বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্মা রহস্য

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ফেরদৌস ইবনে আবু বকর (০ পয়েন্ট)

X আমরা অনকেই আত্মাকে বিশ্বাস করি। আমরা অনেকেই মনে করি যে কেউ মারা গেলে (বিশেষ করে আত্মহত্যা করলে) তার আত্মা পৃথিবীতে রয়ে যায়। তারা মানুষকে ভয় দেখিয়ে বেরায়। অনেকে দাবি করে যে তারা আত্মাকে নিজ চোখে দেখেছে। অনেক সময় তারা প্রমাণও দেয়। যা অস্বীকার করার উপায় থাকে না। একজন মুসলমান হিসেবে এতে বিশ্বাস করা কি জায়েয? জানতে হলে লেখাটি পুরোটা পড়ুন। (না পড়ে comment করবেন না) কোনো মানুষ পুনরায় দুনিয়ায় আগমন করে না। এটা সম্ভবও নয়। মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম ও জন্মান্তরের বিশ্বাস হিন্দু ও বৌদ্ধদের বিশ্বাস। তাদের ধারণামতে, মানুষ পৃথিবীতে সৎ কর্মশীল হলে মৃত্যুর পর তারা সৎ মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে পুনর্জন্ম লাভ করে ফিরে আসে। আর অসৎ মানুষ কুকুর, বিড়াল, শূকর ইত্যাদি বিভিন্ন পশু ও কীটপতঙ্গের সুরতে পুনর্জন্ম লাভ করে। কারো কারো মতে, অসৎ মানুষ পৃথিবীতে অন্ধ, বধির, খোঁড়া হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ করে। এসব তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ। কিন্তু কোনো মুসলমান এ ধরনের অলীক ও কল্পনাপ্রসূত বিশ্বাস রাখতে পারে না। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী কোনো মানুষ মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম লাভ করে পুনরায় দুনিয়ায় আগমন করতে পারে না। কেননা মৃত্যুর পর ইমানদার সত্কর্মশীল মানুষের রুহ ‘ইল্লিয়্যিন’ নামক জায়গায় অবস্থান করে বলে কোরআনে কারিমে রয়েছে। তাতে তারা কিয়ামত পর্যন্ত পরম শান্তিতে অবস্থান করবে। হাশরের দিন বিচারকার্য শেষে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। আর অবিশ্বাসী ও পাপী লোকদের রুহ ‘সিজ্জিন’ নামক জায়গায় অবস্থান করে। এটি একটি বন্দিখানা, এতে তারা হাশরের মাঠে বিচারকার্য শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত অশান্তি ভোগ করতে থাকবে। বিচারকার্য শেষে তাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (দেখুন : সুরা মুতাফিফফীন : ৭-১৮) পৃথিবীতে পুনর্জন্ম, জন্মান্তর ও এ ধরনের কল্পনাপ্রসূত কোনো বিশ্বাস ইসলাম সমর্থন করে না। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সমাজে কিছু অবাস্তব ও অলীক কথা প্রচলিত রয়েছে, যার সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন অনেকে বলে থাকে, মৃত্যুর পর প্রতি সোমবার তারা দুনিয়াবি ঘরে আসে। কেউ কেউ বলে, এক মাস পর্যন্ত তার রুহ ঘরের চারপাশে বিভিন্ন প্রাণীর ছবি ধরে এসে ঘোরাফেরা করে এবং তার আত্মীয়স্বজনদের দেখে। কেউ কেউ বলে, জুমা, ঈদ, শবেবরাত ও শবেকদরে তার ঘরের দরজায় ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে আসে। কোথাও প্রচলিত আছে যে খারাপ মানুষের রুহ পৃথিবীতে এসে মানুষদের জিনের ন্যায় আসর করে। আসলে এসব অলীক ধারণা উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে হিন্দুদের সংস্রবে থাকার কারণে ছড়িয়েছে। এসবের সঙ্গে ইসলামের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। অনেকে এসব ব্যাপারে কিছু হাদিসও পেশ করে থাকেন, যা আলেমদের মতে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১/৬০৭] কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, “অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে, সে বলে, ‘হে আমার রব, আমাকে ফেরত পাঠান, যেন আমি সত্কর্ম করতে পারি, যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম। ’ কখনো নয়, এটি একটি বাক্য যা সে বলবে। যেদিন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন পর্যন্ত তাদের সামনে থাকবে বরজখ। অতঃপর যেদিন শিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না, কেউ কারো বিষয়ে জানতে চাইবে না। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজদের ক্ষতি করল, জাহান্নামে তারা হবে স্থায়ী। ” [সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৯৯-১০৩] এই আয়াত দ্বারা সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে কোনো মানুষের পক্ষে মৃত্যুর পর পুনরায় দুনিয়াতে আগমন সম্ভব নয়। এ ছাড়া কোরআন-হাদিসের অসংখ্য বর্ণনায় তা-ই প্রমাণিত, সে অনুসারে মৃত্যুর পর কেবল বরজখ, হাশর ও জান্নাত-জাহান্নাম। পেছনে আসার কোনো সুযোগ নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মৃত ব্যক্তিকে কবর দেওয়ার পর দুজন ফেরেশতা তার কাছে আসবেন, যাঁদের মুনকার ও নাকির বলা হয়, তাঁরা প্রশ্ন করবেন, উত্তরে মুমিন ব্যক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল। তখন তার বরজখি কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং আলোকিত করে দেওয়া হবে। অতঃপর তাকে বলা হবে, তুমি ঘুমাও। সে বলবে, আমি একটু দুনিয়ায় রেখে আসা আমার পরিবারের কাছে ফিরে গিয়ে আমার সফলতার কথা বলে আসি। ফেরেশতারা বলবেন, না, তুমি পুনরুত্থানের দিবস পর্যন্ত এমনভাবে ঘুমাও, যেমন নববধূর অপেক্ষায় বর ঘুমিয়ে থাকে। [সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৭১] এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রোগের নিজস্ব ক্ষমতায় একজন থেকে অন্যজনের শরীরে যাওয়ার জাহেলি বিশ্বাসের অস্তিত্ব নেই, সফর মাসকে হারাম মাস বানানোর প্রথা ঠিক নয় এবং জাহেলি যুগের বিশ্বাস—হত্যাকৃত মানুষের রুহ পাখির সুরতে পৃথিবীতে এসে হত্যার প্রতিশোধের আহ্বান করে—ইসলামে এর কোনো স্থান নেই। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫৭১৭) [লেখকঃ ফতোয়া গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার] উপরে উল্লেখিত বিষয় দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় যে আত্মা বলতে কিছু নেই। কিন্তু অনেকেই এমন ব্যাক্তিকে বাস্তবে দেখেছে যারা অনেকদিন আগেই মারা গেছে। কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব? আত্মা তো দুনিয়ায় ফিরে আসতে পারে না। এর আসল কারণ কি? এর কারণ করণ হলো "ক্বরিন"। "ক্বরিন" শব্দের অর্থ হলো সংগী। ক্বারিন (ইংরেজি: Qarinn ) হলো মানব প্রজাতির সঙ্গে সহাবস্থানকারী জ্বিন যা প্রতিটি মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে| এর কাজ হলো মানুষকে খারাপ কাজে প্রভাবিত ও উদ্বুদ্ধ করা। রসূল (সা) এ বিষয়ে বলেন, “তোমাদের প্রত্যেককে জিনদের মধ্য হতে একজন সঙ্গী দেয়া হয়েছে।” সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “এমনকি আপনাকেও ইয়া আল্লাহর রাসুল ? তিনি বলেনঃ এখন সে আমাকে শুধু ভাল করতে বলে।” [ সহীহ মুসলিম খন্ড ৪ পৃ. ১৫৪০ হাদিস নং ৭১৩৪] আল্লাহ তায়ালা বলেন, “মৃত্যুযন্ত্রণানিশ্চিতই আসবে। এ থেকেইতো তুমি টালবাহানা করতে। এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে এটা হবে ভয় প্রদর্শনের দিন। প্রত্যেক ব্যক্তি আগমন করবে। তার সাথে থাকবে চালক ও কর্মের সাক্ষী। তুমি তো এই দিন সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। এখন তোমার কাছ থেকে যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতিক্ষ্ণ। তার সঙ্গী ফেরেশতা বলবেঃ আমার কাছে যে, আমলনামা ছিল, তা এই। তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরুদ্ধবাদীকে, যে বাধা দিত মঙ্গলজনক কাজে, সীমালঙ্ঘনকারী, সন্দেহ পোষণকারীকে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য গ্রহণ করত, তাকে তোমরা কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর। ‘ক্বারীন’ (তার সঙ্গী শয়তান) বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমি তাকে অবাধ্যতায় লিপ্ত করিনি। বস্তুতঃ সে নিজেই ছিল সুদূর পথভ্রান্তিতে লিপ্ত। আল্লাহ বলবেনঃ আমার সামনে বাকবিতন্ডা করো না, আমি তো পূর্বেই তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ভয় প্রদর্শন করেছিলাম। আমার কাছে কথা রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নই।" [সুরা ক্বাফঃ ১৯-২৯] কুরআনে আরও আছে, শয়তান তার সাথী হয়, সে হল নিকৃষ্টতর সাথী। [সুরা আন-নিসাঃ ৩৮] কুরআনে যে নিকৃষ্টতম সাথীর কথা বলা হয়েছে সেটাই ক্বারীন জ্বীন। যা মানুষের সার্বক্ষণিক সাথী। এই জ্বীন মানুষ সম্পর্কে সবকিছুই জানে। মানুষ যখন মারা যায় ক্বারীন সঙ্গী হারা হয়ে যায়। তখন সে মৃত ব্যক্তির রুপ ধরে, ওই ব্যক্তিটি যা যা করতো সেসব করে, মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য। বিভ্রান্ত করার জন্য, যাতে মানুষ কুরআনের আয়াতের উপর অবিশ্বাস করে বা সন্দেহ পোষণ করে। যেহেতু কোরানে আছে, রুহ আদেশ প্রাপ্ত। সে আল্লাহর আদেশ ছাড়া কিছু করতে পারে না। আর আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে না। সুতরাং, বলা যায় যে আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে না। ক্বরিন জিন মানুষকে বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট করতে মৃত ব্যক্তির বেশ ধরে থাকে।। তথ্যসূত্রঃ 1. https://www.kalerkantho.com/print-edition/islamic-life/2016/10/14/416345 2. https://bn.m.wikipedia.org/wiki/ক্বারিন 3. https://m.facebook.com/notes/ashraf-mahmud/%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A7%9F-%E0%A6%93-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9C-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%9B%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4-%E0%A7%AB%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A7%A7%E0%A6%9F%E0%A6%BF/871261206269050/ 4. https://mbasic.facebook.com/story.php?story_fbid=535310480484128&id=120899011925279&__xts__%5B0%5D=12.AbowaMxIgO2xsi3IrDMdxPTj24pa00Hxx_idQx4QkSSd4Exq-vzaJKkrWHzl4Yw3kmNKguGe6G6S6lsSb4GEJ6Aj9oy-DfW4DhXvcxoj7ZGLcu0P7p_NY3_le0mlfjLdD1LgaqziEesbwRdToAgWk2SQVB7nHb6pTmUClJL3HbmjbX_kFPg00zR1YO96RkQo2fC3kkacd3tU_Ybr-4ZThRJZkp5SOWybRKsor1WUZl_PDsOlKBry6b4wbDp9UPSe_ojnjHze8yXp5Na-fvxdB3oY2FjH8iecU6_wHlKB_tNJw1F3MKjBADI6Bz6FrhmP69TdiSklWvP_Oo88j1Ypk3ZdugtmuoELUUyS9Ur5idV5WFSBhC79MG2kgVBQwTeBhylju197mygysAHgnl7yqKzd7PC_v2KaMuOZ4SEQiN4y30v_DiEOU4k6_qJSnL3DUDrdHTkCrMjCc3h9DTtfp6akAgNjX6bv-M1qc-f2MSKPk98KiRXVaCgwmlF7XgEo58y__fxEyiV7rZ9bDvs1YRH93iGy15TUgfL0_XwB9srBhUvQXZWkMfH-yazRhmTB_Hfi2yCdgcDxxKH3VNr5o6aU75bO2YsD5aRUUPtfImIQEB3Xkvev52AGAr3SJQaup6Q&__tn__=%2AW


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আত্মা-রহস্য
→ আত্মা রহস্য

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now