বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আত্মার ক্রেতা [পর্ব ১]
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)
X
লেখক:রহস্যময় হৃদয় [MH2]
আমাকে ছুটতে হবে।কেউ আমার পিছনে আসছে, নিশ্চয়ই আসছে। খুব ভয়ঙ্কর সে, আমাকে পেলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে ছুটতে হবে,আরও জোরে ছুটতে হবে। কিন্তু আমি রাস্তার পর রাস্তা, গলির পর গলি পার করে ফেলছি, ওই ভয়ঙ্কর আগন্তকের হাত থেকে বাঁচতে পারছি না।পায়ের শক্তি ফুরিয়ে আসছে।আর দৌড়ুতে পারছি না। তবে মাথার ভিতর কেউ জোরে জোরে বলছে আরও জোরে ছুট,তোমাকে ছুটতে হবে।মাথায় কে কথা বলছে সেটা জানি না,তবে অনুমান করা যায় আমার মন বলছে ছুটতে হবে,আরও জোরে ছুটতে হবে। তবে মনের কথায় সাড়া দিতে পারলাম না।পা একদম শক্তিহীন হয়ে আসছে,আর দাড়িয়ে থাকতেও পারছি না। বসে পড়লাম। বুকের ভিতর হৃৎপিন্ডের ধক ধক শব্দ খুব জোরে জোরে হচ্ছে, মনে হচ্ছে আমার আশেপাশে কেউ থাকলে সেও শব্দটা শুনতে পারত।
আমি বসে বসে সব কিছু মনে করার চেষ্টা করতে লাগলাম।আমি প্রচন্ড জোরে ছুটছিলাম,আমার পিছনে কেউ একজন ছিল,যে খুব ভয়ঙ্কর। আমি তার থেকে বাঁচতে চাচ্ছিলাম। আচ্ছা এতোক্ষণ দৌড়াদৌড়ি করে আমি এখন কোথায় এসেছি??? চারপাশটা ভালো করে দেখতে চাইলাম। চারদিক অন্ধকার হয়ে আছে। আমি চোখে কিছু পরিষ্কারভাবে দেখছি না। একটু সময় নিয়ে চোখকে অন্ধকারে মানিয়ে নিতে দিলাম। এখন অন্ধকারে দেখতে পাচ্ছি।আমি একটা অন্ধকার গলিতে রাস্তার মাঝখানে বসে আছি,রাস্তার দুইপাশে শুধু দেয়াল,রাস্তাটা বেশ ময়লা, পাশের ড্রেন হতে ময়লার দুর্গন্ধ আসছে,আর মশার ভনভন করার শব্দও কানে আসছে।আকাশে বাঁকা চাঁদ,এই চাঁদের আলো খুবই কম। কিন্তু আমি এখানে কী করে এসেছি??? জানি না। আমার পিছনে আসতে থাকা ভয়ঙ্কর লোকটা কে??? জানি না।
আমি বসে থাকলেও আমার মন কিন্তু বসে নেই,সে বারবার আমাকে বলছে দৌড়াতে,এ স্থান থেকে চলে যেতে। কিন্তু আমি তা পারছি না, শরীরে একটুও জোর নেই । হঠাৎ ঠক ঠক করে শব্দ হতে লাগল, মনে হচ্ছে কেউ লাঠিতে ভর দিয়ে আসছে, কারণ লাঠিতে ভর দিয়ে হাটলে এরকম শব্দ হয়।লাঠি ভর দিয়ে কে আসছে??? কোনো পথিক??? তাহলে তো তার থেকে সাহায্য পেতে পারি। আবার মনে হলো সেই ভয়ঙ্কর লোকটাই কি লাঠিতে ঠক ঠক করে আসছে??? লাঠির ঠকঠক শব্দ হচ্ছে আর আমার বুকে হৃৎপিন্ডের ধকধক শব্দ হচ্ছে।শব্দের উৎসের আগন্তককে দেখা গেল।চাঁদর গায়ে দেওয়া, মাথাবিহীন একটা দেহ লাঠি ভর দিয়ে আসছে। আমার শরীর ভয়ে শিউড়ে উঠল,কারণ এই সে লোক যার থেকে আমি পালাতে চাচ্ছি।আমি আবারও উঠে দৌড়ুতে চাইলাম।কিন্তু আমার শরীর আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে,মনে হচ্ছে কেউ আমার শরীরের সব শক্তি নিয়ে নিয়েছে।
মাথাবিহীন লাশটা আমার দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে আসতে লাগল।একদম কাছে চলে এসেছে।লোকটা আমার দিকে লাঠি তাক করে আছে।হঠাৎ জোরে বাতাস বইতে লাগল, লোকটার শরীর থেকে চাঁদরটা পড়ে গেল,আমি দেখলাম লোকটার পেটের মাঝে দুটো চোখ আছে, অনেক বড় বড় চোখ।দূর থেকে আগে দেখতে পারি নি,কাছে আসার পর দেখতে পারলাম চোখ দুটো,একদম শীতল দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমার শরীর মারাত্মক ভয়ে শিউরে উঠল,শরীরের সব লোম দাড়িয়ে গেল। লোকটা আমার দিকে লাঠিটা তাক করে আছে, লাঠিটা তোলে আমাকে মারতে লাগল। প্রচুর মারতে লাগল। আমি চিৎকার করতে লাগলাম।এমন সময় লোকটা আমার মাথায় প্রচন্ড জোরে বাড়ি মাড়তে উদ্যত হলো,,,
আমি ধরফর করে ঘুম হতে উঠলাম।এতোক্ষণ তারমানে স্বপ্ন দেখছিলাম। কী ভয়ঙ্কর স্বপ্ন!!!আমি প্রচুর ঘেমে গেছি,ভিজে গোসল করে ফেলেছি। ফ্যান চালু করলাম। শত চেষ্টা করেও রাতে আর ঘুমাতে পারলাম না,পানি পিপাসাতে গলা শুকিয়ে একদম কাঠ হয়ে আছে,মনে হচ্ছে এক জগ পানি এক নিশ্বাসে খেতে পারব।পানি খাওয়ার জন্য বিছানা থেকে নামতে যাব,এমন সময় অনুভব করলাম আমার সারা শরীরে প্রচুর ব্যাথা।আমি ভালো করে পা ফেলতে পারছি না।মনে হচ্ছে কেউ হকিস্টিক দিয়ে আমায় প্রচুর মেরেছে।কোনোমতে কষ্ট করে টেবিল থেকে পানি নিয়ে পানি খেলাম।
সকাল বেলা আয়নার সামনে দাড়িয়ে যখন গেঞ্জী পড়ছিলাম, আয়নায় দেখলাম আমার শরীরের অনেক জায়গায় লাল দাগ হয়ে আছে। আমার শরীরে এরকম দাগগুলো আসল কী করে??? রাতের স্বপ্নের কথা মনে পড়ল।স্বপ্নে আমাকে ওই গলা কাটা ব্যাক্তিটা মেরেছিল।গলা কাটা ভূতকে যেন কী বলে??? ওহ,মনে পড়ছে।আমাদের ভাষায় এদের স্কন্ধকাটা বলে। আমার শরীরের সব দাগ কী ওই স্কন্ধকাটার আঘাতে হয়েছে??? কিন্তু আমার এরকম ভাবনায় আমি নিজেই হেসে দিলাম।কারণ স্বপ্নে একজন আমাকে মেরেছিল,আর সেটা কিনা বাস্তবে হয়ে গেছে। কাওকে বললে সে নিশ্চয়ই হাসবে, যেহেতু আমার নিজেরও হাসি পাচ্ছে হালকা। তবে হেসে হেসে বিষয়টা উড়িয়ে দেওয়াও গেল না,কারণ আমি এর পিছনে কোনো কারণ পাই নি।আমার ফ্ল্যাটে আমি একা থাকি, আমার বিছানাও অনেক নরম, তাহলে শরীরে ব্যাথা পাওয়া এবং দাগ হওয়ার কোনো কারন নেই।তাই আমি চেষ্টা করেও কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না। মনের একাংশ এখন বলছে এর পিছনে স্বপ্ন দায়ী, তো আরেক অংশ বলছে আরে এইসব এমনি কোনো কারণে হয়তো হয়েছে,কারণ একটা আছে, ওইসব স্বপ্ন কখনও সত্য হয় না।
এরই মাঝে আরও এক সপ্তাহ কেটে গেল, এই একটা সপ্তাহ আমাকে আরও চিন্তায় ফেলে দিয়েছে, কারণ আমার স্বপ্নে এখন ওই লোকটা নিয়মিত আসে,লোকটার পেটে এখন একটা মুখও আছে,সে আমার সাথে কথা বলে, আর সে নাকি আমার আত্মাটা কিনতে চায়।আমি বারবার ছটফট করে ঘুম থেকে জেগে যাই,ঘুম ভাঙ্গার পর দেখি আমার শরীরে অসংখ্য দাগ আর কতো কী হয়ে আছে।শরীরে দাগ ঢাকার জন্য লম্বা হাতার পোষাক পড়তে হয়, আর শরীরের ব্যাথা কমানোর জন্য পেইন কিলার খেতে হয়। শরীরের ব্যাথার জন্য যে রাতের স্বপ্নই দায়ী তা বুঝতে আমার আর সমস্যা হয় নি,আমি এখন নিশ্চিত আমার স্বপ্নগুলো বাস্তবে পরিণত হচ্ছে বাস্তবতার সব সূত্রগুলোকে ভুল প্রমাণ করে।এখন আমার করণীয় কী তা আমি কিছুই বুঝছি না।
এরই মাঝে একরাতে ঘুম ভাঙ্গার পর আমি নিজেকে মাঝরাস্তায় আবিষ্কার করলাম। এখানে কী করে এসেছি নিজেও জানি না।আমার কাছে জায়গাটা কেমন যেন অচেনা মনে হচ্ছে,কখনও এখানে এসেছি বলে মনে পড়ছে না।তবে চারপাশে তাকিয়ে দেখে আমার কাছে জায়গাটা হালকা পরিচিতও মনে হলো,মনে হচ্ছে আগেও এই জায়গায় এসেছি।মাথাটা কেমন যেন ব্যাথা করছে,চিন্তা করলে ব্যাথাটা আরও বাড়ছে,তবে ব্যাথাকে উপেক্ষা করে মনে করতে লাগলাম,আর তখন আমার মনে পড়ল আমি স্বপ্নে নিয়মিত এখানে আসতাম।তাই হয়তো জায়গাটা আমার চেনা মনে হচ্ছে।সেই একই গলি, একইরকম চারপাশে দেয়াল আছে, পাশের ড্রেন হতে ময়লার দুর্গন্ধ সব একই।আমি নিশ্চিত আমি আমার স্বপ্নে দেখানো জায়গায় এসেছি।তবে একটু খটকা লাগল।আমি আবার স্বপ্ন দেখছি না তো??? পরীক্ষা করার জন্য নিজের শরীরে চিমটি কাটলাম। ব্যাথা লাগল,প্রচুর জোরে চিমটি কেটেছি, নিজের শরীরে এরকম করে কেউ চিমটি দেয় নাকি??? নিজের নির্বুদ্ধিতার কথা ভেবে নিজের প্রতিই রাগ উঠল।তবে এতটুকু নিশ্চিত হলাম যে আমি বাস্তবেই জায়গাটায় এসেছি। আমার ভাবনা চিন্তায় ছেদ ঘটিয়ে ঠকঠক করে শব্দ হতে লাগল,গত এক সপ্তাহ ধরে জানি এর পর কী হবে।তবুও মনের ভয় কমছে না।শব্দটা ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল।আর আমার সাথে আবার দেখা হলো স্কন্ধকাটার, এতোকাল স্বপ্নে দেখতাম,আজ বাস্তবে দেখছি,এটাই হলো পার্থক্য। পাশের গলি থেকে কয়েকটা কুকুর করুণ স্বরে ক্রন্দন করতে লাগল, আকাশে হালকা চাঁদের আলো আছে আজ,আর গলিটা একদম ফাঁকা, এতোসব ভয়ের পরিবেশে আমি অনেক ভয় পেয়ে গেলাম, এটা স্বাভাবিক,এরকম পরিবেশে ভয় না পাওয়াটাই হলো অস্বাভাবিক।
স্কন্ধকাটা আমার সামনে এসে হাজির হলো।আজ আবারও আমায় মারতে উদ্যত হলো,আমার শরীরে হঠাৎ কোথা থেকে যেন শক্তি চলে আসল,আমি দৌড়াতে শুরু করলাম। অনেকটা পথ দৌড়ে চলে এসেছি আমি,পিছন ফিরে তাকালাম, দেখলাম স্কন্ধকাটাটা একটা ঘোড়ায় চড়ে আমার পিছু নিয়েছে,ঘোড়া কোথা থেকে আসল জানি না,তবে ঘোড়াটাও অদ্ভূত রকমের,ঘোড়ার চোখ দুটো আগুনের মতো জ্বলজ্বল করছে।আমি ভয়ের কারণে আর পালাতে পারলাম না। ঘোড়া থেকে নেমেই আমাকে মারতে আরম্ভ করল স্কন্ধকাটা। আমাকে মেরে কাহিল করে ফেলার পর স্কন্ধকাটা নিজের পরিচয় প্রদান করার মতো করে বলল,,,"আমি লুসিফার,মৃত আত্মাদের আমি আমার দলে নিতে চাই,ইতিমধ্যে অনেককে আমার দলে নিয়েছি, আমার আরও সঙ্গী দরকার,তাই আমার তোমার আত্মাটা দরকার।আমাকে তোমার আত্মাটা বিক্রি করে দাও।"
আমি কাহিল হয়ে পড়েছিলাম।কোনোমতে বললাম,,,"তোমার কাছে আমার আত্মাটা বিক্রি করলে আমার কী লাভ হবে???"
"আমার কাছে তোমার আত্মাটা বিক্রি করে দিলে আমি তোমাকে দীর্ঘদিন বাঁচার মতো আয়ু দিব,তুমি বেঁচে থেকে আমার লোক হয়ে কাজ করবে।"
লোকটার কথা শুনে আমার প্রচন্ড রাগ উঠল।রেগে বললাম,,," আমি আল্লাহর সৃষ্টি,আমাকে ওনার ইবাদত করার জন্য বানানো হয়েছে,তোমার মতো শয়তানের বান্দা হতে নয়।"
লোকটি একটা চুপ করে থাকল।ওর পেটে থাকা দুটি চোখ আগুণের মতো জ্বলছে।একটু চুপ করে থেকে স্কন্ধকাটা আমায় বলল,,,"ভেবে দেখ, তুমি দীর্ঘদিন বাঁচতে পারবে,তোমাকে আমি প্রচুর সম্পদ দিব, শ্রেষ্ঠ ধনীদের একজন হবে তুমি।বিনিময়ে শুধু তোমার আত্মাটা আমার চাই।তোমাকে সময় দিচ্ছি ভেবে দেখ।"
এইটুকু বলে ওর হাতে থাকা লাঠিটা দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করল।আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসতে লাগল,আমি শুয়ে পড়লাম,তারপর আর কিছু মনে নেই,,,
ঘুম হতে জেগে উঠে দেখলাম বিকাল ৩ টা বাজে, তারমানে আজ আমি এতোক্ষণ ঘুমিয়েছি। রাতের কথা আবারও মনে হলো, তবে আজ যে ওইটা কোনো স্বপ্ন ছিল না তার প্রমাণ হলো আমার মাথায় আর শরীরের আঘাত, আমার শরীরে লেগে থাকা ময়লা,যা ওই গলি থেকে লেগেছিল। আমি খুব ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুম হতে উঠলাম।আজ মাথায় একটা বিষয়ই কাজ করছে,আর তা হলো আমাকে কিছু একটা করতে হবে।আমি আমার নিজের আত্মা বিক্রি করব না, কখনই বিক্রি করব না।
[কেমন লাগল??? গল্পটাতে কোনো ভুল নজরে আসলে বলবেন।পরে কী হলো জানতে পরের পর্বের অপেক্ষা করুন। পরের পর্ব দ্রুতই দিব]
বি.দ্র.: অনেক সময় আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি।দয়া করে আমার নাম ব্যাতীত কপি করবেন না।
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now