বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X আমি রাজিব।আমি ঢাকা শহরে একটা ফ্ল্যাট কিনে বাবা মা আর এক ছোট ভাই কে নিয়ে থাকি।আমি পড়াশুনা শেষ করে ভালো একটা সরকারি চাকরি করি এখন।আর আমার ছোট ভাই এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে।তোহ আজ দুপুরের দিকেই বাসায় চলে আসি আমি।মাথা ব্যাথা আর গাঁয়েও একটু জ্বর আসছে।তাই আজ আগে ভাগেই বাসায় চলে আসছি।অফিসের বস টাও অনেক ভালো।আমি অসুস্থ দেখে ছুটি দিয়ে দিলো।তোহ বাসায় এসে ওসুধ খাইলাম আব্বু আম্মুও অনেক যত্ন করলো।বিকেলের দিকে একটু ভালো লাগছিল তাই ছাদের দিকে গেলাম।ছাদে গিয়ে দেখি একটা ছেলে ছাদের রেলিং এর উপর উঠে ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছে।ছেলেটাকে দেখে ১৭ কি ১৮ বছরের মনে হলো।আর আমাদের বিল্ডিং ছিল ৬ তালা।তাই এত উচু থেকে কেউ লাফ দিলে তার আর বাঁচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এবার আমি ছেলেটাকে উদ্দেশ্য করে জোরে ডাক দিলাম এই ছেলে তুমি এখানে কি করছো?লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছো কেন?এখনই রেলিং থেকে নেমে এসো। ছেলেটি আমার দিকে তাকিয়ে বললো।আপনি কে?আর আপনি এখান থেকে চলে যান।আমি নিজেকে শেষ করে দিবো।আমি এই জীবন রাখতে চাই না।প্লিজ আপনি চলে যান। আমি:-দেখো কেনো তুমি নিজেকে শেষ করে দিতে চাচ্ছো?আর আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়।কি হয়েছে তোমার আমাক সব খুলে বলো।তাছাড়া তোমার নাম কি?থাকো কই? ছেলেটি বললো:-আপনি কে?আপনাকে তো আমি চিনি না।তাই আপনাকে আমি কেনো কিছু বলতে যাবো।আপনি এখান থেকে চলে যান। আমি:-আচ্ছা ৫ মিনিট আমার কথা শুনো।তারপর তুমি আত্মহত্যা করো আর যাই করো আমি বাধা দিবো না। তারপর ছেলেটা রেলিং থেকে নিচে নামলো। ছেলেটি:-বলেন কি বলবেন।কিন্তু তাড়াতাড়ি বলেন আমার হাতে বেশি সময় নাই। আমি:-তোমার নাম কি? বাসা কোথায় তোমার? ছেলেটি:-আমার নাম মিলন।আমি এই ফ্লাটের ২য় তলা তে থাকি। আমি:-বলো কি আমিও তো এই ফ্ল্যাটে থাকি।আমি ৫ তলা তে থাকি।কিন্তু তোমাকে তো আগে কখনো দেখি নাই। অবশ্য আমাদের এখানে আসা বেশিদিন হয় নি।চাঁর মাস হয়েছে আসছি।ভালো একটা চাকরি পেলাম আর এখানে একটা ফ্ল্যাট কিনে নিলাম।যাই হোক তোমার বাবার নাম কি? মিলন:-আমার বাবার নাম আফজাল হোসেন।আর আপনার জীবন কাহিণী শুনার আমার কোনো ইচ্ছা নেই।তাই তারাতারি বলেন কি বলবেন।আমার হাতে সময় কম আছে।আব্বু আম্মু ছাদে চলে আসলে আমার আর আত্মহত্যা করা হবে না।তাই যা বলবেন জলদি বলেন। আমি:-আচ্ছা আমি জলদি বলছি।কিন্তু তোমার বাবাকে চিনি আমি।কথা হইছে অনেকদিন।কিন্তু তোমাকে কখনো দেখি নাই।যাই হোক তুমি ছাদ থেকে লাফ দিতে চাচ্ছো কেনো? মিলন:-আমি এবার এস.এস.সি পরিক্ষা দিছি।পরিক্ষায় আমি ৩.৫০ পাইছি।তাই আব্বু আম্মু আমায় অনেক বকা দিছে।আমার বন্ধুরা কতো ভালো রেজাল্ট করছে।আর আমি এত খারাপ রেজাল্ট করলাম।আমি অন্যর সামনে মুখ দেখাবো কি করে।তাই আমি চাই নিজেকে শেষ করে দিতে।এই জীবন আমি আর রাখতে চাই না। আমি:-তুমি আমার ছোট ভাইয়ের মতো।আমারো একটা ভাই আছে।আর তুমি যেই নাম্বারই পাইছো তাও তো পাশে করেছো।কত ছাত্র আছে ফেল করে পরে আবার ভালোভাবে পড়াশুনা করে পাস করে এমনকি ভালো রেজাল্ট ও করে।আর তুমি একটু খারাপ রেজাল্ট করছো দেখে আত্মহত্যা করতে চাইছো।এখন তুমি যদি মরে যাও তাইলে তোমার বাবা মার কি হবে তার তারা কতটা কষ্ট পাবে তুমি কি সেটা অনুধাবন করতে পারছো না। মিলন:-নাহ তারা কোনো কষ্ট পাবে না।আব্বু আম্মু খালি আমায় বকা দেয়।আমাক একটুও ভালোবাসে না।খালি পড়াশুনার কথা বলে।আমি পুরো বিরক্ত হয়ে গেছি তাদের উপর।তাই আমি আর বেচে থাকতে চাই না।আমি আমার জীবন শেষ করে দিতে চাই। আমি:-দেখো ছোট ভাই বাবা মা সন্তানের কখনো খারাপ চায় না।ওরা তোমাকে বকা দেয় শাসন করে যাতে তুমি মানুষ হও এবং ভবিষ্যৎ এ ভালো কিছু করতে পারো।তোমার জন্যই তো তারা কষ্ট করছে।কত পরিশ্রম করছে।আর তুমি কি না এই রকম মারাত্তক একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে।তুমি কম পয়েন্ট পেয়েছো এতে তোমার খারাপ লাগছে।তুমি ধৈর্য হারা হয়ে গেছো এতে।তাই তোমাকে ধৈর্য ধরতে হবে।রর্ব্রাট বুস এর কথা শোন নাই।যে ছয়বার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ধৈর্যহারা হয়ে একটা গুহায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল।সেখানে তিনি একটা মাকড়শাকে উপরে উঠার সময় বার বার পরে যেতে দেখছেন।কিন্তু একসময় চেষ্টা করতে করতে মাকড়সা উপরে উঠতে পারে।সেই দৃশ্য দেখে রর্ব্রাট ব্রুস আবার তার ধৈর্য ফিরে পান।তিনি আবার সৈন্য সংগ্রহ করেন এবং সপ্তম বারের চেষ্টায় যুদ্ধে জয়লাভ করেন। মিলন:-এসব বলার মানে কি আপনি আসলে কি বুঝাতে চাচ্ছেন আমায় পরিষ্কার করে বলুন তো। আমি:-আচ্ছা ছোট ভাই তোমাক একটা বাস্তব ঘটনা বলি তাহলে।সে তাও আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগের কথা।আমার নিজের এক চাচাতো ভাই নাম তার রাসেল।আমরা দুজন প্রায় সমবয়সি।আমি ওর থেকে এক বছরের বড় হবো।ছোট থেকেই আমরা ভাই এর থেকে বেশি বন্ধু হিসেবে ছিলাম।একসাথে খেলাধুলা খাওয়াদাওয়া সব করতাম।যখন স্কুল যেতাম একসাথে যেতাম।রাসেল আমার থেকে এক ক্লাস নিচে পড়তো।আমি ছোট থেকেই অনেক পরিশ্রমি ছিলাম,পড়াশোনা করতাম এবং আমি ভালো ছিলাম পড়াশুনায়।তারই ফল হিসেবে আজ আমি ভালো চাকরি করছি।ভালো বেতন পাচ্ছি।কিন্তু রাসেল এর আবার পড়াশুনার প্রতি কোনো মনোযোগ ছিল না।কোনোরকম ভাবে পাস করে এক ক্লাস থেকে আরেক ক্লাসে উঠে যেতো।সে পড়াশুনায় ভালো ছিলা না তেমন।শুধু খেলাধুলা নিয়ে থাকতো।এই জন্য আমার চাচা মানে রাসেল ওর বাবার হাতে অনেক মাইর খাইছে।তাও ওর ভালো হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না।ওর যখন এসএসসি পরিক্ষা আসলো তার আগে এসএসসির টেস্ট পরিক্ষাতেও এক বিষয়ে ফেল করে।এক বিষয়ে ফেল দেখে রাসেল কে তাও এসএসসি পরিক্ষা দিতে দেওয়া হয়।আসলে আমি ওর আগের ব্যাচ এ ছিলাম।আমি এসএসসি পরিক্ষাতে গোল্ডেন এ প্লাস পাই।আমি নিজে গিয়ে হেডমাস্টার কে অনুরোধ করি যাতে রাসেল কে যেন এসএসসি পরিক্ষা দিতে দেওয়া হয়।স্যার আমার কথা ফেলে দিতে পারেন নি।রাসেলকে পরিক্ষা দিতে দেন।তোহ রাসেল এসএসসি পরিক্ষা দেয় কিন্তু যেদিন ওর পরিক্ষার ফল বাড়ায় আমরা দেখি ওহ দুই বিষয়ে ফেল করেছে।এতে রাসেলের বাবা মানে আমার চাচা ওরেহ অনেক মারধরে করে।চাচিও অনেক বকা দেয়।এর কয়েকদিন পর রাসেল রাগ করে নিজের ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে।যেমন তুমি ছাদ থেকে লাফ দিতে যাচ্ছিলে।যাই হোক রাসেল গলায় দড়ি দিতে যায় কিন্তু আমি দেখতে পাই।চাচা সহ কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে এসে দরজা ভেঙ্গে ওকে বাচাই।ওর গলায় তাও হালকা দড়ির ফাস পড়ছিলো।ওহ অজ্ঞান হয়ে যায়।ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই আমরা ওকে।আল্লাহ্‌র রহমতে ওহ বেচে যায়।তারপর আমি ওকে অনেক বুঝাই পড়াশুনা করতে বলি।আমার আব্বু আম্মুও রাসেলকে অনেক বুঝায়।আমি চাচা চাচি কেও বুঝাই যেন রাসেলকে আর মারধর না করে বকা না দেয়।আমি এটাও বলি যে আজ থেকে রাসেলের দায়িত্ব আমার।আমি আমার ভাইকে পড়াবো।তারপর রাসেল কে আমি পড়াই।ওর খেয়াল রাখি।ওকে সাহস দেই।ওহ আসতে আসতে ভালো হতে থাকে।অন্য প্রাইভেট ও সে ঠিক করে।নিয়মিত সেখানে যায় পড়তে।আমিও পড়াতাম ওকে।তারপর আবার এস.এস.সি পরিক্ষা দেয় রাসেল।এবার পরিক্ষায় রাসেল পাশ করে।সে পরিক্ষায় ৪.২৫ পায়।তারপর কলেজে ভর্তি হয়।পড়াশুনার প্রতি রাসেলের আরো মনোযোগ বেড়ে যায়।রাসেল এরপর এইস.এস.সি পরিক্ষা দিলো।এবার সে গোল্ডেন এ প্লাস পেলো।এতে আমরা সবাই অনেক খুশি হই।রাসেল আমায় জড়িয়ে ধরে বলে তোর জন্যই আজ আমি এতো ভালো রেজাল্ট করতে পারছি।তুই সাহস না দিলে এত দূর আমি আসতে পারতাম না।তারপর রাসেল ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পেলো।আমি আবার ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পাই নি।আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলাম।আমার নিজের ছোট ভাই এখন ঢাকা ভার্সিটিতে পরে।আমার সেই সৌভাগ্য হয় নি বা বলা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মতো যৌগ্যতা আমার ছিল না।রাসেল আমার থেকে খারাপ ছাত্র ছিল একসময় কিন্তু সে তার ধৈর্য আর পরিশ্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে অনেক ভালো রেজাল্ট করে।আর আজ সে আমার থেকেও ভাল একটা চাকরি করে।আমার থেকে অনেক বেশি উপার্জন করে।অনেক ভাল আছে সে এখন।বিয়েও করেছে।বাবা মা বউ কে নিয়ে সুখেই আছে।আজ সবাই ওকে নিয়ে গর্ব করে।মাঝমধ্যে রাসেলকে ফোন করে বলি আবার দেখা হলেও বলি কিরে আমাকে ভুলে যাস নি তো আবার।তুই তো এখন অনেক উচু পর্যায়ের মানুষ।এই ভাইটার কথা মনে আছে তো।রাসেল বলে নারে ভাই তোকে ভুলবো কেনো।তোর জন্যই আমি আজ এই পর্যায়ে আসতে পারছি।তুই আমার বড়।শুধু বয়সে না তুই সব দিক দিয়েই আমার থেকে বড়।তোর কাছে আমি কিছুই না।তুই আমার কাছে সবসময় সেরা ভাই।সত্যি কথাগুলো শুনলে মনটা ভরে যায়।যাই হোক ছোট ভাই এই ঘটনা থেকে তুমি কি বুঝতে পারলে? আমার কথা শুনার পর দেখি মিলন মাথা নিচু করে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। আমি:-ছোট ভাই চুপ করে আছো যে।কিছু বলছো না কেন?আচ্ছা যাই হোক দেখলে তো রেজাল্ট খারাপ হইছে দেখে এতে ভেঙ্গে পড়ার কিছু নাই।পড়াশুনা করো বেশি করে।ধৈর্য ধরো বাবা মায়ের কথা শোনো।ওনারা তোমার খারাপ চায় না।আর শোনো ভাই একটা জিপিএ পয়েন্ট কিন্তু সবকিছু না।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,কাজী নজুরুল ইসলাম এর কিন্তু কোনো শিক্ষাগত ডিগ্রি ছিল না।কিন্তু আজ দেখো সেই স্কুল থেকে শুরু করে মাস্টার্স পাশ করবে সেখানেও তাদের কবিতা গল্প আমাদের পড়া লাগছে।তাহলে কোন পর্যায়ের প্রতিভা ছিল তাদের কল্পনা করতে পারছো তুমি?তাদের দুজনের কিন্তু কোনো সার্টিফিকেট নাই তাদের এক দিক থেকে মূর্খই বলা যায় কিন্তু আজ তাদের কবিতা গল্প আমাদের সব খানে লাগছে।হয়তো বলতে পারো তুমি যে তাদের এই মেধা আল্লাহ্‌ প্রদত্ত।এমন মেধা নিয়ে সবাই জন্মাবে না।হ্যা এটা ঠিক যে তাদের মেধা বুদ্ধি সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা ছিল।তারা দুজনেই আসলে অসাধরণ মানুষ ছিলেন।এরকম অসাধরণ মানুষ খুজলে তুমি পাবে কিন্তু সংখ্যা টা হয়তোবা বেশি হবে না।কিন্তু যারা অসাধারণ মানুষ তারা কি পরিশ্রম করে নি?নাকি বিনা পরিশ্রমে সফল হয়েছে।ছোট ভাই রবীন্দনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও অনেক পরিশ্রম করেছেন তাদের জীবনি পড়লেই তুমি জানতে পারবে সেটা।আজ তারা বেচে নাই কিন্তু তাদের লেখা বেচে আছে।যেটা আমাদের পড়া লাগছে।আর এভাবেই তার সকল মানুষের কাছে অমর হয়ে আছে।তাই যে যতই অসাধারণ হোক না কেন ছোট ভাই পরিশ্রম ছাড়া সফল হওয়া যাবে না। হয়তো তুমি কাজী নজরুল ইসলাম,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর্যায়ে যেতে পারবে না কিন্তু পরিশ্রম ধৈর্য দ্বারা তুমি জীবনে সফল হতে পারবে।বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে।তখন তোমার বাবা মাকে দেখে মানুষ বলবে ওই দেখ মিলন আছে না ভালো চাকরি করে অনেক ভালো মানুষ তার বাবা আসছে বা তার মা আসছে।এই বলে তোমার বাবা মা কে মানুষ সম্মানের চোঁখে দেখবে।এতে তারা কতোটা খুশি হবেন ভেবে দেখেছো।তোমাকে নিয়ে তারা তখন কতো গর্ব করবেন।পরিশেষে ছোট ভাই আরেকটা কথা বলি তুমি ভালো চাকরি করলে বা ব্যাবসা করলে যাই করো না কেন সেটা বিষয় না তুমি ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করবে।আর কিছু বলবো না ছোট ভাই।এখন তুমি যা খুশি করো।এখন তুমি ছাদ থেকে লাফ দিবে না কি করবে সেটা তোমার বিষয় আমি আর কিছু বলবো না।এই বলে ছাদের একটা কোণায় গিয়ে দাড়ালাম আমি। কিছুক্ষণ পর দেখি মিলন দৌড়ে এসে আমার পা ধরে আর কান্না করতে করতে বলছে....... মিলন:-ভাইয়া আমার ভূল হয়ে গেছে।আমায় ক্ষমা করে দেন।আমি আর কখনো আত্মহত্যার কথা মাথাতেই আনবো না। আমি এবার মিলন কে ধরে দাড় করলাম। আমি:- কি করছো এসব।এভাবে কেউ কারো পা ধরে।আর চোঁখের পানি মুছো।ছেলেদের এমন ভাবে কান্না করা মানায় না।আর শোনো এমন কাজ আর করবে না।আর আমি তোমার উপর রাগ করি নি।আমি শুধু তোমাকে এতক্ষণ এই কথাগুলো বললাম।যাতে তুমি এই মারাত্তক কাজটা না করো।আর নিজের ভুলটা বুঝতে পারো।আর আত্মহত্যা করা কিন্তু মহাপাপ। মিলন:-আমার ভূল হয়ে গেছে ভাইয়া।এমন কাজের কথা কখনো আর মাথাতেই আনবো না।এখন থেকে মন দিয়ে পড়াশুনা করবো।বাবা মায়ের কথা শুনবো। আমি:-এই তো ভালো ছেলের মত কথা।আসলে তোমাদের এই বয়স টাই আসলে একটু আবেগের।আবেগের ফলে আরকি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলো তোমরা।তাই ছোট ভাই আবেগ কে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখো।এখন থেকে মন দিয়ে পড়াশুনা করো।পড়াশোনায় যেকোনো সমস্যা হলে বা যেকোনো দরকার হলে আমার কাছে আসবে আমি তোমাকে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করবো।আমাকে নিজের বড় ভাই ভাববে। মিলন:-ঠিক আছে ভাইয়া। আমি:-আমিও আল্লাহ্‌র কাছে সবসময় দুয়া করবো তোমার সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ এর জন্য।তুমি যেন একজন প্রক্রিত মানুষের মতন মানুষ হতে পারো।যাই হোক ছোট ভাই সন্ধ্যা হয়ে আসছে এখন তুমি তোমার ফ্ল্যাট এ চলে যাও।বেশি দেরি হয়ে গেলে তোমার আব্বু আম্মু আবার চিন্তা করবে তোমার জন্য। তারপর মিলন চলে গেল তার ফ্ল্যাট এর দিকে। সূর্য ডুবে গেছে।আস্তে আস্তে চারিদিকে আধার গ্রাস করছে।তার মাঝে আমি একা ছাদে দাঁড়িয়ে আছি।আজ যেন অনেক ভালো লাগছে আমার।একটা ছেলের জীবন বাঁচাতে পারলাম।যার জীবনটা যখন কেবল শুরু।ছেলেটার মধ্যে যেন আমার চাচাতো ভাই রাসেল কে খুজে পাইলাম।এই ভেবে ভালো লাগছে যে তাদের দুজনের জীবনে অন্ততো কোনোভাবে আমি তাদের উপকার করতে পারলাম।রাসেল আজ প্রতিষ্ঠিত।আশা রাখছি মিলন ও একদিন ঠিক প্রতিষ্ঠিত হবে।আজ মিলনের মত কত ছেলেমেয়ে আছে যারা পরিক্ষায় খারাপ ফলাফলের জন্য নিজের জীবন টা নিজেরাই শেষ করে দেয় আত্মহত্যা করার মাধ্যমে।তাদেরকে বুঝানোর মতো সবসময় কেউ থাকে না।যেমন আমি মিলন কে বুঝিয়েছি।তাই সকল বাবা মা কে বলছি সন্তান ভালো খারাপ যেমনই রেজাল্ট করুক তাদের বেশি বকা বকি করবেন না।সাহস দিবেন তাদের।সন্তান যদি খারাপ রেজাল্ট করে তাইলে তাদের আরো বেশি বেশি সাহস দিবেন।কারণ আপনারাই তাদের সবচেয়ে বেশি কাছের মানুষ।সন্তান আপনাদের কাছ থেকেই বেশি ভরসা পায়।তাই তাদের ভরসার জায়গায় কোনোভাব আঘাত করবেন না।পরিশেষে সকল ছাত্র ছাত্রীদের বলছি জীবনে সবসময় সহজভাবে এগিয়ে চলা যায় না।জীবনে কম বেশি ব্যার্থতা আসবেই।সেই ব্যার্থতার কাছে পরাজিত হয়ে আত্মহত্যা করা কিন্তু কোনো সমাধান নয়।তাই তোমরা সকলে ধৈর্য ধরো এবং পরিশ্রমের দ্বারা ব্যার্থতাকে জয় করো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now