরের দিকে দামী গোল গোল পাথর বসানো। আয়নার নিচের দিকে সুন্দর ডিজাইন করা। দেখে মনে হচ্ছে এটা কোন রাজবাড়ির আয়না। রাজকীয় ডিজাইন। আয়নার কাচটা একটু ময়লা, তবে ভালোভাবে পরিষ্কার করালে ঝকঝকে হয়ে যাবে। আরেকটা জিনিস খেয়াল করলো ইতি, সহসাই যেন আয়নাটা থেকে কেমন আলো ঠিকরোচ্ছে। তবে এই দোকানের অন্যসব আয়নার তুলনায় এই আয়নাটাই সবচেয়ে নজর কাড়া। আরো সোনার আয়নাও আছে সেগুলো এটার কাছে কিছুই না। সবগুলোর সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে গেছে এটি। -দোস্ত, দেখ তো এই আয়নাটা কেমন মানাবে আমার ঘরের দেওয়ালে? (ইতি) -ভীষণ সুন্দর। (পলি) সবাই একবাক্যে স্বীকার করলো এই আয়নাটাই সেরা। এটা ওদের কারো চোখে পড়েনি এতক্ষণ, প্রথম ইতিই দেখেছে। -শুনুন,ওই আয়নাটার দাম কত? (ইতি) -কোনটা? (বৃদ্ধ) -ওই যে ওইটা।(আয়না দেখিয়ে)(ইতি) -তুমি ওটা নিতে চাও?(বৃদ্ধ) বৃদ্ধ লোকটার মুখে হাসি। -নেওয়ার জন্যই তো জিজ্ঞেস করেছে।(জিনিয়া) -এখন বলুন দাম কত রাখবেন?(ইতি) -তুমি যা খুশি দাও। -এই আয়নার দাম তো অনেক হবে। আপনি দাম বলুন।(আদ্রি) -বললাম তো যা খুশি দাও। তোমাদের দেখে তো ছাত্রী মনে হচ্ছে। আমি দাম চাইবো না।(বৃদ্ধ) -৭,০০০ টাকা দিলে হবে? -হুম,দাও। এতো কম দামে বুড়ো আয়নাটা দিতে রাজি হবে ওরা ভাবতেও পারেনি। এই আয়নার দাম কম করে হলেও ১৬,০০০ হবে বা তারচেয়েও বেশি। তবে নিজের পছন্দের জিনিস এতো কম দামে পাওয়ায় আনন্দে আর কিছুই চিন্তা ভাবনা করলো না ইতি। ওর আয়না ও পেয়েছে আর ভেবে কি হবে। -আচ্ছা, এই নিন টাকা। (ইতি) -এতো বড় আয়না নিবি কিভাবে তুই?(মিলু) -এটাই তো ভাবছি।(ইতি) ইতোমধ্যে বৃষ্টি কমে এসেছে। প্রকৃতিও যেন চায় আয়নাটা তাড়াতাড়ি তার নতুন বাড়িতে যাক! -আংকেল, একটা গাড়ি জোগাড় করে দিতে পারবেন আয়নাটা নেওয়ার জন্য?(ইতি) বৃদ্ধর কাছেই শেষ পর্যন্ত সাহায্য চাইতেই হলো। -দেবো না কেন? এখনই ব্যবস্থা করছি। (বৃদ্ধ) এই কথা বলেই বৃদ্ধ বাহিরে চলে গেলো গাড়ি নিয়ে আসতে। বোঝাই যাচ্ছে আয়না বিক্রি করতে পেরে বৃদ্ধ খুব খুশি। বৃদ্ধ চলে যেতেই ইতি এগিয়ে গেলো আয়নার দিকে। আয়নাটা স্পর্শ করলো আর সাথে সাথে আকাশ কাঁপিয়ে বিদ্যুৎ চমকালো অথচ বাহিরে এখন আর বৃষ্টি হচ্ছে না!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আয়না বলয়-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now