বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কষ্ট মানুষকে কতটা পরিবর্তন করতে পারে সেটা দেখাবো আজকের এই গল্পের মাধ্যমে।
কলেজের সব থেকে হাসি খুশি আর মেধাবি ছাত্র টাকে আজকে সবাই একনামে চিনে সেটা হলো ""পাগল""
রাস্তার পাসে টং দোকান এ বসে চা খাচ্ছি,হাতে একটা বিস্কুট।মুখ ভর্তি দাড়ি গোঁফ আর মাথার চুল গুলোও অগাছালো হয়ে গেছে,অনেকদিন হলো সেলুন এর দোকান মামার সাথে যোগাযোগ নেই।
পাশে পড়ে আছে একটা ছিন্নবিচ্ছিন্ন খাতা।
পেইজ গুলোও কেমন যানি ময়লময়লা ভাব।
আসলে এটা খাতা না,,এটা ডায়েরী।
যেটা ভালোবেসে কেও একদিন দিয়েছিলো আর সবসময় সঙ্গে করে রাখতে বলেছিলো।তার কথা রাখতে গিয়ে আজ ডায়েরীটা ছিড়ে খাতাতে পরিনত হয়ে গেছে।
যাই হোক বসে বসে চা খাচ্ছি আর রহিম চাচার দোকানে চলতে থাকা ১৪" টিভিটার দিকে মাঝে মাঝে তাকাচ্ছি।।
দোকান পুরো খালি এখন সেই জন্য চাচা আমাকে চা খেতে দিছে।
যখন দোকানে কেও থাকে না তখন আমার ঢোকার অনুমতি মিলে।
কারন মহল্লার সবাই আমাকে এখন এক নামে চিনে "পাগল"
মাঝে মাঝে ভাবি আমার কোন আচরণ দেখে আমাকে পাগল মনে করে।
কিন্তু ভাবনাটা আমার অজানাই থেকে যাই।
রহিম চাচা কে চা এর কাপ টা দিয়ে চলে আসলাম।
রহিম চাচা খুব ভালো সেই জন্য আমার কাছ থেকে টাকা চাই না।
আর চাইবেই বা কেন আমার মতন পাগলের কাছ থেকে কেও টাকা নেই।
দুপুরে প্রখর রৌদ্র তাপের ভিতরে রাস্তার মাঝখান দিয়ে হেঁটে চলেছি।
কারন এসময় রাস্তটি পুরো ফাঁকা থাকে।আর গাড়ি আসলেও আমাকে দেখে সাইড দেয় আমার এসব দেখতে ভালোই লাগে।
আনমনে হাঁটছি রাস্তার মাঝ খান দিয়ে হঠাৎ একটা গাড়ি এসে সামনে থমকে দাড়ালো, পাশ কাটিয়ে বার হয়ে যেতে চাইলাম কিন্তু পারলাম না।
চিরোচেনা একটা মুখ কাচ ঢাকা গাড়ির ভিতর থেকে উঁকি মারলো।
এক পলক তাকিয়ে আবার হাটা শুরু করলাম।
পাগলদের আবার চেনা মুখ থাকতে হয় নাকি।
সবাই আপন সবাই পর।
পরদিন যথাসময়ে আবার রহিম চাচার দোকানে উপস্থিত হলাম।
উদ্দ্যেশ্য এক চাপ চা আর একটা বিস্কুট।
কিন্তু আজকে আর মনে হয় খাওয়া হবে না,কারন রহিম চাচা প্রচন্ড রেগে আছে আমার উপরে।
আমিও রাগ দেখিয়ে চলে আসলাম।
পাগল বলে কি আমার রাগ থাকতে নেই।
রাস্তার ধারে থাকা মস্ত বড় পুকুর ঘাটেরর উপরে থাকা একটা গাছের ছায়াতলে মন খারাপ করে বসে আছি।
এমন সময় দেখি কারো হাতে এককাপ দুধ চা আর সাথে একটা বিস্কুট আমার সামনে তুলে ধরেছে।
খুশিতে সেগুলো হাতে নিয়ে হাতটাকে উদ্দ্যেশ্য করে পিছনে তাকালাম।
দেখি আবার সেই মুখ।
না এই মুখটা আমাকে বাঁচতে দিবে না,দুরে গিয়েও শান্তি দিচ্ছে না আমাকে।
কেন দেখি বার বার এই মুখটা।
সব কল্পনার রেশ কাটিয়ে উঠলাম যখন পিছন থেকে মিষ্টি কন্ঠে বলে উঠলো এটা তোমার কল্পনা নই,আমিই ........
অবাক দৃষ্টিতে পিছন ফিরে দেখলাম,সত্যি তুমি এসেছো।
বলেই নীলার হাতে একটা চিমটি কেটে দেখলাম।
চিমটিটা মনে হয় একটু জোরেই কেটে ফেলেছি যেটা রিয়ার চোখ কুঁচকানো দেখে বুঝতে পারলাম।
হঠাৎ নিলা বলতে শুরু করলো
:-কেমন আছো?
:-আমি তো সব সময় বিন্দাস।
:-সেটা তো তোমার অবস্থা দেখেই বুঝতে পারছি।
:-হুম,,তো এতদিন পরে পাগলটার কাছে কি মনে।
:-তোমার শরিরে কি অবস্থা করেছো,আর চেহারার কি অবস্থা।
:-এটাই তো তুমি চেয়েছিলে।
কথাটি শুনে নিলা কিছুক্ষন নিশ্চুপ হয়ে গেলো।
আবার বলতে শুরু করলাম,,,,
মনে আছে তোমার সেদিনের কথা যেদিন ভার্সিটিতে ১ম আমাদের দেখা হয়েছিলো।তুমি নিজে থেকে আমার সাথে বন্ধুত্ব করেছিলে আর ভালোটাও নিজের ইচ্ছেতেই করেছিলে।আমি হাজার বার বারন করার পরও তোমার যেদের কাছে সেদিন হেরে গেছিলাম।
কারন আমি জানতাম আমার আর তোমার মিলন টা কখনো সম্ভব নই,কারন তোমার পরিবারে কাছে কখনো আমি তাদের পছন্দের হতে পারতাম না।
তবুও আবাগের বশে পড়ে তোমাকে ভালোবেসে ছিলাম।
অনেক ভালোবেসে ছিলাম।
কিন্তু শেষমেষ কি হলো দেখছো,আমার সেদিনে রঙিন দিন গুলো তো হারিয়েই গেলো সাথে হারিয়ে ফেললাম বেঁচে থাকার মানেটাও।
তুমি যানো যেই সিগারেট খাওয়া আমি দু চোখে দেখতে পারতাম না,সেই সিগারেটই একদিন তোমাকে ভালোবেসে মুখে তুলে নিয়েছিলাম।
সেদিন খুব কষ্ট হয়েছিলো যখন তুমি বলেছিলে আমাকে ভুলে যাও,আমি আমার বাবা মাকে কষ্ট দিতে পারবো না।
কষ্টই যদি না দিতে পারতে তাহলে কেন এসেছিলে আমার সুন্দর জীবনটা নষ্ট করে দেওয়ার জন্য।
তোমার বিয়ের দিন এতটাই কষ্ট পেয়েছিলাম আর বিবেকক্ত হারিয়ে ফেলেছিলাম যে সব লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে বিনা দাওয়াতেই তোমার বাড়িতে চলে গিয়েছিলাম।
শুধু মাত্র একটাবার তোমাকে দেখবো বলে।
কিন্তু সেই ভাগ্য আমার হয় নি তোমার বাবা সবার সামনে আমাকে পাগল বলে অভিহিত করেছিলো।
আর যার কারনে আমার কোনো কথা না শুনেই পাগলা গারোদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।
যানো সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম,যাকে এতভালোবাসতাম সে একটাবারো আমাকে দেখা দিলো না ভেবে।
আমি তো তোমাকে নিয়ে পালানোর জন্য গেছিলাম না।
শুধু একটা পলক দেখার জন্য গেছিলাম,তুমি না বলতে তোমার খু্ব বধূ সাঁজতে ইচ্ছে করে।
আর আমি তখন তোমাকে বলতাম।
তোমাকে বধূ সাজেঁ একদম পরীর মতন লাগবে।
সেই পরী সাঁজটা দেখার জন্য গেছিলাম।
পাগলা গারোদে নিয়ে গিয়ে আমাকে যতটা কষ্ট দিছে তার থেকেও বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম তোমার মিথ্যে ভালোবাসাতে।
রোজ তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম,কিন্তু কখনো ভাবি নি স্বপ্ন গুলো এভাবে অচিরেই নিঃশ্বেস হয়ে যাবে।
আমাকে এখন সবাই একনামে চিনে,,"পাগল" বলে।
কিন্তু আমার পাগল হওয়ার কারন টা সবাই অজানায় আছে এখনো পর্যন্ত।
থাক অজানা,তুমি তো সুখে আছো তাতেই আমার সুখ।
সব ভালোবাসা যে পুর্ণতা পাবে এমনটাতে কথা ছিলো না।
আমার ভালোবাসাটাও সেই জন্য অপূর্ণ রয়ে গেছে সবার অন্তরালে।
কথা গুলো বলেই নিলার দিকে তাকালাম,
দেখি নিলার চোখে জ্বল ছলছল করছে।
কেন করছে সেটা জানার কোনো ইচ্ছে নাই আমার।
:-তুমি আজো মাটি খুঁড়ে আমার নাম লিখো।
:-যার নাম টা হৃদয়ে খুড়ে লিখেছিলাম তার নামটা মুছি কি করে,সেই জন্য যেখানেই বসি এই দুই অক্ষরের নামটা লিখতে থাকি।
অনেকবার নিজের মন কে বোঝাতে চেয়েছি কিন্তু জানি না নিজের অজান্তেই কেন নামটা বার বার লিখে ফেলি।
আচ্ছা আমাকে যেতে হবে,আমার কাজ আছে।ভালো থেকো তুমি......
বলেই নিলার কাছ থেকে সরে আসলাম।
আর পিছন ফিরে তাকাই নি।
তাকানোর সাহস হয় নি আর।।
কারন কথা গুলো বলতে গিয়ে আমার আঁখি দুটি অশ্রুশিক্ত না হলেও এখন অনবরত বারি ধারার মতন ঝরে পড়ছে চোখের জ্বল।
বেঁচে থাকুক ভালোবাসা এই পাগল হৃদয়ে যতদিন বেঁচে আছি একান্তে গোপনে ভালোবাসি আর ভালোবেসে যাবো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now