বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্মার ক্রেতা[পর্ব ৪ এবং শেষ]

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:রহস্যময় হৃদয় সন্ধ্যা হতে চলল।ওযু শেষ করে মসজিদে চললাম, নামাজ পড়ে বারান্দায় বসে আছি।হুজুর তার ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষ করে আমার কাছে আসলেন, আমাকে তার পিছু পিছু আসতে বললেন। আমি ওনার পিছু পিছু আসলাম, হুজুর একটা বাসার সামনে এসে থামলেন, এবং দরজা নক করলেন। একজন বোরখা পড়া মহিলা দরজা খোলে দিল, কথাবার্তা শুনে বুঝলাম ইনি হুজুরের স্ত্রী, আর এই দুতলা বাড়িটা হুজুরের। হুজুর আমাকে তার সাথে ঘরে ঢুকতে বললেন, আমিও ঢুকলাম। সাদা রং করা গোছানো একটা ঘর। হুজুর আমায় নিয়ে এই ঘরটাতে বসলেন না,তিনি আমাকে নিয়ে আরও কয়েক ঘর পার হলেন, তারপর একেবারে পশ্চিম কোণের ঘরটাতে থামলেন। ঘরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করলেন। ঘরটা মাঝারি সাইজের,একপাশে ছোটখাট একটা জানালা,বন্ধ করে রাখা হয়েছে, অন্য আরেকপাশে একটা বড় বুক সেল্ফ,তাতে অনেক বই রাখা।হাদিসের আর কুরআনের পাশাপাশি আরও অনেক বই রাখা। ঘরটার মাঝখানে একটা টেবিল রাখা,টেবিলে একটা সাদা বাটির মাঝে ফজরের সময় আমার দেওয়া সেই চুল আর বালির সাথে কিছু কাগজ রাখা। টেবিলের দুপাশে দুটো চেয়ার রেখে দেওয়া হয়েছে, টেবিলটাও মোটামোটি বড় রকমের,ফলে দুজন মানুষ একে অপরের মুখোমুখি হয়েও বই পড়তে পারবে।ঘরটাতে ঢুকে আরেকটা বিষয় ভিন্ন রকম দেখলাম,আর তা হলো অন্য ঘরগুলোর মতো এ ঘরের দেয়ালের রং সাদা নয়,বরং নীল রং করা। এটাকে স্বাভাবিকভাবেই নিলাম। তবে ঘরটা একদম নিরব,বাহিরের কোনো শব্দই আসছে না,অনেকটা সাউন্ড প্রোফ ঘরের মতো লাগছে আমার কাছে।বাহিরের কোনো শব্দ না আসায় ঘরটার পরিবেশ একদম নিরব,আর এইরকম নিরব পরিবেশেই বই নিয়ে পড়তে সবচেয়ে ভালো লাগে, পড়াশোনা করার সবচেয়ে উপযোগী পরিবেশ এটাই। ঘরটা দেখছিলাম আর এইসব ভাবছিলাম,হুজুরের কথায় বাস্তবে আসলাম। "এই টেবিলে তোমার আনা দুটো জিনিস রেখেছি। ওইদুটো জিনিস না হলে আমাদের কাজ সবটা বিফল হতো। টেবিলের কাছে আস",,,এটা বলে টেবিলটার কাছে আসলেন হুজুর।আমিও ওনার সাথে টেবিলটার কাছে গেলাম, দূর থেকে সাদা কাগজে কী আছে তা দেখতে পারি নি,কাছে আসার ফলে দেখলাম এগুলোতে কিছু আরবি লেখা আছে। "হুজুর আপনি এখন কী করবেন??? আর কাগজে আরবিতে কী লিখেছেন???" কৈতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম। "দেখ,তোমার সাথে যে জ্বীন বা অশরীরীর ঘটনা চলছে সে খুব শক্তিশালী জ্বীন,তাকে হাজির করার জন্য তার ঘোড়া যেটা তার একটা অংশ এবং তার ছায়ার ধুলোর দরকার ছিল। তুমি এইসব নিয়ে এসেছ, আমি এখন ওই জ্বীনকে হাজির করব।আর কাগজগুলোতে কুরআন মজীদের সূরা জ্বীনের কিছু আয়াত লেখা আছে।আর কিছু প্রশ্ন করো না।সময় কম, চল এবার আমাদের কাজ শুরু করা যাক।" একটানা বললেন হুজুর,আমিও মন দিয়ে শুনলাম।হুজুর চেয়ার টেনে বসলেন, আমাকেও বসতে ইশারা করলেন, আমিও বসলাম।টেবিলের সাথে ঘরের লাইটের সুইচটা ছিল, হুজুর সেই সুইচ অফ করলেন, আর ঘর সম্পূর্ণ রকমের অন্ধকার হয়ে গেল। হুজুর ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে টেবিলের ড্রয়ার থেকে তিনটা মোমাবাতি বের করলেন, তারপর সেগুলো জ্বালালেন। তারপর আর ফ্ল্যাশলাইটের দরকার নেই, তাই সেটা অফ করে দিলেন, ঘরটাতে এখন হালকা আলো আছে। হুজুর কুরআনের কিছু আয়াত পড়তে শুরু করলেন, আর সেই জ্বীনকে আসার জন্য বলতে লাগলেন। হঠাৎ ঘরের সেই ছোট্ট জানালা খোলে গেল,আর ঘরে প্রচুর বাতাস আসতে লাগল।আমি পিছন ফিরে দেখতে চাইলে ইশারায় হুজুর আমায় মানা করলেন,ফলে আমি ফিরলাম না। বাহিরের বাতাস এসে একসময় মোমবাতি নিভিয়ে দিল।পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে আছে,আর হুজুর দোয়া পড়েই চলেছেন। অন্ধকারের মাঝখান থেকে একটা মোটা কর্কষ কন্ঠ ভেসে আসল,আর হ্যা এই কন্ঠটাকে আমি ভালো করে চিনি,এটা সেই স্কন্ধকাটার গলা। কর্কষ কন্ঠের অধিকারী অশরীরীটা বলল,,,"আমায় এখানে কেন ডাকা হয়েছে??? " হুজুর গম্ভীর গলায় বললেন,,, " এই লোককে তুমি বিপদে ফেলছ কেন??? আর মারতে চাও কেন??? " "কারণ এর বাবা একসময় আমাকে আমার ছেলেকে গাছের ডাল থেকে ফেলে মেরে ফেলেছিল, সেইসময় আমিও ঠিক করেছিলাম তাকে মেরে ফেলব, কিন্তু ওর বাবা নিজেকে বাঁচিয়ে নেয়,তখন থেকে এই ছেলেটার উপর সবসময় আমার নজর থাকত। তার বয়স পঁচিশ হওয়ার পর থেকে তাকে মারা আমার জন্য সহজ হয়ে যায়।হুজুর আপনি আমাকে প্রতিশোধ নিতে দিন,আমি একে মেরে ফেলব।"স্কন্ধকাটা রাগান্বিত হয়ে কর্কষ স্বরকে আরও কর্কষ করে বলল। "দেখ তোমরা জ্বীন,তোমাদের দেখা যায় না।তোমার ছেলেকে এই লোকের বাবা দেখে জেনেবুঝে মারেন নি হয়তো।ফলে তিনি সবটা নিজের অজান্তে করেছেন।ফলে তিনি বা তার বংশধর এই শাস্তি পাওয়ার মতো নয়।তুমি তাদের মাফ করে দাও।" "না,আমি ওর আত্মা নিয়ে আমার দাসরূপে রাখব।আগে ওকে ওর আত্মা বিক্রি করতে ভালোভাবে বলেছিলাম,ও শুনে নি,তার ফল এখন তাকে পেতে হবে।আমি মাফ করব না,,," বহু কথা বলতে লাগল জ্বীন। মাফ করা না করা আর আমায় ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টা নিয়ে স্কন্ধকাটা আর হুজুরের মাঝে প্রচুর বাকবিতণ্ডা চলতে লাগল।স্কন্ধকাটাকে শতভাবে বোঝানোর পরও বুঝতে সে নারাজ।একসময় হুজুর রেগে গিয়ে বললেন,,," যদি তুই একে না ছেড়ে যাস আর ক্ষতি করার চেস্টা করিস তাহলে তোর ঘোড়ারূপে থাকাবস্থার লোম আর তোর ছায়ার ধুলোয় দোয়া পড়ে ফু দিয়ে তোকে মেরে ফেলব।" এবার স্কন্ধকাটা খানিকটা দমল।একসময় সে আমায় ছেড়ে চলে যেতে রাজি হলো।হুজুরও তাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দিলেন।ঘরটা থেকে ভারী কিছু যেন চলে গেছে ঠিক সেইরকম মনে হলো। "তোমার সমস্যা ঠিক হয়ে গেছে,আর কেউ তোমায় ডিস্টার্ব করবে না।" হুজুর খুশি মুখে বললেন, তারপর মোসাফাহ করলেন।আমিও হুজুরকে কিছু হাদিয়া আর ধন্যবাদ দিয়ে বের হয়ে আসলাম।বাহিরে পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে,সবটা রাস্তা ফর্সা হয়ে আছে। তবে এখনও একটা কাজ বাকি আছে,আর তা হলো বাবার সাথে কী হয়েছিল তা জানতে হবে। সকাল সকাল বাড়ির জন্য রওনা দিলাম।আগের মতোই সবার সাথে কথা বলতে বলতে বিকাল হয়ে আসল।বিকালে বাবাকে সবটা ঘটনা বললাম,তারপর জিজ্ঞেস করলাম ওনার সাথে কী হয়েছিল??? বাবা কিছু না বলেই চলে গেলেন। আমি এর কারণ বুঝলাম না। রাতের বেলায় উঠানে বসে আছি, এসময় বাবাও আমার পাশে বসলেন। বাবা নিজে থেকেই বললেন,"তোমার তখন ৫ বছর বয়স।আমি আমাদের ঘরের সামনে থাকা গাব গাছটা কেঁটে ফেলি, গাছটা কাটার পর আমার সাথে অদ্ভূত ঘটনা ঘটত,যেন কেউ আমার সাথে আছে, আমায় দেখছে এরকম মনে হতো। একসময় আমি প্রচুর অসুস্থ হয়ে পড়ি, বমির সাথে রক্তও বের হতে লাগল। কবিরাজ আসলেন, আমায় দেখে বললেন আমার সাথে নাকি জ্বীন আছে,আমি তার ছেলেকে নিজের অজান্তে মেরে ফেলার কারণে সে আমায় মারতে চায়। কবিরাজ তখন এর প্রতিকার রূপে এইবাড়ি বন্ধ করে দিয়ে যান।তাই তুমি এইবাড়িতে আসার পর তোমার সাথে কিছু ঘটত না। আমার সাথে ওইসব ঘটনা ঘটা বাড়িবন্ধের সাথেসাথে বন্ধ হয়ে যায়।কিন্তু মাঝেমাঝে মনে হতো আমি কাওকে খুন করেছি,যদিও তা অজান্তে।মনটা খারাপ হয়ে যেত তখন,এখনও ওই ঘটনার ভয়াবহতা মনে পড়লে আমার মন খারাপ হয়ে থাকে।"এটুকু বলে বাবা থামলেন। আমি বাবাকে বললাম,,," যা হওয়া তা হয়ে গেছে, আল্লাহ যা করেন তা ভালোর জন্যই করেন।আর আমরা এখন আল্লাহর রহমতে বিপদমুক্ত।" বাবা আমার সাথে আরও কিছু কথা বলার পর চলে গেলেন। আমি বসেই রইলাম। পূর্বকাশে চাঁদ উঠেছে,আজ ভর পূর্ণিমা, সারা পৃথিবী চাঁদের আলোয় ভরে যাচ্ছে, চাঁদের জোৎস্নায় স্নান করছে।আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম, আমি স্বাধীন হয়েছি,আর বেঁচেও আছি।আর কেউ এখন থেকে আমায় মারতে চাইবে না, আমায় স্বপ্ন থেকে টেনে সেই অন্ধকার গলিতে নিবে না,আমি এখন নিরাপদ। স্বাধীনভাবে বুক ভরে মুক্ত বাতাস ভেতরে নিলাম। [কেমন লাগল??? আর গল্পটা শেষ করে দিলাম।ভুলগুলো ক্ষমার নজরে দেখবেন।আর এরপর আমার বাকিগল্পগুলোর পরের পর্ব দিবgjgjgjআর বিশেষভাবে ধন্যবাদ আনিকা, শিখা,মাহিন,মেহেদী আর রেহনুমা আপুকে। তাদের উৎসাহে অনেকদিন পর ব্যাস্ততার মাঝেও লিখছিgjgjgj] বি.দ্র.: অনেক সময় আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি,তাই দয়া করে কপি করবেন না। #সমাপ্ত,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আত্মার ক্রেতা[পর্ব ৪ এবং শেষ]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now