বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আতঙ্ক-০৩ (শেষ)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৩। রাতে হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই ঘুম ভাঙ্গে আমার। জানালাটা কে যেন খুলে রেখেছে, চমৎকার জোৎস্না এসে বিছানা ভাসিয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন আমি চাঁদের আলো দেখিনা, সময় কোথায়? মনটা কেমন যেন করে ওঠে। হাত বাড়িয়ে মাহিনকে আদুরে ভঙ্গিতে ডাকি, “এই, এই শুনছো?” মাহিন ঘুমের মাঝে গুঙিয়ে পাশ ফেরে। আমি বজ্রাহতের মত তাকিয়ে থাকি। মুনীর...আমার পাশে মুনীর শুয়ে আছে। পিঠের মাঝখান দিয়ে শিরশির করছে আমার, গলা শুকিয়ে কাঠ। বেডসাইড ল্যাম্পটা হাত বাড়ানো দূরত্বে থাকা সত্ত্বেও আমি পৌঁছাতে পারছি না। জান্তব গোঙানি বেরুচ্ছে আমার গলা দিয়ে, কাঁপছি থরথর করে। এসময়ই মুনীর অথবা মাহিন জেগে উঠলো। কোন কথা না বলে স্থির দৃষ্টিতে ও আমার দিকে তাকিয়ে রইল। এরপর আর কোন কিছু মনে নেই আমার। জ্ঞান ফিরলে আমি নিজেকে আবিস্কার করলাম চমৎকারভাবে সাজানো একটা হাসপাতালে। ডাক্তাররা এসে ভারী ভারী কথা বললো। আমার নাকি ব্লাড প্রেশার লো, রক্তশূন্যতা আরো কি কি যেন আছে। দিনের স্পষ্ট আলোতেও দেখলাম মুনীর আমার পায়ের কাছে দাঁড়ানো। মাহিন আর মুনীরের মাঝে এখন এক বিন্দু পার্থক্য নেই। আমি ডাক্তারকে বারবার বলার চেষ্টা করলাম যে ও মুনীর, মাহিন না। গাধা ডাক্তার কিছুই বুঝলো না। মুনীর কাছে এসে কপালে হাত রাখলো। বরফের মত ঠান্ডা সেই স্পর্শে আমি আবার চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারালাম। ৪। বাসায় ফেরার অনুমতির সাথে আমাকে দেয়া হয়েছে এক গাদা ঘুমের ঔষুধ। আমার নাকি অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার। কেউ কেন ধরতে পারছে না যে মুনীর এসে দখল করেছে মাহিনের শরীর। কি উদ্দেশ্যে এসেছে সে? প্রতিশোধ? সে কি আমাকে খুন করবে? কি দিয়ে করবে? আর্সেনিক? সেজন্যই কি আমার শরীর এরকম দুর্বল লাগে? স্টাডিতে বসে আমি গ্লাসের পর গ্লাস মদ গিলতে থাকি। দুই রুম পরেই মুনীর বসে আছে, ভাবতেই আমার বুক ধড়ফড় করে ওঠে। পুরো বোতলটাই খালি করে ফেলি একপর্যায়ে। অ্যালকোহলের গুণে কিছুক্ষণ পরে শান্ত শান্ত লাগে নিজেকে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি বাজে সন্ধ্যা সাতটা। মুনীররূপী মাহিনের এখন ছাদের কার্নিশে বসে বাতাস খাওয়ার সময়। আমি সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। মাহিন অথবা মুনীর একটা বেয়াড়া রডের সাথে হেলান দিয়ে উদাস ভঙ্গিতে বসে আছে। আমি পা টিপে টিপে পিছনে দাঁড়াই। ও টের পায়না। আমি সজোরে ধাক্কা দেই মুনীরকে। অবাক হয়ে দেখি আমার হাত দুখানা মুনীরের শরীরের ভেতর দিয়ে ঢুকে অন্য দিক দিয়ে বের হয়ে গেলো। আমি কিছু বোঝার আগেই ভরশূন্যতা অনুভব করি। আতংকের সাথে বুঝতে পারি টাল সামলাতে না পেরে আমি পড়ে যাচ্ছি ছাদ থেকে। বাতাস তার সমস্ত ভর নিয়ে চেপে বসেছে আমার ওপর, আমি শো শো করে পড়ছি নিচে। উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মুনীর কার্নিশে ভর দিয়ে হাসিমুখে আমার পতন দেখছে। চোখ বন্ধ করার আগমুহুর্তে আমার মনে পড়ে আজ ১৮ই সেপ্টেম্বর, মুনীরের মৃত্যুবার্ষিকী। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আতঙ্ক-০৩ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now