বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমরা কেউ বাসায় নেই-৬

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সকাল এগারোটা। বাবা কাজে চলে গেছেন। রহিমার মা ঘর ঝাঁট দিচ্ছে এবং নিজের মনে কথা বলছে। তার মন-মেজাজ খারাপ থাকলে অনর্গল নিজের মনে কথা বলে। মায়ের ঘর থেকে টিভির আওয়াজ আসছে। বাবা অফিসে যাবার পরপর মা একটা হিন্দি সিনেমা ছেড়ে দেন। রহিমার মা কাজের ফাঁকে ফাঁকে দু-তিন মিনিট করে দেখে। ভাইয়া চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। তার হাতে উল্টা করে ধরা বই। ভাইয়া উল্টা করে বই পড়লে ধরে নিতে হবে তারও মন খারাপ। ভাইয়া বই নামিয়ে রাখতে রাখতে বলল, ‘কুতো বিদ্যার্থিনঃ সুখম।’ আমি বললাম, এর মানে কী? ভাইয়া হাই তুলতে তুলতে বলল, ‘বিদ্যাশিক্ষার্থী মানুষের সুখ নাই।’ সংস্কৃত কোথায় শিখলে? কোথায় শিখেছি সেটা ইম্পর্টেন্ট না। কিছু বলতে পারছি এটা ইম্পর্টেন্ট। ধর্মপ্রচারকদের বিভিন্ন সময়ে নানান ভাষায় কোটেশন দেবার ক্ষমতা থাকতে হয়। তুমি ধর্মপ্রচার করছ? হুঁ। ভালোবাসার বিপরীত শব্দ কী, বল দেখি। ঘৃণা। আমার ধর্মের মূল বিষয় হচ্ছে ঘৃণা। এই ধর্মের সবাই একে অন্যকে ঘৃণা করবে। তোমার ধর্মের নাম কী? রগট ধর্ম। ‘টগর’ উল্টা করে হয়েছে ‘রগট’। রগট ধর্ম তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়ানো। এই ধর্মের মানুষদের সপ্তাহে একটা মন্দ কাজ করতে হবে। নয়তো তার ধর্মনাশ হবে। ১. ঘৃণা। ২. হিংসা। ৩. বিদ্বেষ। আমি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। সে ফাজলামি করছে কি না, এখনো বুঝতে পারছি না। ভাইয়া অবশ্য ফাজলামি করা টাইপ না। তার মাথায় কিছু একটা নিশ্চয়ই খেলছে। ভাইয়া হাই তুলতে তুলতে বলল, মনজু, একটা কাজ করে দিতে পারবি? আমি বললাম, কী কাজ, বলো। একটা মেয়ের ঠিকানা লিখে দিচ্ছি। মেয়েটাকে এবং মেয়ের মাকে নিয়ে আসবি। তারা এখন থেকে এ বাড়িতে থাকবে। বাবাকে জিজ্ঞেস করেছ? বাবাকে জিজ্ঞেস করব কোন দুঃখে? বাবা বাড়িতে এসে দেখবেন, তাঁর একটা গেস্টরুম দখল হয়ে গেছে। তাঁর চোখ কপালে উঠে যাবে। দর্শনীয় ব্যাপার হবে। যাদের আনতে চাচ্ছ তারা কে? মেয়েটার নাম পদ্ম। পদ্মর মায়ের নাম ভুলে গেছি। পদ্মকে চিনিস না? হুঁ, বিড়াল-কন্যা। বিড়াল-কন্যা এখন সিংহের মুখের সামনে। তাকে উদ্ধার করা জরুরি। আমি বললাম, ঠিকানা দাও। নিয়ে আসছি। ভাইয়া বলল, গুড বয়। আমি বললাম, তাদের সঙ্গে তোমার যোগাযোগ আছে? হুঁ। বাবা মাঝেমধ্যে কিছু টাকা দেন। আমি নিয়ে যাই। কাজটা বাবা করেন অপরাধবোধ থেকে। এই বাড়ির অর্ধেকটা ওদের। তুমি নিশ্চিত? অবশ্যই। বাবা এমন কোনো দয়ালু মানুষ না যে ওদের দুর্দশা দেখে টাকা পাঠাবেন। তাঁর হচ্ছে হিসাবের পয়সা। ওদের এ বাড়িতে এনে তোলার পরের ব্যাপারটা ভেবেছ? না। আমি বর্তমানে বাস করি—অতীতে না, ভবিষ্যতেও না। তোমার কর্মকাণ্ড তো তোমার রগট ধর্মের সঙ্গে যাচ্ছে না। তুমি পদ্ম ও তার মাকে দয়া করছ। ভালো কাজ করছ। রগটরা কি এই কাজ করতে পারে? ভাইয়া হাসতে হাসতে বলল, দয়া দেখাচ্ছি তোকে কে বলল? এরা এ বাড়িতে এসে উঠলেই ধুন্দুমার লেগে যাবে। বাবা আধাপাগলের মতো হবেন। মা ঘন ঘন মূর্ছা যাবেন। আমার রগট ধর্ম এই জিনিসটাই চায়। ঝামেলা, সন্দেহ, ঈর্ষা, পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস। আমি বললাম, সিএনজি ভাড়া দাও। সিএনজিতে করে নিয়ে আসি। ভাইয়া উঠে বসতে বসতে বলল, ব্যাপারটা এত সহজ না। পদ্ম মেয়েটা আছে মহাবিপদে। আজ তাকে জোর করে বিয়ে দেবার ব্যবস্থা হচ্ছে। তুই একা কিছু করতে পারবি না। তোকে মেরে তক্তা বানিয়ে দেবে। তোর সঙ্গে লোকজন যাবে। ওরাই ব্যবস্থা করবে। এখন বাজে কয়টা? এগারোটা বিশ। তুই অপেক্ষা কর। বারোটার মধ্যে দলবল চলে আসবে। ওদের সঙ্গে যাবি। রহিমার মাকে বল, আমাকে চা দিতে। ভাইয়া আবার শুয়ে পা নাচাতে লাগল। তাকে উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। রগট ধর্মের মানুষদের উৎফুল্ল থাকার বিধান কি আছে? সন্দেহজনক চেহারার কিছু লোকজন মাইক্রোবাসে বসা। এদের একজন আবার ইসমাইলের মতো মাওলানা। বিশাল দাড়ি। সেই দাড়ি মেন্দি দিয়ে রাঙানো। মাওলানার মাথায় জরির কাজ করা লাল টুপি। তাঁর শারীরিক কিছু সমস্যা আছে। কিছুক্ষণ পরপর তিনি শরীর কাঁপিয়ে হোঁৎ ধরনের শব্দ করেন। মাওলানা বসেছেন ড্রাইভারের পাশে। তিনি ক্রমাগত তসবি টেনে যাচ্ছেন। তাঁর গা থেকে কড়া আতরের গন্ধ আসছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমরা কেউ বাসায় নেই-৬

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now