বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার স্বপ্ন পর্ব-১
ইসমাঈল আহনাফ
সম্পাদক : শাকিল আহম্মেদ
একটা ছেলে ছিল সে সব সময় একা থাকতে পছন্দ করত। তার মানুষের সাথে তেমন কোন বন্ধুত্ব ছিল না কারণ তার মতে মানুষ মাত্র স্বার্থপর হয়। সে তার আসেপাশের মানুষ গুলোকে ভীষণ ভালোবাসত। কিন্তু তার আসেপাশের মানুষ গুলো তা জানতো না। তার জীবনে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন সফলতা ছিলো না। সে ছিলো সাধারণ পৃথিবী থেকে একদম আলাদা। সে তার মাকে সবথেকে বেশি ভালোবাসত। আসলে যারা মাকে ভালোবাসতে জানে তারা মন থেকে অনেক ভালো হয়। মাকে ভালোবাসা মানুষ গুলো কাউকে ধোকা দিতে জানেনা। তাদের দ্বারা কারো মনে আঘাত দেওয়ার মত কাজ হয় না। তাই ভালো মানুষ হতে হলে প্রথমে মাকে ভালোবাসতে জানতে হবে। আর এই গুণটি ছেলেটির মধ্যে অনেক বেশি ছিলো। তার দূঃখের অনুভুতি কম ছিল সাথে সাথে আনন্দের অনুভূতিও তার কম ছিলো। সে সব সময় ভাবতে পছন্দ করত। এমনই একদিন সে আনমনে নদীর পাড়ে নরম ঘাসের ওপর বসে ঝিরিঝিরি বাতাসে নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবছিলো। তার ভাবনার বিষয় বস্তু এতটাই গভীর ছিলো যে তাকে বাহির থেকে দেখতে একটা মূর্তির মত। যেন একটা মূর্তির ভেতর একটা হৃদয় এর হালকা স্পন্দন চলছে। সে যেন প্রকৃতির সাথে কথা বলছে গভীর মনোযোগ সহকারে। এমন সময় ঠিক তাকে মূর্তি ভেবে ভুল করে তার হাতের ওপর একটা পাখি এসে বসে পড়ল। তখনও ছেলেটি অনূভব করেনি তার হাতের ওপর পাখি এসে বসেছে। হঠাৎ আচমকা দমকা হাওয়া তাকে জাগিয়ে তুলল এমন ভাবে জাগিয়ে তুলল যেন হাওয়া ছেলেটিকে কিছু বলতে চায়। তার নিরিবিলি জীবনটাকে জাগাতে চায়। তাকে পথ দেখাতে চায়। তাকে আসল জীবনের মানে উপলব্ধি করাতে চাই। মানুষকে অন্ধের মত বিশ্বাস করে কিভাবে ভালোবাসতে হয় তা শেখাতে চায়। এত কিছু বলা হাওয়াকে তো আর এড়িয়ে যাওয়া যায়না। সে তার শরীরটাকে ঝাকুনি দিয়ে হাতটাকে শক্ত করল। ততক্ষণে পাখিটা তার হাতের মুঠোই বন্দি। সে নিজেও জানত না তার হাতে এমন আচমকা একটা পাখি এসে ধরা দেবে। পুরো ঘটনাটা ছিল তার কল্পনার বাইরে। সবকিছু এমন ভাবে ঘটে গেলো যেন কেউ বাহির থেকে কলকাঠি নাড়ছে। পাখিটাকে পেয়ে ছেলেটি ছিল ভীষণ আনন্দিত। সে তার জীবনে পাখিটাকে আনন্দের প্রতিক হিসেবে নিয়ে ছিল। এক মুহূর্তে পাখিটাকে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছিলো। কারও কল্পনার বাইরে গিয়ে কাউকে যতটা ভালোবাসা যায়। সে চাইছিলো পাখিটা যেন মৃত্যুর পরও তার পাশে থাকে। সে পাখিটার একটা নামও দিয়ে ছিল। কিন্তু পাখিটা তার কাছে থাকতে নারাজ ছিলো। তার ভালোবাসা ছিল পাখিটার কাছে মূল্যহীন। পাখিটা এমন কিছু আচরণ করতে লাগলো যাতে ছেলেটির পাখিটার ওপর ঘৃণা জন্ম নেয়। একের পর এক পাখিটা জেনে বুঝে নিজেকে খারাপ প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তু নিয়তির কি পরিহাস ছেলেটির ভালোবাসা দিন দিন আরো বৃদ্ধি পেতে থাকলো। ভালোবাসাটা এক পর্যায়ে এমন জায়গায় গিয়ে পৌছালো যেন তার জীবনের চেয়ে পাখিটার জিবনের মূল্য বেশি। এমন ভাবে কেটে যেতে লাগলো অনেক দিন। পাখিটা কিছুতেই ছেলেটির কাছে থাকতে চায়ছিলো না। তার ঠিকানা ছিলো অন্য কোনো যায়গায়। পাখিটা উড়ে বেড়াতে বেশি পছন্দ করত। আবদ্ধ ভালবাসার কেন যেন সে মূল্য বুঝছিলো না।ছেলেটি অনেক ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছিলো যে, সে পাখিটাকে কতটা ভালোবাসে। পাখিটার ছিলনা নির্দিষ্ট কোন গন্তব্য। পাখিটা আসলে যাযাবরের মত থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করত। কিন্তু ছেলেটি পাখিটাকে একটা নির্দিষ্ট ঠিকানা দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো মনের কথা পাখিটাকে বোঝাতে ব্যর্থ ছেলেটি। পাখিটার নিজেকে খারাপ প্রমানিত করার সব প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ হয়ে গেল তখন হঠাৎ একদিন সে নিজের জীবন দেওয়ার চেষ্টা করল। ছেলেটি এমন ঘটনাটা দেখে পাখিটাকে মুক্ত করে দেওয়ার কথা ভাবল। ছেলেটির চাওয়া একটাই ছিল পাখিটাকে সুখি দেখা। এতক্ষণ যে পাখিটা নিয়ে কথা হচ্ছে সেটা সাধারণ কোন পাখি ছিলনা। সে ছিল মায়াবি এক পাখি। অনেক সুন্দর একটা মেয়ে সে আসলে পাখির রুপ ধরে থাকত। আর এই কথা ছেলেটি প্রথম থেকেই জানতো। অবশেষে ছেলেটি পাখিটাকে মুক্ত করে দিল। পাখিটা যাচ্ছিলো কিন্তু কেন যেন মুক্ত হবার পরও পাখিটার মধ্যে সেই আনন্দটা ছিল না। পাখিটা চলে গেল। কিন্তু ছেলেটির মনে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল পাখিটা ফিরে আসবে। সে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে থাকলো।তার পর হঠাৎ একদিন ছেলেটি আকাশের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলো। আর এভাবেই “আমার স্বপ্ন” গল্পের প্রথম পর্ব শেষ হলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now