বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"আমি ধর্ষিতা"
.
.
নারীর যন্ত্রণা নারী বোঝে অন্যেরা তো
শরীর খোজে। রিপা এর জ্বলন্ত প্রমাণ।
চারদিন পূর্বে রিপার চাকরির সাক্ষাতকার।
আজ তিন দিন ৪ ঘন্টা হয়ে গেল, রিপা এখনও বাসায়
আসেনি।
মোবাইলটাও অফ। কোনমতেই রিপার সাথে
যোগাযোগ করতে পারছে না। চারদিন পূর্বে
রিপার একটা চাকরি ইন্টারভিউ ছিল। ঐদিন সকাল ৮ টায়
মিরপুরের একটা প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরির
ইন্টারভিউ দিতে গেল, সেই যে গেল আর
ফিরে আসলো না।
রিপা অনার্স ২য় বর্ষের একজন মেধাবী ছাত্রী।
তার পরিবারের মধ্যে সে বড়। বাবা অসুস্থ, গ্রামে
তার বাবার একটা চায়ের দোকান। আর এই দোকান
থেকে যা আয় করে তা দিয়ে কোনমতে সংসার
চালাতেন।
রিপা শহরের একটা মহিলা হোস্টেলে থাকতো।
২টা টিউশন ছিলো। টিউশন করে ভালো টাকা
পেতো। আর মাঝেমাঝে তার বাবাকে হাজার খানিক
টাকা বিকাশে পাঠিয়ে দিত।
রিপা প্রায় প্রতি রাতে বাবা মায়ের সাথে মোবাইলে
কথা বলতো। আজ চারদিন হল,রিপা তার বাবা, মাকে
একটা কলও দেয় নি। রিপার মা কান্নাকাটি করছে।
গ্রামের মানুষ সবাই রিপাকে চিনতো, জানতো।
রিপার জন্য অনেকেই চিন্তিত হয়ে পরল। এদের
মধ্যে রিপার চাচাতো ভাই জসিম একটু বেশিই চিন্তিত
হলো। জসিম রিপার বাবার কাছ থেকে কলেজ ও
হোস্টেলের ঠিকানা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে
রওয়ানা হলেন।
এই দিকে রিপা তার বান্ধবী স্মৃতিকে কল দিলো।
,
স্মৃতিঃ হ্যালো,,,,রিপা কই তুই? মোবাইল বন্ধ
কেন? এতোদিন কোথায় ছিলি? পাগল নাকি? তোর
বাড়ী থেকে জসিম নামে একজন লোক
আসছে। তোর বাবা মা সবাই চিন্তিত। আমাদেরকে
তো বলে যেতে পারতি, এমন করলি কেন?????
(স্মৃতি একসাথে অনেকগুলো প্রশ্ন করল)
,
রিপাঃ জসিম ভাইকে বল, আমার চাকরি হয়েছে,
বাড়ীতে গিয়ে মা আর বাবাকে জানাতে। আমি
একটু পর রুমে আসবো।
স্মৃতিঃ লোকটা তোর সাথে দেখা না করে
যেতে চাচ্ছে না। আমি কি উনাকে তোর জন্য
অপেক্ষা করতে বলবো? উনি অফিস রুমের
বারান্দায় বসে আছে।
রিপাঃ না, উনাকে বল, আমি দুদিন পর বাড়ীতে
যাবো তখন দেখা হবে। আমার ফিরতে লেট
হবে। বায়,,,রাখছি।
তারপর স্মৃতি লোকটাকে অর্থাৎ জসিমকে রিপার
কথাগুলো জানালো , অতঃপর জসিম বাড়ীতে
চলে যায়।
রিপা হোস্টেলে ফিরলো। রিপাকে আজ কেমন
যেন অন্যমনস্ক মনে হচ্ছে। মনে হয় খুব
কষ্টে আছে। মুখের পুরোটা অংশ লাল লাল দাগে
কেমন যেন বিশ্রী দেখাচ্ছে। ঠোট দুটো
কেমন ফুলে আছে। মাথার চুলগুলো কেমন
জীর্ণশীর্ণ দেখাচ্ছে। হাতের উপর
কতগুলো নখের আঁচরের দাগ দেখাচ্ছে।
এমন অবস্থা দেখে স্মৃতির চোখে জল চলে
আসলো।
রিপার বান্ধবী স্মৃতি এর কারণ জানতে চায়নি। কারণ
স্মৃতি একটা মেয়ে। তার কারণ জানতে হয় না। সে
স্বাভাবিকভাবে বুঝতে পারে।
বাট কে, কিভাবে, তার এই সর্বনাশ করল তা জানার
জন্য অপেক্ষা করতে পারলো না। স্মৃতির
চোখে জল চলে আসলো।
পরক্ষণেই রিপা স্মৃতিকে জরিয়ে ধরে কান্না শুরু
করে দিল। আর বলতে লাগলো, "আমি শেষ,
আমাকে শেষ করে দিলো"!
স্মৃতি আমি শেষ!!!
আমি ধর্ষিতা, আমি ধর্ষিতা ওরা আমাকে ধর্ষিতা করে
দিলো।
রিপা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যেখানে গেলো
সেখানে তার সাথে আরও ৪ জন মেয়ে ছিল। বাট
রিপা ছিল অসম্ভব, অমায়িক ও নান্দনিক সুন্দর্যের
অধিকারী। হয়তো এই সুন্দর্য তার মত গরীব
মেয়েদেরকে একটু বেশি প্রবলেম তৈরি
করে।
তার ইন্টারভিউ সবার শেষে পরলো। সবাই চলে
গেল তারপর রিপাকে ডাকা হল। রিপা গেল অফিসে।
রিপাঃ স্যার, আমি আসতে পারি,,,,,?
সারঃজি আসেন প্লীজ,বসুন।
তারপর রিপা এবং রিপার পরিবার ও চাকরি প্রসঙ্গগত কিছু
প্রশ্ন করা হয়।
রিপা সবগুলো ঠিকঠাক উত্তর দেয়। রিপা তখন
খেয়াল করল স্যারগুলো তার দিকে খারাপ নজরে
তাকাচ্ছে।
তারপর একজন বলল আপনি অপেক্ষা করুণ। আমরা
বিকাল ৫টায় ফলাফল জানাবো। আপনি বিকাল ৫টার
পূর্বে আমাদের অফিসে উপস্থিত থাকবেন। আমরা
আলোচনা করে আপনাকে রেজাল্ট জানাবো।
বেস্ট অফ লাক। আমরা আপনার প্রতি মুগ্ধ। আপনি
এই চাকরির জন্য সর্বাধিক যোগ্যতাসম্পন্ন। বাট
আমাদের হেড অফিসার বিকাল ৫টায় আসবেন। আর
তিনি রেজাল্ট জানাবে।
৪টা ৪০ মিনিটের সময় রিপা অফিসে উপস্থিত হলো।
হটাৎ একজন স্টাফ এসে বলল আপনাকে ৪০৮ নাম্বার
কক্ষে ডাকা হয়েছে। আপনি আপনার
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে করে নিয়ে যান।
রিপা খুশিতে একরকম দৌড়ে গিয়ে ৪০৮ নাম্বার
কক্ষের সামনে পৌঁছালো।
রিপাঃ স্যার আসতে পারি?
স্যারঃ জ্বী আসুন।
রিপা ভিতরে গেলো গিয়ে দেখল চারজন লোক
বসে আছে। তিনজন আগের ইন্টারভিউ নিয়েছিল।
আর একজন নতুন, ভাবলো তিনি প্রধান অফিসার।
তারপর একজন প্রশ্ন করলো,,,, "আপনি এই চাকরি
কেন করতে চান"?
---স্যার, আমার ফ্যামিলি সচ্ছল না। বাবা অসুস্থ, বাবা
আমাদের পরিবারের খরচ বহন করতে পারছেনা।
তাই বাবাকে সাহায্য ও নিজের পড়ালেখার খরচ এবং
আমাকে আপনাদের এই বিখ্যাত কম্পানিতে,
কমম্পানির কল্যাণে নিয়োজিত করতে চাচ্ছি।
একজন বলে উঠল কত টাকা হলে তুমি হ্যাপি
হবে,তোমার ফ্যামিলি হ্যাপি হবে?
রিপা অবাক হলো!
অন্য একজন বলে উঠলো আমরা তোমাকে যত
টাকা লাগবে দেবো, বাট আমাদের সাথে আজ এই
রুমে থাকতে হবে। +সামথিং
রিপা ভয় পেলো, আর সাথে সাথেই রুম থেকে
বেড়িয়ে যেতে চাইলো। বাট তখন চারজন
রিপাকে আটকিয়ে রাখলো এবং দরজা লক করে
দিলো।রিপা চিৎকার করল,তার চিৎকার শুনার মত কেউ
ছিল না। ৪টার সময় সবাই অফিস থেকে চলে
গেছে।
একজন রিপার মুখ বেধে দিলো, যেন চিৎকারের
শব্দ না হয়।
তারপর তারা বনের পশুর মত ধর্ষণ করলো। রাত ২
টায় রিপাকে গাড়িতে করে একজন স্যারের বাসায়
নিয়ে যাওয়া হয়। কারণ সকালে আবার অফিস শুরু
হবে। আর অফিসে মেয়েটাকে দেখলে
অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। স্যারের বাসা ফাকা ছিল,
কারন তার বাসার সবাই গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিল।
তারা রিপাকে ঐ বাসায় এভাবে চারদিন ধর্ষণ করল।
সাথে ভিডিও করল যাতে মেয়েটা নিজের সম্মান
রক্ষার্থে কাউকে কিছু বলতে না পারে।
অতঃপর সামান্য টাকা দিয়ে রিপাকে ছেড়ে দিলো।
আর একবার তাকে ভিডিওটা দেখালো।
ভিডিওটা দেখে কান্না ও লজ্জায় মরে যেতে
ইচ্ছে করলো। কিন্তু তার বাবা মায়ের জন্য তাকে
বেঁচে থাকতে হবে। মায়ের স্বপ্ন পুরন করতে
বাঁচতে হবে। তাই মরতে চাইলেও মরতে
পারেনি। এভাবে পৃথিবীতে বেঁচে আছে
হাজারো রিপা।
একজন বাবা তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। একজন
শিক্ষক তার ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। একজন ভাই
তার আপন বোনকে ধর্ষণ করে। একটা বখাটে,
মাস্তান কত অসহায় মেয়েকে ধর্ষণ করে। কত
অসহায় নারী এভাবে অফিসের মুখোশ ঢাকা স্যার
দ্বারা ধর্ষিত হয়।
আসলে তারা সবাই নরপশু। তাদের মন পশুতুল্য,
তাদের আচরণ জঙ্গলের পশুদের চেয়েও
নিকৃষ্ট, বর্বর।
হে আল্লাহ আমাদের বোনদেরকে এরূপ
রাক্ষসদের হাত থেকে রক্ষা করুণ।
.
.
-✎ ✍লেখায়___ অভি
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now