বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মা আমি গেলাম!!!বলতে দেড়ি কিন্তু আমার দৌড় দেওয়ায় কোনো দেড়ি নেই।
আমি তাওহীদ।ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার এ পরি।কী ভাবছেন???আমার কলেজে দেরি হচ্ছে?বা আমার কোথাও যাওয়ার খুব তারা আছে?বা আমি লুচ্চা,, মেয়ে দেখতে যাচ্ছি??এসব কিছুই না।
আসলে আমি একটা মেয়ে থেকে বাঁচার জন্যই প্রতিদিন তাড়াহুড়ো করে কলেজ যাই।আজও ব্যতিক্রম নয়।দৌড়াচ্ছি,প্রাণপণ দৌড়াচ্ছি।
গেট পার হতেই উপর তলার বেলকনি থেকে---
>ঐ তাওহীদের বাচ্চা। প্রতিদিন আমার আগে আগে কলেজ যাস কেন?আমি না বলছি আমার সাথে কলেজ যাবি।তাও প্রতিদিন আমাকে রেখে যাস?দ্বাড়া আমি এক মিনিটে আসছি।
(আমি তো মাথা চুলকাচ্ছি)
এই হচ্ছে মহুয়া আপু।হুম্ম,আপু।আসলে উনি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার এ পরে।দুই মাস হলো আমাদের বাসায় উঠেছে।আর দুর্ভাগ্যবশত আমাদের কলেজেই পড়ে।প্রথমের ঐদিক একসাথেই যেতাম।কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর কেমন দায়িত্ব ফলাতে আসে,শুধু শুধু রাগ হয়।বাইরে কিছু করলে সব এসে আম্মুকে বলবে।আর আমি খাই বাঁশ,বাংলা বাঁশ।মানে বড় হওয়ার এডভান্টেজ নেয় আর কি।এই যে চলে এসেছে
>আজ এত ক্লিন হয়ে এসেছিস যে??
>তো কি অপরিষ্কার হয়ে আসব নাকি?
>তাই বলেছি নাকি?মানে এত সেজে গুজে এসেছিস..নিশ্বয় মেয়ে পটানোর ধান্দা।
>হ্যাঁ তাই, আজ কলেজে ঢুকে যাকে দেখব তাকেই প্রপোজ করব।
>বড় আপুর সামনে মানুষ এসব কথা বলে।(মাথায় গাট্টা মেরে)
>তুমিই তো বল......লা..
>আবার কথা বলিস?বেয়াদব হয়ে গেছিস?দাড়া আন্টিকে বলি আগে।
>(লও ঠেলা)
>কিছু বললি?
>না,,না,,আপু। কিছু বলি নি।
এমন রাগ খেতে খেতেই চলে আসলাম কলেজে। এজন্যই তো এই মহুয়া থেকে দূরদেশে থাকি।ওহ সরি...মহুয়া আপু।নাহলে শুনলে আবার গাট্টি মারা শুরু করবে।
এই আপুর ভয়ে কোনো মেয়ের দিকেও তাকাতে পারি না।তাকালে নাকি বেয়াদবি হয়।আর ফলাফল আম্মুর বকা।
মিনমিনে হয়ে বললাম---
>আপু আমি গেলাম।আমার ক্লাস তো এইদিকে।
>আচ্ছা যা,,মেয়েদের দিকে তাকাবিনা।ওরা কিন্তু তোর বোনের মত।যদি দেখি তাহলে কিন্তু...!!!
>তুমিও তো আমার বোন লাগো।(আস্তে আস্তে)
>কি বিরবির করছিস??
>ও কিছু না।থাকো গেলাম।
(এ যাত্রায় বেঁচে গেছি/নাহলে যে আরো কত শাসন করত)
একটা ক্লাস করে বের হলাম।ক্লাস করতে আর ভালো লাগছে না।পুকুর পাড়ে বসে আছি।
>ঐ তুই এখানে কি করছিস??
>না, মানে এমনি বসে আছি।
>বসে আছিস মানে???ক্লাস ফাকি দিয়ে তুই লুতুপুতু করছিস??কই তোর গার্লফ্রেন্ড??ডাক দেখি,,কত বড় সাহস!!
>ধ্যাত!! তোমার সমস্যা কি??আমি কি করি সেটা আমার ব্যাপার তুমি এতে নাক গলাও কেনো??যথেষ্ট হয়েছে।তুমি আর আমার কোনো ব্যাপারে ইন্টারফেয়ার করবে না।বুঝেছ??(প্রচুর রাগি ভাবে)
আপু কিছু না বলে চলে গেলো।হয়ত কষ্ট পেয়েছে।কিছুক্ষণ ভালোই লাগছিলো,ফ্রি ফ্রি লাগছিলো।কিন্তু তারপর কেনো যেনো জীবন্টা ফ্যাকাসে ফ্যাকাসে লাগছে।
আজ পাঁচ দিন হলো আপু আমার সাথে কথা বলে না।আমারো খারাপ লাগছে।আপুর বান্ধবী সুত্রে জানা গেছে সে নাকি আমাকে পছন্দ করত।তাই মেয়েদের কাছে ঘেষতে দিত না।এখনতো আমার আরো প্রচণ্ড রকমের খারাপ লাগছে।এখন কি করব ভেবে পাচ্ছি না।আপুর এক বান্ধবির প্লান ই এখন ফলো করতে হবে।তাতে যদি আপুর অভিমান ভাঙে।
আপু ক্লাসে বসে একটা প্রবলেম সলভ করছিলো।তখনি নদি আপু(মহুয়া আপুর বান্ধবি) গিয়ে মহুয়া আপুকে বলল--
>মহুয়া,তোর মজনুর সাথে তো আরেকজন লাইন মারছে।
>মানে?
>মানে তাওহীদ তো নেহার সাথে চুটিয়ে প্রেম করছে।
মহুয়া আপু কে, আমাকে আর নেহা আপুকে দেখিয়ে দিয়ে বলল-- ওই দেখ।(আমরা তখন ক্লাসের সামন দিয়ে হাটছি আর হেঁসে হেঁসে কথা বলছি)
>ভালো তো আমি কি করব??(কেঁদে কেঁদে)
>ভালো তো ঠিক আছে তুই কাঁদছিস কেনো??
>আপু দৌড়ে গিয়ে ক্লাসে বসে ডুকরে ডুকরে কাঁদছিলো।
নদি আপুর ইশারায় মোক্ষম সময় বুঝে চুপি চুপি দাঁড়ালাম মহুয়া আপুর পাশে।
>হঠাৎ-----I LOVE YOU
>আপু আমার দিকে তাকিয়ে অনেক অবাক।(চোখে এখনো কান্না)
>কি ভালোবাস না বুঝি??তাহলে গেলাম নেহা আপুর কাছে।।
সাথে সাথে কিছু একটার ধাক্কা পেলাম।বড় আপুটা আমাকে একদম জড়িয়ে ধরেছে।
>তুই প্রচুর খারাপ।আমাকে কাঁদাতে নাটক করেছিস।(জোরে জোরে কান্না করছে আমার বুকের মাঝে।শার্টটা ভিজে গেছে। তবে মন্দ লাগছে না।তাই কিছুক্ষণ কাঁদতে দিলাম।অনেক কষ্ট পেয়েছে একটু যদি হাল্কা হয়!!)
কিছুক্ষণ পর--
কানে কাছে মুখটা নিয়ে গিয়ে আস্তে করে বল্লাম-এতদিন কথা বলনি কেনো??
>সেদিন যেভাবে রাগ হয়েছিলে!!আমি প্রচুর ভয় পেয়েছিলাম।আর কষ্টও পেয়েছিলাম।(কান্নার কারনে ঠিকমত কথা বলতে পারছে না)( আর তুই থেকে তুমিতেও এসেছে।হয়ত অধিকারটা খুজে পেয়েছে)
>ও তা আজ আবার ভালোবাসছ কেনো?.ভয় পাচ্ছ না?
>না... আমি আমার আগের হ্যাব্লাটাকে আবার ফিরে পেয়েছি যাকে আমি না,যে আমাকে ভয় পেত।
>তাই বুঝি??
>হুম্ম,আর হ্যাঁ।,আমাকে আর একদম কাঁদাবে না।আমার বুঝি কষ্ট হয় না??(অভিমানী শুরে)
>আচ্ছা,আমার কলিজাকে আমি আর কাঁদাব না।এই কানে ধরছি।স.....রি!!
>ঠিক আছে,ঠিক আছে,আর যেনো ভুল না হয়।হুহ......
>তা তোমার হেবলাটা যে একটা উম্মাহ চায়।
>আমি তোর বড় আপু..(ঠাস করে চর দিয়ে)
>(আমি হতভম্ব।)(গালে হাত দিয়ে মন খারাপ করে আছি)
হঠাৎ শয়তানী হাসি হেসে---
ঠোটে ঠোট মিলিয়ে দিলো।আহা পরম শান্তি।আমার ভীতি এখন কেটে গেছে।শুধু আমিই না এই মহুয়া আপু, ওহ সরি আমার মহুয়া ইয়ে...ও একটা বড় মাপের খিলারি।এখন শুধু ওনাকে এই বুকে করেই রাখতে চাই।
-----আসিফ তৌহীদ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now