বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আঙ্গুল-০১

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X খবরঃপতিতাবৃত্তি দমনে রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে আকস্মিক অভিযান। (ছবিতে,গ্রেফতার হওয়া পতিতাদের একাংশ) [সূত্রঃ দৈনিক শুধুই খবর, ৬ জানুয়ারি, ১৯৯১] (অ) কেস স্টাডি-১ মাহাবুব সাহেব প্রতিদিন সকালে বেশ কিছুটা সময় দেন বাসার কাছেই পার্কটায়। ছাত্রজীবন আলসেমীতে,কর্মজীবনের ব্যাস্ত তায় শরীরের যত্ন নেয়া হয়নি কখনোই। ফলশ্রুতিতে মিলেছে স্থুল স্বাস্থ্য, চর্বির আনাগোনা, দূর্বল হার্ট, শতেক যন্ত্রনা। অবসরপ্রাপ্তির পর তাই শরীরচর্চায় মেতেছেন বেশ। পুরো পার্ক একবার চক্কর দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বেঞ্চটায় বসতেই পাশে এসে বসলেন জনৈক।মাহাবুব সাহেব তাকাতেই সৌজন্য হাসি হেসে কিছু বললো মানুষটা। মাহাবুব সাহেব শুনলেন না, ঠোঁট নড়তে দেখে ভাবলেন হেয়ারিং এডটা হয়তো কানে নেই। ইদানিং একবারেই কানে শোনেন না তিনি। কানে হাত দিতেই ভুল ভাঙলো, কানে তো লাগানোই আছে। পকেট থেকে মেশিনখানা বের করে ভলিউম বাড়ালেন, মানুষটার কথা বলা চলছে, মাহাবুব সাহেব শুনতে পাচ্ছেন না একটা শব্দও, তিনি ভলিউম বাড়ালেন আরো, বাড়াতেই থাকলেন। সর্বোচ্চ সীমায় পৌছে খেয়াল হলো মাহাবুব সাহেবের, আশেপাশের গাড়ির শব্দ, পাখির কিচিরমিচির বেশ জোরেই শুনতে পাচ্ছেন, তাহলে এত কাছে বসে বলা লোকটার কথা নয় কেন ? অবাক কৌতুহলে তার মুখের দিকে তাকাতেই দেখলেন লোকটা, বিকট শব্দে চিত্কাররত অবস্থায়, এবার শুনলেন মাহাবুব সাহেব, যত জোরে চিত্কার, তার চেয়ে শতগুণ জোরে,হেয়ারিং এডের ভলিউম বাড়ানো থাকার কারণে। আকস্মিক তীব্র উত্তেজনায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলেন মাহাবুব সাহেব। আমেরিকা প্রবাসী মেয়ে নুসরাত ফারিহার কাছে হয়তো সেরিব্রেল হার্ট অ্যাটাকের খবরই পৌছতো, যদি না খুনী যাওয়ার আগে ছুরি দিয়ে মাহাবুব সাহেবের ডানহাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে না নিয়ে যেত! কর্মজীবনের প্রতিটাদিন খবরের কাগজে শত শত খবর তৈরী করা মাহাবুব সাহেব পরদিন নিজেই শিরোনাম হলেন খুন হয়ে। *** অন্ধকার ঘর, টেবিল ল্যাম্পের ছোট্ট আলোয় বসে আছেন ইকবাল সারোয়ার, পুলিশ অব ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ। ইকবাল সাহেবের লেখার হাত বেশ ভালো, লেখক হলে মন্দ হতো না, নিজের লেখা কেস স্টাডি পড়ে নিজের কাছেই মনে হচ্ছে ইকবাল সাহেবের। এটা একটা সিরিয়াল কিলিং কেস, প্রথম খুনটি হয় মাহাবুব সাহেবই। এরপর হওয়া সবগুলো খুনই বেশ অভিনব উপায়ে করা হয়েছে। কেস স্টাডি-২ ভোর পাঁচটা, জ্যামের শহর ঢাকার ব্যাস্ততম রাস্তা যাত্রাবাড়ি মোড়ও তখন ফাঁকা। ঘুমিয়ে থাকা নগরীর নির্জনতা ভেদ করে ছুটে চলা একটা হলুদ ট্যাক্সি ক্যাব রাস্তার পাশে পার্ক করলো। প্রায় সারারাত জেগে থাকতে হয় যারা পত্রিকার কাজ করে। রওনক সাহেবও ব্যাতিক্রম নয়। ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ট্যাক্সির ব্যাক সিটে মাথা রেখে ঘুমিয়ে নিচ্ছিলেন একটু। ঘুমন্ত মানুষটা টেরও পেলো না, কখন নেমে আসলো ড্রাইভার ছদ্মবেশী খুনী। সিরিঞ্জ হাতে নিপুণ দক্ষতায় সূচখানা প্রবেশ করিয়ে দিলো রওনক সাহেবের হাতের ভেইনে, প্রবেশ করালো রক্তের মাঝে খানিকটা বাতাস। হৃদপিন্ড থেকে মস্তিষ্কে আর সারা শরীরে ছুটে চলা রক্তের মাঝে তৈরী হলো কিছুটা ব্যাবধান। কয়েক সেকেন্ডের জন্য মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলো, বন্ধ হয়ে গেলো বেঁচে থাকা দেহের অবশ্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কার্যকলাপ, ঘুমের মাঝেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন রওনক সাহেব। পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে আসা হার্ট আ্যাটাকে মৃত্যুই হয়তো মেনে নিত সবাই, যদি না খুনী ঢ়ওনক সাহেবের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে নিয়ে যেত ছুরি দিয়ে মৃত্যুর পর! *** ইকবাল সারোয়ারের ডায়েরীতে এমন ছয়টি খুনের গল্প সাজানো আছে, ছয়জনই দৈনিক পত্রিকার সাথে জড়িত। এবং খুন গুলোর কোনটিই খুন বলে প্রমাণ করা সম্ভব হতো না, যদি প্রতিটা ডেডবডির বৃদ্ধাঙ্গুল কাটা না থাকতো। ইকবাল সাহেব উঠলেন টেবিল ছেড়ে, সারারাত নির্ঘুম কেটেছে। একটা শাওয়ার নিতে পারলে ভালো লাগবে। একটু পর মাহাবুব সাহেবের মেয়ে নুসরাত ফারিহার দেখা করার কথা, একসাথেই ব্রেকফাস্ট করার কথা, ইকবাল সাহেবের বাসায়ই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আঙ্গুল-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now