বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আয়না বলয়-০১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আয়না বলয় ঐন্দ্রিলা আদ্রি (চিত্রা) ১ম পর্ব জেনারঃ হরর ‘আমার দিকে তাকাবে না, চলে যাও তুমি, চলে যাও,’ সজোরে চিৎকার করে চলেছে ইতি। ‘মা, ও মা আমাকে বাঁচাও। ও আমাকে নিয়ে যেতে চায়।’ কিছুতেই থামছে না ইতির চিৎকার। সারা ঘরময় প্রতিধ্বনিত হয়ে সে চিৎকার আরো ভয়ংকর শোনাচ্ছে। চেঁচামেচি শুনে রান্নাঘর থেকে ছুটে এলেন ইতির মা মিসেস সাবেরা বেগম। এসে দেখলেন তার মেয়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় হাত পা ছুড়ছে আর তারস্বরে চেঁচিয়ে যাচ্ছে। হাত কেটে রক্ত চুইয়ে পড়ছে, এদিকে ইতির কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি ইতির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি হয়েছে মা তোর? ভয় পেয়েছিস?’ -আয়না! মা ওই দেখো আয়না। ওই...ওই মেয়েটা আমাকে নিয়ে যাবে। মিসেস সাবেরা এদিক ওদিক তাকিয়ে তার ছেলের ঘরের পাশে বড় একটা ড্রেসিং টেবিল দেখতে পেলেন। এদিকে ইতির চিৎকার বেড়েছে। তিনি দ্রুত একটা কাপড় দিয়ে ড্রেসিংটেবিলের আয়নাটা ঢেকে দিলেন। -ইতি মা আমার, দেখো আয়না ঢেকে দিয়েছি। আর কিছুই আসবে না। শান্ত হ। -মা, ওটা আমাকে বাঁচতে দেবে না। আমাকে মরতে হবে। -এসব বলিস না। সব ঠিক হয়ে যাবে। কেউ মারবে না তোকে। কথাগুলো বলতে বলতে হাতের কাটা জায়গা পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিচ্ছেন তিনি নীরবে চোখের জল ফেলছেন। ইতির মা জানেন যে এটা ঠিক হওয়ার না কারণ গত পাঁচ বছর ধরে তো কত চেষ্টা করা হলো। কত ডাক্তার, কবিরাজ,ওঝা কিছুতেই কাজ হয়নি। তবুও এসব বলে মেয়েকে শান্ত করার চেষ্টা। এটা বলার পরে ইতি কিছুটা শান্ত হলো। সে এখন স্থির হয়ে বসে কি যেন বলছে আস্তে আস্তে। কি যে বিড় বিড় করে তা বোঝার উপায় নেই। ইতিকে সবসময় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। আগে ওকে ঘরেই বেঁধে রাখা হতো কিন্তু এখন রান্নাঘরের পাশে বেঁধে রাখা হয় যেন ওর মা মেয়ের দিকেও খেয়াল রাখতে পারেন। ওকে খোলা রাখলেই নিজের মনে হাটতে হাটতে বাইরে চলে যায়, দেখলে মনে হয় কোন কিছু যেন সম্মোহিত করে রেখেছে। আবার মাঝেমাঝে চিৎকার করতে করতে হাতের কাছে যা পায় তাই ছুড়তে থাকতো অদৃশ্য কোন কিছুর দিকে। একবার তো রাতে ঘুমের মাঝে উঠে ছাদে রওনা দিতো, ভাগ্যিস ওর বড় ভাই ছাদে বসে ছিলো। না হলে ওই দিনই ছাদ থেকে পড়ে মরতো মেয়েটা। তাই এই পাঁচ বছর যাবত ও এই বন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। যখন দরকার হয় ওর মা বাঁধন খুলে দেয় আর সঙ্গে থাকেন। মা আছেন বলেই রক্ষে। সবাই ভাবে ইতি মানসিক ভাবে অসুস্থ। সত্যি কি তাই? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোন অজানা রহস্য? ইতি বাড়ির কাউকে কাউকে চিনতে পারে না ওর মাকে ছাড়া। বাবাকে দেখলে তো গর্জে ওঠে। চোখের চাওনি হিংস্র রূপ ধারণ করে। প্রবল আক্রোশে বিকৃত হয়ে আসে মুখ। যা ইচ্ছে তাই বলে গালি দেওয়া শুরু করে। তাই পারতপক্ষে ওর বাবা তানজীম আহসান ওর সামনে আসেন না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার কোন এক অদ্ভুত কারণে আয়না দেখলেই ভয় পাওয়া শুরু করে ইতি। এই আয়না থেকেই সব কিছুর শুরু। আয়না দেখলেই চিৎকার করতে থাকে। ভয়ে রক্তশূন্য হয়ে ওঠে মুখ। আর বলতে থাকে-ও আসছে। ওই মেয়েটা আমাকে নিয়ে যাবে। কিন্তু কে যে এই অদৃশ্য 'ও' সেটা হাজার চেষ্টাতেও জানা যায়নি। এই আয়না ভীতি হঠাৎ করে আসেনি। এর পেছনেও রয়েছে পাঁচ বছরের পুরনো ইতিহাস। তখন থেকেই ইতি সারাক্ষণ চিৎকার চেঁচামেচি করে, আর স্বাভাবিক নেই সে, চেঁচামিচি না করলে সারাক্ষণ নিজের মনে কথা বলতে থাকে মেঝের দিকে তাকিয়ে। একবারও মুখ তুলে চায় না। সবসময় পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে বসে থাকে। আয়নাতে ভয় থাকার কারণে ইতির ঘরে ইতির আশেপাশে কোন আয়না রাখা হয়না। বাড়ির সব আয়না সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আজকে ইতি আয়না দেখেই এরকম চেঁচামেচি শুরু করেছে। আজকে এমন ঘটনা ঘটলো ড্রেসিংটেবিল এর জন্য, ওটা ওর বড় ভাইয়ের ঘরে রাখার জন্য আনা হয়েছে। নতুন বিয়ে করেছে সে, তাই ড্রেসিং টেবিল লাগবেই। যে গাড়িতে করে ওটা আনা হয়েছে সেই গাড়ির লোক সেটাকে ঘরে না ঢুকিয়ে ঘরের দরজার পাশে রেখেই চলে গেছে। সেটার আয়নার দিকে ইতির চোখ পড়তেই এতো সব কান্ড ঘটলো। কেন, কিভাবে এই আয়না ভীতি তৈরি হলো তা জানতে হলে আমাদের চলে যেতে হবে পাঁচ বছর পেছনে। সেখানেই আপনারা জানতে পারবেন কিছু অজানা কথা। হয়ত বিশ্বাস হবে না কিছুই। বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোটানার মধ্যে পড়তে হবে আপনাদেরকে। কিন্তু অলৌকিক কিছু হয়ত সতিই আছ। মরে গেলেও হয়ত অতৃপ্ত বাসনার মৃত্যু হয় না। আসুন জেনে আসি সেই অবিদিত রহস্য। ঘুরে দেখে আসি সেই অতীত জগত। ডুবে যাই কুহেলির মায়াজালে। পাঁচ বছর পূর্বেঃ ইতি বাবা মায়ের একমাত্র আদরের মেয়ে। সবার চোখের মণি। বড্ড ভালোবাসতো ওকে সবাই। ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে পড়তো তখন। লেখাপড়ায় খুব ভালো। ছোটবেলা থেকে ইতি খুব ডানপিটে স্বভাবের। ওর দুরন্তপনায় মাঝেমধ্যে ওর ভাই বিরক্ত হতো,তবে সেও ইতিকে কম ভালোবাসতো না। ইতির অভ্যাস ছিলো খুব কথা বলতো, কথা বলেই যে কারো মন ভালো করে দিতে ওর জুড়ি মেলা ভার। সাজগোজ করতেও ভীষণ পছন্দ করতো, অবসর পেলেই সময় কাটতো আয়নার সামনে। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো, নিজেকে দেখতো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে, যেন আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের সাথে নিজেই একাত্ম হয়ে যেতো। বিভিন্ন ডিজাইন এর ছোট ছোট আয়না সংগ্রহেও ছিলো ভীষণ ঝোক। আয়না রাখার জন্য আলাদা একটা টেবিলও ছিলো, সেখানে স্থান পেয়েছিলো দেশি-বিদেশি নানান রকম আয়না। ওর বাবা একবার একটা ছোট্ট আয়না এনে দেয় চীন দেশ থেকে যার বাইরেটা পাথরে তৈরি এবং ভেতরে বসানো ছোট্ট আয়না যা দিয়ে পুরো মুখ দেখা যায় না, সেটা সবসময় থাকতো ওর পার্সের ভেতর। খুব খুশি হয়েছিলো বাবার উপর অথচ বর্তমানে এই বাবাই ইতির চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতির আরেকটি শখ হলো অ্যান্টিক(Antic) বা পুরনো জিনিস সংগ্রহ করা। এসবের মধ্যে আয়না অবশ্যই অগ্রাধিকার পায়। ইতি এবং ওর কলেজের পাঁচ বান্ধবী (মিলু, পলি, জিনিয়া, রোজ, আদ্রি) মিলে তাই ঢাকা শহরের অলি গলিতে খুঁজে বেড়ায় অ্যান্টিকের দোকান। ছয়জন ছয়জনের প্রাণের বান্ধবী। চরিত্রগত দিক থেকেও মিল রয়েছে। সবার দুঃখ কষ্টের কথা শেয়ার করে একে অপরের কাছে। তবে ইতি ওদের দলের প্রাণ। ছয়জনই অ্যান্টিক বলতে পাগল। তাই অ্যান্টিকের দোকানের সন্ধান পাওয়া মাত্রই হানা দেয় সেখানে আর কিছু না কিছু কিনে তবেই বাড়ি ফেরে। এভাবেই হাসি,আনন্দে দিন কাটতো ইতির দিনগুলি কিন্তু এখন ওর পুরো জীবনটাই যেন বিভীষিকা। একদিন সকালেঃ -মা আমি কলেজে যাচ্ছি।(ইতি) -তাড়াতাড়ি ফিরবি কিন্তু। আজ আবার অ্যান্টিকের দোকান খুঁজতে নেমে পড়িস না।(মিসেস সাবেরা) -উফ! মা তুমিও না। সবসময় চিন্তা আর চিন্তা। -চিন্তা কি আর সাধে করি? তুই তাড়াতাড়ি বাড়ি আসবি এটাই শেষ কথা। -মা! -কি রে কিছু বলবি? -আজ না মিলু ফোন করেছিলো। ও একটা অ্যান্টিকের দোকানের খোঁজ পেয়েছে। ওখানে ভীষণ সুন্দর আর পুরনো সব আয়না পাওয়া যায়। আজ কলেজ শেষে যাবো মা? -না, কোথাও যাওয়া চলবে না। -প্লিজ, আমার লক্ষী মা, তুমি নিষেধ করো না। -আচ্ছা এসব পুরনো আয়না দিয়ে কি হবে শুনি? তোর ঘর ভর্তি কত আয়না আছে। -পুরনো জিনিসের কত্ত রকম ইতিহাস থাকে। কত হাত বদল হয়ে ওগুলো আসে, পুরনো জিনিসের যে ডিজাইন নতুন জিনিসে তা পাওয়া যায় না। এটা আমার নেশা, তুমি এটা বুঝবে না। আর তুমি তো জানো যে আমার একটা বড় আয়না কেনার শখ আছে যেটা দেওয়াল জুড়ে থাকবে আর আমি ওটার সামনে দাঁড়ালেই নিজেকে পুরোপুরি দেখতে পাবো। মেয়ের কথা শুনে হাসলেন মিসেস সাবেরা বেগম। তিনি মেয়ের কথায় না বলতে পারেন না কখনো। প্রথমে একটু জোরাজুরি করলেও মেয়ের দেখানো যুক্তির সামনে হার মানতে হয় তাকে। -তুই একদম তোর বাবার মতো হয়েছিস। তোর বাবারও একসময় এসব জিনিসের প্রতি আগ্রহ ছিলো। -তাই নাকি মা? বাবা তো আগে কখনো বলেনি। -তোর ভাই যখন খুব ছোট তখন প্রায়ই তোর বাবা পুরনো আসবাবপত্র কিনে আনতেন। -তাহলে সেসব গেলো কোথায়?এখন তো দেখি সবই নতুন। -তোর বাবা সব কিছু বিক্রি করে দিয়ে নতুন করে সব তৈরি করিয়েছেন। তার নাকি পুরনো জিনিসের প্রতি আগ্রহ কমে গিয়েছিলো। -কেন? তুমি বাবাকে জিজ্ঞেস করোনি? -না। তুই এখন যে রুমে থাকিস একসময় ওখানেই ছিলো তোর দাদুর আমলের একটা দেওয়াল আয়না। ঠিক তুই যেমন চাস। রাজকীয় আয়না বলতে যা বোঝায় ওটাও ছিলো তাই। তোর বাবাকে অনেক বলেছিলাম ওটি যেন বিক্রি না করে, কিন্তু তোর বাবা রাখেননি। -ইস্! আয়নাটা যদি থাকতো তাহলে আমার আর অ্যান্টিকের দোকানে যেতে হতো না। -এই তো পেয়ে গেলি একটা অজুহাত। (হাসতে হাসতে) -তাহলে আমি যাবো মা? -যাস, কিন্তু বেশি দেরি করবি না। -ঠিক আছে মা। তুমি খুব ভালো। -এই নে টাকাটা রাখ। যা পছন্দ হবে কিনিস। এই হলো ইতির মা। মেয়ের কোন আবদার অপূর্ণ রাখেন না। -মা আসি। -সাবধানে যাস। মেয়ে চলে যেতেই মিসেস সাবেরার মনের মধ্যে কেমন কু ডাকতে শুরু করলো। এর আগে এরকম কখনো হয়নি তো। তবে আজ কেন? তবে কি খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে? মন থেকে এসব চিন্তা সরিয়ে দিতে চাইলেও পারছেন না তিনি। তবুও নিজের কাজে মন দিলেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আয়না বলয়-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now