বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্মতৃপ্তি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ ছেলে (০ পয়েন্ট)

X . ক্লাস সেভেনে থাকতে যেই সুন্দরি মেয়েটার পিছে ক্লাসের বেশিরভাগ ছেলে লাইন মারত ওর নাম ছিল রিদি।মেয়েটা বর্তমান যুগের মেয়েদের মত আহামরি টাইপের সুন্দরি না হলেও তখনকার যুগ হিসেবে ছিল যথেষ্ট স্মার্ট।যেই সময়ে মেয়েরা চুলে বেনি করে স্কুলে যেতেও ভয় পেত সেই সময়টায় রিদি প্রতিদিন লাল লিপস্টিকে ঠোঁট ভিজিয়ে চুল উড়িয়ে স্কুলে আসত।ফলাফল ক্লাসের ৪,১৫,১৭,২৮,৩৯ রোলের মত গোটা দশেক ছেলে ওর পিছনে নিয়মিত ঘুরঘুর করত।আমাদের কাছে যখন দেড়শ টাকা দামের ক্যাসিও ঘড়ি পরাও বিলাসিতা মনে হত তখন রিদির কাছে কালোমত কি জানি একটা জিনিস দেখতাম যেটা দিয়ে ও ওর বান্ধবীদের গান শোনাত।পরে জানতে পারি ওটার নাম নাকি এমপি থ্রি।ওটা নাকি রিদির মামা বিদেশ থেকে রিদির জন্য কিনে এনেছিলেন যার দাম ছিল দুই হাজার টাকা!.. . ক্লাসের ফাস্ট বয় হওয়ার জন্য আমাকে সবাই একটু অন্যভাবে চিনত।কারো সাথে তেমন কথা বলতাম না।সবসময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম।তবে রিদির ওপর আমারও দুর্বলতা ছিল।সুযোগ পেলেই আমি ওকে আড়চোখে দেখতাম।আর ভাবতাম মেয়েটার চেহারা সত্যিই অনেক মায়াবী।সেই সাথে আমি এটাও লক্ষ করতাম যে রিদি আমাকে দেখছে কিনা।কিন্তু বারবারই হতাশ হতাম।রিদি ওর বান্ধবীদের সাথে সবসময় হাসাহাসি আর গল্প গুজব করা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকত। . আমার কাছে রিদি একদিন অংক স্যারের নোট খাতা নিতে এসেছিল।আমিও দেখলাম ওর আশেপাশে তেমন কেও নেই।আমি সুযোগ বুঝে ওকে বলেই ফেললাম,'শোন রিদি,একটা কথা বলতাম।তোমাকে না আমার অনেক ভালো লাগে তুমি যদি একটু ভেবে দেখতা..." আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই রিদি 'হো হো' করে হেসে উঠল।"এই নিয়ে তুই আমার বত্রিশ নাম্বার।শোন সামিউল বন্ধু আছিস বন্ধুর মতই থাক।বেশি কিছু হতে চাস না।আর তোর মত চারচোখা আনস্মার্ট ভ্যাবলাকান্তকে নিয়ে আর কি ভাবতে যাব।আর যদি বেশি কথা বলিস একদম স্যারের কাছে নালিশ দেব মনে রাখিস।" এই কথাগুলো বলেই রিদি হনহন করে চলে গেল।আমি ওর যাত্রাপথের দিকে হা করে চেয়ে থাকলাম... . আমার রিদিকে ভালো লাগে এই কথাটা স্যারদের কানে না গেলেও পুরো ক্লাসের কানে ঠিকই চলে গেল।ফলাফল যারা এতদিন রিদির পিছনে ঘুরত তারা একে একে আমাকে শাসিয়ে যেতে থাকল।শত্রু হয়ে গেলাম আমি তাদের।সেদিন ক্লাসের পরে সাইকেল নিয়ে বাড়ি আসছিলাম।হঠাত করেই কিছু সিনিয়ার ভাই সাইকেল থামাল।কোন কথা বলার আগেই স্টিলের স্কেল দিয়ে আমার পিঠে শপাশপ তিন চারটা বাড়ি মারল।'পরের বার রিদির দিকে চোখ তুলে তাকালে একদম চাকু ঢুকিয়ে দেব' এরকম হুমকি দিয়ে সেদিনের মত আমাকে ছেড়ে দিল ভাইয়েরা...আমি নির্বাক হয়ে বাসায় চলে আসলাম। . এই ঘটনার পরে অবশ্য রিদিকে আর কোন কিছু বলার সাহস পাইনি।চুপচাপ ক্লাস করে বাড়ি ফিরতাম।মাঝে মাঝে রিদির চোখে চোখ পড়লে চোখ নামিয়ে নিতাম একদম ভদ্র ছেলের মত।নাইনে আমি সাইন্স নিয়েছিলাম আর ও আর্টস।তাই ওর সাথে খুব একটা দেখাও হোত না।স্কুলের বিদায় দিবসের দিন রিদি শাড়ি পরে এসেছিল।খুব সাহস নিয়ে বলতে চেয়েছিলাম,'রিদি আজ তোমাকে একদম পরীর মত সুন্দর লাগছে।'কিন্তু সেটা পারিনি।কারণ ততদিনে রিদির সাথে এক সিনিয়ার ভাইয়ের প্রেম জমে একদম ক্ষীর।সেদিন ওদের হাত ধরে ঘুরাঘুরি করতে দেখে আমার কিশোর মনে জেগে ওঠা প্রেমটা শুরু হবার আগেই দপ করে নিভে গিয়েছিল... . . ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার বছর দুইয়েক পর নিয়মিত বিভিন্ন কোচিং এ ক্লাস নেওয়া শুরু করলাম।সেই সময়টায় আমি বুঝতে পারলাম আমি আসলে নিজেকে যতটা খ্যাত ভাবতাম আমি মোটেও অতটা খ্যাত না।ক্লাসের পরে যখন অনেকেই বলত,' ভাইয়া আপনার ক্লাস অনেক ভালো লেগেছে' তখন মনের মধ্যে অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করত।দিনশেষে যখন ফেইসবুক চেক করার সময় রিদির চেয়েও সুন্দরি কোনো মেয়ের মেসেজ পেতাম,'ভাইয়া আপনি অনেক স্মার্ট।আপনাকে আমার অনেক ভালো লাগে'।তখন মোটেও অবাক হোতাম না।কারণ আমি জানতাম স্মার্টনেস আমার চেহারায় নয়,আমার নেওয়া ক্লাসগুলোর মধ্যেই প্রকাশ পেত। . রিদির সাথে শেষবার যখন দেখা হয়েছিল তখন আমি সদ্য ডাক্তারি পাশ করে এলাকার হাসপাতালে রোগি দেখা শুরু করেছি।একটা তিনবছরের বাচ্চার হাত ধরে সাতমাসের আরেকটা শিশুকে কোলে নিয়ে রিদি যখন আমার চেম্বারে ঢুকেছিল তখন বেশ অবাক হয়েছিলাম।দেখলাম ওর স্কুলের সেই সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।চোয়াল একদম ভেঙে গেছে।আগের রিদি আর এই রিদির মাঝে যেন কোন মিলই খুজে পাচ্ছিলাম না।ঠিক গ্রাম বাংলার অতি সাধারণ একটা মহিলার মতই দেখাচ্ছিল তাকে।শুনেছিলাম ইন্টার পাশের পরপরই নাকি এলাকার কোন এক দোকানদারের ছেলের সাথে পালিয়ে বিয়ে করেছিল রিদি।যেই বিয়ে রিদির পরিবার থেকে এখনো মেনে নিতে পারে নি... . শুধুমাত্র সমস্যাগুলো জিজ্ঞেস করে গোটা কতেক ওষুধ লিখেই রিদিকে ছেড়ে দিয়েছিলাম।এক্সট্রা কোন কথা বলিনি ওর সাথে।শুধু ওষুধ লেখার ফাকে আড়চোখে শেষবারের মত দেখছিলাম ঠিক স্কুলে যেভাবে দেখতাম সেভাবে।মনে মনে ভাবলাম,এই "মহিলাটার" কাছেই একসময় আমি ছিলাম বত্রিশ নাম্বার।কিছু বছর আগেই অনেকগুলা ছেলে ঘুরত এই মেয়েটার পেছনে।অথচ আজ সেই একই মেয়েটা রাস্তা দিয়ে গেলে কেও ঘুরেও তাকায় না।।মনের অজান্তেই ঠোটের কোনায় এক চিলতে হাসি চলে এসেছিল।সেই হাসিটা 'চারচোখা আনস্মার্ট ভ্যাবলাকান্ত' সামিউলের হাসি ছিল না।হাসিটা ছিল স্মার্ট ডা. সামিউল ইসলামের গৌরবমিশ্রিত আত্মতৃপ্তির হাসি.


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আত্মতৃপ্তি
→ # আত্মতৃপ্তি #

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now