বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার বাবারা সাত ভাইবোন। চার ভাই, তিন বোন। সবাই যখন একসাথে থাকতাম আগে, মানে আমার বাবারা তিনভাই, বড়, মেজো, আর ছোট জন মানে আমার বাবা তখন একটা ঈদ ঈদ ভাব লেগে থাকতো বাড়িতে। তিনভাই কারণ, সেজো চাচা নেশা করতো, সেজো চাচি মানুষটাও ভালো না, তাই তাদেরকে দাদা আলাদা বাড়ি বানিয়ে দিয়েছিলেন। তবে, সেজো চাচার দুই ছেলে শাহীন ভাইয়া আর রনি থাকতো আমাদের বাড়িতেই। এদিকে আমি ছিলাম, আমার বড় চাচার দুই ছেলে লিটন ভাইয়া আর ইউসুফ ছিলো। আমরা বাড়িতেই পাঁচজন ছিলাম। আমার মেজো চাচা তখনো বিয়ে করেনি। তার ছেলেপুলেও হয়নি। সে যাক, পাঁচজন ছেলে কম না। পাঁচজন ছেলে একসাথে, কী অবস্থা হয়, তা এমনিতেই আঁচ করা যায়। তাছাড়া, আমাদের বিশাল গৃহস্থ বাড়ি হওয়ার দরুণ ফুফা-ফুফুরাও সপ্তাহে একদিন-দু’দিন করে একবেলার জন্য হলেও আসতো আমাদের বাড়ি। আমাদের পাঁচ জনের সঙ্গে যোগ দিতো মেজো ফুফুর ছেলে রুবেল, আর ছোট ফুফুর ছেলে মিনহাজ। রুবেল আর মিনহাজ ছিলো সুঠামদেহী। মোটা ছিলো না ওরা কিন্তু, সুস্বাস্থ্যবান ছিলো। সবচেয়ে স্বাস্থ্য ভালো ছিলো মিনহাজের। সেই মিনহাজ ২০১১ তে মারা যায়। ওর ব্লাড-ক্যান্সার হয়েছিলো। আমি আর মিনহাজ একসাথে একই স্কুলে পড়তাম। সে বছর আমরা ছিলাম ক্লাশ ফোরে। আমাদের তখন ফাইনাল পরীক্ষা চলছিলো।
মিনহাজ যেমন সুস্বাস্থ্যবান, শক্তিশালী ছেলে ছিলো, আমি তেমনই রোগা ছিলাম। ঘন ঘন অসুখে পড়তাম। মিনহাজ ছিলো খেলাধূলায় সেরা, আমি ছিলাম আনাড়ি। সবসময় লাস্ট হতাম। মিনহাজকে আমরা ডাকতাম মিন্যা বলে। খাতির করার সময় সুন্দর করে বলতাম মিনু। মিনু যখন দৌড়াতো তখন মনে হতো মাটি কাঁপছে, আর আমি আমার দূর্বল দেহ টেনে দৌড়াতেই পারতাম না। শক্তিটক্তিও তেমন ছিলো না। তবে, আমার মেধাটা ভালো ছিলো, যেটা মিনুর ছিলো না। আমি ছিলাম ক্লাশে ফার্স্ট বা সেকেন্ড, মিনু লাস্ট না হলেও শেষের দিকে থাকতো। ক্লাশ ক্যাপ্টেন ছিলাম, কিন্তু আমার রোগা-শক্তিহীন দেহকে কেউ ভয় পেতো না। সেসময় মিনু ছিলো আমার শক্তির উৎস। ওকে সাথে নিয়েই সব কাজ করতাম। স্কুল ছুটির পরে প্রায়ই ক্রিকেট খেলতাম। ক্লাশের মধ্যেই জোড় বিজোড় রোল মিলিয়ে দল গঠন করতাম। আমি যেহেতু ক্লাশ ক্যাপ্টেন ছিলাম, সেহেতু খেলাতেও ক্যাপ্টেন্সি করতাম। তবে, আমি ছিলাম নামের ক্যাপ্টেন। আমার কথা কেউ শুনতো না। কেউ আমাকে আগে ব্যাট করতেও দিতো না কখনো। কোনো কোনো সময় আমি ব্যাটই করতে পেতাম না। আট ওভারের খেলায় বাকিরা প্রায় সাত ওভার শেষে আউট হলে আমাকে সব লাস্টে ব্যাট করতে দিতো। আমি প্রথম বলেই আউট হয়ে ফিরে আসতাম। বোলিং এর সময় যদি কারো হাতে ব্যথা থাকতো, বা কখনো বা ব্যাট করতে পাইনি বলে কেউ মায়া দেখিয়ে বল করতে বলতো, আমি বল করতাম এবং এক ওভারে ব্যাটসম্যানরা নিয়ে নিতো কমপক্ষে কুড়ি রান। খেলাগুলোতে চার-পাঁচটাকা করে বাজি ধরাধরি চলতো। একদলের ছ-সাতজন খেলোয়াড় মিলে চার-পাঁচটাকা উত্তোলন হতো সর্বোচ্চ। সেই টাকার বাজি নিয়ে খেলা। জিতে গেলে যে যতো টাকা দিয়ে খেলা শুরু করেছিলাম, সে তার ডাবল নিয়ে নিতাম। সে সৌভাগ্য আমার মাত্র একবারই হয়েছিলো। হয় হারতাম, নয়তো আমি কোনো টাকা দিতাম না।
স্কুলে অনেক সময় অনেকের সাথেই আমার ঝগড়া বেঁধে যেতো। পারতাম না কাউকে। মাইর খেতাম শুধু। মিনু যখন শুনতো তার মামাতো ভাইকে কেউ মেরেছে তখন সে তার প্রতিশোধ নিতো। ক্লাশের বাইরে, স্কুলে কেউ যেন আমায় মারতে না পারে সেজন্য আমার বডিগার্ড হিসেবে তার একটা শিষ্যও রেখেছিলো সে। আমাদের এক ক্লাশের ছোট ছিলো সেই ছেলেটা, মিনুর মতোই শক্তি ছিলো তার দেহে।
ক্লাশ ওয়ান থেকে ক্লাশ ফোরের অর্ধেকটা পর্যন্ত আমার এভাবেই কেটেছে। তারপর মিনু মারা গেলো। আমার স্কুলের সঙ্গীটা চলে গেলো।
*** কিছু কথা এখনো বাকি আছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now