বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আম্মার বেশির ভাগ মুরগী ই মারা যেত বিভিন্ন অসুখের কারনে।এয় নিয়ে আম্মুকে কখনো বিচলিত হতে দেখিনি। আম্মার আশা ছিল প্রবল।হাসি হাসি গাল করে বলতো "দেখিছ বাপ,একদিন আমার মুরগী ডিম দিবই"।প্রতিত্তুরে আমি তাচ্ছিল্য করে বলতাম" ডিম দিবে না ছায়"।আম্মারা জ্যোতিষি হয়।তায় আম্মার কথাটা ফলে গেল।এক সকালে আম্মা চোখ ভর্তি জল নিয়ে আমার সামনে এসে দাড়াল।কাদো কাদো গলায় আমার চোখের সামনে ধবধবে সাদা ডিম টা নাড়িয়ে গলায় উৎসব এনে বলল।দেখ ভাপ, আমার মুরগী সত্যিই ডিম দিছে।সে দিনের পর থেকে আম্মার কোনো মুরগী মারা যাবার খবর পায়নি আর।যদিও ডিম দিত কি দিত না তার খোজ আমার কাছে আসতো না।আমার আন্দাজ ছিল আম্মার মুরগি ঐ একবারি ডিম দিয়েছিল।কারন ঐএকবারি আম্মা খুব উৎসব করে আমার পাতে ডিম বাজি দিয়ে বলেছিল নে বাপ এবার এটা মাখিয়ে পেট পুড়ে চারটি ভাত খেনে।এর পর ডিম বাজিতো দূরের কথা ডিমের গন্ধও নাকের বারান্দায় আসতো না।৷৷৷৷৷৷৷ মেট্রিক পরিক্ষার তিন মাস বাকি।স্কুলের হ্যাডমাস্টার বললেন,আর পাচ দিনের মধ্যে যারা ফর্মফিলাপের টাকা দাওনি,তারা টাকা নিয়ে আসবে,,নয়লে ফর্ম ফিলাপ হবেনা।মাথায় ভাজ পড়ল।এত টাকা কয় পাব।বাবা গত হয়েছেন অনেক বছর।আম্মা একা টেনে টোনে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তিন বেলার ভাত জুটান।সে কড়া ঘা,ড় উপর ফর্ম ফিলাপের এতোগুলো টাকা আম্মাকে বলা বেমানন ঠেকাল।বললেও যে এতো গুলো টাকা আম্মার পক্ষে দেওয়া অসম্ভব তা আমার জানা ছিল।এক দিন গেল, দুই দিন গেল।দেখতে দেখতে চার দিন ই চলে গেল।না টাকাটা আর যোগাড় হলো না।পড়ে সিদ্ধান্ত নিলাম পরিক্ষা দিব না।দুই এক দিনের মধ্যে জেঠার খামারে কাজে লেগে মাকে সাহায্য করব।রওয়ানা দিলাম সোজা স্কুলে। গিয়ে দাড়ালাম হ্যাড মাস্টার এর সামনে।উনি আমার দিকে ছল ছল করে তাকিয়ে বলল?" কিছু বলবি"? আমি মাথাটা নুয়ে কথা বলতে লাগলাম,ততক্ষনে আমার গলা কান্নায় জড়িয়ে গেল। বলতে লাগলাম,,আমার পড়া লেখা আর হবে না,,আমার টাকা জোগাড় করতে পারিনি,,স্যার আপনি লিস্ট থেয়কা আমারে বাদ দিয়া দেন। স্যার আমার কথা কেড়ে নিয়ে আমাকে অবাক করে বলল, কি বলিস আবোল তাবোল? তোর টাকাতো জমা হয়ে গেছে আজ সকালে,,তুই বরং ক্যারানির কক্ষে গিয়ে স্বাক্ষরপত্রে স্বাক্ষর করে আয়।।।স্যারের মুখে কথাটা শুনে নিজের কানকে অবিশ্বাস হতে লাগল।ভাবলাম স্যার মজা করছে নাতো আমার সাথে? বিস্ময় কাটিয়ে স্যারকে বিললাম, কি বলেন স্যার কে দিবে, আমার এতো গোলো টাকা? আমিতো কোনো টাকায় জোগাড় করতে পারিনি। স্যার বিস্ময় হাসি দিয়ে বলল,কেন রে তোর মা ইতো আজ সকালে এসে টাকাটা জমা দিয়ে গেল,তুই জানিস না? একটা ধাক্কা খেলাম। মূহুর্তেয় আমার গলার কান্না থেমে গিয়ে, সেখনে বিশ্বাসের সুর এসে আমাকে আলতো করে বলে দিল"মা"। এক ঝুড়ি প্রশ্ন আর কোতূহল নিয়ে দৌড়ে ছুটতে লাগলাম আম্মার কাছে। প্রশ্ন তাড়া করছে। এত টাকা মা কোথায় পেল ? কিভাবেয় বা জানলো আজ ফর্মফিলাপের শেষ তারিখ?।।।ঘড়ে ঠুকতেয় দেখি আম্মা বিছানায় জড়সড় হয়ে এক কোনে শুয়ে আছে। হাপাতে হাপাতে গিয়ে আম্মার মাথার কাছটায় গিয়ে বসলাম।কপালে হাত দিয়ে বুঝলাম কপাল পুড়ে যাচ্ছে ঝরে। আমার হাতের স্পর্শে আম্মা আমার দিকে চোখ খুলে তাকাল মায়া চোখে। চটজলদি ঠোঁট নাড়িয়ে একের পর এক প্রশ্ন গুলো করতে যাব ঠিক সেয় মূহুর্তে আম্মা আমাকে মাথার কাছে টেনে কপালে চুমো খেয়ে হেসে বলতে লাগলেন,,বাপধন,তোর মনে আছে ঐ একটি মুরগীর কথা?জানিস সেই দিনের পর থেয়কা রোজ দুইটা মুরগী ডিম দিত।তোকে লুকায়া সেয় ডিম গুলো আমি জমিয়ে রাখতাম।জমতে জমতে ডিম এক কুড়ি দুই কুড়ি হয়তে লাগল। তোরে না জানায়া আমি সেগুলো বিক্রি করে দিতাম।যে টাকা গুলো পেতাম সে টাকা গুলো বিছানার তলে রেখে দিতাম।আজ হিশাব কয়রা দেখি মেলা টাকা হয়ছে।ঐ গুলো দিয়া আজ তোর ফর্ম ফিলাপের টাকাজমা দিয়া আসলা।। তোই কিন্তো মনযোগ দিয়া পড়িছ বাপ। মায়ের মায়ামাখা শ্যামলা মুখমন্ডলের দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে কথাগুলো শুনতে লাগলাম । আমি বিন্দু মাত্র অবাক হলাম না।একবারের জন্য জিজ্ঞাসাও করলাম না তুমি কিভাবে জানলে আজ ফর্ম ফিলাপের শেষ তারিখ ? কারণ আমি জানি মায়েরা জ্যোতিসি হয়!!!!দৌড়ে গিয়ে ডাক্তার আনলাম।রাতে আম্মার ঝর পড়ে গেল। ওষধ খাইয়ে আপেল ও মাল্টার খাওয়াতে লাগলাম। আম্মা আপেল এর টুকরা গালে তুলার আগে আমার দিকে বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকালেন।।।আমি এভার মায়ের কপালে চুমু খেয়ে হেসে হেসে বলতে লাগলাম।।।।মা তোমার মনে আছে ঐ যে তোমার দেয়া ঐ পাচঁ টাকার কথা।।তার পর থেকে প্রতিদিন আমাকে রোজ পাচঁ টাকা করে দিতে।আমি এয় টাকা টিফিনে কখনো ভাঙগিনি ।। আমি তা বিছানার তলে রেখে দিতাম।আজ গুনে দেখি মেলা টাকা।। তা দিয়ে ডাক্তারের খরচ,ওষধের খরচ,,আর তোমার জন্য চারটা আপেল ও কমলা নিয়ে আসলাম।।মা মিষ্টি হাসলেন,,মা যখন আরাম পান তখন এয় হাসিটা হাসেন।।।মা আমাকে কুলে টেনে নিলেন,,আমি ও মাথা লুকালাম শান্ত ছেলের মতো,,,,আমি আর কিছু বললাম না।।। আমার আর কিছু বলতেও হয় না,,,, কারণ আম্মারা তো জ্যোতিসি হয়!!!!!!!!,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now