বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমীরের সত্যবাদিতা

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X খলীফা হযরত উমারের (রাঃ) খিলাফতকালের প্রথম পর্ব তখন চলছে। উমার (রাঃ) সাঈদ ইবনে আমরকে হিমসের আমীর পদে নিযুক্ত করলেন। কিছুদিন পর উমার (রাঃ) স্বচক্ষে সিরিয়ার অবস্থা দেখার জন্য হিমসে এলেন। সেকালে হিমসকে বলা হত ‘কুহাইফা’। কারণ কুফাবাসীদের মত হিমসবাসীরাও তাদের শাসকদের বিরুদ্ধে সব সময় অতিরিক্ত অভিযোগ উত্থাপন করতো। তাই বলা হত হিমসও যেন ছোট-খাট একটা কুফা। খলীফার আগমনের পর হিমসবাসীরা তাঁকে সালাম জানাতে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমদের আমীরকে কেমন পেলে?’ তারা আমীরের চারটি কাজের কথা উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করল। গুরুত্বের দিক দিয়ে সে চারটি কাজের প্রত্যেকটি সমান। ‘উমার (রাঃ) বলেন, ‘আমি হিমসবাসী ও তাদের আমীরকে একসাথে উপস্থিত হতে বললাম। আল্লাহর কাছে আমি দুআ করলাম, তাঁর সম্পর্কে আমার ধারণা যেন হতাশাব্যঞ্জক না হয়। কারণ তাঁর প্রতি ছিল আমার দারুণ বিশ্বাস। হিমসবাসী ও তাদের আমীর একসাথে আসলে উমার (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন। ‘তোমাদের আমীরের বিরুদ্ধে তোমাদের অভিযোগ কি?’ তারা বলল, ‘বেশ খানিক বেলা না হওয়া পর্যন্ত তিনি আমাদেরকে দেখা দেন না।’ উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘সাঈদ, এ অভিযোগ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?’ তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “আল্লাহর কসম! বিষয়টি কারও কাছে প্রকাশ করা আমার পছন্দনীয় নয়। তবে না বললেই নয়, তাই বলছি। আমার পরিবারের জন্য কোন চাকর-বাকর নেই। সকালে বাড়ির সব কাজই আমাকে নিজ হাতে করতে হয়। আটা মাখা ও রুটি তৈরীর কাজও আমি করে থাকি। তারপর হাত মুখ ধুয়ে মানুষকে সাক্ষাৎ দিই। তখন খানিকটা বেলা হয়ে যায়।” উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের আরও অভিযোগ আছে কি?’ তারা বলল, ‘তিনি রাতের বেলা কাউকে সাক্ষাত দান করেন না।’ উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, সাঈদ এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?’ তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এ বিষয়টিও প্রকাশ করা আমার মনঃপূত নয়। তবুও বলছি, আমি দিন মানুষের জন্য ও রাত আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করেছি।’ উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের আর কি অভিযোগ আছে?’ তারা বলল, ‘মাসে একটি দিন তিনি কারও সাথে সাক্ষাৎ দেন না।’ উমার(রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘সাঈদ, বিষয়টি কি?’ তিনি বললেন, “আমীরুল মুমিনীন, আমার কোন খাদেম নেই। পরনের এ কাপড় ছাড়া অন্য কোন কাপড়ও আমার নেই। মাসে একবার আমি নিজ হাতে তা পরিষ্কার করি এবং শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এজন্য দিনের প্রথমভাগে লোকদের সাক্ষাৎ দিতে পারিনা। তবে শেষ ভাগে সাক্ষাৎ দিই।” ‘উমার (রাঃ) আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে আর কোন অভিযোগ আছে?’ তারা বলল, মজলিসে মানুষের সাথে কথা বলতে বলতে মাঝে মাঝে হঠাৎ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন।’ উমার (রাঃ) বললেন, ‘ব্যাপার কি সাঈদ?’ তিনি বললেন, ‘আমি মুশরিক অবস্থায় খুবাইব ইবনে আদীকে শূলীতে চড়ানোর দৃশ্য দেখেছিলাম। আমি আরও দেখেছিলাম কুরাইশরা তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এক এক করে কেটে ফেলছে। সে সময় কুরাইশরা তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘তোমার স্থানে মুহাম্মাদকে (সাঃ) আনা হোক তা কি তুমি পছন্দ কর?’ উত্তরে তিনি বলেছিলেনঃ ‘আল্লাহর কসম, আমি আমার পরিবারবর্গ ও সন্তান সন্তুতির মাঝে নিরাপদে ফিরে যাই, আর এর বিনিময়ে মুহাম্মদের (সাঃ) গায়ে কাঁটার একটি আঁচড়ও লাগুক তাও আমার মনঃপূত নয়। আল্লাহর কসম! যখনই আমার সে দিনটির স্মৃতি মনে পড়ে এবং কেন আমি সেদিন তাঁকে সাহায্য করিনি- এ অনুভূতি আমার মধ্যে জেগে ওঠে, তখন আমি চেতনা হারিয়ে ফেলি। আমার মনে হয়, আল্লাহ্‌ আমার এ অপরাধ ক্ষমা করবেন না।’ উমার (রাঃ) তখন বললেন, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমার ধারণাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেননি। তারপর তিনি সাঈদ রাঃ)-কে প্রয়োজন মিটানোর জন্য এক লাখ দিনার পাঠালেন। #Collected


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমীরের সত্যবাদিতা
→ আমীরের সত্যবাদিতা
→ ***আমীরের সত্যবাদিতা***

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now