বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমরা পারি (পর্ব-৩)

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (০ পয়েন্ট)

X আদনান ওয়াহিদ তার নতুন পৃথিবীতে খুঁজে পেয়েছে তার প্রতি এক অভিন্ন ভালবাসা। এ ভালবাসা নয় কোন স্বার্থের, নয় কোন উদ্দেশ্যের, এ ভালবাসা যেন এক মানবতার দৃষ্টান্ত। তবে তার প্রতি আজকের সুধী সমাজ কেমন ব্যবহার করেছে তা আমি জানাব একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। প্রতিবন্ধীরাও মানুষ। তাদেরও স্বাদ -আহ্লাদ আছে।এরকম ভাবনা বেমালুম ভুলে গেছে আজকের সুধী সমাজ। মেধা ভাল হওয়া সত্ত্বেও আদনানকে সাধারণ স্কুলে ভর্তি নেয়া হয় নি। আদনান তো শারিরীক প্রতিবন্ধী! তার তো স্কুলে ভর্তি নেয়ার কথা! ভর্তি না করতে পেরে আদনানের বাবা আফজাল হোসেন তাকে প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়। এরই বছর খানেক পরই প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষকরা তার বাবাকে বলে- - আফজাল সাহেব, আপনি মনে হয় কোথাও কোন কিছু ভুল করছেন। - হেড মিস, কি বলতে চাচ্ছেন, আমি তো কিছু বুঝছি না? - আপনার ছেলের কথা বলছি। - ও আবার কি করল? ও তো শান্ত ছেলে! - ওকে নিয়ে চিন্তিত হবেন না। -ওর কিছু হয়েছে? - না। তবে? -তবে কি? - তবে ওকে নিয়ে আমরা চিন্তিত আছি। আপনাকে সব খুলে বলছি। " গত বেশ কয়েক দিন হলো! সাইন্স ফোরামের উদ্যোগে গণিত অলিম্পিয়াড হয় আমাদের এই স্কুলে। সেখানে শেষ পর্যায়ে একটি জটিল বহুপদী অঙ্কের একটি সমাধানের জন্য আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়। এদিকে এ চ্যালেঞ্জে অনেক অধ্যাপকও নাজেহাল অবস্থা! তবে হোয়াইট বোর্ডে সেই সমীকরণ লেখা ছিল। আজ দেখে আমি অবাক, সেই সমীকরণের সমাধান! জানতে চাইবেন না, কে করেছে এই সমাধান? - কে করেছে? - আপনার ছেলে, আদনান! - আপনি বরং ওকে কোন ভাল সাইন্স স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিন। - ও তো প্রতিবন্ধী! - যে ছেলে এত মেধাবী! সে প্রতিবন্ধী হতে পারে না। এটা আপনার ও আমাদের ভুল ধারণা বুঝলেন আফজাল সাহেব। এভাবে আরো একটি বছর কেটে গেল। তবে এদিকে কিছু সুধী সমাজের কিছু মূর্খ জ্ঞানীরা বলাবলি করে- - "হায়রে আমার আইনস্টাইন হয়ছে! প্রতিবন্ধী ও আবার কি করবে। হাতি ঘোড়া গেল তল, প্রতিবন্ধী বলে কত জল! দেখছো নি কারবার! নিজেরে বিজ্ঞানী মনে করে! আমরা এত পড়েই পাস পাই না। প্রতিবন্ধী বিজ্ঞান বনে যায়।" এসব কথা শুনে কয়েক বার আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল আদনান। তবে সে কাজটি করে নি। তার জন্য দরকার একটু ভালবাসার, তার চেয়ে বেশি দরকার ওকে বুঝার। তাহলে আদনানের মতো মেধাবী ছাত্র অকালেই ঝরে যাবে না। যাহোক, আদনান এখন এক অন্য পৃথিবীতে। এখানে নেই কোন হিংসা, কটূক্তি, আছে শুধু তাকে বুঝার মতো দুই পৃথিবী। দুটি পথশিশু।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now