বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমি জানি , অতন্দ্রিলা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X -সরি সরি ! লেট হয়ে গেল ! -এ আর নতুন কি ? জীবনে কখনো ঠিক সময়ে আসতে পারছ ? -সেই জন্য স্পেশাল সরি । হইছে এইবার ? -না হয়নি ! আমার থেকে তিন হাত দূরে বসবা । এইটা তোমারশাস্তি । -হেঃহেঃ ! এমনিতেই ত দুইহাত দূরে বসায় রাখ । আজকে নাহয় আর একহাত বেশি দূরে বসলাম , এ আর এমন কি শাস্তি ! এবার হেসে দিল অতন্দ্রিলা ।ইশ্ ! এই হাসিটা আমার অসহ্য !আমি একদম কন্ট্রোল করতে পারিনা নিজেকে । ওর এই হাসিটা আমার আমিত্বকেও কেড়ে নেয় । সৌভাগ্যবশত (!) এই মেয়েটা খুব কম সময়ই আমার সাথে হাসিমুখে কথা বলে । সারাক্ষণ এইটা করলা ক্যান ?ঐটা করলা না ক্যান ? সেইটা করলেই ত হত । দেরি হল ক্যান?...........ই.ট ি.সি টাইপের ঘ্যানঘ্যান প্যানপ্যান নিয়েই বিজি থাকে , আমাকেও বিজি রাখে । -এই ! কি ভাবছ ? ওর ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম । এতক্ষণ ভাল করে খেয়াল করার সুযোগই পাই নি , ওর কপালে ছোট্ট একটা কালো টিপ পড়েছে আজকে । ও টিপ পড়ে না ।মনে পড়ছে একদিন বলেছিলাম ছোট্ট কালো একটা টিপ পড়লে আমি তোমার দিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে পারব না । তাও ও টিপ পড়ত না । কে জানে কেন ? আমি কখনো জিজ্ঞেসও করিনি কেন টিপ পড় না । আজ পড়েছে । আমি জানি কেন ও আজ টিপ পড়েছে । ও চায় না আজকের দিনটা আমি ওকে ছাড়া আর কিছু ভাবি । আমিও চাই না ওকে ছাড়া আর কিছু ভাবতে । খুব ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করছিল আমার রাজকুমারীটাকে । বললাম, -টিপ টাও ঠিকমত পড়তে পারো না ? বামদিকে বাঁকা হইছে । ওর চোখে দুষ্টু হাসি । চোখ বন্ধ করে বলল ঠিক করে দাও । -তুমি বস । আমি আসছি । ওকে ছেড়ে এক বিন্দুও দূরে সরতে মন চাচ্ছিল না । পাশের দোকান থেকে দুইটা চকোলেট নিয়ে ওর হাতে দিলাম । চকোলেট শেষ করে দুটা আইস্ক্রীম । তারপর চলে যাবার সময় হয়ে আসল । আর বিশেষ কিছু বললাম না । ও খানিকটা অবাক হয়ে গেল । কিছু একটা মিস করছে প্রচন্ডভাবে । চলে যেতে যেতেই ওর চোখদুটো টলটল করছিল । আমি জানি ও কি মিস করছে । *** সন্ধ্যা । ফোন করলাম অতন্দ্রিলাকে । ফোনটা বেজেই যাচ্ছে । ও রিসিভ করছে না । তৃতীয়বার আর নিজেকে সামলাতে না পেরে রিসিভ করল । আমি কিছু বলার আগেই কাঁদো-কাঁদো গলায় বলল, -আমাকে আর কোনদিন ফোন করবা না । -আচ্ছা ঠিক আছে , ফোন করব না। কেন করব না বল ত ? -আমি তোমার কেউ না , তাই । আমি জানি ও আর কথা বলবে না ।চুপ করে ফোনটা কানে ধরে রাখবে যতক্ষণ আমি কথা বলব ।আমি বলতে শুরু করলাম । - জানো ? প্রথম যেদিন তোমাকে হাসতে দেখছিলাম , সেদিনই তোমার ঐ বাঁধ ভাঙা হাসির ঢেউ আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল কোন এক অথৈ সাগরে । সত্যি বলছি একটুও চেষ্টা করিনি সাঁতরে পার খোঁজার । সেদিন থেকেই তোমারহাসির সাগরে তলিয়ে যাচ্ছি একটু একটু করে । গভীরে , আরওগভীরে । অতন্দ্রিলা জানো ? আমার না, খুব চশমা পড়ার শখ । কিন্তুচোখ দুটা অসম্ভব রকমের সুস্থ । তাই চশমা পড়া হয়নি কখনো । আমার খুব ইচ্ছে করে ,চশমার পুরু কাঁচের আড়াল থেকে তোমার চোখে চোখ রাখতে । যেন তুমি আমার চোখের ভাষাবুঝতে না পার । যেন তুমি শুধু দেখতে পাও পুরু কাঁচেরএপাশটায় লাড্ডুর মত গোল গোলদুটা চোখ । আর এটা দেখে তুমি হাসিতে ফেটে পড়বা আবার, বারবার । পুরু কাঁচের দেয়ালে ঢাকা আমার চোখে কখনো থাকবে ভালবাসার আকাঙ্খা , কখনো অভিমানী রাগ , কখনো স্বপ্ন ,কখনো নীল কষ্ট , কখনো........ থাক , তোমার এত কিছু বোঝার দরকার নাই । তুমি শুধু আমারলাড্ডুর মত চোখ দেখে হাসবা, ব্যাস্ । -শেষ ? নাকি আরো কিছু বলবা? -আরও বলব । -বল । -অতন্দ্রিলা । -হুঁ । -জানো ? তুমি আমার কাছে শুধু একটা মানুষ নও । তুমি........ তুমি একটা বিশাল অরন্য । যে অরন্য বহুযুগ আগে হারিয়ে গেছি আমি । জানি, হাজার বছরেও সে অরন্য থেকে বের হয়ে আসার পথ পাব না আমি । তুমি এক বিশাল পাহাড় চূড়া , জানি সারা জীবন চেষ্টা করলেও তা জয় করতে পারব না আমি । এক অসীম নীল আকাশ তুমি । জানি অনন্তকাল উড়ে চললেও ছুঁয়ে দিতে পারবনা তোমায় । অতন্দ্রিলা তুমি আমার ঘরের পাশের ধানক্ষেতের ধানের শিষে জমে থাকা এক বিন্দু শিশির কণা যার স্নিগ্ধতায় মুগ্ধ হয়ে হারিয়ে ফেলেছি সবভাষা । তুমি আমার টিনের চালায় শ্রাবণ রাত্রির অঝোর ধারার ঝমঝম শব্দ । অতন্দ্রিলা , আমার পৃথিবী তুমি , আমার অনুভূতি তুমি । -কচু , কচু , কচু । -হ্যাপি বার্থডে টু ইউ জাআআআন । ও চুপ করে আছে । ও ভেবেছিল আমি ভুলে গেছি আজকে ওর জন্মদিন । এটা কি সম্ভব ! কিছুক্ষণ নীরবতা । তারপর ওরসশব্দ করে কান্নার আওয়াজ । -শয়তান ছেলে কোথাকার ! আমাকে কাঁদাতে খুব ভাল লাগে, না ? -তোমার ব্যাগের বাম পকেটে একটা ডায়েরী আর একটা গোলাপ রেখেছি দেখ । এখন কান্না থামিয়ে চোখদুটা মুছে ফেল । একটা কবিতা শোনাই , ডায়েরীতে লিখে ফেল । -বল । "অতন্দ্রিলা ঘুমাওনি জানি তাই চুপি-চুপি গাঢ় রাত্রে শুয়ে বলি শোন, সৌর তারা-ছাওয়া এই বিছানায়-সূক্ষ্ন জাল রাত্রির মশারি কত দীর্ঘ দু-জনার গেল সারাদিন , আলাদা নিঃশ্বাসে- এতক্ষণে ছাঁয়া- ছাঁয়া পাশে ছুই কী আশ্চর্য দু- জনে , দু'জনা অতন্দ্রিলা, হঠাৎ কখন শুভ্র বিছানায় পড়ে জ্যোৎস্না । দেখি তুমি নেই !" *** লিখেছেন - সুইসাইড সাইলেন্স


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমি জানি , অতন্দ্রিলা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now