বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার তুমি,
আজ বেশ কয়েকদিন পর তোমাকে লিখতে
বসেছি।তবে একটা বিশেষ কারন ও আছে।আজ
আমি বেশ ঘটা করে সেজেছি।তুমি হয়ত জানোনা
আজকে আমাদের সাজবার দিন।কি ভাবছ? সাজবার
আবার দিন কি,তাইনা?জাতীয় দিবসের পর্যায়ে চলে
গেল নাকি!!অনেকটা তাই,আজ আমাদের রক্তজবা
টিপ পড়ার দিন।কিংবা বলতে পার কাঁচের চুড়ির ছন্দে
তোমাদের মাথা ধরিয়ে দেওয়ার দিন।হয়ত ভাববে
কি পাগলাটে মেয়েরে বাবা,এত্তদিন হয়ে গেল
লিখার নাম নেই,আজ হঠাৎ লিখছে তাও আবার
সেজেছে বলে।যখন তোমাকে লিখতে
বসি,তীব্রভাবে তোমায় অনুভব করতে পারি।তখন
মনে হয় আমার এক একটা শব্দ যেন তোমার
সাথে এক গুচ্ছ কথোপকথন।
সবার মাঝে বর্ষবরণের কত হুটোপুটি।কত
প্রস্তুতি,জল্পনা-কল্পনা।আর আমার নেই কোন
তাড়া।তোমার উপর মাঝে মাঝে ভীষণ রাগ হয়
জানতো,কতগুলো বৈশাখ এলো
গেলো,একটিবারের জন্য ও আমার খোঁপায় সাদা
কাঠগোলাপ এলিয়ে দিতে এলেনা।কতকিছুই তো
বোঝ,এটা বোঝনা খোঁপায় ফুল সাজের
অপূর্ণতায় পূর্ণতা এনে দেয়?সে যাই
হোক,তোমাকে কবে পাব বলতো?কখনও তুমি
আমার বিষণ্ণ আকাশ আর কখনওবা এক চিলতে
রোদ হয়ে ধরা দেও।কিন্তু স্পর্শমানব হয়ে
আসনা।
তোমাকেতো বলাই হয়নি,কেন জানি মনে
হচ্ছে এক পাগলাটে ছেলে বেশ কিছুদিন হল
তোমার জায়গা দখল করতে চাইছে।চাইলেই কি হয়
বল?তুমিতো তুমিই,তুমি আমার কাঁকডাকা ভোর,তপ্ত
দুপুর,নিকষ কালো রাত আর শুধুই আমার তুমি।তবে
তোমাকে আমি যেভাবে কল্পনা করি,পাগলটা
অনেকটা তেমন।ছিপছিপে শরীর,ধবধবে সাদা।
ছেলেদের নাকি অত সাদা হতে মানা।আমার কিন্তু
বেশ লাগে,দেবদূতের মত শুভ্র।একটু বেশি
বলে ফেলেছি না?জানি তুমি রেগেমেগে
বলবে,
"সুরঞ্জনা,ঐখানে
যেয়োনাকো তুমি,
বলোনাকো কথা
ঐ যুবকের সাথে;
ফিরে এসো
সুরঞ্জনা,
নক্ষত্রের রুপালি
আগুন ভরা রাতে।"
তুমি যখন লিখাগুলো পড়বে,গাল দুটো ফুলিয়ে
থাকবে নাকি সদ্য বেড়ে উঠা কিশোরের মত
খিলখিলিয়ে হাসবে জানিনা।এগুলো নিছক আমার
পাগলামি।তোমাকে রাগাতে কিন্তু আমার বেশ
লাগে,মাঝে মাঝে ঐ পাগলটার কথা বলে
তোমাকে রাগিয়ে দিব।আজ রাখছি,আবার কবে কথা
হবে জানিনা।
(২)......"শুভ জন্মদিন নীলা"
হঠাৎ পেছন থেকে এমন একটা ডাক শুনে খানিকটা
হকচকিয়ে গেলাম।ঘুরে দেখি সেই পাগলটা।
কিভাবে কিভাবে আমার জন্মদিন জেনেছে কে
জানে।তবে অপ্রত্যাশিত কিছু পিছুডাক ভালই লাগে।
কি বলব বুঝে না পেয়ে একটু স্মিত হাসলাম।
......"এটা তোমার জন্য।যদি নেও ভাল লাগবে"
আবারও ভিমড়ি খেলাম।নিব কি নিবনা এই নিয়ে
দোটানায় পড়ে গেলাম।শেষ পর্যন্ত হাত বাড়িয়ে
প্যাকেটটা হাতে নিলাম।আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে
কোন কিছুর অপেক্ষায় না থেকে হনহন করে
হেটে চলে গেলো।কি অদ্ভুত ছেলে আর
আমিই বা কি বেকুব,হুট করে কেন নিলাম।নিজের
উপরই রাগ হচ্ছে।অনেকদিন থেকেইতো
ছেলেটাকে চিনি কিন্তু কদিন ধরে এমন অদ্ভুত
আচরন করছে।কেমন আনমনা থাকে ক্লাসে।দৃষ্টি
বিনিময় হলে সঙ্কোচে চোখ নামিয়ে
ফেলে,তারপর আবার দৃষ্টি আটকানোর চেষ্টা।
আর আজ আবার হুট করে এলো আর গেলো।
প্যাকেটটার মাঝে কি আছে দেখার কৌতূহল
বাড়ছে।খুলতে গিয়েও খুললামনা।কি ছেলেমানুষ
আমি,বাড়ি ফেরা পর্যন্ত কৌতূহল দমাতে পারছিনা।
একটা চমৎকার নীল খামের চিঠি।ধুরছাই এত সুন্দর
খামটা ছিঁড়তেই মন চাইছেনা।খামের ভিতর ধবধবে
সাদা কাগজে দু কলম লেখা।এত ছোট চিঠি
দেখে রাগ হল ওর উপর।আবার সাথে বেলি ফুল
দেখে মনটাই ভাল হয়ে গেল।
"নীলা",
আমার অগোছালো জীবনের অন্ত্যমিল আমি
খুঁজে পেয়েছি।তুমি কি আমার সমস্ত অপূর্ণতার
পূর্ণতা হবে?
**পারলে কাল একটা নীলাম্বরী
শাড়ি পড়ে এসো।**
"অয়ন"
গুনে গুনে ২০ বার পড়লাম লাইন দুটো।এত সহজ
আর অল্প কথায় অনুভুতি বোঝানো যায়?অথচ কত
সাবলীল ভাবে বুঝিয়ে দিল।কি করব না করব দুইএর
বেড়াজালে আটকে গেছি।মন আর মস্তিস্ক দুদিক
থেকে বিপরীত মেরুতে টানছে।আজ বুঝি
নিদ্রাহীন প্রহরীর মত জেগে থাকার রাত।
ভাবনাচিন্তাকে ছুটি দিয়ে ভোরে উঠেই আলমারি
ঘেঁটে নীলাম্বরী শাড়ি খুঁজতে লাগলাম।সাথে
অপরাজিতা নীল টিপ।আর বেলি ফুলের মালাটা চুলে
আঁটসাঁট করে বাঁধলাম।ভার্সিটিতে পা না দিতেই ওর
দেখা মিলল।আজ কেমন জানি লজ্জা লাগছে ওকে
দেখে,কই আগেতো কখনও হয়নি।কিছুই বলা
হলনা মুখে তবুও বুঝে নিলাম আমাদের ভালবাসার
প্রহর বুঝি শুরু হয়ে গেল।ক্লাস ফাঁকি দিয়ে
পুরোটাদিন কোথায় না ঘুরেছি দুজন।যতই ওকে
দেখছিলাম ততই অবাক লাগছিল,কি সুন্দর করেইনা
কথা বলে।আমি শুধু মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনি।আমার
মুখ থেকে কথা সরেনা,ওর কথা শুনতেই ভাল
লাগে শুধু।
এভাবেই সময় গড়ায় আর আমাদের অম্লমধুর
ভালবাসা ডানা মেলে।কখনও অভিমানের ডালা সাজিয়ে
বসে থাকি,আর ও এসে সে ডালা ভালবাসায় ভরিয়ে
দেয়।
(১)
আজ আবার তোমায় লিখতে বসলাম ডায়েরির পাতায়।
তুমি আমার অদেখা অজানা এক সত্তা আর ও আমার
সেই সত্তা যার জায়গায় আমি তোমাকে বসিয়েছি।
এখন থেকে পরের পাতাগুলো হবে শুধুই আমার
দুটি সত্তা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া একটি
সত্তাকে ঘিরে।কতটা পথ হেটে এসে তোমায়
পেয়েছি আমার মত করে।
(২)
কত দ্রুতই না একটা বছর চলে গেলো,কত
কাঠখড় পোড়াতে হল আমাদের।এখন শুধু একটি
দিনের অপেক্ষা ভালবাসার পূর্ণতার আকাঙ্ক্ষায়।
মনে পড়ে প্রথম যখন তোমার কথা মা কে
জানাই,কি হুলুস্থুল ই না বাঁধিয়েছিল।আমি কি করে
আমার বয়সী একটা ছেলেকে পছন্দ করলাম।এই
ছেলে আমাকে খাওয়াবে কি।এই সেই কত কি।
বাবার তো সাফ কথা,এমন চালচুলোহীন ছেলের
সাথে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা।
আমি তখন দিশেহারা,কি করব ভেবেই পাইনা।শুধু
মনে হচ্ছিল ওকে ছাড়া আমার চলবেনা।শেষ
পর্যন্ত এটুক রাজি করাতে পেরেছি একটাবার ওর
সাথে কথা বলে দেখতে।এইটুকুতেই আমার সব
না পাওয়াগুলো ঘুরে দাঁড়াল আর আমি পেলাম বিশাল
কিছু।কিভাবে কিভাবে বাবার মন গলিয়েছে বুঝেই
পাইনা।আমি রীতিমত যুদ্ধ করেও যা পারিনি ও এক
মুহূর্তে তা করে ফেলল।ওর মাঝে কিছু একটা
আছে যা দিয়ে ও সবকিছু জয় করতে পারে।
কাল আমাদের বিয়ে।সারা বাড়ি ভর্তি লোকজনের হৈ
চৈ।এমন অদ্ভুত সুন্দরভাবে সবকিছু হবে কল্পনাও
করিনি।মা আজ সারাদিন ঘ্যানঘ্যান করে বলছে,
......"তুই কিরে?একদম গা ছাড়া হয়ে বসে আছিস।
কোথায় সাজবি কি করবি না করবি কিছুই ঠিক করছিসনা।
ছেলেটা সব সামলাচ্ছে।"
আমি কিছুই বলিনা শুধু হাসি আর মনে মনে ভাবি
ছেলেটা একটা বিচ্ছু,সব পারে।তবে কিছুটা
একরোখাও আছে।বিয়ের তারিখ নিয়ে কি
গণ্ডগোল টাই না বাঁধাল।আরে বাবা এত কিছুর পর
এসব খুঁটিনাটি ব্যাপার নিয়ে গোঁ ধরলে চলে?
না,সে বাংলা বছরের প্রথম দিনেই বিয়ে করবে।
শেষ পর্যন্ত তাই হল।বিয়ের পর আমার যে কি দশা
হবে,হিপনোটাইস করে সব নিজের মত করে
আদায় করবে।ওকে কেন যেন ভীষণ
দেখতে ইচ্ছে করছে।
উহ এমন সময়ে ফোন বাজে,কি যন্ত্রণা।
......"হ্যালো।"
......"হ্যাঁ নীলা।
......"ও তুমি?"
......"কেন অন্য কারো ফোন করার কথা ছিল
নাকি?"
......"দূরে যেয়ে মুড়ি খাও।কি করছ?"
......"মুড়ি খেতে পারবনা,বাতাস খাই।এই,একটু
ছাদে যাওনা প্লিজ।"
......"ছাদে ! কোন ছাদে?"
......"কোন ছাদে আবার,তোমাদের ছাদে।"
......"ছাদে কেন যাব আর সন্ধ্যা বেলা আমি
ছাদে টাদে যেতে পারবনা।"
......"যাওনা প্লিজ,একসাথে চাঁদ দেখব।"
......"সন্ধাবেলা আবার চাঁদ দেখা যায় নাকি।"
......"হ্যাঁ যায়,এত কথা বলোনা জলদি যাও।"
......"বড্ড জ্বালাও তুমি।যাচ্ছি।"
আমি তখনও বুঝিনি কি বিস্ময় অপেক্ষা করছে আমার
আমার জন্য।যেয়ে দেখি আমার চন্দ্রমানব স্বয়ং
সেখানে।
......"তুমি!!!এখানে।"
......"ভুত দেখছ মনে হয়,এত চমকে যাচ্ছ
কেন?"
......"ভুত ই তো দেখছি মনে হচ্ছে,এখানে
কি কর?কিভাবে এলে?"
......"লম্বা ইতিহাস সৃষ্টি করে লুকিয়ে চুড়িয়ে
এসেছি।"
......"ইচ্ছে করছে তোমার কানদুটো মলে
দেই।"
......"হা হা হা দেও।
......"হেসোনা,তোমাকে দেখে আমার রাগ
হচ্ছে।"
......"কেন রাগ হচ্ছে?"
......"আজকে এভাবে লুকিয়ে কেন
এসেছো?"
......"তোমাকে একটা জিনিষ দিব বলে।"
......"কি দেবে?ভালবাসা?"
......"ভালবাসা অনেক দিয়েছি আর দিতে পারবনা।"
......"মার খাবে কিন্তু এখন।"
......"হা হা হা...এই নেও তোমার জন্য
কাঠগোলাপ।"
ফুলগুলো পেয়ে যতনা ভাল লাগছে তার চেয়ে
বেশি অবাক লাগছে।আমার প্রিয় কাঠগোলাপ
ওকেতো কখনও বলিনি।আড় চোখে ওর দিকে
তাকিয়ে দেখি চোরের মত মিটিমিটি করে হেসে
বলছে,
......"অপরাধ করেছি তাই আত্মপক্ষ সমর্থনের
জন্য এলাম।"
......"তাতো বুঝতেই পারছি কিন্তু অপরাধ টা
ধরতে পারছিনা।"
......"অপরাধ খুবই গুরুতর,বলতেইতো ভয়
লাগছে।পিঠে বস্তা বেঁধে আসা উচিত ছিল।
সেদিন তুমি ফাইলটা ফেলে এসেছিলেনা?ফাইলে
তোমার ডায়েরিটা ছিল।পড়ার লোভ সামলাতে পারিনি।
পুরোটা এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলেছি।কত
বসন্ত,কত বৈশাখ তুমি আমার জন্য সেজেছ।আমার
অপেক্ষায় ছিলে,আমি ধরা দেইনি।কালকের
বৈশাখে শুধু তোমার জন্য আসব আমি।তোমার
হয়ে ধরা দিব।আমার জন্য আবার ঘটা করে
সেজো।এরপর থেকে প্রতিটা বসন্ত কিংবা প্রতিটা
বৈশাখ হবে শুধুই তোমার-আমার।"
কিছুই বলতে পারছিনা।আসলেই একটা পাগল।ভাগ্যিস
চারদিকে অন্ধকার নাহলে অযাচিত চোখের পানি
কিভাবে লুকাতাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now