বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-আপু ওই মেয়েটি কে ?
-ও আমার মামাতো বোন। কেন কি হইছে।
-না এমনিতে মেয়েটিকে পছন্দ হয়ে গেলো।
শীতের মজাটা গ্রামে সবচেয়ে বেশি। ভোরবেলা পুরো মাঠ জুড়ে ঘাস গুলো শিশির সিক্ত।গাছ থেকে খেজুরের রস চুরি করা, বিভিন্ন পিঠা খাওয়ার উপভোগ গ্রামেই পাওয়া যায়।
আদিল মা-বাবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে গ্রামের বাড়ি চাচাতো বোনের বাসায় বেড়াতে যায়।সাধারনত শীতের বেলা গ্রাম্য দৃশ্য টা একটু ভিন্ন হয়ে থাকে।
বিকেল পেরিয়ে সন্ধা ঘনিয়ে এলে, ঝিঝি পোকার চিকচিক শব্দ, জোনাকির আলো তে পুরো উঠান টা উজ্জ্বলিত হয়ে যায়।টিনের ছোট্টো কুটিরের সাঁধে টুপটাপ করে পরা শিশিরবিন্দুর শব্দ।একটু রাত হলেই খাবারের কাজ সেরে কম্বোলের নিচে চলে যায় গ্রাম্য মানুষ গুলো।আদিলের জীবন ঠিক গ্রামীণ পরিবেশের গতিতে চলছে।রাতে খুব তাড়াতাড়ি শুয়ে পরে আর ভোরে পাখির মধুর কন্ঠে ঘুম ভাঙে।
একদিন ভোরবেলা সবাই মিলে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে রোদ পোয়াচ্ছে। এমন সময় হাতে ব্যাগ নিয়ে একটি মেয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়।মেয়েটি দেখতে ফর্সা তার উপর দিয়ে ভোরের উষ্ণ আলো মেয়েটির গা বেয়ে পরছে। আদিল নিস্পলক ভাবে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইলো।পাশ থেকে চাচাতো বোন টা,নিপা বলে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে।
মেয়েটির নাম নিপা,সবে ক্লাস সেভেনে পড়াশুনা করে।শীতের ছুটিতে বেড়াতে এসেছে।
আদিলের সাথে পরিচয় হয় নিপার। তখন ও আদিল নিস্পলক।মনে হলো স্বর্গের অপ্সরী নেমে এসেছে তার সামনে।আদিল বারবার চেষ্টা করে নিপার সাথে কথা বলার জন্য।
সবাই মিলে একটা প্লান করে,খুব ভোরে খেজুরের রস চুরি করবে।নিপা ছিলো এই প্লানের মাস্টার।চুরি করতে গিয়ে ধরা পরে যায় সবাই।সব দোষ আদিল নিজের মাথায় নিয়ে নেয়।
-চাচা পুরা রেগে আগুন। বাবাকে ফোন দিয়ে সব ঘটনা বলে দেয়। এর আগেও আমার নামে বিভিন্ন নালিশ আসে বাবার কাছে।বাবা বাসায় ফেরার জন্য বলে।
বাবার হুকুম মেনে রয়না দেয় বাসার উদ্দেশ্যে।
আদিল মেয়েটিকে ভালবেসে ফেলেছে। মেয়েটিকে আপন করতে চেয়েছে।
যাবার দিন নিপাকে তার অগভীর ভালবাসার কথা বলে।নিপা চুপ থাকে। কোনো উওর দেয় নি এই বালিকা।
আদিল নিশ্চুপ হয়ে বাসায় ফিরে আসে।
বাবা আদিলকে টাকা দেই ভিসা বানানোর জন্য।।আদিল বিদেশে যেতে পারে নি।বাবার সামনে অন্ধকার মুখ নিয়ে এসে বলে-
-বাবা টাকা গুলো হারিয়ে ফেলেছি।বাবা রাগের মাথায় দুইচারটে চড় লাগিয়ে দেয় ওর গালের উপর, বাসা থেকে বের করে দেয়।
বাসা থেকে বেরিয়ে প্রথম এক বছর আদিল কাউর সাথে যোগাযোগ করে নাহ,দ্বিতীয় বছর ঠিক প্রথমদিন,মা'র মোবইলের কল আসে অজানা নাম্বার থেকে। কল দেয়া ব্যক্তি টি আদিল। মা'কে বলে বাবাকে যেন কিছু না জানায় ।
সময় পার হতে থাকে ,
আর সময়ের সাথে সব কিছু বদলাতে থাকে।আদিল দিনরাত পরিশ্রম করে টাকা আয় করে। নিপাও মন দিয়ে পড়াশুনা করে। দেখতে দেখতে প্রায় চার বছর কেটে যায়।মা'র অনেক রিকুয়েস্টে আদিল বাসায় ফিরে। আদিলকে দেখে বাবা-মা'র চোখ দিয়ে অশ্রু বাইতে লাগলো।নিপাও শহরের একটা কলেজে ভর্তি হয়।দুইজনের জীবন দুই ভিন্ন পথে চলতে ছিলো। হয়তো দুইজনের পথের শেষটা এসে মিলবে এক মোড়ে।
এক ভরদুপুরে নিপা একটা ছেলের সাথে ধাক্কা খায়।ছেলেটি আর কেউ নয়,সে ছিলো আদিল।পুরো পরিবেশ টাতে যেন একটা নিস্তব্ধ বিরাজ মান হলো।দুইজন দুইজনের দিকে অবাক হয়ে থাকিয়ে রইলো। কয়েক মিনিট পর নিপা সামনের দিকে হাঠতে শুরু করে।আদিল পিছন থেকে ডাকতেছে।নিপা একটি বারও পিছন ফিরে তাকায় নি।আদিল পিছন থেকে হাত টেনে ধরলো। নিপা কাঁদতে ছিলো। আদিল কিছুই বুঝতেছে না।
-নিপা কিসের জন্য কাঁদতেছো?
-কি হলো কিছু বলবা তো,না বললে কি ভাবে বুঝি।
নিপা-আমি সেদিন তোমার ভালবাসা বুঝতে পারি নাই।আমাকে ক্ষমা করে দাও।
আদিল-হঠাৎ এইসব কথা কেন বলতেছো।
নিপা-আমার বাবা ব্রেইন স্টক করেছিলো। আর সব খরচ তুমি দিয়েছিলে। আর সেই জন্য তুমি বিদেশে যেতে পারো নি, তোমার বাবা তোমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলো।
আদিল-তুমি কিভাবে এই সব কথা জানলে?
নিপা-তোমার চাচাতো বোন বলছে।
-এতটাই ভালবাসাতে আমায়, এত বড় ত্যাগ কেন করলে।
আদিল-তোমার জন্য।
দুইজনের চোখ বেয়ে পানি বইতে লাগলো। আকাশে ভেসে থাকা মেঘগুলো বৃষ্টি নামিয়ে দিল।ভালবাসার অঝর বৃষ্টিতে দুইজন ভিজতে লাগলো।
বৃষ্টি শেষে আকাশে একগুচ্ছ রংধনুর জন্ম নিবে ওদের ভালবাসার প্রতিক হিসেবে।
[] মহাকাব্য'র কাব্যিক []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now