বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আপনা টাইম আয়েগা

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rafi Orton (০ পয়েন্ট)

X দিনাজপুর পৌঁছে ফেসবুকে স্টেটাস দিলাম “দিনাজপুরের কি কেউ আছেন আমাকে শহর ঘুরিয়ে দেখাবেন।” সাথে সাথে পাঁচজন সুন্দরী মেয়ে ইনবক্সে নক করে বললো ভাইয়া আপনি দশটা মিনিট অপেক্ষা করুন আমি আসছি। আমি খুব অবাক হলাম যখন দেখলাম সত্যি সত্যি মেয়েগুলো কথা রেখেছে। আসি আসি বলে বেঁদের মেয়ে জ্যোৎস্নার মতো ফাঁকি দেয়নি। কিন্তু সমস্যাটা হলো আমি কাকে রেখে কার সাথে ঘুরতে যাবো। মেয়েগুলো প্রত্যেকে বলছে ভাইয়া আমার সাথে চলুন। কার সাথে যাবো সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই মেয়েগুলো আমার হাত ধরে টানাটানি শুরু করলো। একজন ডান হাত ধরে টানছে তো অন্যজন বাম হাত ধরে। কিছু বুঝে উঠার আগেই বাকি তিনজন আমার পাঞ্জাবী ধরে টানাটানি শুরু করে দিলো। লোকজন আমাদের চারপাশে ভীড় জমিয়ে ফেলেছে। আমি কোন উপায় না দেখে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিল্লানো শুরু করলাম। কিন্তু কেউ বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসলোনা। মেয়েগুলো টানতে টানতে আমার পাঞ্জাবী ছিঁড়ে ফেললো। পাঁচজনের মধ্যে একজনকে ধরে তুলে আছাড় মারতেই বাকি চারজন দৌঁড়ে পালালো। তবুও কেউ একজন আমার গেঞ্জি ধরে টানছে। চোখ খুলে দেখি ইয়ামাহা সাইজের এক মটু মহিলা আমার বিছানার পাশে বসে আমার গেঞ্জি ধরে টানছে। “কেডা রে” বলে লাফ দিয়ে উঠে বসলাম। তারমানে এতোক্ষন স্বপ্ন দেখছিলাম। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। এটা শুধু স্বপ্নেই সম্ভব। বাস্তবে যখন ফেসবুকে স্টেটাস দিয়ে এক এলাকায় গিয়েছিলাম। অনেকক্ষন বসে থাকার পরে এক গুন্ডা টাইপ ছেলে এসে হাজির। এসেই বললোঃ --তুমি এন. আই. আলিফ? . -জ্বি… . --চলুন শহর ঘুড়িয়ে দেখাই। . ছেলেটাকে দেখেই কেন যেন টাউট বাটপার মনে হচ্ছিলো। তবে বাহ্যিক দিক বিবেচনা করে মানুষকে খারাপ ভাবা ঠিক না। আমাকে দেখেও তো গাজাখোর মনে হয় অথচ আর পর্যন্ত কখনো গাজা ছুঁয়েও দেখলাম না। কিন্তু ছেলেটার সাথে যেতে মন সায় দিচ্ছিলোনা। বললামঃ -না ভাই থাক। আপনাকে কষ্ট করতে হবেনা। . --কিসের কষ্ট? কোন ব্যাপার না। চলুন ঘুরে আসি। পাঁচশত টাকা দেন একটা সিএসজি ভাড়া করতে হবে। আমাকে বিশ্বাস না করলে জামানত হিসেবে আমার ফোনটা নিজের কাছে রেখে দিন। . এভাবে বলার পরে কোন মানুষকে অবিশ্বাস করা উচিত না। তাই ছেলেটার হাতে পাঁচশত টাকার পুরোনো নোট খানা দিয়ে চায়ের দোকানে বসে সিএনজির অপেক্ষা করতে লাগলাম। এক ঘন্টা অপেক্ষা করার পরে ছেলেটাকে ইনবক্সে নক করতে গিয়ে দেখি হারামজাদা আমাকে ব্লক মেরেছে। বুঝতে বাকি নেই আমাকে খুব সহজে মুরগী বানিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়েছে। বিছানায় বসে বসে পুরোনো পাঁচশত টাকা আর অদ্ভুত স্বপ্নের কথা ভাবছি এমন সময় মহিলা বললেনঃ . --কিরে এখনো ঘুমাচ্ছিস? . মহিলার মুখের দিকে তাকিয়ে এবার চিনতে পারলাম। সম্পর্কে তিনি আমার মামি হবেন। মামিকে বহুদিন পর দেখার কারনে প্রথমে চিনতেই পারিনি। ভেবেছি প্রেমের টানে কোন নাইজেরিয়ার সুন্দরী আমার বাসায় ছুটে এসেছে। ভয় পেলে বুকে থুতু দিতে হয়। আমি বুকে থুতু দিয়ে বললামঃ -মামি আপনি? . --হুম… . --হঠাৎ গরিবের ঘরে হাতির পা কিভাবে পড়লো? . -হাতি বলছিস কাকে বেয়াদব? মামির সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানিস না। . -সরি মামি, আসলে আপনি মোটা হয়েছেন বলে হাতি বলিনি। হাতি বলতে ধনী বুঝিয়েছি। . আমার কথা শুনে মামি কেঁদে উঠলেন। আশ্চর্য এই সামন্য কারনে কেউ কাঁদতে পারে? সব ভারতীয় সিরিয়ালের অবদান। -মামি কাঁদবেন না প্লিজ। আপনাকে হার্ট করার জন্য হাতি বলিনি তো। . মামি দ্রুত কান্না থামিয়ে বললেনঃ --তুই বারবার হাতি হাতি করছিস কেন? আমি কাঁদছি অন্য কারনে। আমাদের অনিকের বিয়ে। . মামির কথা শুনে বিরাট রকমের ধাক্কা খেলাম। এই ছেলে বয়সে আমার দুবছরের ছোট। তার বিয়ে! কিভাবে সম্ভব। . -মামি বলেন কি! অনিকের আর বয়স কতো। এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে? . --তো কি করবো বল। জানোয়ারটা একটা মেয়ের সাথে প্রেম করতো। হুট করে এসে বলে মা ওই মেয়েকে আমি বিয়ে করবো। তোমরা বিয়ে না দিলে বিষ খেয়ে মরবো। আমি বললাম যা বিষ খা। সে সত্যি সত্যি কয়েকটা ঘুমের অষুধ খেয়ে চিত হয়ে পড়ে থাকলো। বাধ্য হয়ে বিয়ে দিতে হচ্ছে বুঝলি। . -সে যাই হোক। মেয়ে ভালো তো? . --মেয়ে আমার পছন্দ না। অনিককে বললাম বাবা মেয়ে তো শর্ট। অনিক বলে মা আমার তো শর্ট মেয়ে পছন্দ। আমি বললাম মেয়ে তো কালো। অনিক বলে মা আমার তো কালো মেয়েই পছন্দ। বললাম বাবা মেয়ে তো মোটা। অনিক বলে মা মোটা মেয়েই তো আমার পছন্দ। আমি যেই খুঁত বের করি আমার ছেলের সেটাই পছন্দ। আমি পরীক্ষা করার জন্য একটা মিথ্যা বললাম বাবা মেয়ে তো গুল দিয়া দাঁত মাজে। ছেলে বলে মা গুল দিয়ে দাঁত মাজা মেয়েই তো আমার পছন্দ। . কথাগুলো বলে মামি অতি দুঃখে নাক থেকে বের হওয়া পানি বিছানার পাশে রাখা আমার শার্টটায় মুছলেন। তারপর শার্টটা দূরে ছূঁড়ে ফেলে বললেন ছি কি গন্ধ। মামি বিয়ের দাওয়াত দিয়ে চলে গেলেন। আমি মনে মনে বললাম “আপনা টাইম আয়েগা”। আমারো সময় আসবে। আমিও একদিন বিবাহ করবো। . আজ যাচ্ছি সেই বিয়ের দাওয়াত খেতে। আব্বাহুজুর স্পস্ট বাংলায় বলেছেন এমন অভদ্র বালকের বিবাহে আমি উপস্থিত হইবো না। ঘুমের অষুধ খাইয়া যে পুত্র পিতা-মাতাকে ব্লাকমেইল করে। আব্বাহুজুর কথা থামিয়ে বললেনঃ . --আলিফ ব্লাকমেইলের শুদ্ধ বাংলা কি? . আমি আব্বাহুজুরের কথা শুনছিলাম না। বিয়ের কার্ড হাতে পাওয়ার পর থেকে মাথায় একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো “আপনা টাইম আয়েগা। আপুন ভি শাদি কারেগা। দুলহা বানেগা।” অর্থাৎ “আমারো সময় আসবে। আমিও বিবাহ করবো। বর হবো।” কথার জবাব না পেয়ে আব্বাহুজুর আবারো বললোনঃ --কিরে বল ব্লাকমেইলের শুদ্ধ বাংলা কি? . -আপনা টাইম আয়েগা। . --কি? . -কিছুনা। . --কিছু একটা তো বললি… . -কিছু বলিনাই। . --আচ্ছা। না বললে ভালো। যা রেডি হয়ে বিয়েতে চলে যা। তোকে দাওয়াতে পাঠানো তো লস। খেতে টেতে পারবিনা। একটা হাড় নিয়ে আধঘন্টা বসে কামড়ে খেতে চেষ্টা করবি। তারপর হাড় চাবাতে না পেরে প্লেটে হাত ধুয়ে বলবি আমার পেট ভরে গেছে। অযথা উপহার দিতে হবে। যাই হোক দেরি করিসনা। তাড়াতাড়ি গিয়ে খেয়ে আয়। . বিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখি হুলুস্থুল ব্যাপার স্যাপার। মামি বেশ খুশি খুশি মনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মেয়ের সম্পর্কে মামি প্রচুর মিথ্যা বলেছেন সেটা বুঝতে পারছি। মেয়ে দেখতে বেশ সুন্দরী। এমন সুন্দরীর জন্য শুধু ঘুমের অষুধ কেন আমি তো জামালঘোটা অথবা মেট্রিল সব খেতে পারি। দুঃখজন ব্যাপার হলো বিয়ে বাড়িতে কোন মেয়ে আমাকে পাত্তা দিচ্ছেনা। সেজন্য ভাবলাম খাওয়ায় মনোযোগ দেই। কিন্তু পারলাম কোথায়। এতো লোক থাকতে এক আধ পাগল কেন আমার পিঁছু নিলো বুঝলাম না। আধ পাগল বলছি কারন লোকটা কিছুক্ষন আগে “লিলাবালি লিলাবালি” গানে সবার সামনে মাটিতে শুয়ে ড্যান্স দিচ্ছিলেন। আমার পাশের চেয়ারে বসে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ . --চেনা চেনা লাগে . -তবু অচেনা। ভালোবাসো যদি কাছে এসোনা। . আমার কথা শুনে দুটো মেয়ে খিলখিল করে হেসে উঠলো। লোকটা বিরক্ত হয়ে বললোঃ --আমি গান বলিনি। বলেছি তোমাকে চেনা চেনা লাগছে। . -দেখেন ভাই এই লাইন কোন মেয়েকে গিয়ে বলেন তাহলে পটলেও পটতে পারে। আমাকে বলে তো লাভ নেই। . --আহা তুমি বুঝছোনা। . -আহা আপনি বুঝাতে পারছেন না। . --আহা মশাই আমি বুঝতে চাচ্ছিনা। . চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে আসলাম। এদিক ওদিক হাঁটছি লোকটা আমার পিঁছু পিঁছু হাঁটছে। কিভাবে তার চোখে ধূলো দিবো সেটা বুঝতে পারছিনা। মামি প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার ডেকেছেন বিয়েতে। ছোট একটা স্টেজ বানানো হয়েছে। সেখানে লোকজনকে ধরে ধরে ফটো তুলছেন। আমি ফটো গ্রাফারের পেছনে দাঁড়িয়ে বললাম “ওই ভাই আপনার প্যান্টের চেইন খোলা। চেইন লাগান।” কথাটা বলতেই স্টেইজের সবাই প্যান্টের চেইনে হাত দিলো কার খোলা সেটা দেখার জন্য। ফটোগ্রাফার ঠিক সেসময় ফটো তুলে বললেন “আপনাদের ফটো তোলা হয়ে গেছে। সরে গিয়ে অন্যদের ফটো তোলার সুযোগ করে দিন।” ভাবলাম নিজের একটা ফটো তুলে রাখি। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার দিয়ে ফটো তুলার সুযোগ তো সবসময় হয়না। ফটোগ্রাফার বললেন “ভাই একটু হাসেন। না হয়নি। আরেকটু হাসেন। আহা হাসছেন না কেন?” দাঁত বের করে হাসলাম। ফটোগ্রাফার ভাই বললেন “হাসতে বলছি ভাই দাঁত দেখাতে বলিনি। দাঁত একটু লুকান। আহা আপনি বুঝছেন না দাঁত অতো বের করা যাবেনা।” দাঁত আর হাসির হিসেব মিলাতে না পারার কারনে ছবি আর তোলা হলোনা। দৌঁড় দিয়ে গিয়ে খেতে বসলাম। আমার চোখ তখন প্লেটের দিকে। মাংসটা তুলে মুখে দিবো ঠিক সেসময় একজন আমার হাত আটকে ধরে বললোঃ --চেনা চেনা লাগে… সেই লোকটা আমার পাশে বসেছে কিন্তু আমি খেয়াল করিনি। খেয়াল করলে নিশ্চই বসতাম না। লোকটা কথার জবাব না পেয়ে আবার বললেনঃ --চেনা চেনা লাগে… . আমি বিরক্ত হয়ে বললামঃ -তবু অচেনা। ভালোবাসো যদি কাছে এসোনা। . --ধূর মিয়া মজা করেন কেন। নিন এটা খান। খুব মজা। . লোকটা আমার পাতে মাংস তুলে দিলেন। লোকটার ভদ্রতায় আমি মুগ্ধ হয়ে মাংসের টুকরোটা মুখে দিয়েছি। লোকটা বললোঃ --কি ভাই মজা না? . -জ্বি ভাই। . --জানি আমি। চুষে দেখেছি অনেক টেস্টি। আমার তো হাই প্রেসার তাই গরুর মাংস খেতে পারিনা। তুই চুষে অন্য কাউকে দিয়ে দেই। খান ভাই খান। . আমি আর খেতে পারিনি। বিয়ে বাড়ি থেকে চলে আসার সময় লোকটাকে আরেকবার দেখলাম। লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বললোঃ --চেনা চেনা লাগে… . এক মহিলা লোকটাকে বললেন। তুমি কি সত্যি কাউকে চিনতে পারোনা এখন? ডাক্তার বলেছিলো ধীরে ধীরে সব মনে পড়ে যাবে। কিন্তু তা তো হচ্ছেনা। তোমাকে কালকেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো। কি হলো গো তোমার। সিঁড়ি থেকে পড়ে গাজনি হয়ে গেলে না তো? লোকটা মহিলার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন “চেনা চেনা লাগে।” . বাসে বসে বসে ভাবছি। সবার বউ আছে। আমার দাদার আছে, নানার আছে, আব্বাহুজুরের আছে, ছোট ভাইয়ের আছে, চেনা চেনা লাগে ওই শালার ও আছে। আমার নাই ক্যান? আমিও বিয়ে করুম। আপনা টাইম কাব আয়েগা?। আব্বাহুজুরকে কল দিলামঃ . --হ্যালো… . -হ্যালো আব্বা আমি বিয়ে করতে ইচ্ছুক। . --ভালো কথা। খুব শীঘ্রই আট দশ বছরের মধ্যে তোমার বিবাহ দিবো বাবা। . -আমি কিন্তু ঘুমের অষুধ খামু। . --ঘুমের অষুধ বা জামালঘোটা যা খুশি খেতে পারো। তোমার মামার মতো আমি মেনে নিচ্ছিনা। . আব্বাহুজুর ফোন কেটে দিলেন। আমি মন খারাপ করে বাসের সিটে বসে আছি। এমন সময় খুব সুমিষ্ট নারী কন্ঠ শুনতে পেলাম। --এই যে শুনছেন। আমি কি আপনার পাশে বসতে পারি? . আমি বিদ্যুৎ গতিতে নিজের মাথা ঘুড়িয়ে মেয়েটার দিকে তাকালাম। আহা কি সুন্দরী। আনন্দে আমার চোখ ছলছল করে উঠলো। আনন্দের দুটো কারন। মেয়েটা আমাকে ভাইয়া ডাকেনি এবং এতো সিট খালি থাকতে আমার পাশে বসতে চেয়েছে। আমি একটু চেপে গিয়ে মেয়েটাকে বসার জন্য জায়গা করে দিলাম। মেয়েটা আমার পাশে বসে মিষ্টি হাসি দিয়ে বললোঃ --ধন্যবাদ… আমার নাম নিশি, আপনার? . খুব অবাক হলাম মেয়েটা আগ বাড়িয়ে আমার সাথে কথা বলছে। নিজের নাম বললাম। মেয়েটা আরেকটা মিষ্টি হাসি দিলো। ইচ্ছা করছিলো খুশিতে গাড়ির জানালা খুলে ঝাপ দিতে। নিজের ইচ্ছাকে বাদ দিলাম। মেয়েটা বললোঃ . --কিছু মনে করবেন না। আমি না কথা না বলে থাকতে পারিনা। আপনাকে দেখে মনে হলো আপনার সাথে কথা বললে আপনি কিছু মনে করবেন না। তাই আপনার পাশে বসেছি। . আমি দাঁত বের করে হেসে বললামঃ -আপনি সঠিক ভেবেছেন। কথা না বললে আমার দম বন্ধ হয়ে যায়। পেট ফুলে যায়। এতোক্ষন চুপ থেকে পেট ফুলে যাচ্ছিলো। বিশ্বাস না হলে দেখেন। . অতি উৎসাহ আর খুশির কারনে পাঞ্জাবী উঁচু করে পেট বের করে দেখালাম। পরোক্ষনে মনে হলো খুব গাধামি কাজ করেছি। মেয়েটাকে পেট দেখানো ঠিক হয়নি। আব্বাহুজুর সঠিক বলেন। আমি গাধা। গ আকারে গা, ধ আকারে ধা। গাধা। মেয়েটা হাসছে হাসতে হাসতে তার চোখ ছোট হয়ে এসেছে। হাসির কারনে চোখ ছলছল করছে। নিশি বললোঃ . --ভালোই হলো। বাকি রাস্তাটুকু গল্প করতে করতে যাওয়া যাবে। আর হ্যাঁ আপনার হাসি তো সুন্দর। . বলে কি এই মেয়ে। আমার হাসি সুন্দর? কিভাবে সম্ভব। পকেট থেকে মোবাইল বের করে সামনের ক্যামেরা অন করে একটু হাসলাম। নিজের হাসি দেখে মনে হলো বান্দারের বাচ্চা মুখ ভেঙ্গাচ্ছে। ফোনটা আবার পকেটে ঢুকিয়ে রাখলাম। নিশিকে বললামঃ . -আপনার হাসি কিন্তু সত্যি সুন্দর। কন্ঠটা আরো সুন্দর। আপনি এতো সুন্দর কেন? একটু কম সুন্দর হলে তো আপনাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতাম। . --ইস কি যে বলেন না। আমার লজ্জা করছে শুনে। . -আপনার লাজুক মুখটা কিন্তু আরো বেশি সুন্দর। . নিশি কথার জবাব না দিয়ে মুচকি হাসি দিলো। ব্যাগ থেকে টিফিন বক্স বের করে নুডুলস খাচ্ছে। আমি লক্ষ্য করলাম এই নিশির খাওয়াও সুন্দর। নিশি আমাকে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললোঃ --আপনি খাবেন? . নিশি টিফিন বক্সটা এগিয়ে দিলো। আমি হাত দিয়ে তুলে মুখে দিলাম। আহা কি স্বাদ। . আমার কেন যেন মনে হচ্ছে আমার মাখাটা খুব ভারি। মাথা তুলতে পারছিনা। চোখ খুলে দেখি ঘরটা ঘুরছে। চিৎকার দিলাম “ঘরটা ঘুরে ক্যান?” আম্মার কন্ঠ শুনতে পেলামঃ --ঘর তো ঘুরেনা বাবা। মনে হয় তোর মাথা ঘুরছে। . আমি নিজের মাথা দুহাত দিয়ে চেক করে বললামঃ -না আম্মা মাথা তো ঘুরছেনা। ঘরটাই ঘুরছে। আমি সিউর। . --তুই চুপ থাক। . -আম্মা আমি এখানে কেন? নিশি কই নিশি… . --নিশি কে? তুই কি নিশি মেয়েটার জন্য ঘুমের ট্যাবলেট খাইছিস বাবা। তোর মামাতো ভাই ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে বিয়ে করেছে বলে তোকেও তাই করতে হবে? . -আমি এখানে আসলাম কিভাবে? . --বাসে অজ্ঞান হয়ে বসে ছিলি। বাসের লোকজন তোকে হাসপাতালে নিয়ে আসছে। তুই হাসপাতালে এখন বাবা। . -মা আমার ফোন মানিব্যাগ কই? . --তা তো জানিনা বাবা। বাসের লোকজন বলছে তোর কাছে কিছু ছিলোনা। শুধু পাঞ্জাবীর পকেটে সিমটা পেয়ে আমাদের কল দিয়েছে। . বুঝলাম নিশি খাবারে কিছু মিশিয়েছে। পানির বোতল আমাকে দিয়েছে কিন্তু নিজে অন্য বোতলে পানি খেয়েছে। একটা মানুষ দুটো পানির বোতল রাখবে ক্যান। যাই হোক বাসার লোকজন যখন ভাবছে বিয়ে করার জন্য ঘুমের অষুধ খেয়েছি সেই ভুল ভাঙ্গানোর দরকার নেই। --হারামজাদাটা উঠছে… . আব্বাহুজুরের কন্ঠ শুনে দেখলাম আব্বাহুজুর একটা লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। -আব্বা বিয়ে না দিলে কিন্তু আবার ঘুমের অষুধ খামু। . --তোরে খাইছি দাঁড়া… . আমি অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে দৌঁড় দিয়েছি। দৌঁড়াতে অসুবিধা হচ্ছে। সোজা দৌঁড়ানোর যতো চেষ্টা করছি কিন্তু ডাইনে বামে চলে যাচ্ছি। মাথা ঘুরছে। এক দোকানে কে যেন গান বাঁজাচ্ছে “আপনা টাইম আয়েগা”। আমি চিৎকার দিয়ে বললাম “আপনা টাইম নেহি আয়েগা। হামারা শাদি ন্যাহি হোয়েগা। শাদি যদি না হোয়েগা, হাম মর যায়েগা।” পেছনে আব্বাহুজুরের কন্ঠ শুনতে পেলাম “মর যায়েগা? কাছে আয়েগা। হাম মারেগা তুম মরেগা”।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আপনা টাইম আয়েগা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now