বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি মোঃ আনিছুর রহমান লিখন। আজ আমি আমার জীবনের কিছু কথা তুলে ধরব। আমার দূর্বলতা হলেও তা মানুষ কিছু শিখতে পারবে আশা করি।
প্রথমেই বলি, আমি সার্টিফিকেটে আমার জন্মসাল ১৯৯৪। তবে এটা ঠিক নয়। আমি এখন আমার আসল জন্মদিন ভুলে গেছি। এর জন্য মূলত দায়ী আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা। তবে সার্টিফিকেটের জন্মসাল নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই।
২০০০ সালে আমি প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হই। ২০০৪ সালে যখন আমি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখনই আমার লেখালেখি শুরু হয় আর আমি সৃজনশীল মানসিকতার পরিচয় দেই। সেটা হলো বিকল্প ধারার শিক্ষা। এতে কোন লাভ হয়নি। তখনকার সমাজ তা গ্রহণ করে নি।
সৃজনশীলতা আঁকড়ে ধরে চললাম কিন্তু তাও লাভ হলো না। বহু পরিশ্রম দিয়েছিলাম। আমি নবম শ্রেণিতে পড়ি তখন বাবার ব্যবসা লোকসান হলো। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মতো। নিজেদের ঘরবাড়ি বিক্রি করে দিলাম। সৃজনশীলতা ভাঙা দরজা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিলাম। ভাল কলেজে চান্স পেয়েও ভর্তি হলাম না টাকার অভাবে। পরে গ্রামের কলেজ ভর্তি হলাম। পাস করলাম। তারপর চাকরি শুরু করলাম। পড়াশোনা তুঙ্গে উঠালাম। একজন বলল, চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা করি যেন। রাষ্ট্র বিজ্ঞানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স এ ভর্তি হলাম। বিজ্ঞানের ভাল ছাত্র হয়ে জাবিতে উদ্ভিদ বিজ্ঞান এ চান্স পেয়ে ভর্তি হতে না পেরে রাষ্ট্র বিজ্ঞান নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। তাই রেজাল্ট ভাল হয়নি। সেকেন্ড ক্লাস। ২০১৮ সালে অনার্স পাস করি।
মনে আশা ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হবো। কারণ ২০১০ সালে আমার উপন্যাসে আমি জাবির ছাত্র ছিলাম তা উল্লেখ করেছি। অবশেষে জাবিতে পিজিডি আইটি তে ভর্তি হলাম। রেজাল্ট ভাল হয়েছে। সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩.৯০ থাকবে যদি প্রজেক্টটা ভাল হয়। আমি ইচ্ছা করলেই মাস্টার্স ভর্তি হতে পারতাম। এখন মাস্টার্স শেষ হতো। তবে আমি টেকনোলজি লাইনে পড়তে চাই তাই জাবিতে আইটি তে ভর্তি হয়েছিলাম। করোনার পর কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ মাস্টার্স করব ভাবছি। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তিতে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ইন আইটি শেষ হলো জাবি থেকে। মনের জোর আর আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখেই অনেক অধ্যবসায় করেছি।
আর প্রেমে পড়েছি। তবে একতরফা। এটা জানি অভাব যখন আসে ভালবাসা জানালা দিয়ে পালায়। আমারও তাই হয়েছিল। অভাবের কারণে বুঝলাম অভাব কি? তাই দাঁড়ি, পাঞ্জাবি পরা শুরু করি। আল্লাহ আমাদেরকে পরীক্ষা করছেন। আগে এমন ছিলাম না। আমি ভাল ছাত্র হওয়ায় স্কুলে কত লাভ লেটার আসত। তবে আমি সাড়া দিই নি। আসলে তখন ভালবাসারর মানে কি বুঝতাম না। অভাবের মাঝে একটি মেয়ের পিছনে ৮ টি বছর ঘুরলাম। সাড়া পেলাম না। পাব কিভাবে? ওর তো একটি চিন্তা ছিল, আমি কি ওর চাহিদা পূরণ করতে পারব কিনা? পরে ৮ বছরের জমানো ভালবাসা জলাঞ্জলি দিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়েও পছন্দ হলো তবে এটা একতরফা ছিল। পরে ভাবলাম আমার ভাগ্যে মনে হয় প্রেম নাই। তাই নিজেকে ঘুটিয়ে নিলাম।
জীবনে কোন কিছু থেমে থাকে না। সময় হলে সব পাল্টে যায়। শুধু সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই সবুর করে এগিয়ে চলছি। আল্লাহ যদি কপালে আমার ভাল লিখে রাখে কেউ কেঁড়ে নিতে পারবে না।
ঘটনা দীর্ঘ করলাম না। দীর্ঘ করলে অনেক বড় হয়ে যেত। ভালো থাকো জিজেস। আর আমার কথা মনে রেখো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now