বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-এখানে দাঁড়িয়ে কি করছেন?
-দেখতেই তো পাচ্ছেন।
-জানেননা,ছাদে স্মোক করা মানা।
-ওয়েট..ওয়েট..ওয়েট,বাড়িটা কার!
-তবুও,এখানে স্মোক করা যাবেনা।
-আমাদের বাসা,আমাদের ছাদ।সো এটা আমার পার্সোনাল ব্যাপার।
-ওকে,দেখাচ্ছি আপনার পার্সোনাল ব্যাপার।
-কি করবেন!
-আপনার আম্মুকে বলে দিবো।
-মানে কি!
-কিছুই না।একটু পর টের পাবেন।
-আপনি এগুলো কিছুই করবেন না।
-আর করলে!
-অন্য বাসা দেখার জন্য সার্টিফিকেট দিয়ে দিবো।
-এত্ত সোজা!
-ক্যানো?
-আপনার আব্বুকেই জিজ্ঞাসা কইরেন।
(বালিকার কনফিডেন্স দেখে নিজেরি কনফিডেন্স হারিয়ে ফেললাম।)
-হুম,আর স্মোকের কথাটা প্লিজ আম্মুকে বলবেন না।
-ওকে,তবে প্রমিস করেন আর কখনো স্মোক করবেন না।
-এটা সম্ভব না।
-তবে বলে দিবো।
-ধ্যাত,অন্য অপশন দেন।
-আমায় প্রতিদিন ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে আসতে হবে।
-আর কোনো অপশন নেই!
-লাস্ট,প্রতি সপ্তাহে আমায় শপিংএ নিয়ে যেতে হবে।
-ধুরর,আমি দ্বিতীয় অপশনেই রাজি।[বলেই আর এক মিনিটও দাঁড়ালাম না।]
বিকেলে ছাদে দাঁড়িয়ে,কোমল হাওয়ার সাথে সিগারেট খাওয়ার দারুণ ফিলিংসটাই নষ্ট.....
.
পরেরদিন গেটে বাইক নিয়ে বালিকার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।
আফসুস বিশ মিনিট অপেক্ষার পরেও বালিকার দেখা নাই।
রাগ হয়ে যখন বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে যেতে লাগলাম,তখনি পেছন থেকে বালিকার ডাক "এই দাঁড়ান।"
শুনার সাথে সাথে ব্রেক।
-সরি,লেট হয়ে গেছে।
-হুম,উঠুন।
-এনিওয়ে আমি নিধি,আমায় নাম ধরেই ডাকতে পারেন।
-প্রয়োজন মনে করিনা।
.
তারপর বাইকে করে নিধিকে ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে অফিসে চলে গেলাম।
অফিস শেষে যখন বাসায় ফিরলাম তখন,নিধি আমাদের ঘরে।
আম্মুর সাথে কি যেন আলাপ করছে।
ব্যাপারটা কেমন জেনো ভালো ঠেকলোনা,রুমে গিয়ে তখন একটাই টেনশন "নিধি আম্মুকে কিছু বলে দেয়নিতো!"
সন্দেহ দূর করতে রাতে আম্মুর সাথে একটু আলাপ করতে চলে গেলাম।
অনেক্ষন আলাপ করেও যখন পরিবেশ ঠাণ্ডা মনে হলো,তখন নিশ্চিন্তে আমার রুমে ফিরে এলাম।
.
খুশিতে রাতে এমন ঘুম দিলাম যে,সকালে উঠার কথাই ভুলে গেলাম।
ঘুম ভাঙলো নিধির লাথি,ঘুষি খেয়ে।
-ওই এভাবে মারছেন ক্যানো?
-কয়টা বাজে দেখেছেন?
-ওওও,তবে সেটা মুখে বললেই তো হতো।
-মুখে বলে কাজ হয়নি বলেই তো মেরে তুললাম।
-ধুরর,দজ্জাল ম্যাইয়া।
-কি বললেন[বলেই দূর্গার মতন একটা রাগি লুক দিলো]
-ওরে বাবারে,না কিছুনা।
-পাঁচ মিনিটে রেডি হয়ে আসেন।
-আসছি,ওয়েট।
একবার ফেঁসে গিয়ে,প্রতিদিন এর মাসুল গুনতে শুরু করলাম।
(২)
-এইযে ভাইয়া শুনেন।
-জ্বি ভাইয়া বলুন।
-মেয়েটা আপনার কি হয়?
-কোন মেয়ে!
-প্রতিদিন যাকে ভার্সিটিতে দিয়ে যান।
-ওও,"নিধি"উনিতো আমাদের বাসায় ভাড়া থাকেন।
-বাব্বাহ্,ভাড়াটিয়ার সাথে ভেতরে ভেতরে এত্তদূর।[বলেই ছেলেগুলা হাসতে লাগলো]
-সরি,আপনারা যা ভাবছেন ঠিক তা নয়।
-যাই হোক,বাইক থেকে নেমে একটু এদিকে আসুন।
-এখানেই বলুন।
-আরে আসুন না...
বলেই টানতে টানতে গাছের আড়ালে নিয়ে গেলো।
.
বুঝে গেলাম আমার সাথে কি হতে চলেছে।
তবে দৌড়ানোর কোনো উপায় নেই,আট-দশ জন চারিপাশ থেকে ঘিরে ধরেছে।
"ভাই কি হয়েছে" বলতেই একজন গালে চর মেরে বসলো।
তারপর সবাই ঝাঁপিয়ে পরলো।
সবার মাইর খেয়ে যখন ক্লান্ত শরীর মাটিয়ে লুটিয়ে পরলো,তখন সবাই লাথি মারতে শুরু করলো।
আমি তখন পুরোটা জ্ঞান হারাতে বাধ্য হলাম।
.
জ্ঞান ফেরার পর আমি হাসপাতালে।
চোখ খুলেই সামনে আব্বু-আম্মু সাথে নিধি।
আমার জ্ঞান ফিরা দেখে সবাই খুবি আক্ষেপ নিয়ে ঘটনাটা জানতে চাইলো।
তবে সবটা তাদের বলে এত সহজে গেমটা শেষ করার ছেলে আমি নই।
তাই আব্বু-আম্মুকে একটাই উত্তর দিলাম "জানিনা।"
আমার অবস্থার কথা ভেবে তারাও আর কিছু জিজ্ঞাসা করলোনা।
.
ঘড়ির কাটা ঘুরতে ঘুরতে যখন এগারোটায় পৌছালো,আব্বু-আম্মু তখন বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।
আমার দেখাশোনার জন্য রেখে গেলো শুধু নিধিকে।
ভেবে কিছুটা অবাক হলাম,কোন সম্পর্কের উদ্দেশ্যে আব্বু নিধিকে আমার সাথে রেখে গেলো।
ঘুরোন্ত ফ্যানের দিকে তাকিয়ে যখন কথাটা বাড় বাড় ভাবছি,তখন নিধি নিরবতা ভেঙে বলতে শুরু করলো...
-আপনি কি জানেন আপনার সাথে আমার বিয়ের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
(কথাটা শুনে অবাক ছাড়া আর কিছুই হওয়ার ছিলোনা।)
-মানে!
-মানেটা হলো,আমি আপনার বৌ হতে চলেছি।
-বললেই হলো।
-হাহ্,সেটা আপনার আর আমার আব্বুকে গিয়ে বোঝান।
-আমার আব্বুর আর কোনো মেয়ে চোখে পরলোনা[বিড় বিড় করে বললাম]
-তবেরে....
বলেই আমার ভাঙা হাতটায় জোরে মারলো এক ঘুষি।
যাও কিছুটা ব্যথা কিছুটা কমেছিলো,ঘুষি খেয়ে সেটা দ্বিগুণ বেড়ে গেলো।
.
কিছুক্ষণ পর নিধি পাশে বসে মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো,আফসুস সেখানেও ব্যথা।
তবে "ব্যথা লাগছে" বললে মেয়েটা কষ্ট পাবে ভেবে চুপ রইলাম।
মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মেয়েটা নরম শুরে প্রশ্ন করে বসলো "ভার্সিটিতে আপনায় ওই বখাটে ছেলেগুলা মেরেছে তাইনা?"
-হুম।
-কিকরে মারলো?
-আপনায় নামিয়ে দেওয়ার পর আপনি যখন চলে গেলেন,তখন আমি সুন্দরী রমনিদের দেখায় বিজি হয়ে গেলাম।তারপর ছেলেগুলা এসে কিছুক্ষণ কথা বলে,গাছের আড়ালে নিয়ে গিয়ে প্রচুর মাইর দিলো।
-ঠিক হয়েছে,তো মারলো ক্যানো?
-আপনায় প্রতিদিন ভার্সিটিতে দিয়েআসি বলে।
-কিইই,ওদের আমি কাল পেয়ে নিই।
-কি করবেন।
-পুলিশে ধরিয়ে দেবো।
-হাহাহা,ওরা কারা জানেন তো!
-কারা!
-ভার্সিটির টপ বখাটে।
-তো...
-যদি আপনার মুখে এসিড মারে,যদি আপনার রেপ করে দেয় কি করবেন।
-ধ্যাত
.
তারপর মেয়েটা আর কিছু না বলে মন খারাপ করে পাশের বেডে শুয়ে পরলো।
আমি শুধু বালিকার ঘুমের অপেক্ষায় রইলাম।
রাত তখন তিনটা বাজে,নিধির গভীর ঘুমে মগ্ন।
আমি মোবাইলটা বেড় করে কল দিলাম।
দুবার কল হতেই রিসিভ হলো....
-হ্যালো।
-রফি...
-জ্বি ভাই বলেন।
-আমি SMS করে কিছু ছেলের নাম পাঠিয়ে দিচ্ছি,ছেলেগুলার গ্রুপের সবাইকে কাল আমার চাই।
-ওকে ভাই।
কল কেটে নাম গুলো SMS করে চোখ বুজে শুধু সকালটার অপেক্ষায় রইলাম।
(৩)
-নিধি,আমি আসছি।
-মানে কি!কোথায় যাবেন?
-কিছু কাজ আছে।
-কি কাজ?
-এত্ত কিছুর উত্তর দিতে পারবোনা।[ঝারি দিয়ে বললাম]
(মেয়েটা আর কিছু না বলে মাটির দিকে তাকিয়ে রইলো।)
-আব্বু-আম্মু আসলে বলবেন অফিসে দরকার ছিলো বলে বেড় হয়েছি।
-আচ্ছা।[নরম শুরে]
.
সকাল তখন প্রায় দশটা বাজে।
ভেতরের রাগকে সামাল না দিতে পেরে হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে গোডাউনের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
ওদের ধরেছে কিনা কনফার্ম হতে মমাঝ রাস্তায় সোহানকে একটা কল দিলাম...
-হ্যালো ভাই কাজ হয়ে গেছে।
-ওকে,আমি আসছি।
কথাটা শুনে মনের মাঝে দ্বিগুণ খুশি কাজ করতে লাগলো।
তাই তিনগুণ বেগে গাড়ি চালিয়ে গুডাউনে পৌছালাম।
ভেতরে ঢুকতেই সবাই সালাম দিলো।
"ওরা কোথায়" বলতেই,সোহান পরদা সরিয়ে দিলো।
সামনেই খুবি সুন্দর করে বাঁধা,বখাটে গুলাকে দেখতে পেলাম।
মুখ কস্টেপ দিয়ে আটকানো,তবে দেখে বোঝা যাচ্ছে এখনো "উত্তম মাধ্যম" দেওয়া হয়নি।
-সোহান।
-জ্বি ভাই।
-একটা লাঠি নিয়ে আয়,আর মুখের কস্টেপ খুলে দে।নাহলে মেরে মজা হবেনা।
-ওকে ভাই।
.
ছেলেগুলার চোখে তখন স্পষ্ট দেখতে পেলাম ভর আর আর্তনাদ।
কস্টেপ খুলে দিতেই "ভাই প্লিজ মাফ করেদিন,আর হবেনা,বাঁচাও" বলে চিৎকার করতে লাগলো।
ওদের চিৎকার আমায় দ্বিগুণ হিংশ্র করে তুললো।
মনের শেষ রাগটুকু মেটানো পর্যন্ত ওদের মেরেই চললাম।
মেরে মেরে যখন ক্লান্ত,তখন ওদের রক্তাক্ত শরীর জ্ঞান হারিয়ে স্থির হয়ে গেলো।
তারপর সোহানকে বলে ওদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলাম।
(৪)
গোডাউন থেকে বেড়িয়ে সোজা বাড়ি চলে গেলাম।
বাড়ির সবাই আমার শরীরে রক্ত দেখে বিচলিত হয়ে পরলো।
আম্মু রক্ত মুছে দিয়ে যখন শরীরে কোনো কাটা দাগ পেলোনা তখন কিছুটা অবাক হলো।
-কিসের রক্ত ছিলো!
-এমনি।
-হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে কোথায় গিয়েছিলি?
-অফিসে।
-অফিসে ফোন দিয়ে শুনলাম,তুই যাসনি।
-ধ্যাত,এত্ত প্রশ্ন।
-তোর আব্বু আজ বাড়ি আসুক,খুব বড় হয়ে গেছিস তাইনা।
-আম্মু।
-কি?[রাগি লুক দিয়ে]
-নিধি কি বললো কাল![কথার মোড় ঘুরিয়ে]
-কি বললো!
-আমার সাথে নাকি ওর বিয়ে ঠিক?
-হ্যা,ভেবেছিলাম কয়েকমাস পরে দিবো।কিন্তু এই মাসেই তোর গলায় ঝুলিয়ে দিতে হবে।
-আপনার যা ইচ্ছা,এবার রুমে যাই।যা রান্না হয়েছে,খাইয়ে দিয়ে যান।
.
বলেই মাদার ইউনিভার্স কে ঠাণ্ডা করে রুমে চলে এলাম।
ক্লান্ত শরীর আর ধরে রাখতে না পেরে কোনো ভাবে ফ্রেস হয়ে বিছানায় শরীর মেলে দিলাম।
তখনি রুমে নিধি খাবার হাতে হাজির,"ওই উঠেন।"
-ক্যানো।
-খাবেন তাই।
-আমার ডান হাতে ব্যথা,খেতে পারবোনা।
-হুম জানি,সেই জন্য আম্মু আমায় খাইয়ে দিতে পাঠিয়েছে।
-কার আম্মু!
-আপনার।
-আপনার হাতে খাবোনা।
-ক্যান!
-আপনার হাত ময়....
[বালিকা চোখ বড় বড় করে এমন রাগি লুক দিলো,ভয়ে আর কিছু বলার ক্ষমতা রইলোনা]
.
তারপর বালিকার হাতে লাঞ্চ কম্পিলিট করে শুয়ে পরলাম।
-ওই একটা হেল্প করবেন!
-কি?
-মাথা খুব ব্যথা করছে,যদি একটু....
-হুম,তবে আমায় তুমি করে বলতে হবে।
-অন্য অপশন নেই?
-লাস্ট,জানু বলে ডাকতে হবে।
-ধুরর,আমি প্রথম অপশনেই রাজি।
-গুড বয়।
বালিকা আলতো করে এমন ম্যাসাস দিলো,চোখ খুলে আর তাকানোর ক্ষমতা রাখলাম না।
.
যখন চোখ খুললাম তখন বিকেল পাঁচটা বাজে,ভালোভাবে তাকিয়ে দেখলাম নিধি আমার মাথার ওপর আলতো করে হাত রেখে তাতে ওর সুন্দর গালটা মেলেদিয়ে ঘুমিয়ে পরেছে,সেটা সত্যি অপরূপ দৃশ্য।
মনের মাঝে এক মায়া জন্মালো,তাই হাত দিয়ে আলতো করে নিধির গাল ছুঁয়ে দিলাম।
নিধি হালকা হালকা চোখ খুলে আবার চোখ বুজে ঘুমিয়ে গেলো।
আফসুস অপরূপ সময়টার ব্যাঘাত ঘটলো সোহানের কলে....
নিধি ভ্যাবাচেকা খেয়ে উঠে কিছু সময় ব্যপারটা বোঝার চেষ্টা করলো।
যখন বুঝলো তখন লজ্জা পেয়ে চলে গেলো।
আমিও মনে মনে কিছুক্ষণ হাসলাম।
তারপর ফোনটা হাতে নিয়ে কল ব্যাক করলাম।
-হ্যালো ভাই।
-হুম।
-ছেলেগুলার জ্ঞান ফিরেছে,কি করবো?
-কোথায় আছিস?
-সদর হাসপাতালে।
-ওকে আমি আসছি।
.
গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম।
পৌছে যখন ছেলেগুলার সামনে গেলাম,তখন ওরা এক নিরীহ দৃষ্টিতে আমার দিকে রাকালো।
ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে কিছুই বলার ক্ষমতা রাখলোনা।
তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম...
-আমার জন্য কাজ করবি?
-[একজন কাঁপা কন্ঠে শুধু বললো]কি কাজ ভাই?
-স্মাগলিং।
"কথাটা শুনে,ছেলেগুলার মুখে হাসি ফুটলো।"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now