বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"
রাতের 2টা বাজে! হঠাৎ ঘুম থেকে
ধড়ফড় করে উঠলাম। উঠলাম বললে ভুল
হবে আমায় উঠান হয়েছে। আর এই
কাজটার পুরো কৃতিত্ব আমার বউয়ের।
এই মেয়েকে বউ বলব না ডাইনি বলব
বুঝতে পারছিনা। একটু ও দয়া মায়া
নেই, কোন বউ তার বর কে এত
রাতে এমন ভাবে ঘুম থেকে তুলে?
এই মেয়ের জ্বালায় আমি অতিষ্ঠ!
আজব আজব সব বায়না আজব আজব সব
কাজ, কেন যে বিয়ে করতে
গেছিলাম।
তো উঠে চোখ ঢলতে ঢলতে
জিজ্ঞেস করলাম -
কি হইছে?
ও বলাই হয় নি আমি উৎসব আর ও
মেঘা একবছরের প্রেম অতপর বিয়ে,
বিয়েটা ফ্যামিলি থেকেই
হয়েছিল।
যাই হোক ও বলল
চাল উৎসব আমরা ছাদে যাব!
আমি, চোখ বড় বড় করে কি! ছাদে?
এত রাতে?
মেঘা: হু দেখনা বাইরে অনেক
জোসনা বৃষ্টি হচ্ছে!
আমি : (মাথাটা গরম হয়ে গেল)
মানে কি? এত রাতে ঘুম থেকে
তুলে চাঁদ দেখার কথা বলার মানে
কি? পাগল হইছ তুমি?
মেঘা: এমন কেন করতেছে চল না?
আমি: তোমার ইচ্ছে হইলে তুমি
যাও, আমায় ঘুমাতে দাও যাও তো!
মেঘার মুখটা অভিমানের মেঘে
ঢেকে গেল! ও অভিমান নিয়েই বলল
-
যেতে হবেনা তোমায়, ঘুমাও তুমি!
আর আমার সাথে কোন কথা বলবা
না!
এই কথা বলেই ও চলে গেল।
"
আমি আবার রাগে গজগজ করতে
ঘুমিয়ে পড়লাম! ব্যাপার হল কিছুক্ষন
এপাশ ওপাশ করলাম কিন্তু কিছুতেই
কিছু হচ্ছে না। খালি মেঘার
অভিমানি মুখটাই বেসে উঠছে!
মেয়েটার সাথে এমন করা মোটেই
ঠিক হয় নি। মেয়েটা হয়ত একটু
ছেলে মানুষি করে ঠিকি কিন্তু
প্রচন্ড ভালবেসে আমায়, আর
ভালবাসার দাবি নিয়ে এইটুকু
বলতেই পারে। আর আমি সেই ক্ষেত
ই রয়ে গেলাম একটু রোমান্টিক ও
হতে পারলাম না। প্রচন্ড অপরাধ
বোধ হচ্ছে ভিতরে ভিতরে অবশ্য
আমারই বা কি করার আছে ঘুমের
গোরে মাথাটা গরম হয়ে গেল, তাই
যা ইচ্ছে তাই বলে দিলাম।
আমি জানি মেয়েটা এখন
অভিমানে গাল ফুলিয়ে আছে হয়ত
কাঁদছেও, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব
অভিমান ভাঙ্গানোর ধরকার
নাইলে পরে কপালে দুঃখ আছে।
তাই আর শুয়ে থাকতে পারলাম না
উঠে ছাদের দিকে হাটা দিলাম।
"
ছাদে গিয়েই দেখতে পেলাম
মেঘা ছাদের এক কোনে দাড়িয়ে
আছে, আস্তে আস্তে কাছে
গেলাম। কাছে গিয়েই বুঝতে
পারলাম যা সন্দেহ করেছি তাই
হয়েছে, মুখ ফুলিয়ে দাড়িয়ে
দাড়িয়ে কাঁদছে।
আস্তে আস্তে পাশে গিয়ে
দাড়ালাম ও আমার উপস্থিতি টের
পেয়েছে কিন্তু তারপর ও
তাকাচ্ছে না বুঝলাম হাই
লেভেলের অভিমান! আমার
কপালে মনে হয় দুঃখ আছে। একটা
কাশি দিলাম, কিন্ত কোন রিপ্লে
পাইলাম না, তাই এবার নিজ
থেকেই কথা বললাম,
মেঘ অভিমান হইছে বুঝি, আমি ওকে
আদর করে মেঘ ঢাকি। এবার ও মুখ
খুলল!
মেঘা: কে আপনার মেঘ? (রাগ
করলে ও আপনি তুই সব বলে খালি
তুমি ছাড়া)
আমি: সরি মেঘ, আমি ইচ্ছে করে
এমনটা করিনিতো,
মেঘ: তো আমি কি করব? (কাদোঁ
কাদোঁ কন্ঠে)
আমি: এই বারের মত ক্ষমা প্রার্থী!
প্লিজ!
মেঘা: দেখেন আমায় ডিস্টার্ব
করবেন না জান এখান থেকে!
আমর এতখনের চাঁদ মুখ টা মেঘের মত
কালো হয়ে গেল! মাথায় কিছু
আসছেনা কিযে করি? আগে তো
কোনরকম সরি বলেই মানিয়ে নেয়া
যেত কিন্তু এবার তো তাও হচ্ছে না
।
মেঘা একবার আমার দিকে
তাকিয়ে ছিল তারপর আবার চাঁদ
দেখতে লাগল।
আমিও চাঁদের দিকে তাকালাম,
মনে হচ্ছে চাঁদটাও আমায় দিকে
ভেংচি কাটছে। শালা চাঁদটাও
ওর পক্ষ নিল কি যে করি!
ভাবতে ভাবতে মাথায় একটা
আইডিয়া এল!
এক দৌড়ে নিচে বাথরুমে চলে
গেলাম এক বালতি পানি নিলাম,
আবার বালতি টা নিয়ে উপরে
উঠতে লাগলাম। যতই উঠছি মনে
হচ্ছে হায়াত কমে আসছে কোন রকম
ঠেলে ঠুলে তুললাম ছাদে। তারপর
ছাদের এক কোনে গিয়ে দিলাম
সেগুলো ঢেলে, আস্তে আস্তে
সেগুলো এক জায়গায় স্থির হল।
মেঘা এসব কিছু বিস্ফোরিত চোখে
দেখছে আর অবাক হচ্ছে।
এবার আমি আস্তে আস্তে মেঘার
কাছে গেলাম হাত দিয়ে ওর চোখ
দুটো ধরলাম ও চমকে উঠল কিন্তু কিছু
বলল না।
এবার আস্তে আস্তে ওকে পানি
গুলোর কাছি নিয়ে এলাম! চোখ
গুলো ছেড়ে দিয়ে ওকে পানির
দিকে তাকাতে বললাম।
ও অবাক চোখে তাকিয়ে আছে!
চাঁদ টা ও পায়ের কাছে স্থির হয়ে
পড়ে আছে।
আমি: ভালবাসি মেঘ অনেক বেশী,
তাইত আজ চাঁদ টা তোমার পায়ের
কাছে এনে ফেললাম, তোমার
চোখের জল মুছার জন্য আমি সব করতে
পারি মেঘ!
মেঘা পিক করে হেসে দিল ভুবন
ভুলা হাসি!
তারপর জড়িয়ে ধরল আমায়! যেন
সর্গঃটা কিছুক্ষনের জন্য ভুল করে
পৃথিবীতে চলে এসেছে!
আমিও ওকে শক্ত করে ধরলাম যেন
মৃত্যুও আমাদের আলাদা না করতে
পারে!
"
সত্যি গুরু তোমার তৈরী এই নারী সব
কিছুতেই একটু বেশী, অভিনয়ে এর
নোবেলের দাবি ধার, আবার
ভালবাসায় ও!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now