বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আস্থার ফাঁদ

"ক্রাইম" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। শীতের ভোর তখনো পুরোপুরি আলো ফেলেনি। খুলনার এক শান্ত পাড়া, রাস্তায় কুয়াশার চাদর ঝুলে আছে। কিন্তু সেই কুয়াশার ভেতরেও অনেক নারীর জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছিল এক প্রতারকের ফাঁদে পড়ে। তার নাম—সবাই জানত না, কিন্তু ফেসবুকের ভুয়া প্রোফাইলগুলোয় সে ছিল কখনো ‘সোহেল রহমান’, কখনো ‘আদনান চৌধুরী’, আবার কখনো ‘আরাফাত হোসেন’। তার কৌশল ছিল সরল কিন্তু শিকার ছিল গভীর। প্রথমে সে নিজের ভুয়া প্রোফাইল সাজাতো বিদেশে থাকা শিক্ষিত, ভদ্র, এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল একজন যুবকের মতো। প্রোফাইলে ব্যবহৃত ছবিগুলো ছিল ইন্টারনেট থেকে চুরি করা—ইউরোপের কোনো শহরে তোলা, হাতে দামি ঘড়ি, পেছনে গাড়ি। এমন ছবি দেখে অনেক নারীই তার অনুরোধ গ্রহণ করতেন। শুরুর আলাপ সবসময় বিনয়ী, সহানুভূতিশীল, আর একটু রোমান্টিক। “আপনার জীবনে কেউ নেই কেন?”—এমন প্রশ্নের পর সে শুনতে পেত একাকীত্বের গল্প। যারা পরিবারের ভেতরে উপেক্ষিত, বা জীবনে বড় কোনো ধাক্কা খেয়েছেন, তাদের প্রতি সে বিশেষ নজর দিত। ধীরে ধীরে আলাপ গড়িয়ে যেত ব্যক্তিগত স্বপ্ন, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, এমনকি বিয়ের প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত। এরপরই শুরু হতো ফাঁদ। একদিন বলত, “আমি দেশে আসছি, কিন্তু কিছু আর্থিক জটিলতা হয়েছে… যদি আপনি সাহায্য করেন, আমি দেশে এসে সব ফিরিয়ে দেব।” কখনো বলত, “বিদেশ থেকে আপনার জন্য কিছু এনেছি, কাস্টমস ক্লিয়ার করতে টাকা লাগছে।” এইভাবে একে একে টাকা পাঠাতে থাকত শিকাররা। শুরুতে হয়তো দশ-পনেরো হাজার, কিন্তু একসময় সেই পরিমাণ হয়ে দাঁড়াত কয়েক লাখে। প্রতারক শুধু টাকা নিত না—কিছু নারীর কাছ থেকে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিওও আদায় করত, কথিত ‘বিশ্বাসের প্রমাণ’ হিসেবে। পরে সেই ছবি দিয়েই হুমকি দিত, আরও টাকা দাবি করত। খুলনার এক শিক্ষিকা, যিনি এই ফাঁদে পড়েছিলেন, পরে পুলিশের কাছে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন—“আমি ভাবতাম, এই মানুষটিই আমার শেষ ভরসা। অথচ সে আমার জীবনটাই শেষ করে দিল।” তিনি তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন প্রায় ১৮ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, এমনকি নিজের বাবার দেওয়া জমির দলিলও। এমনভাবে প্রতারণা করতে করতে ওই ব্যক্তি শুধু কয়েক কোটি টাকার মালিকই হয়নি, বরং খুলনাতে দুইটি ডুপ্লেক্স বাড়ি কিনে ফেলেছিল। বাইরে থেকে সে ছিল একজন সফল ব্যবসায়ী—যার একটি বিশাল মাছের খামার ছিল, যেখানে সপ্তাহে লাখ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হতো। কিন্তু এর পেছনে ছিল অসংখ্য নারীর অশ্রু, অপমান আর নিঃস্ব হয়ে যাওয়া জীবন। পুলিশ অবশেষে একদিন ফেসবুকের সাইবার সেলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় একাধিক স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ডজনখানেক এটিএম কার্ড। কিন্তু ততদিনে যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তাদের অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কেউ কেউ পরিবার ও সমাজের ভয়ে অভিযোগই করতে পারেননি। কারণ এই ধরনের প্রতারণায় শুধু টাকা হারানো নয়, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও আত্মসম্মানও ধ্বংস হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আস্থার ফাঁদ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now